ওপারে বসে আপনি খুশিই হয়েছেন; এ আমার বিশ্বাস...... হারুন অর রশিদ

SHARE

ওপারে বসে আপনি খুশিই হয়েছেন; এ আমার বিশ্বাস......

                                                                          -হারুন অর রশিদ

প্রিয় অগ্রজ, জানি পরপারে ভালো আছেন। আজ আপনার হারুন, আপনার ভালোবাসায় গড়া বিশ্বস্ত ছোটভাই; যে কিনা আপনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত জীবনের প্রায় দুই যুগ আপনার সাথে থেকে বিশ্বস্ততার চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আপনার সবচেয়ে আস্থাভাজন, আপন ভাইয়ের চেয়ে অধিক ভাই হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলো আজ তার নিজস্ব স্বকীয় পরিচয়ে কে কতটা খুশি হয়েছে জানিনা তবে আপনি নিশ্চয়ই ওপারে বসে খুশি হয়েছেন, আমার নিজস্ব স্বকীয়তাকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ করছেন এ আমার বিশ্বাস।

ভাই, জানি আমার এ চিঠিটি পড়ার পর কেউ কেউ আমাকে অকৃতজ্ঞ-বিশ্বাসঘাতক, বিবেকহীন, স্বার্থপর ইত্যাদি উপাধি দিতে পারে। কিন্তু আমি জানি আপনি কতটা খুশি হয়েছেন। কেননা, আমাকে দেয়া আপনার তিনটি প্রতিশ্রুতির কোনটিই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে পূরণ করার সুযোগ দেননি। যখনই প্রতিশ্রুতি পূরণের সময় হাতের মুঠোয় এসেছে তখনই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে আপনাকে না ফেরার দেশে চলে যেতে হয়েছে। কে জানতো এমন ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যাবে গোটা জীবন। মৃত্যুর আগে আমার কথা ভেবে আমার অসুস্থ মায়ের কথা ভেবে আপনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন তা কেউ না জানলেও আমি জানি। আমি জানি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করতে পারলেও বিনিময়ে বুক ভরা ভালোবাসা আর দোয়া উজাড় করে দিয়েছেন আপনার হারুনের জন্য। এ আমার পরম প্রাপ্তি।
ভাই, কোন কিছু নিয়েই আমার কোন আক্ষেপ নেই। কারও প্রতি আমার কোন অভিযোগও নেই। নেই অনুযোগ। কেবল কষ্ট একটাই সারাজীবন আপনার হাত ধরে পথ চলার যে দৃঢ় আশাটা ছিলো সেটা হয়তো আমার ব্যর্থতার জন্যই পূরণ করতে পারলাম না। পারলে ক্ষমা করে দিবেন। অন্যথায় অভিশাপ দিবেন এতটুকু অনুযোগ করবো না কথা দিলাম। তবে এটুকু বুঝেছি যে সিদ্ধান্তটা নিতে অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছি। বিশ্বাসী হতে গিয়ে বিশ্বাসহীনতার তকমাও গায়ে লাগিয়েছি সুনিপুন ভাবে। ছোট বেলা থেকেই ভাগ্যের খেলায় বারবার পরাজিত আমি এবারও তাই পরাজয় মেনে নিলাম নির্দিধায়।
ভাই, পৃথিবীর কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক আপনি জানেন আর মহান সৃষ্টি কর্তা জানেন দৈনিক নওয়াপাড়ার সাথে আমার আত্মার রক্ত মিশে আছে। কোনদিন ওর ক্ষতি মেনে নিতে পারবো না। চেয়ারটিতে বসে কোনদিন এক মিনিটের জন্যও অবহেলা করিনি। নিজের অজান্তে যে ভুল গুলো হয়েছে তারজন্যও কোনদিন ক্ষমা চাইবো না। চেষ্টা করেছি নিজের ভান্ডারে যতটুকু আছে ততটুকু দেয়ার। তবে কতটুকু দিতে পেরেছি তা নিজেও জানি না। বিনিময়ে কতটুকু পেয়েছি তারও হিসেব কোনদিন করিনি। এ ব্যাপারে কোনদিন হিসেব করতেও চাই না। তবে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি পথচলার শুরুতে দেয়া কথা গুলো রাখার। যদি না রাখতে পারি সেটা আমার জ্ঞান ও পরিধীর বাইরে। তবুও ক্ষমা চাইবো না তার জন্য।
তবে মন থেকে শুধু এটুকু বলবো সকল ব্যার্থতা আমার। আর পেয়েছি অপরিসীম। ভালোবাসা, টিকে থাকার শক্তি-সাহস, ক্ষমতা, যোগ্যতা প্রমাণের উম্মুক্ত সুযোগ, বেঁচে থাকার রসদ, অর্থ স্নেহ-মমতা সব। সব পেয়েছি অঢেল। সে তুলনায় দেয়নি কিছুই। হয়তো দিতে পারিনি জ্ঞানের স্বল্পতা আর সংকীর্ণ পরিধীর কারনে। তবে ব্যথা একটাই বিশ্বাসী হতে পারিনি। পারিনি নিজের সত্ত্বার সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে। তবে চেষ্টা করেছি নিজের ছোট্ট মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করে। অপমানের গ্লানী সয়েছি।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে আপনি শেষবার বলেছিলেন “ ভাইডি পত্রিকার দিকে খেয়াল রেখো”। নিজের সামান্য আত্মমর্যাদা টুকু রক্ষা করতে আপনার শেষ কথা টুকু রাখতে না পারার যন্ত্রণা সারাজীবন বইবো তা জানি। তবুও আপনার হারুন, আপনার সন্তান তুল্য ছোট ভাই আজ নতুন উদ্যোমে যে স্বকীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে তার জন্য নিশ্চয়ই আপনি পরপারে বসে দোয়া করছেন। কারন আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের এ শিক্ষা আপনিই আমাকে দিয়েছেন।
অনেক কিছুই বলার ছিলো কিন্তু আর পারছি না। গলা ধরে আসছে। হাত কাঁপছে ভাই। কেবল দোয়া করবেন আমার জন্য আর যারা ভুলের মধ্যে আছে তাদের জন্য যেন মহান আল্লাহ তাদের হেদায়েত করেন ও রহমত বর্ষন করেন। আপনার পায়ের ধুলো আমার আগামী দিনগুলোর জন্য সম্বল হয়ে থাকবে। পরপারে ভালো থাকবেন, ভাই।
ইতি
আপনার সন্তানতুল্য ছোট ভাই
হারুন
SHARE

0 মন্তব্য(গুলি):