ঝিকরগাছার হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত ১৩জনসহ ২০জনকে আসামী করে আদালতে চার্জশীট দিয়েছে সিআইডি

SHARE
ঝিকরগাছার হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত ১৩জনসহ ২০জনকে আসামী করে আদালতে চার্জশীট দিয়েছে সিআইডি

আফজাল হোসেন চাঁদ :
যশোরেরর ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের হুমায়ুর কবির হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত ১৩জন আসামী সহ  ২০জনকে আসামী করে আদালতে পুনঃতদন্তের টার্জশীট দিয়েছে  যশোর জেলা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ হারুন অর রশিদ। 
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের আব্দুর রজ্জাকের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ফজলুর রহমানসহ অন্যান্যদের বিরোধ চলে আসছিল। আব্দুর রাজ্জাক বাড়িঘর ভাংচুরের অভিযোগে ফজলুল রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলা নং ০৩, তারিখ- ০৩/০৬/২০১৪ইং। মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য আসামিরা বাদীকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ২২/০১/২০১৫ইং তারিখ বিকেলে আব্দুর রাজ্জাকের ভাতিজা হুমাযুন কবির পাঁচপোতা বাজারে যায়। রাতে বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করে হুমায়ুনকে পাওয়া যায়নি। উক্তদিন দিবাগত রাতে পাঁচপোতা সড়কের নিয়ামত আলীর কলাবাগান থেকে হুমায়ুনের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে নিহতের ছোট ভাই আওরঙ্গজেব বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামীসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামী করে ৩০২/৩৪/১০৯ পেনাল কোড, জি.আর-১০/১৫ ধারায় ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন। মামলা নং ১৭, তারিখ-২৩/০১/২০১৫ইং।
মামলার আসামীরা হলো, কুন্দিপুর গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে ফজলুর রহমান @ ফজা(৪৫), মৃত শুকুর আলীর ছেলে হাফিজুল হক ঝন্টু(৪৫), ইউনুস রাজাকারের ছেলে বাশার(৩৬) ও শাহারুল(৩০), আলমগীর মোড়লের ছেলে বাবলুর রহমান(২৭), মৃত সামছের আলীর ছেলে রফিকুল(৩৮), শফিকুল(৩৬), মৃত মনার ছেলে একরামুল (২৮), মৃত এছেম আলীর ছেলে আলমগীর (৪৫), মৃত গোলাম নবীর ছেলে মোজাম্মেল হক খোকা(৪২) ও লিটন(৪০), সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোহন (৩৬) এবং মৃত কওসার আলীর ছেলে রুবেল(২৮)।
প্রথমে থানা এবং পরে মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। এ মামলার তদন্তকালে এজাহারভুক্ত আসামী বাবলুর রহমান গ্রেফতার হয় এবং অপর ১২জন আসামী পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে ২০/০৫/২০১৫ইং তারিখে আদালতে আত্মসমর্পণ করে। এছাড়াও হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় এবং তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে আটক ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে অব্যহতির আবেদন করা হয় এজাহারনামীয় ১৩ আসামীকে। অভিযুক্ত আসামীরা হলো, শার্শার পাঁচপোতা গ্রামের জব্বার মোড়লের ছেলে আনিছুর রহমান(৩০), জিরানগাছা গ্রামের মৃত ইবাদ আলীর ছেলে আব্দুল কাদের(২৫), ঝিকরগাছা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের খলিলুর রহমান গাজীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন(৩৫), পারবেড়াইপানি গ্রামের মৃত অহেদ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম লাট(৪৯), বায়সা গ্রামের মোশারেফ মোড়লের ছেলে বজলুর রহমান টিটু(৩৪), কেরামত আলীর ছেলে আলামিন(২০) এবং শুকুর আলী@ শুকুরের ছেলে জাহাঙ্গীর।
ডিবি কর্তৃক চার্জশিট সি.এস.নং ৮৮, তারিখ-০৯/০৩/২০১৭ মুল অভিযুক্ত আসামীদের অব্যাহতি দিয়ে পরবর্তী ৭জনকে আসামী করেন। চার্জশীটের এই অবস্থায় ১৬/০৮/২০১৭ইং তারিখে বাদী আওরঙ্গজেব আদালতে নারাজি আবেদন করেন। নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক পিবিআইকে পুন:তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের আদেশ দেন। পিবিআই কর্মকর্তরাও ডিবির চার্জশীট ফলোকরে একই রিপোর্ট দেন। পিবিআই সিএসনং ২২২, তাং ৩০/১০/২০১৮। রিপোর্টে এই অবস্থায় ৩০/১০/২০১৯ইং তারিখে বাদী আওরঙ্গজেব আদালতে নারাজি আবেদন করেন। নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক সিআইডিকে পুন:তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের আদেশ দেন। অবশেষে যশোর জেলা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ হারুন অর রশিদ তদন্তপূর্বক ১৬/০৭/২০২০ইং তারিখে উল্লেখিত ২০আসামীকে অভিযুক্ত করে ৩০২/৩৪/১০৯ পেনাল কোড ধারার অপরাধ প্রাখমিক ভাবে সত্য বলিয়া প্রমানিত হওয়ায় আসামীদের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা (যশোর) থানার অভিযোগপত্র নং ১৩৮, তাং ১৬/০৭/২০২০ তারিখে ৩০২/৩৪/১০৯ ধারার পিসি বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছেন।
মামলার বাদী আওরঙ্গজেব জানান, হত্যাকারীদের আড়াল করে ডিবি, পিআইবি’র তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে মনগড়া চার্জশিট দিয়েছেন। কিন্তু তাদের চার্জশীটের বিপক্ষে আমি নারাজি আবেদন করায় আসামীরা আমার উপর চরম ভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছে। চার্জশিটের রিপোর্ট আসামীদের পক্ষে নিতে যে টাকা খরচ হয়েছে তা আমার কাছ থেকে আদায় করে নেবে বলেও হুমকি দেয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত সিআইডিকে দিয়ে সঠিক তথ্য বের করতে সক্ষম হয়েছে। আমি আশা করছি ৫বছর পর এবার আমি আমার বড় ভাইয়ের হত্যার সঠিক বিচার পাবো।

SHARE