গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
 টাকা ও যোগাযোগ ব্যতিত চাকরী পাওয়া অন্তরা সরকার মিতুর সফলতার গল্প

টাকা ও যোগাযোগ ব্যতিত চাকরী পাওয়া অন্তরা সরকার মিতুর সফলতার গল্প


আফজাল হোসেন চাঁদ :

১৯৯২ সালের ২৬ শে সেপ্টেম্বরে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অন্তরা সরকার মিতু। সে ঐ গ্রামের জুয়েলারি ও চাউল ব্যবসায়ী অরুণ সরকার ও যশোর সদর হাসপাতালের  সিনিয়র স্টাফ নার্স শান্তি সরকারের মেয়ে। বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে মিতু বড়। ১৮বছর বয়সী ছোট একটা প্রতিবন্ধী ভাই আছে। অন্তরা সরকার মিতু ২০০৭ সালে যশোর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। নিজের ইচ্ছা ছিলো সে একজন ভালো ডাক্তার হবে। তবে বাবার ইচ্ছায় তার আর ডাক্তার হওয়া হলো না। বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ ভর্তি হন।২০১১সালে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে সাতক্ষীরা মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ জুনিয়র ইন্সট্রাকটর হিসেবে প্রথম জীবনের চাকরি শুরু করেন।



২০১৪সালে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি পান। চাকরির পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হন। অষ্টোক্যাড ড্রাইং বা বিল্ডিং এর নকশা করা সাইটে বিল্ডিং নির্মাণের কাজ পরিদর্শন করা। এষ্টিমেট করা এসব দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি লেখাপড়া চলতে থাকে এবং ২০১৫সালে বিএসসি'র ৩য় বর্ষে পড়াশোনার এক পর্যায়ে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ঘোষপাড়া গ্রামে নিরঞ্জন ঘোষের বড় ছেলে বিএসসি ইন ইলেকট্রক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিপুণ ঘোষের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন তার স্বামী ঢাকার নাভানা সিএনজি লিমিটেডের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর সে চাকরি ছেড়ে শুধুমাত্র লেখাপড়া চালিয়ে যায়। তারপর স্বামীর অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে নিজের একটা পরিচয় সৃষ্টি ও সম্মান বৃদ্ধি করতে সরকারি চাকরির আবেদন দিতে শুরু করে। প্রথমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি নিয়োগের বিপরীতে আবেদন করেন। যথাসময়ে ১শত মার্কের রিটেন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কার্ড আসে। রিটেন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে অংশগ্রহণ করে ফলাফলে দেখলেন তিনি টিকে গেছেন। রিটেনের পর ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ভাইভা দেওয়া কয়েকদিন পর তার চাকরি হয়ে যায় এবং পোষ্টিং দেওয়া হয় নড়াইল জেলায়। ২০১৭সালের নভেম্বরে নড়াইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগদান করেন।

চাকরির পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় যেতে হয় ক্লাসের জন্য আর রবিবার সকালে নড়াইলে এসে অফিস করতে হয় এবং তার সাথে আছে সংসার। পরবর্তীতে ঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডে বদলী সূত্রে চলে যান এবং বর্তমানের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চাকরিটি হয়ে যায়। তখন সবাই চেয়েছিলো যেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাকরিটা যেন না ছাড়ে কারণ ওখানে ইনকাম ভালো ছিলো তবে তার স্বামী বারবারই চেয়েছে সৎ ভাবে বেঁচে থাকতে। সে যখন শুনলো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্ব উপজেলার প্রধান হিসেবে ও মানুষকে নিরাপদ পানি পান করিয়ে সেবা করার সুযোগ পাবেন তখন অন্যকিছু চিন্তা না করে মানুষে কথা ভেবে সৎ ভাবে জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাকরি ছেড়ে ও ১মাসের বেতন জমা দিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চাকরিতে যোগদান করেন। তারপর দায়িত্ব পরে ২০১৮সালের ৩সেপ্টম্বর যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলাতে। অবশেষে চাকরির সূত্রে ঢাকা থেকে চলে আসতে হয় ঝিকরগাছাতে। বর্তমানে সে বাবার বাড়ি যশোর থেকে এসে প্রতিদিন অফিস করেন। তার চাকরির সুবিধাতে তার স্বামী ঢাকার চাকরি ছেড়ে দিয়ে যশোরের চাঁচড়াতে একটি ব্যবসা শুরু করেছেন। বর্তমানে তারা দুজনে ঝিকরগাছাতে বসবাস করছেন।

চাকরির শুরু হতে ঝিকরগাছাবাসীর জন্য নিরাপদ পানি খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সবাই তাকে বলতো টাকা ছাড়া সরকারি চাকরি হয়না। কিন্তু তার বিশ্বাস ছিলো সে যদি চাকরি পাই তাহলে টাকা ছাড়াই পাবো। সেটাই হয়েছে তার জীবনে।পরপর দুটো সরকারি চাকরি টাকা এবং কোনো রকম যোগাযোগ ছাড়াই হয়েছিলো। এখন তিনি যেন ঈশ্বরের কৃপায় সৎ ভাবে জীবন যাপন করতে পারেন এবং সেই সাথে সবার নিকট থেকে দোয়া ও আর্শিবাদ চেয়েছেন।


 ওপারে বসে আপনি খুশিই হয়েছেন; এ আমার বিশ্বাস...... হারুন অর রশিদ

ওপারে বসে আপনি খুশিই হয়েছেন; এ আমার বিশ্বাস...... হারুন অর রশিদ

ওপারে বসে আপনি খুশিই হয়েছেন; এ আমার বিশ্বাস......

                                                                          -হারুন অর রশিদ

প্রিয় অগ্রজ, জানি পরপারে ভালো আছেন। আজ আপনার হারুন, আপনার ভালোবাসায় গড়া বিশ্বস্ত ছোটভাই; যে কিনা আপনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত জীবনের প্রায় দুই যুগ আপনার সাথে থেকে বিশ্বস্ততার চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আপনার সবচেয়ে আস্থাভাজন, আপন ভাইয়ের চেয়ে অধিক ভাই হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলো আজ তার নিজস্ব স্বকীয় পরিচয়ে কে কতটা খুশি হয়েছে জানিনা তবে আপনি নিশ্চয়ই ওপারে বসে খুশি হয়েছেন, আমার নিজস্ব স্বকীয়তাকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ করছেন এ আমার বিশ্বাস।

ভাই, জানি আমার এ চিঠিটি পড়ার পর কেউ কেউ আমাকে অকৃতজ্ঞ-বিশ্বাসঘাতক, বিবেকহীন, স্বার্থপর ইত্যাদি উপাধি দিতে পারে। কিন্তু আমি জানি আপনি কতটা খুশি হয়েছেন। কেননা, আমাকে দেয়া আপনার তিনটি প্রতিশ্রুতির কোনটিই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে পূরণ করার সুযোগ দেননি। যখনই প্রতিশ্রুতি পূরণের সময় হাতের মুঠোয় এসেছে তখনই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে আপনাকে না ফেরার দেশে চলে যেতে হয়েছে। কে জানতো এমন ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যাবে গোটা জীবন। মৃত্যুর আগে আমার কথা ভেবে আমার অসুস্থ মায়ের কথা ভেবে আপনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন তা কেউ না জানলেও আমি জানি। আমি জানি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করতে পারলেও বিনিময়ে বুক ভরা ভালোবাসা আর দোয়া উজাড় করে দিয়েছেন আপনার হারুনের জন্য। এ আমার পরম প্রাপ্তি।
ভাই, কোন কিছু নিয়েই আমার কোন আক্ষেপ নেই। কারও প্রতি আমার কোন অভিযোগও নেই। নেই অনুযোগ। কেবল কষ্ট একটাই সারাজীবন আপনার হাত ধরে পথ চলার যে দৃঢ় আশাটা ছিলো সেটা হয়তো আমার ব্যর্থতার জন্যই পূরণ করতে পারলাম না। পারলে ক্ষমা করে দিবেন। অন্যথায় অভিশাপ দিবেন এতটুকু অনুযোগ করবো না কথা দিলাম। তবে এটুকু বুঝেছি যে সিদ্ধান্তটা নিতে অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছি। বিশ্বাসী হতে গিয়ে বিশ্বাসহীনতার তকমাও গায়ে লাগিয়েছি সুনিপুন ভাবে। ছোট বেলা থেকেই ভাগ্যের খেলায় বারবার পরাজিত আমি এবারও তাই পরাজয় মেনে নিলাম নির্দিধায়।
ভাই, পৃথিবীর কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক আপনি জানেন আর মহান সৃষ্টি কর্তা জানেন দৈনিক নওয়াপাড়ার সাথে আমার আত্মার রক্ত মিশে আছে। কোনদিন ওর ক্ষতি মেনে নিতে পারবো না। চেয়ারটিতে বসে কোনদিন এক মিনিটের জন্যও অবহেলা করিনি। নিজের অজান্তে যে ভুল গুলো হয়েছে তারজন্যও কোনদিন ক্ষমা চাইবো না। চেষ্টা করেছি নিজের ভান্ডারে যতটুকু আছে ততটুকু দেয়ার। তবে কতটুকু দিতে পেরেছি তা নিজেও জানি না। বিনিময়ে কতটুকু পেয়েছি তারও হিসেব কোনদিন করিনি। এ ব্যাপারে কোনদিন হিসেব করতেও চাই না। তবে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি পথচলার শুরুতে দেয়া কথা গুলো রাখার। যদি না রাখতে পারি সেটা আমার জ্ঞান ও পরিধীর বাইরে। তবুও ক্ষমা চাইবো না তার জন্য।
তবে মন থেকে শুধু এটুকু বলবো সকল ব্যার্থতা আমার। আর পেয়েছি অপরিসীম। ভালোবাসা, টিকে থাকার শক্তি-সাহস, ক্ষমতা, যোগ্যতা প্রমাণের উম্মুক্ত সুযোগ, বেঁচে থাকার রসদ, অর্থ স্নেহ-মমতা সব। সব পেয়েছি অঢেল। সে তুলনায় দেয়নি কিছুই। হয়তো দিতে পারিনি জ্ঞানের স্বল্পতা আর সংকীর্ণ পরিধীর কারনে। তবে ব্যথা একটাই বিশ্বাসী হতে পারিনি। পারিনি নিজের সত্ত্বার সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে। তবে চেষ্টা করেছি নিজের ছোট্ট মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করে। অপমানের গ্লানী সয়েছি।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে আপনি শেষবার বলেছিলেন “ ভাইডি পত্রিকার দিকে খেয়াল রেখো”। নিজের সামান্য আত্মমর্যাদা টুকু রক্ষা করতে আপনার শেষ কথা টুকু রাখতে না পারার যন্ত্রণা সারাজীবন বইবো তা জানি। তবুও আপনার হারুন, আপনার সন্তান তুল্য ছোট ভাই আজ নতুন উদ্যোমে যে স্বকীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে তার জন্য নিশ্চয়ই আপনি পরপারে বসে দোয়া করছেন। কারন আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের এ শিক্ষা আপনিই আমাকে দিয়েছেন।
অনেক কিছুই বলার ছিলো কিন্তু আর পারছি না। গলা ধরে আসছে। হাত কাঁপছে ভাই। কেবল দোয়া করবেন আমার জন্য আর যারা ভুলের মধ্যে আছে তাদের জন্য যেন মহান আল্লাহ তাদের হেদায়েত করেন ও রহমত বর্ষন করেন। আপনার পায়ের ধুলো আমার আগামী দিনগুলোর জন্য সম্বল হয়ে থাকবে। পরপারে ভালো থাকবেন, ভাই।
ইতি
আপনার সন্তানতুল্য ছোট ভাই
হারুন
যশোরে লাল সবুজের পতাকা পড়ে মাঠে আছে মাস্ক বিক্রেতা মনা

যশোরে লাল সবুজের পতাকা পড়ে মাঠে আছে মাস্ক বিক্রেতা মনা

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা করতে লাল সবুজের পতাকা পড়ে মাঠে আছে মাস্ক বিক্রেতা শামীম আহমেদ মনা। সততাকে মূলধন বানিয়ে যদি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়। তাহলে নিশ্চই সকলেই সাফলতা আসবেই। যার বাস্তবতায় কাজ করে চলেছেন যশোরের বকচর হুশতলা গ্রামের এই ব্যক্তি। বাড়িতে পুঁজি বলতে একটা মাত্র সেলাই মেশিন। তিনি পেশায় ছিলেন একজন পোশাক কারিগর বা দর্জি। পরিবারের ৪সদস্য নিয়ে গড়ে ওঠা সোনার সংসার। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও শিশুদের পোশাক নিজ হাতে তৈরি করা স্কুল ড্রেস, ঘটি প্যান্ট, জামা, ফতুয়া বিক্রির উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্রষ্টার অসীম কৃপায় মোটামোটি সংসারটা ভাল ভাবে চলতো। হঠাৎ দেশে ২০১৯ সালের শেষের দিকে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের উৎপত্তি দেখা যায় এবং দেশে শুরু হয় টানা লকডাউন। আর এই লকডাউনের মধ্যে তার ব্যবসায় ভাটা পড়ে। তিনি কি করবেন ? কি করে তার সংসারের হাল ধরবেন এটা নিয়েই দিশেহারা হয়ে যান। সংসারে অভাব-অনটন যেন তার নিত্যদিনের সঙ্গী। সংসারে আজ চাল থাকলেও তরকারী থাকে না, তরকারী থাকলেও চাল থাকে না। এভাবেই জীবন-জীবিকা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে। প্রবাদে বলে, স্রষ্টা কম রুজি করে কিন্তু তার বান্দাকে নিরাশ করেন না। এই কথাকে মনের সামনে এনে মনা ২০২০সালের শুরু থেকেই নেমে পড়েন নতুন এক ব্যবসায়। করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিক্রির ব্যবসা। এই ব্যবসায় তার নিজের এবং সেই সাথে দেশের মানুষেরও উপকার হবে বলে তিনি আশাবাদি। ব্যবসায়ের নতুন পদ্ধতি হিসাবে বাংলাদেশের পতাকার রঙের লাল সবুজ কাপড় দিয়ে নিজের তৈরি করা পোশাক পরিধান করে যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে পায়ে হেঁটে করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন করতে বাজারের কেনা ও নিজের তৈরী করা মাস্ক বিক্রয় করে চলেছেন। তিনি বাজারের কেনা মাস্ক ৫পিচ ১০টাকা এবং নিজের তৈরি করা মাস্ক প্রতি পিচ ১০টাকা হারে বিক্রয় করেন। সারদিন মাস্ক বিক্রয় করা পরে দিনশেষে মূল অর্থ বাদ দিয়ে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা উপার্জন করেন তিনি। চলতে পথে সে যদি কোন ব্যক্তির মুখে মাস্ক না দেখেন তাহলে সেই ব্যক্তির পকেটে টাকা না থাকলেও তিনি বিনামূল্যে মাস্ক দিতে দেখা গেছে। 

মাস্ক বিক্রেতা শামীম আহমেদ মনা জানান, আমি গরিব মানুষ ভাই। আমি তো মহামারী করোনা ভাইরাসের সময় কারো পাশে থাকতে পারবো না। তবুও আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি জনসেবা মূলক কাজ করে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। যে কাজ করে মানুষের পাশে থাকা যায় এবং সবার ভালবাসা পাওয়া যায় এমন কাজ বর্তমানে ক’জন ব্যক্তি করে?

 মানবতার ফেরিওয়ালা ঝিকরগাছার ইউপি সদস্য নুর হোসেন

মানবতার ফেরিওয়ালা ঝিকরগাছার ইউপি সদস্য নুর হোসেন

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৪নং গদখালী ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়র্ডের বেনেয়ালী গ্রামে পূর্বশত্রুতার জের ধরে টিউবওয়েলের পানি পাণ করে মহিলাসহ চার শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এলাকার মধ্যে সমাজসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউপি সদস্য ও বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী মোঃ নুর হোসেন। এছাড়াও করোনা পরিস্থিতিতে অভাবিত বিপর্যয়ের সম্মুখীন মানুষের জন্য মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে আঁধারভরা সময় নিজ উদ্যোগে ৩৫০টি অসহায় অনাহারী মানুষের পাশে ৫ কেজি চাউল, ২ কেজি আলু,  ১কেজি ডাউল ও ১ কেজি পিয়াজ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই মানুষটি। করোনাকালে মানুষের সেবায় এখনও কাজ করে যাচ্ছে নিঃস্বার্থে মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। তার এই কার্যক্রমে তিনি গদখালী ইউনিয়নের ০৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন ব্যক্তি।

ইউপি সদস্য ও বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী মোঃ নুর হোসেন বলেন, সত্যি কথা হলো, মানুষ মানুষের জন্য। আর এই স্লোগানকে সামনে রেখে সংকটের সময় আমাদের মানবিকতা, আমাদের ভালো দিক মন্দ দিক দুটোই প্রকাশিত হয়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে যে মহাদুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে, তা যুদ্ধের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই যুদ্ধে আমাদের প্রকৃত মানবিকতা প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিলো।

ক্লান্তিময় সময়ে চায়ের চুমুকের শেষে রিল্যাক্সে বসে ব্যানচোন সিগারেটে শুকটানে ঝিকরগাছার আলী পাগল

ক্লান্তিময় সময়ে চায়ের চুমুকের শেষে রিল্যাক্সে বসে ব্যানচোন সিগারেটে শুকটানে ঝিকরগাছার আলী পাগল

আফজাল হোসেন চাঁদ :
ক্লান্তিময় সময়ে চায়ের চুমুকের শেষে রিল্যাক্সে ব্যানচোন সিগারেটে শুকটানে ঝিকরগাছার আলী পাগল। আলীকে পাগল বলার কারণ সে নিজে নিজেই কথা বলে, পরিধানের পোশাক ময়লা থাকে এবং হাতে বিভিন্ন প্রকার চুড়ি কোয়ালিটির বালা থাকে। পাগল হলেও সে কারোও কাছ থেকে বিনা পারিশ্রমে কোন অর্থ নেয় না। তার উপাজনের প্রধান হাতিয়ার ভ্যান চালানো। ভ্যান চালিয়ে উপাজন করে নিজে চলে ও তার পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেয়। এছাড়াও তার নিকট থেকে অনেক লোক ভুল বুঝিয়ে তাকে ভাঙ্গিয়ে খায়। সে রবিবার সকালে ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্ট হয়ে গেছে সেই সুবাদে নিজের ক্লান্তিময় শরিরের একটু শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায়ের চুমুকের শেষে রিল্যাক্সে বসে ব্যানচোন সিগারেটে শুকটানে ব্যস্ত। 
আমাদের সকলের জীবনে ক্রমাগতই যেন ব্যস্ততা নিয়ে ঘেরা। কেউ পড়াশোনা নিয়ে, কেউ কর্মজীবন নিয়ে আবার কেউবা সংসার-সন্ততি নিয়ে ব্যস্ত। সবার একটাই লক্ষ্য এখন যে কিভাবে টার্গেট পূরণ করবে। কিভাবে সামনে অগ্রসর হয়ে নিজের স্বপ্নের সোনার হরিণ নামক স্বপ্নগুলো পূরণ করার প্রচেষ্টায়। সবাই যার যার ক্ষেত্রে সাবলম্বী হতে চায়। সব কিছুই মেনে নেওয়া যায় কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় দিন শেষে আমরা নিজেকেই একটু সময় দিতে পারি না বা ভুলে যাই। পরিবার ও চারপাশের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে করতে নিজে কী চাই, সেটিই মস্তিষ্ক থেকে হারিয়ে যায়। এরই জন্য আমাদের শরির ও মনের উপর নজর দেওয়াটা উত্তম হবে।