ঝিকরগাছায় তৈরি হচ্ছে ভেজাল গো-খাদ্য : প্রতারিত হচ্ছে উদ্যোক্তা খামারী কৃষকেরা

SHARE

 

আফজাল হোসন চাঁদ : 

যশোরের ঝিকরগাছায় তৈরি হচ্ছে ভেজাল গো-খাদ্য। প্রতারিত হচ্ছে ভোক্তা উদ্যোক্তা খামারী কৃষকেরা। ওজনে কারচুপির অভিযোগও বিস্তর। অভিযোগে প্রকাশ, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় গো-খাদ্যে ক্ষতিকর অপদ্রব্য মিশিয়ে বাজারজাত করছে। স’মিলের কাঠের গুড়া, ধানের মিহিকুড়া, পচাভুট্টার গুড়া, গমের আটা, লবণ ও মাটির গুড়া ইত্যাদি। ক্ষতিকর এসব অপদ্রব্য মেশানোর ফলে গবাদিপশু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরছে। দেখা দিচ্ছে রোগবালাই।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলা সদর ও আশপাশ এলাকার কতিপয় ধানের চাতালে আসল ভূষির সাথে এসব ক্ষতিকর অপদ্রব্য মিশিয়ে (রি-প্যাকিং) তৈরি করা হচ্ছে গমের ভূষি। এক্ষেত্রে দেশের খ্যাতিমান গো-খাদ্য উৎপাদক কোম্পানীর লেভেল বা লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ভোক্তা ক্রেতাসাধারণ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে আসল গো-খাদ্য প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানের। অভিযোগে জানাগেছে, মুনাফা লোভী দূবৃত্তচরিত্রের ভেজাল কারবারিরা লোকচক্ষুর অন্তরালে ধানের চাতালে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে দিনেরপর দিন। অভিযোগ রয়েছে, এমনিতেই গো-খাদ্যের মূল্য আকাশচুম্বি হওয়ায় উদ্যোক্তা খামারী ও কৃষকদের নাভিশ্বাস অবস্থা। তারপরও গো-খাদ্যে ভেজাল!

ঝিকরগাছা বাজারের একজন আমদানীকারক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নামপ্রাকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বাজারে দেশের খ্যাতিমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ ও ফ্রেশ কোম্পানীর গমের ভূষির ব্যাপক প্রচলন ও চাহিদা থাকায় ভেজাল কারবারিরা লেভেল লাগিয়ে বেআইনী সুবিধা লুটছে। ৫৫কেজি ওজনের প্রতিবস্তা গমের ভূষির বাজার মূল্য পাইকারী হারে ১হাজার ৫শত ৫৫টাকা। খুচরা প্রতি কেজি ৩২/৩৩টাকা। ধানের কুড়া প্রতি কেজি ৮/১০টাকা, লবণ প্রতি কেজি ১২/১৫টাকা, প্রতিকেজি ভূট্টার গুড়া ১৮/২০টাকা, লুজ গমের আটা ২২/২৫টাকা। কমমূল্যের এসব উপকরণ মিশিয়ে লাভবান হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রতারকচক্র।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপণেশ্বর রায় তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সুর্নিদৃষ্ট অভিযোগ পেলে নমুনা সংগ্রহ করে তা ল্যাবে পাঠানো হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভেজালকারি প্রতারকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

SHARE

0 মন্তব্য(গুলি):