শিক্ষা ও সংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিক্ষা ও সংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঝিকরগাছায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫শ অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন এমপি ফরিদ

ঝিকরগাছায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫শ অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন এমপি ফরিদ

ঝিকরগাছায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫শ অসহায়

মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন এমপি ফরিদ 

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে গরীব, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ২৫ মে (সোমবার) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। এ সময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কুরবানী আমাদের জন্য ত্যাগ ও মানবিকতার শিক্ষা বহন করে। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ঈমানি দায়িত্ব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় মোট ৫০০ জন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে জনপ্রতি ১,০০০ টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা ঈদ উদযাপন করতে পারেন স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, সেক্রেটারি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মশিউর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফখরুল ইসলাম, অধ্যাপক আলমগীর কবির, পৌর আমীর আব্দুল হামিদ, শংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নিছার উদ্দিন, অ্যাডভোকেট হাবিব কায়সারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর-সেক্রেটারি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।


ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক ঈদুল আজহা : হাকিকত, ফজিলত ও সামাজিক দর্শন -আফজাল হোসেন চাঁদ

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক ঈদুল আজহা : হাকিকত, ফজিলত ও সামাজিক দর্শন -আফজাল হোসেন চাঁদ

 ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক ঈদুল আজহা : হাকিকত, ফজিলত ও সামাজিক দর্শন

                                                                                                                -আফজাল হোসেন চাঁদ

মুসলিম উম্মাহর দ্বীন ও দুনিয়ার এক মহিমান্বিত মেলবন্ধনের নাম ঈদুল আজহা। এটি কেবলই আনন্দ-উৎসবের অবগাহন নয়; এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে এক সুগভীর জীবন দর্শন, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং আত্মশুদ্ধির চিরন্তন বার্তা। ত্যাগের সুমহান ইতিহাসে ভাস্বর এই দিনটি প্রতি বছর আমাদের মাঝে ফিরে আসে এক বুক মানবিকতা, সামাজিক সমতা ও মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্যের সুমহান শিক্ষা নিয়ে। আধুনিক সভ্যতার জাঁকজমক আর ভোগবাদী সংস্কৃতির করাল গ্রাসে নিমজ্জিত এই সমকালীন সমাজে ঈদুল আজহার প্রাসঙ্গিকতা এবং এর অন্তর্নিহিত দর্শন আজ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ও অনস্বীকার্য হয়ে উঠেছে।

কোরবানির ঐতিহাসিক পটভূমি ও হাকিকত- কোরবানির ইতিহাস মূলত পরম আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের এক অনন্য মহাকাব্য। আদি পিতা হযরত আদম (আ.) এর যুগ থেকে কোরবানির বিধান চলে আসলেও, বর্তমান মুসলিম উম্মাহ যে নিয়মে কোরবানি আদায় করে, মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) এর সেই অভূতপূর্ব আনুগত্য ও ঐতিহাসিক ত্যাগ মানব ইতিহাসে সর্বোচ্চ আত্মসমর্পণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মহান আল্লাহর নির্দেশে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু, বার্ধক্যের একমাত্র আলো-নূর-ই-নয়ন হযরত ইসমাইল (আ.)- কে মিনার প্রান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জবেহ করতে উদ্যত হয়েছিলেন। পিতা ও পুত্রের এই অভূতপূর্ব আনুগত্য ও ঐতিহাসিক ত্যাগ আল্লাহ তাআলার দরবারে এতটাই মকবুল ও পছন্দনীয় হয়েছিল যে, তিনি জবেহ করার মুহূর্তে ইসমাইলের স্থলে একটি জান্নাতি দুম্বা প্রতিস্থাপন করে দেন। এই বিস্ময়কর ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক হিসেবেই কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্ব মুসলিমের ওপর কোরবানিকে ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা হিসেবে জারি রাখা হয়েছে। পশু কোরবানির বাহ্যিক অবয়বের আড়ালে যে আধ্যাত্মিক 'হাকিকত' বা প্রকৃত সত্য লুকিয়ে আছে, তা হলো নিজের ভেতরে লালিত সব ধরনের পশুত্ব, অহংকার, নফসানি খায়েশ (কুপ্রবৃত্তি), লোভ, হিংসা ও সংকীর্ণতাকে মহান আল্লাহর চরণে উৎসর্গ করা। কোরবানি কোনো লৌকিক প্রদর্শনী বা সামাজিক আভিজাত্যের প্রতিযোগিতা নয়। এর মূল হাকিকত হলো তাকওয়া অর্জন করা। মানুষের অন্তরের নিয়ত এবং আল্লাহভীতির গভীরতাই কোরবানির প্রধান মাপকাঠি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন-“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না কোরবানির রক্ত বা মাংস; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া (আল্লাহভীতি)।” (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৩৭)

কোরবানির ফজিলত ও পুণ্যময় সওয়াব- ইসলামী শরিয়তে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য কোরবানি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার জীবনে প্রতি বছর কোরবানি করেছেন এবং উম্মতকে এর ফজিলত সম্পর্কে গভীরভাবে আশ্বস্ত করেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে কোরবানি করার চেয়ে উত্তম ও আল্লাহর নিকট প্রিয় আর কোনো আমল হতে পারে না। কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সন্তুষ্টি অবতীর্ণ হয়। হযরত জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই কোরবানি গুলো আসলে কী ? রাসুল (সা.) বললেন, “এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত।” তাঁরা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এতে আমাদের কী সওয়াব রয়েছে ? জবাবে আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করলেন, “কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি বা সওয়াব রয়েছে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)। একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে অনুধাবন করা যায়, একটি পশুর গায়ে কোটি কোটি পশম থাকে, যা গণনা করা অসম্ভব। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাকে এই ইবাদতের মাধ্যমে অফুরন্ত ও সীমাহীন পুণ্য দান করেন। অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, “যে ব্যক্তির কোরবানি করার সামর্থ্য রয়েছে অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে।”

সামাজিক সমতা ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য দর্শন- ঈদুল আজহা কেবলই একটি ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, এর একটি বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক রয়েছে, যা সমাজে সাম্য ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির মাংসকে তিন ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগ নিজেদের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং বাকি এক ভাগ সমাজস্থ দরিদ্র, অসহায় ও ইয়াতিম-মিসকিনদের মাঝে বণ্টন করা মুস্তাহাব। এই সুষম বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার যে চিরন্তন অর্থনৈতিক বৈষম্য, তা সাময়িক ভাবে হলেও বিলুপ্ত হয়। সারা বছর যারা পুষ্টিকর খাবার বা মাংস কিনে খেতে পারে না, এই দিনে তাদের ঘরে ঘরে আনন্দের আলো জ্বলে ওঠে। আজকের এই পুঁজিবাদী ও চরম আত্মকেন্দ্রিক সমাজে, যেখানে মানুষ কেবল নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত, সেখানে ঈদুল আজহা আমাদের শেখায় কীভাবে নিজের সম্পদ অন্যের সাথে ভাগ করে নিতে হয়। একজন প্রকৃত মুমিনের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সে চারপাশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। কোরবানি আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তবে বর্তমান সময়ে আমাদের এই ঈদের মূল শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই লোকদেখানো উৎসবের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। হাটে গিয়ে লাখ লাখ টাকা দিয়ে পশু কেনার মাধ্যমে ত্যাগের মহিমার চেয়ে নিজেদের আভিজাত্য আর অহংকার প্রদর্শনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক-ইউটিউব) এর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা যায়। অথচ ঈদের মূল বিবেচনা হওয়া উচিত পশু কেনার সামর্থ্যের পেছনে অন্তরের সততা ও আল্লাহভীতি কতটা অটুট ছিল।

পরিবেশ সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ- ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক দায়িত্ব পালন করাও ঈমানের অন্যতম অঙ্গ। কোরবানির পশু জবাই এবং বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে আমাদের চরম সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অসচেতনভাবে যত্রতত্র পশু জবাই করলে এবং রক্ত ও বর্জ্য সময়মতো পরিষ্কার না করলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়, যা বিভিন্ন রোগব্যাধি ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। ইসলামে বলা হয়েছে, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ’। তাই ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ যেন কোনো ভাবেই জনদুর্ভোগ বা পরিবেশ দূষণের কারণ না হয়, সেদিকে আমাদের কঠোর নজর দিতে হবে। নিজ দায়িত্বে কোরবানির স্থানটি পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করা এবং বর্জ্যগুলো সুনির্দিষ্ট স্থানে বা মাটির নিচে পুঁতে ফেলা প্রতিটি সুনাগরিকের অপরিহার্য কর্তব্য। একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রেখে ঈদ উদযাপন করাই ইসলামের প্রকৃত চেতনা।

জীবনব্যাপী ত্যাগের চেতনায় পরিশেষে বলা যায়- ঈদুল আজহার শিক্ষা কেবল নির্দিষ্ট একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং এই ত্যাগের মহিমাকে আমাদের সমগ্র ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বছরব্যাপী ধারণ করতে হবে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়ার যে দীক্ষা আমরা এই ঈদ থেকে পাই, তা-ই হোক আমাদের পথচলার মূল প্রেরণা। আসুন, এই পবিত্র ঈদুল আজহায় আমরা শুধু পশুর গলায় ছুরি না চালিয়ে, আমাদের ভেতরের অহংকার, সংকীর্ণতা, পরশ্রীকাতরতা, দুর্নীতি ও অন্যায় প্রবণতাকে কোরবানি দিই। আমাদের অন্তর হোক কলুষমুক্ত, সমাজ হোক শান্তিময় আর মানবতা হোক মহিমান্বিত। তবেই আমাদের কোরবানি আল্লাহর দরবারে সার্থক ও মকবুল হবে, এবং ঈদুল আজহা সত্যিকার অর্থে মানবতার কল্যাণময় উৎসবে রূপান্তরিত হবে। সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদ উল আজাহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক। লেখক- আফজাল হোসেন চাঁদ, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট, ঝিকরগাছা, যশোর।


ঝিকরগাছা হাসপাতালে ছুটির আবেদন নেই, কর্মস্থলেও দেখা নেই : রিয়াজুলের খেয়ালখুশিতে চলে ইসিজি কার্যক্রম

ঝিকরগাছা হাসপাতালে ছুটির আবেদন নেই, কর্মস্থলেও দেখা নেই : রিয়াজুলের খেয়ালখুশিতে চলে ইসিজি কার্যক্রম

ঝিকরগাছা হাসপাতালে ছুটির আবেদন নেই, কর্মস্থলেও দেখা নেই : রিয়াজুলের খেয়ালখুশিতে চলে ইসিজি কার্যক্রম

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যা স্থানীয়ভাবে ‘পদ্মপুকুর হাসপাতাল’ নামে পরিচিত, সেটি কেবল ঝিকরগাছা নয়, বরং পার্শ্ববর্তী মণিরামপুর ও শার্শা উপজেলার হাজারো মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। অতীতে এই হাসপাতালের সেবার মান ও সুনাম থাকলেও, বর্তমানে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চিকিৎসা না পেয়েই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীরা।

সম্প্রতি পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সরকারি ছুটির আগমুহূর্তে রবিবার (২৪ মে) দুপুর ১২টার সময় কার্ডিওগ্রাফার (ইসিজি টেকনিশিয়ান) রিয়াজুল ইসলামের বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি রোগীদের ভোগান্তিকে চরমে নিয়ে গেছে। হাসপাতালের রেকর্ডপত্র ঘেঁটে তার কোনো ছুটির দরখাস্ত পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টেকনিশিয়ান রিয়াজুল ইসলাম নিয়মিত কর্মস্থলে আসলেও নিজের রুমে থাকেন না। অফিস চলাকালীন সময়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না, যার ফলে সাধারণ রোগীদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে রোগীদের বাড়তি ভিড় থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে জরুরি এই সেবা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইসিজি করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। ভুক্তভোগী শাকিল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই হাসপাতালে এসেছিলাম ভরসা নিয়ে। কিন্তু ইসিজি করতে এসে দেখি টেকনিশিয়ান নেই। দায়িত্বরত অন্যদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, তার কোনো ছুটির আবেদন নেই। হাসপাতালে এসেও তাকে রুমে না পাওয়াটা যেন নিত্যদিনের ঘটনা।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দায়িত্বে থাকা প্রধান সহকারী (বড় বাবু) শওকত আকবরের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রথমে রিয়াজুল ইসলামের মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি নিজেই রিয়াজুলের নম্বরে কল করলেও রিয়াজুল ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে শওকত আকবর সংবাদকর্মীদের কাছে নম্বরটি প্রদান করেন এবং নিশ্চিত করেন যে, রিয়াজুলের কোনো ছুটির আবেদনের কপি তার নিকট নেই।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কার্ডিওগ্রাফার রিয়াজুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রশিদ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি অফিসে উপস্থিত না থাকার পাশাপাশি বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত। এছাড়া তার রুমে না থাকার অভিযোগটিও আমরা খতিয়ে দেখছি। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দেখভালের দায়িত্ব বড় বাবু শওকতের ওপর দেওয়া রয়েছে। তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সরকারি সেবা অব্যাহত রাখতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

হাসপাতালের এই অবক্ষয় রোধে এবং স্থানীয় তিন উপজেলার অসহায় রোগীদের কথা ভেবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


ঝিকরগাছায় জামায়াতের জরুরি বৈঠক: খুন ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ঝিকরগাছায় জামায়াতের জরুরি বৈঠক: খুন ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ঝিকরগাছায় জামায়াতের জরুরি বৈঠক

খুন ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

চাঁদনী বিডি ডেস্ক:

সারাদেশসহ স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতি, খুন, ছিনতাই ও মাদকের ভয়াবহ ছড়াছড়ির প্রতিবাদে এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক জরুরি কর্মপরিষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের নির্দেশনার আলোকে এই জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম। তিনি তার বক্তব্যে‌দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "সারাদেশে ধর্ষণ ও খুনের মতো জঘন্য অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে পৌরসভার কৃত্তিপুর গ্রামের আবু হুরাইরা মিমি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত নির্মম ও বেদনাদায়ক।" তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

একই সাথে, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঝিকরগাছা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় যেন সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।


উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারিদ্বয় শেখ আব্দুর রকিম ও অধ্যাপক মশিউর রহমান, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও অফিস সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, উপজেলা যুব বিভাগ সভাপতি আবিদু্র রহমান, উপজেলা পেশাজীবী সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি প্রভাষক আলমগীর কবির, হাফেজ মাওলানা রেজাউল ইসলাম, ওলামা বিভাগের সভাপতি মুফতি আবু জাফর, মাওলানা আনারুল ইসলাম প্রমুখ।

বৈঠক শেষে দেশের শান্তি, স্থীতিশীলতা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

 ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুরে আবু হুরাইয়া মিম (২৮) নামে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে তার বাড়ির পাশে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক সংলগ্ন একটি বাঁশবাগান থেকে রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত মিম কীর্তিপুর মোড় এলাকার মশিয়ার রহমান ওরফে মশির ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে মিম বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে মহাসড়কের পাশের একটি বাঁশবাগানে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে বন্ধুদের শত্রুতার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে নিহতের স্ত্রী নিলা খাতুন জানান, ঘটনার সময় তিনি একই গ্রামে বাবার বাড়িতে ছিলেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। রাতে মিমের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও মিম আর ফোন রিসিভ করেননি। নিলা খাতুনের দাবি, বন্ধুদের সাথেই মিমের শত্রুতা ছিল এবং তারাই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকতে পারে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, নিহতের মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর কোপের দাগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে অত্যন্ত বর্বরভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে রেখে গেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল) ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি এবং থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।


ঝিকরগাছায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত 

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায়ে প্রকল্পের কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১১টার সময় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ।

এসময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “গ্রাম আদালত হচ্ছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারপ্রাপ্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। সমাজে বৈষম্য ও বিরোধের হার কমাতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সকলকে আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমানভাবে ন্যায়বিচার পেতে পারেন। ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার এ্যাড. মহিতোষ কুমার রায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরবৃন্দ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান। 

 

চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল : পেশাদারিত্বের সংকট, সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের নতুন প্রত্যয়  -আফজাল হোসেন চাঁদ

চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল : পেশাদারিত্বের সংকট, সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের নতুন প্রত্যয় -আফজাল হোসেন চাঁদ

 উপ-সম্পাদকীয়

চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল : পেশাদারিত্বের সংকট, সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের নতুন প্রত্যয়

                                                                                                    -আফজাল হোসেন চাঁদ

“চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” মূলত পেশাজীবীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতাকে সামনে আনার একটি ধারণা বা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর মূল ভাবনা হলো- বর্তমান যুগে শুধু ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা নয়, বরং বাস্তব দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সামর্থ্যই একজন প্রকৃত পেশাজীবীর পরিচয়।

এ ধরনের আয়োজন বা ধারণা তরুণদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা প্রমাণ এবং নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা তৈরিতে উৎসাহ দেয়। একই সঙ্গে এটি পেশাগত জীবনে প্রতিযোগিতা ও দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে। আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তি ও পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার যে প্রয়োজন, “চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” সেই বার্তাই বহন করতে দেখা যায়। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় মানুষ যত উন্নত হয়েছে, ততই বেড়েছে পেশা ও দায়িত্বের পরিধি। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন, প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্র এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির যুগে “পেশাদারিত্ব” এখন শুধু একটি গুণ নয়; এটি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো- আমাদের সমাজে পেশাদারিত্বের অভাব আজ বহু সংকটের জন্ম দিচ্ছে। দায়িত্বহীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং নৈতিক অবক্ষয় সমাজের নানা স্তরে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় “চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” একটি সময়োপযোগী আহ্বান- যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নতুনভাবে ভাবতে হবে পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা নিয়ে।

বর্তমান বিশ্বে যে দেশগুলো উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে, তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি শুধু অর্থনীতি নয়; বরং দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল পেশাজীবী শ্রেণি। জাপান, জার্মানি, সিঙ্গাপুর কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে কর্মসংস্কৃতি ও পেশাদারিত্ব জাতীয় উন্নয়নের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত। সেখানে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীও নিজের কাজকে সম্মানের সঙ্গে করেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে নিজেকে নিবেদিত রাখেন, একজন চিকিৎসক মানবসেবাকে পেশার ঊর্ধ্বে স্থান দেন।

অথচ আমাদের সমাজে এখনো অনেক ক্ষেত্রে পেশাকে সেবা নয়, বরং ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। পেশাদারিত্ব বলতে শুধু নির্দিষ্ট পোশাক, অফিস বা পদমর্যাদাকে বোঝায় না। এটি মূলত দায়িত্ববোধ, সততা, দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, মানবিকতা এবং জবাবদিহিতার সমন্বিত রূপ। একজন প্রকৃত পেশাজীবী কখনো কাজকে অবহেলা করেন না।

তিনি জানেন, তার একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা অসতর্কতা সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। একজন প্রকৌশলীর সামান্য অবহেলায় একটি ভবন ধসে পড়তে পারে, একজন চিকিৎসকের ভুলে একটি জীবন ঝরে যেতে পারে, একজন সাংবাদিকের অসত্য সংবাদ সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, একজন শিক্ষকের অনীহা একটি প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় পেশাদারিত্বের সংকট সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, চিকিৎসা খাতে রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পান না, প্রশাসনে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়, আবার গণমাধ্যমেও অনেক সময় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিবর্তে প্রভাব ও স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং সামাজিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ দ্রুত সফল হতে চায়।

তারা রাতারাতি পরিচিতি, অর্থ ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সফলতার পেছনে যে দীর্ঘ পরিশ্রম, ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং আত্মত্যাগ প্রয়োজন, তা অনেকেই উপলব্ধি করতে চায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাহ্যিক চাকচিক্য তরুণদের একাংশকে বিভ্রান্ত করছে। অনেকেই মনে করেন, ভাইরাল হওয়াই সাফল্য। অথচ প্রকৃত সফলতা হলো নিজের কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে শুধু ডিগ্রি নয়; বরং দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি জ্ঞান এবং নৈতিক নেতৃত্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে অনেক প্রচলিত পেশা পরিবর্তিত হয়ে যাবে। ফলে টিকে থাকতে হলে কর্মীদের আরও বেশি পেশাদার ও দক্ষ হতে হবে। বাংলাদেশেও এখন তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, শিল্প ও উদ্যোক্তা খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও দক্ষ পেশাজীবীর অভাব এখনো বড় সমস্যা। পেশাদারিত্বের অভাব শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না; এটি জাতীয় উন্নয়নের পথও বাধাগ্রস্ত করে।

একটি দেশে যদি প্রশাসনে দুর্নীতি বাড়ে, শিক্ষা ব্যবস্থায় মানহীনতা থাকে, স্বাস্থ্যসেবায় অব্যবস্থা দেখা দেয় এবং বিচার ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা কমে যায়- তবে সেই দেশের উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। উন্নয়নের বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই জাতি উন্নত হয় না; উন্নত হয় তখনই, যখন মানুষ তার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করে।

আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো “যোগ্যতার চেয়ে সম্পর্কের মূল্য বেশি পাওয়া”। অনেক সময় দক্ষ ও মেধাবী মানুষ পিছিয়ে পড়েন, আর অযোগ্য ব্যক্তিরা প্রভাব ও সুপারিশের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে যান। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং প্রকৃত মেধাবীরা হতাশ হয়ে পড়েন। এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে জাতি কখনোই প্রকৃত অর্থে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে না। পেশাদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র- তিনটিরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

পরিবার থেকে শিশুদের সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ শেখাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা নয়; বরং নৈতিকতা, দক্ষতা ও বাস্তবমুখী জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে সাংবাদিকতা পেশায় পেশাদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণমাধ্যম সমাজের আয়না।

একজন সাংবাদিক যদি সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকেন, তবে সমাজে সচেতনতা বাড়ে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়। কিন্তু যখন সংবাদ ব্যক্তিস্বার্থ, গুজব বা রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সাংবাদিকদেরও তথ্য যাচাই, নৈতিকতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একইভাবে চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা- সবার মধ্যেই পেশাগত মূল্যবোধ জাগ্রত হওয়া জরুরি। কারণ একটি সমাজ তখনই সুন্দর হয়, যখন প্রত্যেকে নিজের কাজকে দায়িত্ব ও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।

“চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” মূলত আত্মশুদ্ধির ডাক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়- আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কতটা সৎ ও দায়িত্বশীল ? আমরা কি শুধু ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করছি, নাকি সমাজ ও দেশের উন্নয়নের কথাও ভাবছি ? একজন প্রকৃত পেশাজীবী কখনো শর্টকাটে বিশ্বাস করেন না; তিনি কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

আজ প্রয়োজন এমন এক নতুন প্রজন্ম, যারা শুধু চাকরি খুঁজবে না; বরং নিজেদের দক্ষতা, সততা ও উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে। তরুণদের বুঝতে হবে সাময়িক জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্মান অনেক বেশি মূল্যবান। আর সেই সম্মান অর্জিত হয় কাজের গুণমান, চরিত্র এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সমাজের স্থিতিশীলতা এবং মানুষের আস্থা- সবকিছুর মূলেই রয়েছে পেশাদারিত্ব।

তাই আমাদের প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে পরিবর্তনের অঙ্গীকার করতে হবে। শিক্ষককে হতে হবে আদর্শের প্রতীক, চিকিৎসককে মানবতার, সাংবাদিককে সত্যের, প্রশাসককে ন্যায়বিচারের এবং তরুণদের হতে হবে সততা ও দক্ষতার উদাহরণ। কারণ একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার সম্পদে নয়, বরং তার পেশাজীবীদের সততা, দক্ষতা ও মানবিকতায়। আর সেই চেতনার পুনর্জাগরণই হতে পারে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

“চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” আমাদের শেখায় যে প্রকৃত পেশাদারিত্ব কেবল দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইনসাফ, সততা ও নৈতিকতার মধ্য দিয়েই একজন মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয়। যেখানে যোগ্যতার চেয়ে স্বজনপ্রীতি বা অন্যায় প্রাধান্য পায়, সেখানে মেধা বিকশিত হতে পারে না। তাই প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায়ভিত্তিক মূল্যায়ন ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। ইনসাফভিত্তিক সমাজই পারে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক পেশাজীবী তৈরি করতে, যা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।                                                                                                          লেখক- সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।


ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি

প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

আফজাল হোসেন চাঁদ :

ফুলের রাজ্য নামক যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ও পৌর সদর জুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির দৌরাত্ম্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকে ফসলি জমি, খাল-বিল ও বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এক হাজার থেকে এক হাজার পাঁচশত টাকা হারে ট্রাক, ট্রলি ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতেন। অবৈধ মাটি কাটার দায়ে জরিমানা এবং মেশিন জব্দের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে মাটি খেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ফসলি জমির উর্বর উপরের স্তরের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলা ও রাতের আধারে ট্রাক্টর ও ট্রলিযোগে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাটি ইটভাটা, রাস্তা-পুকুর ভরাট ও বিভিন্ন নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং খনে খনে হালকা বৃষ্টি হলে সড়কের উপর জমে থাকা মাটি পিছলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও মটরসাইকেল সহ বিভিন্ন প্রকার দূর্ঘটনার স্বিকার হতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, অবাধে মাটি কাটার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “আগে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল। এখন অভিযোগ দিয়েও অনেক সময় প্রতিকার পাওয়া যায় না। ফলে যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে তারা আরও উৎসাহ পাচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা দ্রুত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ফুলের রাজ্য নামক ঝিকরগাছা অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।


আলো ছড়ানো তিন মুখ, ধুমঘাটের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আলো ছড়ানো তিন মুখ, ধুমঘাটের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আলো ছড়ানো তিন মুখ, ধুমঘাটের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আফজাল হোসেন চাঁদ :
ব্যতিক্রমী আয়োজন, গুণীজনদের সম্মাননা এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার প্রত্যয়ে যশোরে অনুষ্ঠিত হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ধুমঘাট-এর ৩য় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য শুভ সূচনা শুরু হয়।
শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) প্রেসক্লাব যশোর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গুণীজন সম্মাননা ২০২৬ ও গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
‎“শূন্যর কবির পূর্ণ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাজসেবা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান কবীর, একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন এবং পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা খাতুন @ মেঘনা ইমদাদ ।
‎কম সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অনন্য ভূমিকার জন্য স্বপ্নলোকের পাঠশালা-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত মেঘনা খাতুন @ মেঘনা ইমদাদকে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়। একইসঙ্গে ‘আইডিয়া’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর হামিদুল ইসলাম এবং ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর মো. শাজাহান কবীরকেও সম্মানিত করা হয়।
‎অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় তুলে দেন ঝিনাইদহ সরকারি কে.সি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিএম রেজাউল করিম, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দৌলা এবং যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের লেখা ‘আগামীর সাংবাদিক : কিশোর বয়সেই হাতেখড়ি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে ধুমঘাটের তিন বছরের যাত্রা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র এবং ‘তারুণ্যের বাতিঘর’ শিরোনামে গুণীজনদের জীবন ও কর্মকাণ্ডভিত্তিক আরেকটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
‎দ্বিতীয় পর্বে গ্রন্থের ওপর আলোচনা করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. বিএম রেজাউল করিম, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন, দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মবিন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি ও দৈনিক যশোর এর সম্পাদক ও প্রকাশক জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান এবং গ্রন্থের লেখক মনিরুল ইসলাম।
‎অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শাহেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা পাবলিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাগদীরুল গনী নিবিড় ও দীপান্বিতা সিংহ রায়।
‎উল্লেখ্য গুণীজনদের সম্মাননা, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং তারুণ্যনির্ভর আয়োজনে সব মিলিয়ে ধুমঘাটের এ আয়োজন উপস্থিত অতিথিদের মাঝে ভিন্নমাত্রার আবেগ ও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে।

ঝিকরগাছায় অচেতন করে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

ঝিকরগাছায় অচেতন করে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

 ঝিকরগাছায় অচেতন করে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মিস্ত্রিপাড়ায় একই রাতে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্রের সদস্যরা এক পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। অপর একটি ফাঁকা বাড়িতেও চালানো হয়েছে চুরি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত গভীর রাতে কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা নারায়ন মন্ডলের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে চোরেরা বাড়ির পাশের গাছ বেয়ে ছাদে উঠে সিঁড়ি ঘরের টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের ওয়ারড্রবের তালা ভেঙ্গে নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও মালামাল নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী জানান, বিভিন্ন মানুষের পাওনা পরিশোধের জন্য তিনি বাবার বাড়ি থেকে ধার করে ওই টাকা এনেছিলেন। সকালে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখেন ঘরের সব জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি বলেন, “আমরা অনেক ঋণের মধ্যে আছি। মানুষের টাকা পরিশোধ করার জন্য বাবার বাড়ি থেকে ধার করে টাকা এনেছিলাম। সকালে এসে দেখি ওয়ারড্রবের তালা ভাঙ্গা, ঘরের সব কিছু এলোমেলো আর টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নেই।”

অপর দিকে একই রাতে পাশের বাড়ির বাসিন্দা মুরালি সেনের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। সকালে মুরালি সেন ও তার স্ত্রী মায়া সেনকে অচেতন অবস্থায় বাড়ির বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের ঘরের আসবাবপত্র ও আলমারি এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাড়ির পেছনের দরজাও খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, চোরেরা সিঁড়ি ঘর দিয়ে প্রবেশ করে চুরি শেষে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।

মুরালি সেনের পরিবার দাবি করেছে, তাদের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা, একটি সোনার চেইন এবং একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল চুরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর ধারণা, চোরচক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে খাবারের সঙ্গে বা অন্য কোনো কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। একই রাতে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্ জালাল আলম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার (১৫ মে) সকালে আমার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


শিক্ষকের হাতে শাসনের প্রতীকী “লাঠি” ফিরুক : সুশিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় -আফজাল হোসেন চাঁদ

শিক্ষকের হাতে শাসনের প্রতীকী “লাঠি” ফিরুক : সুশিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় -আফজাল হোসেন চাঁদ

 উপ সম্পাদকীয়

শিক্ষকের হাতে শাসনের প্রতীকী “লাঠি” ফিরুক : সুশিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়

                                                                                                                        -আফজাল হোসেন চাঁদ

একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা, আর সেই শিক্ষার কারিগর হলেন শিক্ষক। প্রাচীনকাল থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ছিল শ্রদ্ধা, স্নেহ এবং শাসনের এক অনুপম মিশ্রণ। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং ‘মানবাধিকার’ বা ‘শিশু মনোবিজ্ঞান’-এর অতি-সরলীকৃত ব্যাখ্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শাসনের উপাদানটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলার যে চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে সমাজ সচেতন মহলে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে-শিক্ষকের হাতের সেই প্রতীকী "লাঠি" কি তবে তুলে রাখা ভুল ছিল? এখানে ‘লাঠি’ মানে শারীরিক নির্যাতন নয়, বরং এটি শৃঙ্খলা ও নৈতিক শাসনের এক শক্তিশালী প্রতীক। 

এক সময় আমাদের সমাজব্যবস্থায় একটি প্রচলিত ধারণা ছিল-‘যেইখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।’ এই অমূল্য রতন বা সুনাগরিক গড়ার কারিগর হলেন শিক্ষক। শিক্ষকদের হাতে একসময় একটি প্রতীকী লাঠি থাকত, যা ছিল শাসনের ও শৃঙ্খলার চিহ্ন। সেই লাঠি কেবল বেত ছিল না, ছিল শিক্ষার্থীর বিপথে যাওয়ার পথে এক অমোঘ বাধা। কিন্তু আধুনিক শিক্ষার ডামাডোলে আমরা ‘শাসন’ শব্দটিকে নেতিবাচক করে তুলেছি, যার ফলে আজ শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে সমাজ-সর্বত্রই শৃঙ্খলার চরম ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা। আজ সমাজের বিভিন্ন স্তরে যে অস্থিরতা, সহিংসতা, অসহিষ্ণুতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় আমরা দেখতে পাচ্ছি, তার একটি বড় কারণ হলো শিক্ষাজীবনে সঠিক দিকনির্দেশনা ও কার্যকর শাসনের অভাব। একসময় শিক্ষক ছিলেন শিক্ষার্থীদের কাছে অভিভাবকের মতো। বিদ্যালয় ছিল মানুষ গড়ার কারখানা। শিক্ষকের কথা মানা, নিয়ম মেনে চলা, সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা ছিল শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তখন শিক্ষকের হাতে থাকা “লাঠি” ছিল না ভয় বা নির্যাতনের প্রতীক; বরং তা ছিল দায়িত্ব, নিয়ন্ত্রণ, নৈতিক কর্তৃত্ব ও শাসনের প্রতীক। শিক্ষকরা যেমন স্নেহ দিতেন, তেমনি প্রয়োজনে কঠোর হতেন। আর সেই কঠোরতার মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল বুঝতে শিখত, জীবনকে গঠন করতে শিখত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে “শাসন” শব্দটিকেই অনেক ক্ষেত্রে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা শুরু হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শিক্ষকের কঠোরতা মানেই নির্যাতন। ফলে শিক্ষকদের ওপর নানামুখী চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আজ একজন শিক্ষক কোনো শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করতেও দ্বিধাবোধ করেন। কারণ মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হয়, শিক্ষক সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হন, এমনকি চাকরি হারানোর ঝুঁকিতেও পড়েন। এর ফলাফল হচ্ছে-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের নৈতিক কর্তৃত্ব ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এখানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন, “শিক্ষকের হাতে লাঠি ফিরিয়ে দেওয়া” বলতে কোনোভাবেই শারীরিক শাস্তি, সহিংসতা বা অপমানকে সমর্থন করা হচ্ছে না। কারণ শিক্ষা কখনো ভয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না। একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে হয়তো সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু তাতে তার মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই শারীরিক নির্যাতনের কোনো স্থান আধুনিক ও মানবিক শিক্ষাব্যবস্থায় থাকা উচিত নয়। এখানে “লাঠি” একটি প্রতীকী শব্দ। এর অর্থ হলো-শিক্ষকের সেই নৈতিক ক্ষমতা, শাসনের অধিকার, শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করার সামাজিক মর্যাদা। শিক্ষক যেন প্রয়োজন হলে কঠোরভাবে ভুল ধরিয়ে দিতে পারেন, নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন- সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। আজ আমরা দেখতে পাই, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পড়াশোনার চেয়ে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন আসক্তি কিংবা নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে বেশি জড়িয়ে পড়ছে। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ কমছে, শিক্ষককে অসম্মান করার ঘটনাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাব, গ্রুপিং কিংবা সামাজিক বিভাজনের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু শিক্ষকদের জন্য নয়, পুরো জাতির ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীরা কাঁচা মাটির মতো। তাদের যেভাবে গড়ে তোলা হবে, ভবিষ্যৎ সমাজও সেভাবেই নির্মিত হবে। আর এই গঠন প্রক্রিয়ায় শিক্ষকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, মূল্যবোধ, আচরণ ও স্বপ্ন গঠনে ভূমিকা রাখেন। তাই শিক্ষককে যদি যথাযথ মর্যাদা, স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা না দেওয়া হয়, তবে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

আমাদের সমাজে বর্তমানে আরেকটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়-অনেক অভিভাবক সন্তানের ভুলকে সহজভাবে নেন কিংবা অন্ধভাবে সন্তানকে সমর্থন করেন। এতে করে শিক্ষার্থীরা ভুল করেও নিজেদের দায় স্বীকার করতে শেখে না। বরং তাদের মধ্যে এক ধরনের দায়িত্বহীনতা তৈরি হয়। অথচ পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে একজন শিক্ষার্থীর সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করা অনেক সহজ হয়। একজন শিক্ষক যখন কোনো শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেন, তখন অভিভাবকের উচিত বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা এবং সন্তানের কল্যাণের দৃষ্টিতে বিচার করা। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে। শাসন যেন কখনো অপমান, বৈষম্য বা ব্যক্তিগত রাগের বহিঃপ্রকাশ না হয়। শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থা, ধর্ম, লিঙ্গ, অঞ্চল বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একজন শিক্ষক হবেন ন্যায়পরায়ণ, মানবিক ও সহানুভূতিশীল। কারণ একজন শিক্ষকের আচরণই শিক্ষার্থীর মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। আমাদের মনে রাখতে হবে, কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতা এক বিষয় নয়। একজন আদর্শ শিক্ষক সেই ব্যক্তি, যিনি ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষার্থীর মন জয় করেন, আবার প্রয়োজন হলে দৃঢ়তার সঙ্গে ভুল সংশোধন করেন। কোমলতা ও শৃঙ্খলার এই ভারসাম্যই প্রকৃত শিক্ষার সৌন্দর্য। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালেও দেখা যায়, সেখানে শৃঙ্খলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়ম ভঙ্গ করলে নির্ধারিত নীতিমালার আওতায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে সেই ব্যবস্থা হয় মানবিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈষম্যহীন। আমাদের দেশেও এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষকরা সম্মান পাবেন, শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে এবং শিক্ষা হবে মানবিক ও শৃঙ্খলাভিত্তিক।

আজ প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে ভাবার। কেবল জিপিএ-৫ বা পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব নয়। আমাদের প্রয়োজন নৈতিক মানুষ, দায়িত্বশীল নাগরিক ও মানবিক প্রজন্ম। আর এটি অর্জন করতে হলে শিক্ষককে তাঁর যথাযথ অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষকের কণ্ঠ যেন গুরুত্ব পায়, তাঁর শাসন যেন ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন সত্যিকার অর্থে মানুষ গড়ার জায়গা হয়ে ওঠে। তাই সময়ের দাবি হলো-শিক্ষকের হাতে প্রতীকী “লাঠি” ফিরিয়ে দেওয়া; অর্থাৎ তাঁকে এমন নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা দেওয়া, যার মাধ্যমে তিনি বৈষম্যহীন, মানবিক ও দায়িত্বশীলভাবে শিক্ষার্থীদের শাসন ও দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। কারণ সুশিক্ষা কখনো কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না; তা গড়ে ওঠে শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণের সমন্বয়ে। একটি জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষককে দুর্বল করে দিয়ে কখনো শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই আসুন, আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলি যেখানে থাকবে জ্ঞান, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সুন্দর সমন্বয়-যেখানে শিক্ষকের শাসন হবে ভালোবাসার, আর শিক্ষার্থীর বেড়ে ওঠা হবে মর্যাদা ও মানবিকতার আলোয়।                                                       


ঝিকরগাছা-চৌগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হলো নবনির্বাচিত এমপি মুন্নিকে

ঝিকরগাছা-চৌগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হলো নবনির্বাচিত এমপি মুন্নিকে

ঝিকরগাছা-চৌগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হলো নবনির্বাচিত এমপি মুন্নিকে

আফজাল হোসেন চাঁদ:

সংরক্ষিত নারী আসন (৩১৪) থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নির যশোর আগমনকে কেন্দ্র করে বুধবার এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঢাকা থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার নিজ এলাকায় আসায় ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের হাজারো নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাতে যশোর বিমানবন্দরে ভিড় করেন। এ সময় দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝেও আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিশাল মোটরশোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেন। এ সময় মুহুর্মুহু স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিমানবন্দর এলাকা। নেতাকর্মীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বিমানবন্দর থেকে এমপি মুন্নি সরাসরি যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি দক্ষিণবঙ্গের প্রথিতযশা রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন।

এরপর তিনি ঝিকরগাছায় নিজ এলাকায় পৌঁছে তার স্বামী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদ নাজমুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। পাশাপাশি তিনি পর্যায়ক্রমে সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ ওলিয়ার রহমান, সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন আহমেদ এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আব্দুস সামাদ বড় সাহেবের কবরেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় প্রয়াত নেতাদের স্মরণে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমপি সাবিরা সুলতানা মুন্নি বলেন, “ঝিকরগাছা ও চৌগাছার মানুষের এই ভালোবাসা আমাকে ঋণী করেছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এলাকার মানুষের সেবা করার আহ্বান জানাই।”

এ সময় ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা এবং পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় শীর্ষ নেতারাও এই বর্ণাঢ্য সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থেকে তাকে অভিনন্দন জানান। সাধারণ মানুষের মাঝেও নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

ঝিকরগাছায় ৩ দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলার শুভ উদ্বোধনে এমপি ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ

ঝিকরগাছায় ৩ দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলার শুভ উদ্বোধনে এমপি ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ

 ঝিকরগাছায় ৩ দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলার শুভ উদ্বোধনে এমপি ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ (তিন) দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টার সময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই মেলা উপলক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে উপজেলার মোড় প্রদক্ষিণ করে আবারও উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।

র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভার পূর্বে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।  

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মো. আবদুর রশিদ, উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মাসুমা আখতার, থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই (নি.) আলিমুজ্জামান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের  কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম, জামায়াতের যশোর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক হারুন অর রশিদ,

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) এর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন্নবী মুরাদ, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার অনিতা মল্লিক, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফাতেমা সুলতানা, উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল ইসলাম মোল্লা, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার তোফাজ্জেল হোসেন, উপজেলা সমবায় অফিসার নুরুল ইসলাম, উপজেলা তথ্য আপা রোকসানা সুলতানা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুস সমাদ,

উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মফিজুর রহমান, উপ সহকারী কৃষি অফিসার নয়নানন্দন পাল নয়ন, মহাদেব কুমার দাস, আইয়ুব হোসেন, অর্ধেন্দু কুমার পাড়ে, মফিজুর রহমান-১, মফিজুর রহমান-২, রোকুনুজ্জামান, মাল্টিমিডিয়া ডট কম সার্ভিসের পরিচালক আফজাল হোসেন চাঁদ, সাংবাদিক সেলিম হুসাইন রনি, মিঠুন সরকার, জাহাঙ্গীর আলম সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে বক্তারা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্ভাবনগুলো পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই মেলায় বিভিন্ন স্টলে উন্নত জাতের ফসল এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই মেলা আগামী তিন দিন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


সাংবাদিকতা বনাম কনটেন্ট ক্রিয়েশন : তথ্যের বন্যায় সত্যের সন্ধান  -আফজাল হোসেন চাঁদ

সাংবাদিকতা বনাম কনটেন্ট ক্রিয়েশন : তথ্যের বন্যায় সত্যের সন্ধান -আফজাল হোসেন চাঁদ

 উপ-সম্পাদকীয়

সাংবাদিকতা বনাম কনটেন্ট ক্রিয়েশন : তথ্যের বন্যায় সত্যের সন্ধান

-আফজাল হোসেন চাঁদ

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতির ফলে বিশ্ব আজ তথ্যের এক অভূতপূর্ব প্রবাহের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। একসময় সংবাদ ছিল পত্রিকা, টেলিভিশন বা রেডিওর মতো নির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমের নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্র। কিন্তু ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই কাঠামোকে ভেঙে দিয়ে তথ্যপ্রচারকে এনে দিয়েছে সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয়। ফলে আজ যে কেউই কনটেন্ট নির্মাতা, আবার অনেক ক্ষেত্রেই ‘সংবাদদাতা’ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।

এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে তথ্যপ্রবাহকে গণমুখী ও বহুমাত্রিক করেছে। আগে যেখানে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর মূলধারার গণমাধ্যমে খুব কমই প্রতিফলিত হতো, এখন তা সামাজিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই সামনে আসছে। স্থানীয় সমস্যা, সামাজিক অসাম্য, কিংবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা-সবকিছুই এখন বৈশ্বিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে। এটি গণতান্ত্রিক যোগাযোগব্যবস্থার একটি ইতিবাচক দিক।

তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে এসেছে এক গভীর সংকট-বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট। সাংবাদিকতার যে মৌলিক ভিত্তি-তথ্য যাচাই, নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহিতা-তা অনেক ক্ষেত্রেই কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জগতে অনুপস্থিত। দ্রুত ভিউ, লাইক বা শেয়ার পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেকেই যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার করছেন, যা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গুজব এখন আর ধীরগতির কোনো বিষয় নয়; বরং তা মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে-তাহলে দায় কার? পেশাদার সাংবাদিকদের, নাকি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের? বাস্তবতা হলো, দায় উভয়েরই। কারণ তথ্যপ্রচার যখন জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে, তখন তার প্রভাবও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পেশাদার সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে একটি নীতিগত কাঠামোর মধ্যে কাজ করে আসছেন। তাদের জন্য রয়েছে সম্পাদনা প্রক্রিয়া, ফ্যাক্ট-চেকিং, এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা। অন্যদিকে, অধিকাংশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর এই কাঠামোর বাইরে কাজ করেন। ফলে সেখানে ব্যক্তিগত মতামত ও তথ্যের মধ্যে বিভাজন অনেক সময় অস্পষ্ট হয়ে যায়। এই অস্পষ্টতাই বিভ্রান্তির প্রধান উৎস।

বর্তমান সময়ের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘ইনফরমেশন ওভারলোড’ বা তথ্যের অতিরিক্ত চাপ। একজন সাধারণ পাঠক প্রতিদিন অসংখ্য তথ্যের সম্মুখীন হচ্ছেন, যার সবগুলো যাচাই করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে তিনি সহজেই বিভ্রান্তিকর বা আংশিক সত্য তথ্যের শিকার হতে পারেন। এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত-বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এই বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন এমন ভিডিও বা অডিও তৈরি করা সম্ভব, যা দেখতে বা শুনতে সম্পূর্ণ বাস্তব মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ভুয়া। এই ধরনের প্রযুক্তি যদি দায়িত্বহীনভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা সমাজে আস্থার সংকটকে আরও গভীর করবে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় করতে হবে, একই সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের একটি ন্যূনতম মানদণ্ড তৈরি হওয়া জরুরি। প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকেও অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় ‘মিডিয়া লিটারেসি’ বা তথ্য সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। মানুষকে জানতে হবে কীভাবে একটি তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে নির্ভরযোগ্য উৎস চিহ্নিত করতে হয় এবং কীভাবে আবেগনির্ভর বা প্ররোচনামূলক কনটেন্ট থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হয়।

সবশেষে, এই সত্যটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সাংবাদিকতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন-উভয়ই আজ সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তবে এই শক্তি তখনই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, যখন তা সত্য, নৈতিকতা এবং দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। অন্যথায় তথ্যের এই বিস্ফোরণই হয়ে উঠতে পারে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় উৎস।                                       -সংবাদকর্মী, ঝিকরগাছা, যশোর।




ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: প্রতিষ্ঠানসহ দু’জনকে জরিমানা

ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: প্রতিষ্ঠানসহ দু’জনকে জরিমানা

 ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: প্রতিষ্ঠানসহ দু’জনকে জরিমানা

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ দুই ব্যক্তিকে মোট ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিকরগাছা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধভাবে দোকান বসানোর দায়ে মনিরামপুর উপজেলার স্বরণপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে পান্নু (৩৭)-কে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া ওয়াপদা রোড সংলগ্ন নাসিমা কমপ্লেক্সে অবস্থিত এস.কে ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে ১ পিস মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত শ্যামল রায়ের ছেলে বিষ্ণু কুমার রায় (৩৪)-এর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সংস্থাপন শাখা, মিডিয়া সেল) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিশাল কুমার জাজোদিয়া।

তিনি জানান, জনস্বার্থ রক্ষা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও স্থানীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।


ঝিকরগাছায় স্কুলছাত্রীকে শ্লী*ল*তা*হা*নির চে*ষ্টা ও নানা অ*পক*র্মের অ*ভিযো*গ : গ্রন্থাগারিক সবুজের বহি*ষ্কা*র দাবি

ঝিকরগাছায় স্কুলছাত্রীকে শ্লী*ল*তা*হা*নির চে*ষ্টা ও নানা অ*পক*র্মের অ*ভিযো*গ : গ্রন্থাগারিক সবুজের বহি*ষ্কা*র দাবি

ঝিকরগাছায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও নানা অপকর্মের অভিযোগ : গ্রন্থাগারিক সবুজের বহিষ্কার দাবি

আফজাল হোসেন চাঁদ : 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার যদুনাথপুর-দেউলী-পাঁচপোতা-কোমরচাঁন্দা (জেডিপিকে) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক) মো. তসলিম আরিফ সবুজের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই শিক্ষক তার নিজ পরিবারের সম্পর্কে ভাতিজি এবং ওই বিদ্যালয়েরই ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। এই ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ওই শিক্ষকের চাকরিচ্যুতিসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তসলিম আরিফ সবুজ দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এর আগে তিনি ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ শার্শা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে ছিলেন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। ইতিপূর্বে তার এসব অপকর্মের বিষয়ে একাধিকবার সালিশ-দরবার হলেও তিনি নিজেকে সংশোধন করেননি। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর গত ২৩ এপ্রিল স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ। স্মারকলিপিতে এলাকাবাসীর পক্ষে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান, মো. আক্তারুজ্জামানসহ আরও অনেকে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. মাজেদা পারভীন স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ২৮ এপ্রিল পাঠানো হয়েছে। আবেদনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম রক্ষার্থে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. তসলিম আরিফ সবুজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদকর্মীর পরিচয় পেয়ে একাধিকবার ফোন কেটে দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, "সবুজ প্রতিনিয়ত সিম পরিবর্তন করে।"

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, "অভিযোগের কপি পেয়েছি। বিধি মোতাবেক তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

 

সংযোগ খালে সেতু নির্মাণে স্বস্তি ফিরবে ঝিকরগাছায়, উদ্বোধন করলেন এমপি ফরিদ

সংযোগ খালে সেতু নির্মাণে স্বস্তি ফিরবে ঝিকরগাছায়, উদ্বোধন করলেন এমপি ফরিদ

সংযোগ খালে সেতু নির্মাণে স্বস্তি ফিরবে ঝিকরগাছায়, উদ্বোধন করলেন এমপি ফরিদ

 

আফজাল হোসেন চাঁদ  :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের করিমালি গ্রামে বেতনা নদীর সংযোগ খালের উপর সেতু নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের লক্ষ্যে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এ. এম. সাইফুল ইসলাম, নাভারণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক, নাভারণ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার আসাদুজ্জামান বাবলু, স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রহমান, নাভারণ ইউনিয়ন জামায়াতের যুব সভাপতি আমিনুর রহমান, সেক্রেটারি মোমিনুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

পাঁচপুতা বাজার সংলগ্ন খালের উপর ৯.৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ ৬১ হাজার ৩১০ টাকা। সেতুটি বাস্তবায়ন করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং তত্ত্বাবধান করবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য পাঁচপুতা বাজার থেকে নাভারণগামী সড়কের একটি জরাজীর্ণ সেতু পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত করেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন এনে বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়াও একই দিনে তিনি পাঁচপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনও পরিদর্শন করেন। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দকে জানান, স্কুলের উন্নয়ন প্রকল্প অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

স্থানীয়দের আশা, নতুন সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে এবং এলাকার জনদুর্ভোগ কমে আসবে।

 ঝিকরগাছায় মানবাধিকার কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সভা ও কমিটি পরিচিতি

ঝিকরগাছায় মানবাধিকার কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সভা ও কমিটি পরিচিতি

 ঝিকরগাছায় মানবাধিকার কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সভা ও কমিটি পরিচিতি 

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার উদ্যোগে নারী নির্যাতন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মানবাধিকার কর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও কমিটির পরিচিতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বিকাল ৫টায় ঝিকরগাছার হল রোড সংলগ্ন আকবর সাহেবের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংস্থার আঞ্চলিক প্রধান (খুলনা অঞ্চল) ও পশ্চিম জেলা শাখা যশোরের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদের সভাপতিত্ব ও পশ্চিম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান মাহমুদ লায়ন।

তিনি তার বক্তব্যে সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মানবাধিকার কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তব্য শেষে তিনি গত ২৫ অক্টোবর ও ১০ জানুয়ারি অনুমোদিত পশ্চিম জেলা শাখা যশোর ও জোনাল কমিটির পরিচিতি আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন। এতে পশ্চিম জেলা শাখা যশোরের সভাপতি হিসেবে আসাদুজ্জামান আসাদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনিরুল ইসলাম মনিরের নাম ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও জোনাল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে শফিউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু রায়হানের নাম ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাল্টিমিডিয়া ডট কম সার্ভিসের পরিচালক ও সাংবাদিক আফজাল হোসেন চাঁদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংবাদিক হাকিম আলমগীর হোসেন আলম, সাংবাদিক খোরশেদ আলম এবং এনামুল হোসেন হৃদয়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জেলা শাখার কার্যনির্বাহী সভাপতি এমদাদুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জোনাল কমিটির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ও মোস্তফা কামাল, সংস্থার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভায় বক্তারা নারী নির্যাতন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানটি মানবাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের প্রত্যয়ের মধ্যদিয়ে পরিসমাপ্ত হয়।


ঝিকরগাছায় নিয়’ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে প্রাইভেটকারের ধা’ক্কা: চালক নি*হ’ত, স্ত্রী আহ*ত

ঝিকরগাছায় নিয়’ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে প্রাইভেটকারের ধা’ক্কা: চালক নি*হ’ত, স্ত্রী আহ*ত

 ঝিকরগাছায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে প্রাইভেটকারের ধাক্কা: চালক নিহত, স্ত্রী আহত

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকার সড়কের পাশের মেহগনি গাছে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চালক নিহত এবং গাড়িতে থাকা তার স্ত্রী আহত হয়েছেন। নিহত যুবকের পৌর সদরের কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত এমদাদুলের ছেলে ইফতেখার আহমেদ মিশাল (৩০)।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (০৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মিশাল তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৯-৯২২৯) ও তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি বেনেয়ালী জফরনগর গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে পৌর সদরের হাজিরালী মহিলা কলেজ মোড় সংলগ্ন এলাকায় বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছালে গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসময় সড়কের পাশে থাকা একটি মেহগনি গাছে সজোরে ধাক্কা লাগলে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় ও ঘটনাস্থলেই মিশাল প্রাণ হারান এবং গাড়িতে থাকা তার স্ত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঝিকরগাছা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে মিশালের মরদেহ উদ্ধার করে এবং তার স্ত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার সহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরবর্তীতে নাভারণ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মহাসিন হোসেন রাতেই ঘটনাস্থালে পৌছে নিহতের মরদেহ বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রেখে রবিবার (০৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।


পরীক্ষা না লটারি -এএসএম জিল্লুর রশীদ

পরীক্ষা না লটারি -এএসএম জিল্লুর রশীদ

 পরীক্ষা না লটারি -এএসএম জিল্লুর রশীদ


ম্প্রতি শিশু শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান লটারী পদ্ধতির পরিবর্তে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। একজন কোচিং ব্যাবসায়ী এমপির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। একসময় ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু ছিল কিন্তু নানা সমস্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞজনের পরামর্শে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়, যা এযাবৎ ভালভাবেই চলছে। এই পদ্ধতিতে অনিয়ম বা অনৈতিক হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ সফটওয়ার ভিত্তিক এই ব্যাবস্থা মানুষের অনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করে। এর ফলে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানরাও সরকারী স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা রাষ্ট্রের সাম্য ও ন্যায়বিচার নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অসততার বীজ বপন দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কিছু স্বার্থান্বেষী কায়েমি স্বার্থবাদী শিক্ষা ব্যাবসায়ীদের স্বার্থ ব্যাহত হচ্ছে। কারণ তারা কোচিং বাণিজ্য এবং পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা শিক্ষার্থী নিয়ে তথাকথিত ভাল রেজাল্ট দেখিয়ে শিক্ষা বাণিজ্য করে আসছে। তাই তারা শুরু থেকেই এর বিরোধিতা ও এই ব্যাবস্থাকে বাতিল করার জন্য নানারকম ফন্দি ফিকির ও ষড়যন্ত্র করে আসছে।
পরীক্ষা বা টেস্ট হচ্ছে নিদৃষ্ট বিষয়ের উপর কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতিতে মান যাচাই যা শিশুর সামগ্রিক মান যাচাই করে না, অর্থাৎ তার মেধা, প্রবণতা অন্যান্য মানবিক গুণাবলী যেমন সততা, ন্যায়পরতা, মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, নেতৃত্ব ইত্যাদি। বিভিন্ন শিশু বিভিন্ন আগ্রহ বা প্রবণতার অধিকারী, শিক্ষা শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা নয়, মানুষের জীবনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের গুণাবলী এবং বৈশিষ্টই শিক্ষার অংশ। শুধুমাত্র খাতা কলমের পরীক্ষার মাধ্যমে এই সকল গুণাবলী পরিমাপ সম্ভব নয়। কাজেই ভর্তি পরীক্ষার ভিতর দিয়ে যোগ্যতা অযোগ্যতা নির্ধারন সঠিক নয়। এছাড়া নানা কায়েমি শক্তির ষড়যন্ত্র ও অপততপরতার কারণে আমাদের কোন পরীক্ষা পদ্ধতি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ বা ক্রটিমুক্ত নয়, শিশুর জীবনের শুরুতেই এই ধরনের ক্রুটিপূর্ণ অবিচারমূলক ব্যাবস্থার মুখোখোমুখি করে তার মনোজগতে অসতরার বীজ বপন দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
পরীক্ষা শব্দটি অধিকাংশ মানুষের কাছে ভীতিকর, শিশুর কাছে আতঙ্কস্বরূপ। ৫-৭ বছর বয়সের শিশিশুর উপর ভর্তি পরীক্ষার মত কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা চাপিয়ে দেয়া মনোবিজ্ঞানসম্মত নয়। ম্যাচুরিটি বা পরিনমন অর্থ কোন কাজের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা। প্রস্তুতি ও সক্ষমতা ছাড়া কোন কিছু চাপিয়ে দেয়া হলে তা শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ফলাফল বয়ে আনে যা সারাজীবনে কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয় না, এবং ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে তোলে।
প্রত্যেক শিশু বা মানুষ দেশের সম্পদ, কারন তার মধ্যে লুকিয়ে থাকে অমিত সম্ভাবনা ও শক্তি যা দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণে প্রয়োজন। তাই প্রত্যেক শিশুকে যোগ্য, দক্ষ ও উপযুক্তভাবে গোড়ে তোলা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের দায়িত্ব। যদি শয়ে যোগ্য, দক্ষ ও উপযুক্তভাবে গোড়ে উঠে তাহলে সে দেশ, জাতি, সমাজ, পরিবার এমনকি পৃথিবীর জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে, অন্যথায় সে সকলের জন্য বোঝাস্বরূপ হতে পারে যা সবাইকে বইতে হয়। শৈশব এমনি মাতৃগর্ভ থেকেই শিশুকে পরিচর্যা বা গোড়ে তুলতে হয়, যেমন ইহুদী জাতি গর্ভধারনের সাথে সাথে প্রসূতিকে পরিকল্পিত বিশেষ যত্ন পরিচর্যা শুরু করে। তাই তারা এযাবৎ পৃথিবীতে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্বজয়ী সফল কৃতি সন্তান উপহার দিতে পেরেছে। সীমিত জনসংখ্যা নিয়েও তারা পৃথিবী পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু আমাদের সমাজে গর্ভধারিনী ও শিশুরা অত্যন্ত অবহেলিত, তাদের জন্য আমাদের বিজ্ঞানসম্মত কোন পরিকল্পনা বা কর্মসূচী নেই বললেই চলে।
শিশুকে যোগ্য দক্ষ উপযুক্ত করে গড়ে তোলার প্রধান মাধ্যম হল শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য। হাদিসে বলা হয়েছে শিক্ষাকাল দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত। শিক্ষার ভিত্তি রচিত হয় শৈশবে অর্থাৎ জীবনের শুরুতে। এই শুরুটা অত্যন্ত জটিল মনোবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। মানুষ যন্ত্র নয়, মানবীয় স্বত্ত্বা, স্যুইচ টিপলেই বিধিবদ্ধ নিয়মে চলে ন, এর কোন বিধিবদ্ধ নিয়ম, ব্যাকরণ বা গ্রামার নেই, তবে কিছু বিজ্ঞানসম্মত পথ ও পদ্ধতি আছে। তাকে আস্তে আস্তে অল্প অল্প করে প্রস্তুত করে গড়ে তুলতে হয়। কোন কারনে বিগড়ে গেলে সহজে ঠিক করা যায় না, এজন্য পদে পদে সতর্কতা প্রয়োজন। শিশুমন চঞ্চল ও অনুসন্ধানী, তার উপর কোন কিছু চাপিয়ে দেয়ার ফলাফল ভাল নাও হতে পারে। এজন্য শিক্ষা হতে হবে মনোবিজ্ঞান সম্মত শিশুর মানসিকতার উপযোগী। আনন্দের সাথে স্বতঃষ্ফূর্ত অংশগ্রহণ শিখাকে সচল ও সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিতে পারে, চাপিয়ে দিলে বিপত্তি ঘটতে পারে। হয়তো সে বাধ্য হয়ে প্রাথমিকভাবে সাড়া দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভীতি বা অনীহা সৃষ্টি করতে পারে যা তার ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনকে ব্যাহত করে। জীবনের শুরুতে তাই অধিক চাপ শিশু শিক্ষার জন্য কল্যাণকর নয়।
শিক্ষা জীবন কোন স্প্রিন্ট দৌড় প্রতিযোগিতা নয় যে স্বল্প দূরত্বে দ্রুত দৌড়ে পার হতে হবে। এটা সাধারণভাবে ৫-২৫ বছর পর্যন্ত প্রায় ২০ বছরব্যপী ম্যারাথন দৌড়, শুরুতে আস্তে আস্তে দম ধরে দৌড়িয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়। সুড়ুতে জোরে দৌড়াতে বাধ্য করা হলে দম হারিয়ে মাঝ পথে হারিয়ে যেতে পারে। আমাদের সমাজের সফল মানুষদের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যাবে তাদের অধিকাংশ প্রাথমিকভাবে খুব ভাল ছাত্র ছিলেন না, আর যারা প্রাথমিক স্তরে অতি ভাল ছাত্র ছিল তাদের অধিকাংশ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
শিক্ষার সাথে প্রেষণা বা ইচ্ছাশক্তির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। সাফল্য বা ভাল ফলাফল অর্জনের জন্য অন্য যে কোন শর্তের চেয়ে ইচ্ছা বা আগ্রহের ভূমিকা অনেক বেশী, কথায় বলে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। এই ইচ্ছা বা আগ্রহ তৈরী করাই গুরুত্বপূর্ণ, পড়ানো বা শেখানো নয়। শিশুর মনে ইচ্ছা বা আগ্রহ তৈরী করা গেলেই আর লাগে না, সে নিজে থেকেই পড়ে বা শিখে নেয়, আর না গেলে হাজার চেষ্টা করেও তাকে পড়ানো বা শেখানো যায় না। যেমন ঠেলাগাড়ি ঠেলে ঠেলে বেশিদূর যাওয়া যায় না, যতক্ষণ ঠেলা হবে ততক্ষণ চলবে, ঠেলা শেষ চলাও শেষ, কিন্তু অটোগাড়ী তৈরী করা গেলে সে নিজের শক্তিতে নিজে নিজেই চলে বহুদূর যাবে। চারিপাশের পরিবেশ সহজ ও আনন্দময় রেখে চাপহীনভাবে শেখার সুযোগ সৃষ্টি করা হলে নিজের অজান্তেই স্বতঃষ্ফূর্ত অটোগাড়ী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে চলতে থাকবে যা তাকে সাফল্যের চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে দেবে। এজন্য জীবনের শুরুতে শিক্ষাকে কোন কঠিন বা দুরূহ বিষয় হিসাবে উপস্থাপন না করে কোন চাপ না দিয়ে সহজ ও আনন্দময় স্বতঃষ্ফূর্ত শিক্ষণের দিকে চালিত করতে হয়। অতিচাপযুক্ত স্কুল, দূরবর্তী সকুল্য, বিজাতীয় ভাষা, অধিক বই, চমকপ্রদ ফলাফলের তাগিদ, প্রতিযোগিতামূলক আবহ ইত্যাদি শিশু শিক্ষার অন্তরায়। এজন্য শিক্ষাকে প্রতিযোগিতা নয় সহযোগিতামূলক করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ীর কাছের হাঁটাপথে যখন তখন পৌঁছে যাওয়া খোলামেলা পরিচিত পরিবেশের স্কুলই শিশুর জন্য সেরা স্কুল।
তথাকথিত ভাল স্কুল যারা পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা বিত্তবান পরিবারের সন্তানদের ভর্তি করে ভাল রেজাল্ট দেখায় আসলে তারা কতটা ভাল তা বিবেচনাযোগ্য। দেশের সেরা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উপর জরিপ করলে দেখা যাবে তাদের শতকরা কতজন তথাকথিত ভাল সকুল্যের শিক্ষার্থী, বরং বিপরীত চিত্র দেখা যেতে পারে যে তাদের সিংহভাগই কথিত গ্রামীণ খারাপ স্কুল থেকে এসেছে।
লটারির মাধ্যমে ভর্তি শিশুদের এই চাপ ও নির্যাতন থেকে মুক্ত করতে পারে, মেধার কেন্দ্রীকরন রোধ করে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে, কোচিং বাণিজ্য এবং ভর্তির ক্ষেত্রে অনৈতিক তৎপরতার অবসান ঘটবে।
কাজেই জনগণের বিপুল ভোটে নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এই আত্মঘাতী পিছনে হাঁটার পথ থেকে সরে এসে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও সুষ্ঠু বিকাশে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিশুর যোগ্য দক্ষ সফল মানুষ হিসাবে গোড়ে উঠে দেশ জাতি ও সমাজের কল্যাণকর কাজে অবদান রাখার সুযোগ করে দেবেন এই প্রত্যাশা রইল।

-এএসএম জিল্লুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।