সাহিত্য / আত্মবন্ধু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাহিত্য / আত্মবন্ধু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঝিকরগাছায় জামায়াতের পেশাজীবি সমাবেশ

ঝিকরগাছায় জামায়াতের পেশাজীবি সমাবেশ

 ঝিকরগাছায় জামায়াতের পেশাজীবি সমাবেশ

চাঁদনী বিডি ডেস্ক:

যশোরের ঝিকরগাছায় জামায়াতের পেশাজীবি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

শনিবার (২৫ জানুয়ারী) ৩টায় শিওরদাহ হাইস্কুল মাঠে ৮নং নির্বাস খোলা ইউনিয়ন এর উদ্যগে পেশাজীবি সমাবেশে ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মনিরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষধ সদস্য ও যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আরশাদুল আলম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল আলিম, নায়েবে আমীর অধ্যাপক হারুন অর রশীদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী সেক্রেটারী শেখ আব্দুর রকিম, অধ্যাপক মশিউর রহমান, আধ্যাপক মিজানুর রহমান, মাওলানা ফকরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক, মাওলানা কাজী মোঃ আনারুল ইসলাম, প্রভাষক ইমরান হোসেন ও ইউনিয়ন পেশাজীবি সভাপতি মেহেদী হাসান সহ আরও অনেকে।

কবিতা-  টাকা  -আল ফারুক ইসলাম (দুখু মিয়া)

কবিতা- টাকা -আল ফারুক ইসলাম (দুখু মিয়া)

 টাকা 

         আল ফারুক ইসলাম (দুখু মিয়া)


 টাকার অনেক বড় যাদু

    টাকার অনেক বড় শক্তি,

টাকা থাকলে মানুষ তোমায়

     দেবে সম্মান শ্রদ্ধা ভক্তি।

    টাকায় আত্মীয়তা বৃদ্ধি করে

টাকাওয়ালারে সমাজ দেয় গুরুত্ব,

টাকা না থাকলে মিলিয়ে নিও

   কাছের মানুষ সৃষ্টি করবে দূরত্ব।

বেশি টাকা দিলে রে ভাই

     হুজুর লম্বা মোনাজাত ধরে,

টাকা  কামাই করা ছেলেটারে

    মা একটু  বেশি আদর করে। 

টাকায় সম্মান বয়ে আনে,

টাকায় যেন কাছে টানে।

পকেটে না থাকলে টাকা,

পৃথিবীটা লাগবে ফাঁকা ফাঁকা। 

টাকা না থাকলে রে ভাই

   প্রেমিকার মন যায় ঘুরে,

বেটার অপশন পেলে তখন

 অজুহাতে চলে যাবে দূরে।

বেশি বেশি করে তুমি

  টাকা  কামাই করো ভাই,

নারীর স্বপ্নের রাজা আসে

কখনো ফকির আসে নাই ।

কবিতা : আগামীকাল  -বিতান কুমার

কবিতা : আগামীকাল -বিতান কুমার

আগামীকাল
-বিতান কুমার

সবাই একটা আগামীকালের অপেক্ষায় থাকে
আগামীকাল সব ঠিক হয়ে যাবে
একটা মিষ্টি রোদ উঠবে
ফুলে-ফলে ভরে যাবে চারপাশ।।
আগামীকাল আশারা সব ধরা দেবে
দু'হাতের আঁজলায়
তীব্র খরার ফুটিফাটা বুকে
নামবে ঝরণাধারা।।
আগামীকাল সে-তো মহাকালের বৈঠা
ছলাৎ ছলাৎ সময়ের জলে
তেরো নদী সাত সমুদ্দুর মাঝে তাই
দুঃখরাশি বয়ে যাই -কান্নাসকল মুছে যাই
সুখের আগামীকালের আশায়।।

বিতান কুমার
০৫ মাঘ, ১৪৩০
১৯ জানুয়ারি, ২০২৪
ঝিকরগাছা, যশোর।
 "প্রয়োজন /প্রিয়জন "-বিতান কুমার মন্ডল

"প্রয়োজন /প্রিয়জন "-বিতান কুমার মন্ডল

 "প্রয়োজন /প্রিয়জন "

                                            -বিতান কুমার মন্ডল



প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে
সময় আসে অবহেলার
সময় আসে অপ্রাসঙ্গিকতার
সময় সাজে অজুহাত ।।
প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে
জন্মদিনের শুভেচ্ছারাশি
কমতে থাকে লাইফ সাপোর্টের
হৃদস্পন্দনের মতো।।
প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে
গোলাপ হয় ডাস্টবিনের খোরাক
রঙিন চাদর বালিশ সরে যায়
অন্তিমের অপেক্ষায় থাকা প্রাণের
অবলা শয্যা থেকে।।
প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে
টগবগে তরুণ সাজে কাফকার ফড়িঙ
মেটামরফোসিস গরম শ্বাস ফেলে
তার সারা গায়ে হাতে পায়।।
তবু কোন এক ঘরের কোনে
বিলাসীরা রাত জাগে
তবু ভেলা ভাসে বেহুলার
তবু ভালোবাসা খুজে নেয় বিশ্বাস
চিনে নেয় প্রিয়জন।।
বিতান কুমার মন্ডল
২০ পৌষ ১৪৩০
(০৪ জানুয়ারি ২০২৪)
ঝিকরগাছা, যশোর।
All react
তবুও প্রতীক্ষা রোদের- বিতান কুমার মন্ডল

তবুও প্রতীক্ষা রোদের- বিতান কুমার মন্ডল

 তবুও প্রতীক্ষা রোদের

                        -বিতান কুমার মন্ডল



হাতের রেখার মতো পরিচিত দিনক্ষণ
নিমেষের ছেদ তাকে পরিয়েছে
মনখারাপের খয়েরি চাদর।।
একতারে বাঁধা মুহূর্তরা মুছে যায়
প্রযুক্তির ইথারে কিছু নিয়মরক্ষার
কুশলাদি বিনিময়।।
অকারণ আমোদে ভাসে না চোখের তারা
প্রশিক্ষিত উদযাপনের মেলায়
মেতে ওঠে কৃত্রিম বিলাসের সীমান্ত।।
তবু হঠাৎ দমকা বাতাস
আসবে কোনদিন
কালো মেঘের দেয়াল পড়বে খসে
একটা ঝকঝকে রোদ উঠবে
স্যাঁতস্যাঁতে দিনের আংগিনায়।।
বিতান কুমার মন্ডল
১৯ পৌষ ১৪৩০
(০৩ জানুয়ারি ২০২৪)
ঝিকরগাছা, যশোর।
আগুন   -বিতান কুমার

আগুন -বিতান কুমার

 আগুন

-বিতান কুমার


আগুন আমার প্রস্তরকাল
অন্ধকারের প্রাচীর ভেদি
ঝলসানো এই রুটিরুজি
আগুন তুমি ঝলমলে রাত
হিংস্রকালের বন্য নিরাপত্তা।।
আগুন তুমি ট্রয়ের ঘোড়া
গিলে খাওয়া সব শান্তিচুক্তি
ভয়ংকর বা প্রয়োজনে
প্রতিদিনের দিনযাপনে
জহর তুমি গণসতীত্বের আয়োজনে।।
আগুন তুমি অপারেশন সার্চলাইট
মুখোশ পরো হানাদারের
সকিনা বিবির আশ্রয়টুকু
খাক করে দাও নির্বিকারে।।
আগুন তুমি সুপ্ত কেন
চুপ করে কেন ভিসুভিয়াস
ভেজা কম্বল নাও তুলে নাও
আলোয় ভরুক সবটা উঠোন।।
বিতান কুমার
ঝিকরগাছা, যশোর।
১৫ পৌষ ১৪৩০
(৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩)

 কবিতা “অভাব” -আল ফারুক ইসলাম (দুখু) মিয়া

কবিতা “অভাব” -আল ফারুক ইসলাম (দুখু) মিয়া

 অভাব

            আল ফারুক ইসলাম (দুখু) মিয়া 


অল্প অল্প  অভাবে কেউবা

একেবারে খুব ভেঙ্গে পড়েছে,,

পাহাড় পরিমান অভাব পেয়ে

কেউবা নতুন জীবন গড়েছে।।


 চাকরির অভাব,খাবারের অভাব

সুস্থ তার অভাব, আরো অভাব রূপে,,

অভাবের তারনা সইতে না পেয়ে

অনেকে নিরবে কাঁদে চুপে চুপে।।


সবদিক দিয়ে সুখী

বল কেবা হয়েছে,,

কিছু না কিছু দিক দিয়ে 

সবার অভাব রয়েছে।।


অভাবেরই এই হতাশায়

 যদি ভুগিতেছে সবে,,

অভাবে ক্লান্ত তুমি 

 বল কেন হও তবে।।

অল্প বয়সেই কবিতা লিখে পাঠকের মন কেড়েছে ঝিকরগাছার নজরুল ইসলাম আরিফ

অল্প বয়সেই কবিতা লিখে পাঠকের মন কেড়েছে ঝিকরগাছার নজরুল ইসলাম আরিফ

 
আফজাল হোসেন চাঁদ :

অল্প বয়সেই কবিতা লিখে পাঠকের মন কেড়েছে ঝিকরগাছার মোঃ নজরুল ইসলাম আরিফ। ২০০৮ সালে ৮ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় কবিতা লেখার মাধ্যমে তার হাতেখড়ি হয়। সে ১৯৯৪সালের ১৫ নভেম্বর যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ৬নং ঝিকরগাছা (সদর) ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের মোঃ আকবর আলী ও মোছাঃ আয়রন বেগমের কোল জুড়ে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় দোস্তপুর বিএমসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবন শুরু।

পরবর্তীতে ২০১০ সালে এমসিডি সম্মীলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি, ২০১৩ সালে যশোরের মুক্তিযোদ্ধা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি, ২০১৫ সালে শহর সমাজ সেবা যশোর থেকে কম্পিউটার কোর্স, যশোরের মুক্তিযোদ্ধা কলেজ থেকে ২০১৭ সালে সমাজ বিজ্ঞানে অনার্স, ২০২১সনে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল সি ক্যাটাগরি ফার্মাসিস্ট এবং ২০২২সালে যশোরের সরকারি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলেজে সমাজবিজ্ঞানে (সরকারি এম এম কলেজ) মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা তার সাহিত্য সাধনার অনুপ্রেরণা থাকায় তার (মোঃ নজরুল ইসলাম আরিফ) অসংখ্য লেখা শিল্প সাহিত্যের ছোট কাগজ আত্মবন্ধু, সাপ্তাহিক গ্রামের সংবাদ, নিউ আদর্শ প্রকাশনী, তরঙ্গ, কাব্যকন্ঠ, হিমু পরিবহণ ঝিকরগাছা, সাগরিকা, প্রভাতফেরী, স্বপ্নের সাহিত্য ভেলা (ভারত), সময়ের সংবাদ প্রভৃতি সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। নব স্বপ্ন, ধর্ষিতা জননী, কবির প্রাণ, হৃদ কমলের বিলাপ, কলম সৈনিক, আরশী লিটল ম্যাগ, কবির চোখে স্বপ্নতরী নামের যৌথকাব্যগ্রন্থে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তার স্বরচিত কবিতা  রয়েছে প্রায় তিনশতাধিক ও গল্প রয়েছে প্রায় হাফ শতাধিক।

সাহিত্য জগৎ এ পথচলা : বাংলাদেশ কবি ও কাব্য কন্ঠ সাহিত্য সংসদ প্রচার সম্পাদক (২০১৭-চলমান), জাতীয় আরশি সাহিত্য পরিষদ মডারেটর (২০১৭-চলমান), বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব যশোর শাখা স্থায়ী সদস্য (২০১৮-চলমান), বাংলাদেশ আজাদ সাহিত্য সংসদ প্রধান উপদেষ্টা (২০১৮-২০পর্যন্ত), সাহিত্য বন্ধন খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক (২০১৯-২১মার্চ), রবীন্দ্র সাহিত্য পরিষদ সভাপতি (২০১৯-২১), মাসিক সাগরিকা সাহিত্য পত্রিকা উপদেষ্টা (২০১৯-২০পর্যন্ত), স্বপ্ন বাংলা পরিষদ ঢাকা উত্তর মহানগর ডেপুটি কাউন্সিলর (২০১৯-চলমান), জাতীয় কবিতা মঞ্চ যশোর শাখা সাধারণ সম্পাদক (২০১৯-চলমান), বাংলাদেশ রিপোটার্স ফোরম সদস্য (২০১৯-চলমান), আত্মজ সাহিত্য সংসদ সাধারন সম্পাদক (২০২০-চলমান), আইডিয়াল সোসাইটি অফ বাংলাদেশ সাংগঠনিক সম্পাদক (২০২০-২২জানুয়ারী পর্যন্ত), শুভ সাংস্কৃতিক নিকেতন, সাধারণ সম্পাদক (২০২০-চলমান), পাকনেত্র আর্ন্তজাতিক সাহিত্য পরিষদ খুলনা বিভাগ সহ সভাপতি (২০২১-২২ এপ্রিল পর্যন্ত), কথা কাঞ্চন সাহিত্য পরিষদ কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি (২০২১-২২ জুন), গণসংস্কৃতি পরিষদ (কেন্দ্রী কমিটির স্থায়ী সদস্য, খুলনা বিভাগীয় সমন্ময়ক), ইকরা ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সদস্য (২০২২জুন-চলমান)।

সাহিত্য জগৎ এ প্রাপ্তি : অনুগল্প প্রতিযোগীতায় সেরা পাঠক ১৮-৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, জাতীয় আরশি সাহিত্য পরিষদের ০৪-২৯ ফ্রেব্রুয়ারী  ২০২০ সেরা পাঠক, ১২-১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সেরা ছড়া লেখক, ২৫-৩১মার্চ ২০২০ সেরা লেখক, আলিম ছাত্র বন্ধু কনফারেন্স, কিশোরগঞ্জ এর ০৫ম সাপ্তাহিক প্রশ্নত্তোর পর্ব-২০ সেরা নির্বাচিত, ০৬ষ্ঠ সাপ্তাহিক প্রশ্নত্তোর পর্ব-২০ সেরা নির্বাচিত, অসর ঔধ কধ ঞড়সবৎ বিশেষ লেখনী সম্মাননা ৩ বার, প্রাণের মেলা জাতীয় কবি পরিষদ ৩০জুন-২০২০ সেরা লেখক সম্মাননা, জয় বাংলা সাহিত্য পরিষদ সেরা লেখক ১৯আগষ্ট ২০২১, পাকনেত্র সাহিত্য পরিষদ দৈনিক সেরা লেখক ২ সেপ্টেম্বর ২০২১, জাতীয় কবি ও সাহিত্য সংসদ সেরা লেখক ২৪এপ্রিল ২০২২, Nesrin Bilecn Cevikel Arkedaslan Dunya ressamlar KulbuPainter of the month ২৮ জুলাই ২০২২, হৃদ পল্লী সাহিত্য গ্রুপ দৈনিক সেরা লেখনী ১৩ আগষ্ট ২০২২, জগন্নাথপুর উপজেলা সাহিত্য পরিষদ সেরা লেখক ২৪ আগষ্ট ২০২২, বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পন সেরা লেখক ২ বার, মুক্ত বিহঙ্গ সাহিত্য পরিষদ সেরা লেখক ২ বার, স্বপ্নময় হিংলা সাহিত্য পরিবার দৈনিক কলম সম্মাননা ৩ বার এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের অনলাইন প্রতিযোগীতায় বরংবার জিতেছেন। মোঃ নজরুল ইসলাম আরিফ বলেন, আমার কলম ন্যায় ও মানবতার মুক্তির জন্যই সচল থাকে সমসময়। তিনি সাহিত্য সাধনায় পাঠককুলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রার্থী।


পেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঝিকরগাছায় সাহিত্য আসরে বরেণ্য সাহিত্যিক হোসেনউদ্দিন হোসেন

পেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঝিকরগাছায় সাহিত্য আসরে বরেণ্য সাহিত্যিক হোসেনউদ্দিন হোসেন

পেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঝিকরগাছায় সাহিত্য আসরে বরেণ্য সাহিত্যিক হোসেনউদ্দিন হোসেন

বই পড়ার অভ্যাস নেই আর পড়তে জানে না এমন লোকের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই

আফজাল হোসেন চাঁদ :

জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব এই স্লোগানকে সামনে রেখে সকল জরাজীর্ণতাকে মুছে ফলে, মন রাঙায় সাহিত্য আর সাংস্কৃতিক মূর্ছনার মেলবন্ধনে, প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে গেয়ে উঠি জীবনের জয়গানের মাধ্যমে পেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঝিকরগাছায় সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। যশোরের ঝিকরগাছায় শুক্রবার সকাল ১০টার স্থানীয় বিএম স্কু সংলগ্ন পেন ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্য়ালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরেণ্য কথা সাহিত্যিক হোসেনউদ্দিন হোসেন বলেন, বই পড়ার অভ্যাস নেই আর পড়তে জানে না এমন লোকের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। সাহিত্য হল যে কোন সমাজে এমন একটি জায়গা যেখানে আমাদের মস্তিষ্কের গোপনীয়তার মধ্যেও আমরা প্রতিটি সম্ভাব্য উপায়ে সব বিষয়ে কথা বলার প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। অনুষ্ঠানে সাহিত্য আসরের আহবায়ক, সাহিত্যিক ও অনুবাদক মোঃ টিপু সুলতান’র সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন, যশোর সরকারী মাইকেল মধুসূদন কলেজ’র বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ মেহেদী হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সাহিত্যিক ও পেন ফাউন্ডেশন’র সভাপতি মোঃ সফিয়ার রহমান। পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা ইমদাদ শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন, পেন ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ইমদাদুল হক ইমদাদ, সমন্বয়কারী রিজন বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক টিমলিডার প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়াডপ্রাপ্ত রোভার স্কাউট জুবায়ের বিন মকলেছ, মোঃ রহমত উল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক এসএম জাহাঙ্গীর, স্বপ্নলোকের পাঠশালার শিক্ষক বিথি ইসলাম ও শারমীন সুলতানা শান্তা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ৫০ জন কবি স্ব-রচিত কবিতা পাঠ করেন। বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যশোর অঞ্চলের গ্রামীণ শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান হয়।

**ঘুষ** -আঃ মান্নান

**ঘুষ** -আঃ মান্নান

 "ঘুষ" 

                         কবি আঃ মান্নান

হায়রে মানুষ তোর এখন হয়নি কেন হুস,

হাদিস কোরান পড়ার পরেও

নিস কেন তোরা  ঘুষ।

চাকরী করিস ভাল কথা ঘুস কেন নিস  টাকা

ঘুষ ছাড়া হজম হজম হয়না  তোদের পেটের চাআকা।

গরীব দুঃখী আসলে কাছে দুর দুর করে তাডিয়ে দিস

বড় লোকের চামচা আসলে পোক পাকড়ে টাকা নিস।

ঘুষ যে দিবে তোকে তার দলে তুই থাকিস

তোর কারনে কত কত ক্ষতি হয় 

এ খবর কি তুই রাখিস।

ছলে বলে কথা  বলে ঘুষ আদায় করিস,

প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কোনকাজ না করিস।

সরকারের কর্ম চারী বেতন দেয় সরকার

ভাবসিছ তোরা ঘুস নেবোত ওটাই আমাদের দরকার।

সবাই তোদের করলে ছালাম অন্তরে তাদের ঘৃনা

দুনিয়াতেনেই শান্তি আখেরাতে টানাটানি।।

**বিজয় দিবস** -কবি আঃ মান্নান

**বিজয় দিবস** -কবি আঃ মান্নান

 বিজয় দিবস

                        কবি আঃ মান্নান

আজ ১৬ই ডিসেম্বর

মহান বিজয় দিবস।

৩০ লক্ষ বাঙালী শহীদ

বাংলার মাটিতে রচিল ইতিহাস।

চল্লিশ বছর ধরে মোরা বাঙালী

নর নারী স্মরণ করি ক্ষনে ক্ষনে।

১৭৫৭ সালের পরাজয়ের মালা

পরিল এই বাংলা।

ইংরেজ  ফরাসী আর পাকিস্তানীরা

করিল শাসন শোসন আর অত্যাচার।

১৯৭০সালে অত্যাচারে অতিষ্ঠ হইয়া

বিদ্রোহী হইল বাংগালী আবার।

সবুজ তৃন ভুমিতে শৃষ্টি হল

রক্ত খচিত ইতিহাস।

১৬ই ডিসেম্বর আনিল ছিনিয়া

বিজয়ের মালাটি আবার।

বাংলা দেশ হইল স্বাধীন

সাত কোটি নরনারী ছাড়িল  স্বস্তির নিশ্বাস।

আজ ১৬ই ডিসেম্বর

মহান বিজয় দিবস।

**আকুতি/ অভিলাষ**  -কবি আঃ মান্নান

**আকুতি/ অভিলাষ** -কবি আঃ মান্নান

আকুতি/ অভিলাষ

কবি আঃ মান্নান   

গর্ভ ধারী মা নাহয়েওহ

হয়ে ছিলে তুমি মা।

তোমার অবদানের কথা

জীবনের তরে ভোলা যায়না।

সকালে উঠিলে মনে হয়

পৃথিবীটা ফাঁকা

মায়ের আদর দেয় না

আমায় দেখা।

দিবস রজনী কাটে আমার অবহেলায়

ভাবিতে হৃদয় আমার রক্ত ক্ষরণ হয়।

আর হয়ত কভু আসিবেনা তুমি ফিরে    

আমার নিবেদন তোমার কাছে যাই জানিয়ে।।

            

তাপসী রাবেয়া""  'কবি আঃ মান্নান'

তাপসী রাবেয়া"" 'কবি আঃ মান্নান'

 তাপসী রাবেয়া

                           কবি আঃ মান্নান

বসরার খোদা প্রেমিক তাপসী রাবেয়া

খোদার নৈকট্ট লাভে নিজেকে দিলেন বিলায়ে।

দরিদ্রের করাঘাতে করিতেন জীবন যাপন

অকালে পিতা মাতা করিল পরলোক গমন।

দিবানিশি খোদার প্রেমে থাকিত মসগুল

মোনাজাত ধরিয়া কাদিয়া হইত আকুল।

খোদার তরে জীবম করিয়াছে বিসর্জন

বিন্দু বিঃসর্গ ভুলিয়া যেন উদ্ধতন।

যৌবন জীবন করিয়াছে অর্পন

চল্লিশ বছর কাটিয়াছে আরাধনায়

ঘুমাইনি কখন শুইয়া বিছানায়।

হজ্বব্রত পালন করিত আসিয়া রাবেয়া

বায়তুলকাবা লইয়া যাইত আগাইয়া

দুনিয়ায় বরন করিয়াছে নানা দুঃখ

নববই বছর পরে সে পাইল সুখ।।

আলী খান হযরত এর কবিতা- "মূল্যবোধ"

আলী খান হযরত এর কবিতা- "মূল্যবোধ"

                    "মূল্যবোধ"

                           #### আলী খান হযরত ####     


মেঘলা দিনে চাঁদের আলো,

রাত্র যদি না হাসে! 

ভালোবেসে কি বুঝবে তুমি,

রষ্ণী যদি না আসে।


পাবে কী শোভা বৃষ্টির দিনে,

পেখম খুলে ময়ূর যদি না ডাকে।

 কি শোভা পাইবে তুমি! 

চাঁদের আলোয় জুনাকি যদি না আসে।


স্মৃতির এই মনো কুটিরে,

হয়তোবা রবে না কেহ!

শুধুই রয়ে যাবে স্মৃতি।


থাকবেনা কোন আপনজন,

স্মরণ করিবে কে ? 

খুজবে আপনজন, 

কাঁদবে শুধু তোমার ঐ আঁখি।


যেতে হবে সুন্দর ভুবন ছেড়ে,

ছলো ছলো আঁখি ।


 বৃশ্চিক মনের দহন ........হারুন অর রশিদ

বৃশ্চিক মনের দহন ........হারুন অর রশিদ

 বৃশ্চিক মনের দহন

 ...............হারুন অর রশিদ


বাহুতে ক্ষত তুমি জেগে আছো এই রাত ফেরারী তবু–

তবু আলো আছে, বিষাদ ঝরছে। অন্ধকারের এইতো নগ্নতা–

এসবই বেসামাল গল্পের ছক বাঁধা ফাঁদ!


বন্ধ জানালা, দরজায় খিল্ মন থেকে খুলেছো শরীর

আমাকে ছোঁওনি তুমি তবু স্পর্শ ব্যাধি

বাতাসের সুতীব্র দহন, এই বেগ হুড়মুড় ঢুকে পড়ে

কার কোলে মাথা রেখে কারে ছোঁয় অনাহুত মেঘ; বর্ষার দহন!


সাদা পাতা, নীল অক্ষর, ভ্রষ্ট ডায়েরীর খাঁজে শব্দহীন এ কোন কবিতা?

তুমি মেলে দাও অন্তহীন অমল কবিতার খাতা

কে তারে লেখে?

আমি কেবল পাঠ করি সাদা পাতা, নীল অক্ষর…


দূরে পাতা ঝরে, জল ঝরে পুড়ে যায় বৃশ্চিক মন।

রক্তগুলো আগুন দানা  -হারুন অর রশিদ

রক্তগুলো আগুন দানা -হারুন অর রশিদ

 
রক্তগুলো আগুন দানা

                -হারুন অর রশিদ


ফু দিওনা আগুন বনে শর্ষে ভেবে

ফু দিওনা

শর্ষে ফুলের অবয়বে ক্ষেতের বুকে আগুন জ্বলে

ফু দিওনা।


দাউ দাউ দাউ জ্বলছে আগুন বুকের মাঝে

ফু দিওনা

বুকের মাঝে হৃদয় ভেবে ফু দিওনা

ওখানেও আগুন পাখি দিচ্ছে হাওয়া

ফু দিওনা।


কিশোর বুকে আগুন জ্বেলে ফু দিওনা

জ্বলবে পাড়া, জ্বলবে গ্রাম, জ্বলবে শহর

নদীর বুকে জ্বলবে আগুন, পুড়বে পাহাড়

ফু দিওনা।


পথের মাঝে আগুন স্রোত ফু দিওনা

মুখে মুখে ঘুরছে আগুন ফু দিওনা

নিঃশ্বাসেতে উড়ছে আগুন ফু দিওনা

জোয়ান ছেলের রক্ত দেখে ফু দিওনা।


ফুলকি ছাড়া রক্তগুলো আগুন দানা

জমাট বরফ শীতল ভেবে ফু দিওনা

ফু দিওনা 

.. .  ফু দিওনা 

... .......  ফু দিওনা।


প্রেমিক বুকের রক্তক্ষরণ ফু দিওনা

ভবঘুরের সূর্য পোড়া শান্ত মনে ফু দিওনা

চায়ের কাপের বেকার ঠোঁটে ফু দিওনা।


নগ্নপায়ে বেনীর স্রোত- সাপের ফনা

সবুজ-পান্না ঝকঝকে চোখ কাঁচের বারুদ

ফু দিওনা।


চৈত্রমাসে বাঁশের ঝাড়ে ভুল করোনা

পাতায় পাতায় লাগলে দোলা ফু দিওনা।


মোঃ সাইফুর রহমান সাইফ ‘র বিশেষ কলাম- পদ্মায় একটি স্পিড বোর্ড আমি আর ক-জন

মোঃ সাইফুর রহমান সাইফ ‘র বিশেষ কলাম- পদ্মায় একটি স্পিড বোর্ড আমি আর ক-জন

 

 ২০১৭ সাল

আগামীকালকে ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকি। আমি তখন থাকি নারায়নগঞ্জ-এর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার চৌধুুরি বাড়ীর বৌ বাজারে। গ্রাম থেকে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মিজানুর ভাই আমাকে ফোন দিল কালকে কাঙ্গালীভোজ আসপানতো মিয়া ভাই, আমরা চাল তুলেছি কাঙ্গালীভোজ করবো। তোমার না থাকলে কিন্তু হবে না। আমি কোন কিছু না ভেবে বলে দিলাম আসবো ভাই, চিন্তুা করেন না। ১৫ই আগস্ট খুব ভোরে ফজরের আজান দিচ্ছে। আমি ঘুম থেকে উঠলাম আজান শুনেই। মাঝে মাঝে নামাজ পড়ি, তবে সব সময় না। ঐ দিন ফজরের নামাজ পড়লাম না, যশোরে যেতে হবে। খুব দ্রুত রেডি হলাম, যেতে হবে যাত্রাবাড়ী। তারপর বাস ধরে যেতে হবে মাওয়াঘাট। এই ভেবে ফ্রেস হয়ে টাকা পয়সা মানিব্যাগে ঢুকালাম। আমার ওয়াইফ-কে বল্লাম তুমি স্বাধীনের দিকে খেয়াল রেখ। স্বাধীন আমার একমাত্র ছেলে ওর বয়স তখন ০৬ মাস। বলে আমি বাসা থেকে আল্লহর নাম নিয়ে বের হলাম। বাইরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে, আকাশ তেমন পরিষ্কার ছিলো না। মেইন রাস্তায় এসে সিএনজি করে আসলাম চিটাগাং রোর্ড। এরপর বাসে উঠে আসলাম যাত্রাবাড়ী। যাত্রবাড়ী এসে দেখি, ইলিশ বাস কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ানো অনেক লোক গ্রামের দিকে যাবে। আমি আনুমানিক ২৫ জন লোকের পিছনে সিরিয়ালে টিকিটের জন্য দাঁড়ালাম। তারপর টিকিট নিয়ে, বাসে উঠে বসলাম। কিছুক্ষন পরে বাস ছাড়লো। বাস খুব একটা বেশি জোরে যাচ্ছেনা, কারণ তখন সামান্য গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বাসের ভিতরে অনেকেই রেগে যাচ্ছে, বলছে ড্রাইভার ভাই একটু জোরে চালান।

এই ভাবে গেলে আমাদের অনেক সময় লেগে যাবে। এই ভাবে ইলিশ গাড়ী চলে না, ড্রাইভার কিছু বলেনা সে নিজের মতই গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার দু’পাশেই পদ্মা সেতুর রাস্তার কাজও চলছে। প্রায় দেড় ঘন্টা পরে মাওয়া ঘাটে এসে পৌছালাম। আমার ব্যাগটা কাধে নিয়ে ঠেলাঠেলি করে নামলাম। বাস থেকে নেমে দেখি প্যান্টের পিছনের পকেট হালকা লাগছে। পকেটে হাত দিয়ে দেখি, আমার ম্যানিব্যাগ নাই। আমার ম্যানিব্যাগ গেল কোথায় ? দৌঁড়ে আবারও বাসে উঠলাম তখন বাসে ড্রাইভার আর হেলপার ছাড়া বাসে আর কেউ নাই। আমি ড্রাইভারকে বললাম, আমার ম্যানি ব্যাগটা নেই ! ড্রাইভার বলেন কি ভাই! ম্যানিব্যাগটা মেরে দিলো। হেলপার বললো ও আর আপনি পাবেন না ভাই! অসহায় মানুষের মত আবারো বাস থেকে নামলাম, তখন আর কোন তড়িঘড়ি ছিলনা। কি করবো, ভেবে পারছিলাম না। যশোরে যাবো টাকা লাগবে! তবে ম্যানিব্যাগে বেশি টাকা ছিল না, মাত্র চার হাজার টাকার মত ছিল। কিন্তু ঐ চার হাজার টাকা তখন আমার কাছে অনেক টাকা আরো ম্যানিব্যাগে আরো প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র ছিল। তাই অনেক হতাশ লাগছিল। ফোনটা হাতে নিয়ে ভাবলাম কাকে ফোন দেওয়া যায়। এই ভেবে আমি আমার এক কাজিনকে ফোন দিলাম। ওর নাম লিন্টু। লিন্টু ভাইকে বললাম আমার ম্যানিব্যাগটা মেরে দিয়েছে! আমি এখন মাওয়া ঘাটে বসা আছি। কাছে কোন টাকা-পয়সা নাই।  আমার কিছু টাকার দরকার। ও শুনে একটু আফসোস করে বললো আমি পাঁচশত টাকা দিতে পারবো তুমি একটা বিকাশ নাম্বার দে। আমি বিকাশ নাম্বার দিলাম পরে তার থেকে পাঁচশত টাকা নিলাম। মন ভিষন খারাপ আর মাথা গরম। এই ভাবে মানিব্যাগ খোয়া যাবে ভাবতে পারিনি। মনকে বোঝালাম যা গেছে তা আর ফিরে পাওয়া যাবেনা। পাঁচশত টাকা হাতে নিয়ে আস্তে আস্তে স্প্রিড বোর্ড কাউন্টারের দিকে এলাম। টিকিট কাউন্টারে দেখি, একজন লোক কাউন্টারের লোকের সাথে রাগারাগি করছে, কারণ প্রতি টিকিটে একশত টাকা বেশি নিচ্ছে। শুনে আমার মাথা আর একটু গরম হয়ে গেল। পকেটে মাত্র পাঁচশত টাকা এখানে যদি একশত টাকা বেশি নেয় তাহলে আমার যশোরে যাওয়া কষ্ট হয়ে যাবে।  আমি কাউন্টারে যেয়ে রাগ করে বললাম আপনারা মানুষকে কি পাগল পেয়েছেন! ইচ্ছা হলো আর ওমনি একশত টাকা বাড়িয়ে দিলেন। কাউন্টারের ভিতর থেকে রেগে একজন বললো, কথা কম গেলে টাকা দেন না গেলে সামনে থেকে সরে যান। আমি আরো একটু রেগে বললাম কথা কম মানে, আপনারা আর কত মানুষকে ধোঁক দিবেন! কাউন্টারের বাইরে একজন লোক দাঁড়ানো ছিল, ঐ লোকটাও ওদের লোক। ঐ লোক আমাকে বললো ভিতর থেকে না বললো কথা কম, বেশি কথা বললি কেন, ঘাঁড় ধরে নদীতে ফেলে দিবানে। আমি একটু চুপ থেকে টিকিট নিলাম। তারপর বললাম, আর কদিন খাবি খাঁ। পদ্মা সেতুর কাজ হচ্ছে, পদ্মা সেতু হলে কি খাবি দেখবো। আমার কথা শুনে বাইরে থাকা লোক ভিশন রেগে গেল। আমি বুঝতে পেরে আর কোন কথা বল্লাম না, নিচে নেমে গেলাম। একজন লোক আমার টিকিটের মুড়ি ছিড়ে নিল। আমি বোর্ডে যেয়ে বসলাম। তখন বোর্ডে মাত্র আট জন লোক। আরো আট-নয় জন হলে ছাড়বে বোর্ড। আমার পাশে একজন মুরুব্বি বসা ছিল। সামনে একজন গর্ভবতি নারীর সাথে তার স্বামী ছিল। ঐ বোর্ডে একজন বললো ভাই প্রায় সকালে ওরা একশত টাকা টিকিটে বেশি নেয়। আমরা কত অসহায়, কোন প্রতিবাদও করতে পারিনা। নিরবে মেনে নিতে হয়। আমি বললাম ওরা মানুষের বাচ্চা না, নিক আর কতদিন নিবে। পদ্মা সেতু হলে তো আর নিতে পারবে না। বোর্ডের একজন বললো সত্যিই সত্যিই কি পদ্মা সেতু হবে ভাই। আর একজন বললো, এতো সহজ না। যে দেশে মন্ত্রিরা টাকা মেরে খায়, সেই দেশে কিভাবে হবে পদ্মা সেতু! আমার পাশে থাকা মুরব্বি সাথে সাথে প্রতিবাদ করে বলে উঠলো, আপনি শেখ হাসিনা-কে এখনো চেনেনা, ও শেখ’র বেটি, ঠিকিই পদ্মা সেতু করেই ছাড়বে। একজন বললো আগে করুক না, আর একজন বললো আমাদের পকেটের টাকা দিয়ে করবে, সরকারের টাকা কনে। আমি প্রতিবাদ করে বললাম পদ্মা সেতু হইলে বুঝতে পারবেন সরকারের টাকা আছে কি নেই। সরকার কে এত দুর্বল ভাবছেন কেন আপনারা ? একজন নতুন লোক বোর্ডে এসে বললো আজকেও একশত টাকা বেশি নিলো। আমি প্রায় যায় এরা মানুষকে একেবারে জিম্মি করে ফেলেছে। আমি বললাম ওরা মানুষ না ওরা পশুর চেয়েও খারাপ। বোর্ড ভরে গেছে ছাড়বে এমন সময় ঐ কাউন্টারের বাইরে থাকা লোক আমাকে ফলো করে বললো এই তোর টিকিট টা ফেরত দে। বোর্ডের সবাই অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো, ঐ লোক বললো তোকে নিয়ে এই বোর্ড যাবে না। আমি কড়া ভাষায় বললাম টিকিট ফেরত দিব মানে। তখন ঐ লোক আমাকে গালী দিয়ে বলল, সেই শুরু থেকে পদ্মা সেতু পদ্মা সেতু করে যাচ্ছিস। পদ্মা সেতু কি তোর বাপ-মায়ে করতেছে। আমি ওর কথা শুনে ঘাবড়ে গেলাম, সত্যিই সত্যিই ওকি আমাকে বোর্ড থেকে নামিয়ে দিবে। তখন ও আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো টিকিট ফেরৎ দিয়ে ঐ লঞ্চে যা। বোর্ডের ভিতরে থাকা একজন লোক আমার পক্ষ নিয়ে বললো, ওকি টিকিট ছাড়া বোর্ডে উঠেছে নাকি! এই ড্রাইভার তুই বোর্ড ছাড়। তারপর একজন বললো ভাই টিকিট ফেরৎ দিবেন না। ওদের বিরুদ্ধে আমরা কোন কথা বলতে পারিনা। ড্রাইভার কে একটু কড়া ভাষায় বললো এই বেটা বোর্ড ছাড়। তখন অনেকেই আমার পক্ষ নিল ড্রাইভার বোর্ড ছাড়তে বাধ্য হলো। কিছুদুর যেতে না যেতেই বোর্ড বন্ধ হয়ে গেল। একজন বললো ওদের নাটক শুরু হয়েছে। পদ্মার বুকে তখন বেশ কিছু বড় বড় মেশিন দেখে বুকটা ভরে গেল। মনে হচ্ছিল পদ্মা সেতু এই বুঝি হয়ে গেল। বোর্ড স্ট্রার্ট হচ্ছে না, গর্ভবতী নারীটা নদীর পানিতে ভিজে যাচ্ছিল। আমার হাতে থাকা একটি পত্রিকার পেজ ওনাকে দিলাম। বড় বড় মেশিন দেখে উনি বললো ভাই আসলে কি পদ্মা সেতু হবে! আমি বললাম হবে মানে আসলেই হবে, আপনার সন্তান এই পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করবে। বলতে বলতে বোর্ড স্টার্ট হয়ে গেল। মনেমনে বললাম আল্লাহ তুমি শেখ হাসিনার হাতকে এমন ভাবে শক্ত করে দাও, উনি যেন পদ্মা সেতু করে মানুষকে দেখিয়ে দিতে পারে, আমরাও পারি। এই পদ্মা সেতু হয়ে গেলে আমি ওনাকে একটা উপহার দিব। তখন আমি ভাবিনি ওনাকে কি উপহার দিব। এই ভাবনা টা বুকে নিয়ে চার বছর পার করলাম। পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় শেষ। এখন ওনাকে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের মানুষের পক্ষ থেকে ওনাকে কিছু একটা উপহার দিতে চায়। আমি একজন অতি সামন্য র্ফাম উদ্যোক্তা মাত্র।
 -লেখক : মোঃ সাইফুর রহমান সাইফ, সভাপতি, বোধখানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, ঝিকরগাছা, যশোর।

 ঝিকরগাছায় সাহিত্য আসরে ৩টি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ঝিকরগাছায় সাহিত্য আসরে ৩টি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় বাঁকড়া কপোতাক্ষ সাহিত্য পরিষদ'র ৩৪তম মাসিক সাহিত্য আসরে মুহাঃ আবুল কালাম আজাদ'র ৩টি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় বাঁকড়া বাজাস্থ শওকত মার্কেটে কপোতাক্ষ সাহিত্য পরিষদ'র আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বরেণ্য কথা সাহিত্যিক ও গবেষক হোসেনউদ্দিন হোসেন। প্রধান আলোচক ছিলেন কবি গবেষক ও বাচিক শিল্পী ডঃ সবুজ শামীম আহসান।

কপোতাক্ষ সাহিত্য পরিষদ'র উপদেষ্টা গাজী আব্দুস সাত্তার’র সভাপতিত্বে ও বিশেষ অতিথি ছিলেন, কবি ও গবেষক সৌহার্দ্য সিরাজ, কথা সাহিত্যিক সফিয়ার রহমান, কবি ও গবেষক হোসাইন নজরুল হক, কবি ও প্রবান্ধিক মোঃ রেজাউল করিম, কবি ও সংগঠক ডা. মোকাররম হোসেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক আবুল কাশেম, এম আলমগীর, আফজাল হোসেন চাঁদ, কবি ও সাহিত্যিদের মধ্যে ছিলেন ইমদাদুল হক ইমদাদ, বিএসএম আলী আকবর, মনিরুজ্জামান মুন্না, ইবাদুল ইসলাম, বেদুঈন মোস্তফা, রফিকুন বারী, লিখন আলম, আব্দুর কাদেও, একেএম শহিদুল্লাহ, মেহেদী হাসান মুরাদ, শামীম রেজা, রকি মাহমুদ, আসমত হোসেন, আশরাফুল হাসান বিপ্লব, এমএ কাসেম, গাজী শহিদুল ইসলাম, শফিক শিমু, এমএম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।


মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুর : গুলি ফুরিয়ে আসতে থাকে, তখন কমান্ডারের নির্দেশ আসে ‘এক পাক আর্মি, এক গুলি’ - কাজী নাজিব হাসান

মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুর : গুলি ফুরিয়ে আসতে থাকে, তখন কমান্ডারের নির্দেশ আসে ‘এক পাক আর্মি, এক গুলি’ - কাজী নাজিব হাসান


৯ই ডিসেম্বর ফরিদপুর এর মুক্তিযুদ্ধর ইতিহাসে একটি গুরুত্বনপূর্ণ দিন। এদিন শহীদ কাজী সালাউদ্দিনসহ সালাউদ্দিন বাহিনীর ৬যোদ্ধা পাকিস্তানি সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। বিজযের ৪৯বর্ষপূর্তিতে দেশ এর তরুণ প্রজন্ম এর কাছে সেই যুদ্ধের ঘটনা তুলে ধরতে চাই।

৯ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এ দুপর ১২ টার দিকে যশোর-ফরিদপুর সড়কে এক পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন করিমপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর একটা জিপ নিয়ে ঢুকে পরেন। এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে সালাউদ্দিন বাহিনীর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সালাউদ্দদিন ও তার সহযোদ্ধারা যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ছিলেন শহীদ মেজবাহ উদ্দিন নউফেল, কাজী ফরিদ প্রমুখ।

কাজী সালাউদ্দিনের নির্দেশে পাকিস্তানি ক্যাপটেনের উপর ঝাঁপিয়ে পরেন, তার হাতের এলএমজি গর্জে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে ভেসে যায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাপটেনের জিপটি। এর আধা ঘণ্টা পর যশোর থেকে আগত সেনা সাঁজোয়া বহর এ সংবাদ পেয়ে তিন দিক  থেকে সালাউদ্দিন বাহিনীর ৩৬জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কে ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তুমুল সম্মুখ যুদ্ধ। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি ফুরিয়ে আসতে থাকে, তখন কমান্ডারের নির্দেশ আসে ‘এক পাক আর্মি, এক গুলি’। 

এই সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন সালাউদ্দিন বাহিনীর ৬যোদ্ধা শহীদ নউফেল, শহীদ ওহাব, শহীদ মুজিবর, শহীদ দেলয়ার, শহীদ আদেল ও শহীদ সোহরাব। বাকি সহ যোদ্ধাদের বাঁচানোর জন্য নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও সাহসী এই বীরযোদ্ধা এলএমজি দিয়ে ব্রাশ ফায়ার করতে করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামনা সামনি অবস্থান নেন। তাঁর ব্রাশ ফায়ারের গুলিতে অসংখ্য পাক সেনা রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। সালাউদ্দিনের এই সাহসিকতায় পাকিস্তানি সেনারা দিক্বিদিক ছুটে জীবন বাঁচায়। এরপর পাক সেনারা একত্রিত হয়ে আবার সালাউদ্দিন বাহিনীর উপর হামলা চালায়। ততক্ষনে সালাউদ্দিন বাহিনীর কাছে থাকা অস্ত্রের গুলির মজুদ প্রায় শেষ হয়ে যায়, তখন কমান্ডারের নির্দেশ আসে ‘এক পাক আর্মি, একগুলি’।

সালাউদ্দিনের নির্দেশে সহযোদ্ধারা জীবন বাঁচিয়া নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। একা সালাউদ্দিন জীবন বাজি রেখে এলএমজিএর ট্রিগার চাপতে থাকেন। এবারও অসংখ্য পাক সেনা হতাহত হয়। পাকিস্তানি সেনারা চারিপাশ থেকে হামলা চালাতে থাকে, এমন সময় পাকিস্তানি সেনাদের একটি বুলেটে তাঁর এলএমজি এর ম্যাগজিন উড়ে যায়। আর একটি বুলেট তাঁর পিঠে বিদ্ধ হয়। রক্তাত্ত সালাউদ্দিন ৭০০গজ দূরে একটি বাড়ির ঘরের পাটা তনে আশ্রয় নেন।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেই বাড়িতে ঢুকে বাড়ির সব মানুষদের গুলি করে হত্যা করে এবং বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। শহীদ হন ২২বছর বয়সী তরুণ বীরযোদ্ধা কাজী সালাউদ্দিন। ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বিজয়ের পর ১৭ই ডিসেম্বের ফরিদপুর হানাদার মুক্ত হলে সেই বাড়িতে শহীদ সালাউদ্দিনের কংকাল সনাক্ত করা হয় এবং সেই দিন-ই তাকে ফরিদপুরে আলিপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বিজয়ের ৭দিন আগে ৯ই ডিসেম্বর ফরিদপুরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কানাইপুর এলাকার করিমপুরের এই সম্মুখ যুদ্ধে সালাউদ্দিন বাহিনীর এই মহান আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গর্বের ইতিহাস। তার এই বীরোচিত ভূমিকার জন্য স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হওয়া উচিৎ। আমাদের মত আজকের তরুণ প্রজন্ম যারা যুদ্ধ দেখিনি, শাহীদ সালাউদ্দিন ও তাঁর সহযোদ্ধাদের দেশের জন্য এই মহান আত্মত্যাগ আমাদের দেশপ্রেমের অনুপ্রেরনা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে আমরাও জীবন উৎসর্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করব না। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে  আমাদের পূর্ব পুরুষরা যেই স্বাধীন বাংলাদেশ আমাদের উপহার দিয়েছেন, সেই দেশকে আমরাই গড়ে তুলব একটি সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে।

(লেখক - কাজী নাজিব হাসান, শহীদ কাজী সালাউদ্দিনের ভ্রাতুষ্পুত্র, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঝিকরগাছা উপজেলা ভূমি অফিস, যশোর।)


কবিতা - আযানের ধ্বনি

কবিতা - আযানের ধ্বনি


আযানের ধ্বনি
             ----- বিশ্বাস সুপদ কুমার
...............................................................................

"ফজর" আযান ঘুমকে ভাঙায়
দিনকে খুঁজে পাই যে
নিত্যনতুন স্বপ্ন নিয়ে
কর্মে ফিরে যাই যে।

"যোহর" আযান আসলে কানে
মিথ্যা মোহ ঢাকি
দুপুরবেলা আমি যখন
কর্মে বিভোর থাকি।

"আসর" আযান শুনতে পেলে
শ্রান্তি ফেরে তখন
বিকালবেলা কর্ম শেষে
ক্লান্ত থাকি যখন।

"মাগরিব" আযান সন্ধ্যা বেলায়
কানে দমকা আসে
গভীর চিন্তায় মগ্ন থেকে
শুদ্ধতায় মন ভাসে।

"এশা''র আযান আসলে ভেসে
রাত্রিকে নেই চুমে
দিনের শত হিসেব ফেলে
চলি মরণ ঘুমে।