আফজাল হোসেন চাঁদ, প্রকাশক ও সম্পাদক, চাঁদনী বিডি. কম ডেস্ক :
১৯০৯ সালে যশোরের ঝিকরগাছা সর্বপ্রথম থানা গঠিত হয় এবং এই থানাকে ১৯৮৩ সালে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। ১৯৮৩ সালের ১০ সেপ্টম্বর উপজেলার প্রথম নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) যোগদান করেন। আর উপজেলার ২৭তম নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমী মজুমদার।এই উপজেলাতে পূর্বে কোন নারী নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে কেউই দায়িত্ব পালন করেনি। তিনিই উপজেলার বুকে সর্বপ্রথম নারী নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে ২০১১ সালে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবনে প্রথমে তিনি নোয়াখালী জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঝিনাইদাহ জেলার হরিণাকুন্ডু ও শৈলকুপা উপজেলার এসিল্যান্ড হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে ৫ জানুয়ারী থেকে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে সর্বপ্রথম শালিখা উপজেলাতে যোগদান করেন। সরকারের গৃহীত ডিজিটাল কার্যক্রম সমূহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অবহিতকরণ এবং ইনোভেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবা প্রদানে অবদানের জন্য তিনি মাগুরা জেলা প্রশাসন কর্তৃক ডিজিটাল উদ্বোবনী মেলা ২০১৮ এ শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাচিত হন। তিনি নেত্রকোনা জেলা বারহাট্টা উপজেলা শহরের রনজিৎ কুমার মজুমদারের কন্যা।
বর্তমানে তিনি ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে ২০১৯সালের ১১ জুন এই উপজেলাতে যোগদিয়ে সততার সহিত কয়েকমাস কাজ করে মার্তৃত্বকালীন ছুটিতে যান। মার্তৃত্বকালীন ছুটিতে গিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবাণীতে তিনি ২য় পুত্র সন্তানেরর জননী হন। মার্তৃত্বকালীন ছুটি শেষে সম্প্রতি ২২ মার্চ আবারও তার কর্মস্থলে যোগদেন সুমী মজুমদার। কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার সাথে সাথে তার সামনে হাজির হল করোনা (কোভিড-১৯) নামক প্রাণঘাতিক ভাইরাস। এই ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব রয়েছে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারও কঠোর পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপ গুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজের ০৬ মাসের শিশু সন্তানকে ঘরে রেখে ঝিকরগাছাবাসীর হোম কোয়ারেন্টিন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জনসমাগম এড়ানো ও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ও রাস্তায় জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার স্প্রে করে জীবানু বিনাশ সহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নিকটবর্তী পুলিশ কেন্দ্র, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী এবং বিডিআর এর সমন্বয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষকে করোনার মহামারী থেকে রক্ষার জন্য অদম্য সাহসিকতার সাথে সরকারের নির্দেশ মেনে যাচ্ছেন।
তিনি তার নিজস্ব উদ্যোগে লিফলেট আকারে একটি বিশেষ ঘোষণা বের করেছেন। তাতে ৮ টি নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে। নিদের্শনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশ ফেরত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১৪ দিন অবশ্যই নিজ কক্ষ থেকে বের হতে পারবে না। তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ তার থেকে আলাদা থাকবেন। তার থালা, বাটি, গ্লাস, কাপড়সহ অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে এবং ঐ পরিবারের সদস্যবৃন্দ মসজিদসহ কোন ধরনের লোক সমাগমে যেতে পারবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপজেলায় সকল প্রকার গণজমায়েত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ না করার জন্য নির্দেশ প্রদান।
প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ এবং যত্রতত্র বাজার, মোড় বা দোকানে অযথা আড্ডা বা বসে এবং যে কোন ধরনের খেলাধুলা করা নিষেধ। চায়ের ষ্টলসহ যে কোন ধরনের দোকানে টিভি ও বসার বেঞ্চ সরিয়ে রাখা একং দোকানে সামনে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ রাখতে হবে। উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কোচিং সেন্টার বা ব্যাচের ছাত্র পড়ানো বন্ধ ঘোষণা। এ সকল নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও তিনি সরকার প্রদত্ত ১০ মেট্রিক টন চাল, আলু, ডাল ও সাবান উপজেলার এক হাজার গরীব ও দুস্থ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে এবং ফিল্ডে পর্যায়ে কে, কোথায়, কিভাবে কাজ করছে তার সার্বিক তদারকি করে মানবিক গুনাবলীর কারণে ইতিমধ্যে উপজেলাবাসীর নজর কেড়ে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন সুমী মজুমদার।
ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমী মজুমদার’র কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। এছাড়াও তার সার্বিক সহযোগিতা করছেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার মো: নাসির উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রেজা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুবনা তাক্ষী সহ উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।
ঝিকরগাছা সরকারি এমএল মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আজাদ বলেন, আমি অনেক কাজ পাগল মানুষ দেখেছি। কিন্তু আমাদের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আমার স্কুলের সভাপতি সুমী মজুমদারের মত ৬ মাসের শিশু সন্তানকে বাড়ি রেখে কাজ করতে আমি কাউকে দেখিনী। আর তিনি সরকারের নির্দেশনা মেনে করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। যেটা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ সারা জীবনের জন্য মনে রাখবে।
কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ঝিকরগাছা উপজেলায় ইউএনও সুমী মজুমদার বলেন, আমি সরকারি একজন কর্মচারী। আমার কাছে আমার কাজের দায়িত্বটা অনেক বড়। সরকার আমাকে যে দিকনির্দেশনা দিবেন আমি সেই অনুপাতে কাজ করে জনগনের পাশে থাকতে চাই এবং আমার এই উপজেলা করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে আমি সকলকে সহযোগিতা চাই।

0 মন্তব্য(গুলি):