কৃষি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কৃষি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঝিকরগাছায় সরকারের প্রণোদনার বীজ ও সারে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের মুখে হাঁসি

ঝিকরগাছায় সরকারের প্রণোদনার বীজ ও সারে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের মুখে হাঁসি

 ঝিকরগাছায় সরকারের প্রণোদনার বীজ ও সারে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের মুখে হাঁসি

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় সরকারের কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সারে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটে উঠতে দেখা গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কৃষি পূনর্বাসন সহায়তা খাত হতে খরিপ-১/ ২০২৪-২৫ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন আবাদের প্রণোদনা কর্মসূচির’র আওতায় ৩শত ১০জন কৃষকের মাঝে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

মাথা প্রতি কৃষক ১কেজি করে নাসিক ঘ-৭৩ জাতের বীজ, ২০কেজি করে ডিএপি, ২০কেজি করে এমওপি এবং বালাইনাশক বাবাদ নগদ ৩৫৫টাকা হারে প্রদান করা হয়। বর্তমানে এই চাষাবাদে কৃষক গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদে লাভের মুখ দেখা শুরু করেছেন। উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের মিশ্রিদেয়াড়া গ্রামের তোফাজ্জজেল হোসেন, লাউজানী গ্রামের নাসির উদ্দিন ও নাভারণ ইউনিয়নের আমিনী গ্রামের মনিরুজ্জামান’র তথ্য মতে তাদের বিঘা প্রতি ৩৮হাজার ৫০০ থেকে ৪২হাজার ৫০০ টাকা ব্যায় করে ১৪-১৬মে.টন/হেক্টর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।

যার আনুমানিক বাজার মূল্য দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার মত। উপজেলায় আশানুপাতিক হারের অধিক পেয়াজ উৎপাদনে উপজেলা কৃষি অফিসার খুশি হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একগুচ্ছ পেয়াজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদি মো. নূরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের থেকে অত্র উপজেলায় পেঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সকল উপসহকারী কৃষি অফিসার’গণ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষীদের পেঁয়াজ চাষে উদ্বোদ্ধকরণসহ যথোপযুক্ত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে। আমরা আশাবাদি যে, বর্তমানে সংকটময় সময়ে পেঁয়াজের মজুদ এবং উৎপাদন সমান্তরাল রাখার ক্ষেত্রে ঝিকরগাছার কৃষি বিভাগ সব সময় মাঠ র্পয়ায়ে কৃষকদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রনী খাতুন বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসসহ অন্যান্য সকল বিভাগ এভাবেই এগিয়ে যাবে সকলের সহযোগিতায়। সারাদেশ হয়তো একদিন ঝিকরগাছাবাসীকে অনুকরণ, অনুসরণ করবে সব বিষয়ে। আমি স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি, স্বপ্ন বিলাসী মানুষ আমি। ঝিকরগাছা উপজেলার উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। দল, মত, পথ, শ্রেণী, বর্ণ সব একপাশে রেখে আমরা আমাদের গতিতে কাজ করে যাবো।


 ঝিকরগাছায় প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ করলেন ইউএনও রনী খাতুন

ঝিকরগাছায় প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ করলেন ইউএনও রনী খাতুন

 ঝিকরগাছায় প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ করলেন ইউএনও রনী খাতুন

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের মাঝে বোরো ধানের কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রনী খাতুন।

এসময় তার বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার কর্তৃক প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের মাঝে যে বীজ দেওয়া হচ্ছে সেটা প্রকৃত পক্ষে ব্যবহার করবেন। আমাদের পক্ষ থেকে সবার প্রতি নজরদারী করা হবে।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের মাঝে বোরো ধানের বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আফজাল হোসেন চাঁদ, উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি আশফাকুজ্জামান খান রনি, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানসহ উপসহকারী কৃষি অফিসার বৃন্দ ও কৃষক প্রতিনিধিবৃন্দ।

উল্লেখ্য, দেড় হাজার কৃষকের মাঝে মাথা প্রতি ৫ কেজি উফশী জাঁতের ধানের বীজ, ১০কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

কীটনাশক ব্যবহারে সাধারণ ভুল ও এর প্রভাব: কৃষি বিপ্লবের সামনে বড় বাঁধা

কীটনাশক ব্যবহারে সাধারণ ভুল ও এর প্রভাব: কৃষি বিপ্লবের সামনে বড় বাঁধা

কীটনাশক ব্যবহারে সাধারণ ভুল ও এর প্রভাব: কৃষি বিপ্লবের সামনে বড় বাঁধা 

মিঠুন সরকার:

বর্তমান যুগে কৃষিতে কীটনাশকের গুরুত্ব অপরিসীম। কীটনাশক ব্যবহার না করলে ফসলের ক্ষতি এবং উৎপাদন হ্রাস নিশ্চিত। কিন্তু কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার না হওয়া ও প্রচলিত ভুল আচরণের কারণে কৃষি খাতের উন্নয়নে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষক থেকে শুরু করে বাজার পর্যায় পর্যন্ত এই ভুল ধারণা ও অনভিজ্ঞতা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ফসল, মাটি, পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যে।

সাধারণ ভুলগুলো কী?

১.অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ: অধিকাংশ কৃষক মনে করেন বেশি স্প্রে করলেই পোকামাকড় মারা যাবে, যা ভুল। এতে কীট প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে কীটনাশক কার্যকারিতা হারায়।

২.অবৈধ বা অনুমোদিত নয় এমন কীটনাশক ব্যবহার:বাজারে প্রচুর নকল ও অবৈধ কীটনাশক পাওয়া যায়, যা ফসলকে ক্ষতি করে এবং মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

৩.স্প্রে করার সময় সঠিক সুরক্ষা না নেওয়া:অনেকেই মুখে মাস্ক বা গ্লাভস ব্যবহার করেন না, যা সরাসরি বিষক্রিয়া ও শ্বাসকষ্টের কারণ হয়।

৪.কীটনাশক একসাথে মেশানো:অনুমোদিত নয় এমন দুটি বা ততোধিক কীটনাশক মিশিয়ে ব্যবহার কৃষির জন্য বড় ধরণের ক্ষতি ডেকে আনে।

৫.প্রয়োজনীয় ডোজ ও সময় মেনে না চলা:নির্ধারিত পরিমাণের বেশি বা কম প্রয়োগ, কিংবা সঠিক সময়ে স্প্রে না করা ফলন কমিয়ে দেয়।

৬.ফসলের রোগ ও পোকা সনাক্তকরণে অজ্ঞানতা:রোগ ও পোকা চিনতে না পারায় অপ্রয়োজনীয় ও ভুল কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়।

কী প্রভাব ফেলে এসব ভুল?

ফসলের উৎপাদন হ্রাস:রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় ফসল দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাটির গুণগত মান নষ্ট: অতিরিক্ত ও ভুল কীটনাশক মাটি ও মাটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে।

পরিবেশ দূষণ:নদী, মাটি ও বাতাসে বিষাক্ত রাসায়নিক জমা হয়, যা প্রাণিজগতের জন্য বিপজ্জনক।

মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি:কীটনাশকের কারণে ত্বক জ্বালা, শ্বাসকষ্ট, আলার্জি, ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো রোগ দেখা দেয়।

কীটের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:পোকামাকড় একের পর এক কীটনাশকের প্রতি রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে, যার ফলে পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়।

কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারের উপায়-

১.সঠিক কীটনাশক নির্বাচন:অনুমোদিত ও গুণগত মানসম্পন্ন কীটনাশক ব্যবহার করুন। দেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

২.নির্ধারিত মাত্রা মেনে ব্যবহার: লেবেলে উল্লেখিত ডোজ মেনে স্প্রে করুন।

৩.ব্যক্তিগত সুরক্ষা:স্প্রে করার সময় মাস্ক, গ্লাভস, চশমা ও পাকা জামা পরিধান করুন।

৪.সঠিক সময় নির্বাচন:সকালে বা সন্ধ্যায় স্প্রে করুন, যখন সূর্যের তাপ কম থাকে।

৫.স্প্রে করার দিক: বায়ুর বিপরীতে স্প্রে করুন, যাতে কীটনাশক পুরো ফসলের পাতা ও গাছের ওপর পড়তে পারে।

৬.বৈচিত্র্যময় পদ্ধতি প্রয়োগ:একই কীটনাশক বারবার ব্যবহার না করে পাল্টা পরিবর্তন করুন।

৭.সঠিক রোগ ও কীট সনাক্তকরণ:রোগ ও পোকা সঠিকভাবে চিনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

আমাদের করণীয়-

দেশের কৃষি উন্নয়নে সরকারি এবং বেসরকারি খাতে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। কৃষকদের মধ্যে সঠিক কীটনাশক ব্যবহারের তথ্য পৌঁছাতে হবে। এছাড়া বাজারে নকল ও অবৈধ কীটনাশক বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সতর্কতা, সঠিক জ্ঞান ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণই পারে আমাদের কৃষি খাতকে সুরক্ষিত ও ফলপ্রসূ রাখতে।


লেখকঃ

মিঠুন সরকার, কৃষিবিদ ও সাংবাদিক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাঃ সরকার এগ্রো, ঝিকরগাছা, যশোর। এবং

কৃষি ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, চাঁদনী বিডি ডট কম।


 ঝিকরগাছায় ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের পরিদর্শন

ঝিকরগাছায় ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের পরিদর্শন

 ঝিকরগাছায় ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের পরিদর্শন



আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় শিমুলিয়া ও গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের প্রকল্প পরিদর্শন করেন ঢাকা খামার বাড়ি কৃষি প্রকৌশলী মো. মোফাজ্জল হোসেন ও ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম। 

শিমুলিয়া ইউনিয়নের গোপিনাথপুর মাঠে স্থাপিত পানি সাশ্রয়ী বারিড পাইপ, শিমুলিয়া ফার্ম হাউজ পলিনেট হাউজ, ফার্মার্স ক্লাইমেট স্মার্ট ক্লাব, মাটির প্রাণ ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদন প্রদর্শনী, উচ্চমূল্য ফসল (হলুদ) উৎপাদন প্রদর্শনী, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের কাগমারী মাঠে স্থাপিত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন এবং পানি সাশ্রয়ী বারিড পাইপ স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে শিমুলিয়া ও গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে ২৪০ জন কৃষকের মাঝে প্রকল্প হতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিসহ উপকরণ বিতরন সহ কৃষকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে ১০ সপ্তাহ ব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় প্রকল্পের মাধ্যমে।

 ঝিকরগাছায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের এয়ার ফ্লো মেশিন ও বীজ উৎপাদন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

ঝিকরগাছায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের এয়ার ফ্লো মেশিন ও বীজ উৎপাদন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

 ঝিকরগাছায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের এয়ার ফ্লো মেশিন ও বীজ উৎপাদন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

আফজাল হোসেন চাঁদ :

কৃষিই সমৃদ্ধি এই স্লোগানকে সামনে রেখে যশোরের ঝিকরগাছায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় পেঁয়াজ সংরক্ষণে উপজেলার মধ্যে ৮টি ইউনিয়নের ৮জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন এবং একই অর্থ বছরের শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ (কন্দ) উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা-পৌরসভার মধ্যে ১২টি ইউনিয়নের ১৫জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা বিভাজন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার সময় উপজেলা কৃষি অফিস চত্ত্বরে এই দুটি আয়োজনের উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম’র সভাপতির বক্তব্যে তিনি জানান, কৃষক প্রতি সর্বমোট ২৭হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেছেন এবং উক্ত টাকা থেকে ১টি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণের এযার ফ্লো মেশিন ক্রয়ের জন্য ২০হাজার টাকা ও ঘরের ৪টি দেয়াল-মাচা তৈরির সক্ষমতার জন্য ৭ হাজার ব্যয় করতে পারবেন। এছাড়াও কৃষকের ২০ শতক জমির পরিমান থাকা শর্তে শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ (কন্দ) উৎপাদনে কৃষক প্রতি ১৬০কেজি শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ (কন্দ), ৩৫০টাকার বালাইনাশক, ডিএপি সার ২০ কেজি ও এমওপি সার ২০ কেজি, ১টি বীজ সংরক্ষণ পাত্র দেওয়া হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঝিকরগাছার মাল্টিমিডিয়া ডট কম সার্ভিসের পরিচালক আফজাল হোসেন চাঁদ, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার লাহাবুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নয়নানন্দন পাল নয়ন, মহাদেব কুমার দাস, আইয়ুব হোসেন, অর্ধেন্দু কুমার পাড়ে, মফিজুর রহমান-১, মফিজুর রহমান-২, রোকুনুজ্জামান, লাহাবুল ইসলাম, শ্যামল কুমার নাথ, শান্ত কুমার সাহা, আফরোজা আক্তার, শহিদুল ইসলাম, রিয়াদ মাহমুদ, জাহিদুল ইসলাম, আফসানা হক, হাসানুজ্জামান পরাগ, এমএমএ গফুর, শরিফুল ইসলাম, রয়েল হোসেন, নুরুল ইসলাম, কামরুজ্জামানসহ উপকারভোগী কৃষক-কৃষানীবৃন্দ।


ঝিকরগাছায় সখের বসে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ ও করলা উচ্ছে চাষ : স্বাবলম্বী কৃষক কামরুজ্জামান

ঝিকরগাছায় সখের বসে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ ও করলা উচ্ছে চাষ : স্বাবলম্বী কৃষক কামরুজ্জামান

ঝিকরগাছায় সখের বসে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ ও করলা উচ্ছে চাষ : স্বাবলম্বী কৃষক কামরুজ্জামান

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় সখের বসে গ্রীষ্মকালীন ফসল হলেও বারোমাসি হিসেবে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ ও করলা উচ্ছে চাষ। এতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন পানিসারা ইউনিয়নের পানিসারা গ্রামের মৃত নবিছদ্দীনের ছেলে কৃষক মোঃ কামরুজ্জামান। তিনি পেশায় খুলনা বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত। 
কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে নতুন জাতের এ তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন হওয়ায় তার দেখা দেখি অনেকেই এগিয়ে আসছেন তরমুজ চাষে। নিজের অর্থায়নে খুলনা হতে একটি দোকান হতে বীজ ক্রয় করে নিয়ে এসে তার ১বিঘার জমির মধ্যে ২০শতক জমিতে মাচা পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে কালো রঙের তরমুজ।
এছাড়াও অপর ১৩শতক জমিতে চাষ হচ্ছে করলা উচ্ছে, কাচা মরিচ, বেগুন, ঢেঁড়স ও ওল। এছাড়াও বাড়ির উঠানের পাশে বস্তায় চাষ করছেন মসলা জাতীয় ফসল আদা। প্রতিটি কালো রঙের তরমুজের ওজন গড়ে ২.৫ থেকে ৩.৫ কেজি। সাইজে ছোট হওয়ায় সকলের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে থাকে। এই তরমুজ খেতে অনেক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। আর এই তরমুজ চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে মালচিং পেপার। এই পেপারে ফসল চাষ করলে মাটির আর্দ্রতা ঠিকঠাক থাকে, জমিতে আগাছা হয় না এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়।
ব্ল্যাক গোল্ড হাইব্রিড জাতের রঙিন তরমুজ চাষের ফলে বোঁটা থেকে মাটিতে ছিঁড়ে না পড়ে এ কারণে তরমুজগুলো জাল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে ভিড় জমাচ্ছেন কামরুজ্জামানের বাগানে। তার দেখাদেখি এলাকার অন্য কৃষকরাও এ জাতীয় তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

কৃষক মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, আমার চাকরির পাশাপশি সখের বসত কৃষি কাজ করি। তারই ধরাবাহিকতায় আমি প্রথমে ইউটিউবে দেখে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠি। এরপর কৃষি বিভাগের পরামর্শে খুলনার বাজার থেকে বীজ সংগ্রহ করে তা রোপণ করি। অল্প পরিশ্রমে বেশি ফলন ও ভালো দাম পেয়ে এ চাষে আমার আরও উৎসাহ বাড়েছে। তরমুজ চাষে গোবর, ডিএপি সার, পটাশ, জিপসাম, সেচ, বাঁশ, সুতা, বিষ ও লেবারসহ খরচ হয়েছে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। ২.৫ থেকে ৩.৫ কেজি ওজনের প্রায় ২ হাজার তরমুজ ধরেছে।

বর্তমান এক চালান বাজারে বিক্রি করেছি। বর্তমানে বাজার মূল্য চলছে  ১হাজার ৬শত টাকা মন। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে আমার অনেক টাকা আয় হবে বলে আমি আশাবাদি। এছাড়াও আমি যদি স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও বিএডিতি’র পলি সেড পায় তাহলে আমার চাষের আকার বৃদ্ধি করতে পারবো।

উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের পানিসারা ব্লকের (অতিরিক্ত) উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব অর্ধেন্দু কুমার পাঁড়ে বলেন, আমি কৃষকের সাথে যোগাযোগ করে আমার মত করে পরামর্শ দিয়েছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, আমাদের এই উপজেলাতে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে ব্ল্যাক গোল্ড হাইব্রিড জাতের রঙিন তরমুজ চাষ হয়। কিছুদিন আগে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমাদের একটু সমস্যা হয়েছে। তবে আমাদের এলাকায় বেলেদশ মাটি হওয়ার করণে ইতিমধ্যে অনেকটা কেটে উঠেছে। আমরা তরমুজের যে ফল আশা কারেছিলাম। আমাদের কাঙ্খিত আশা পূরণ হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা মোতাবেক ভালো দাম পাচ্ছে ও সাইজে ছোট ও সুস্বাধু হওয়ায় সকলে তাদের চাহিদা মোতাকেব ক্রয় করছে।

 

ঝিকরগাছায় বোরো শস্য কর্তনে যোগ হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির ৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন

ঝিকরগাছায় বোরো শস্য কর্তনে যোগ হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির ৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন

ঝিকরগাছায় বোরো শস্য কর্তনে যোগ হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির ৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন

আফজাল হোসেন চাঁদ : 

যান্ত্রিক যুগে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। চলতি বোরো মৌসুমে নমুনা শস্য কর্তনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন। এগুলো কাউরিয়া গ্রামের আবু বক্কর সরদার, হাসানুর রহমান, রাজাপুর গ্রামের আজাহারুল ইসলাম, দোশতিনা গ্রামের হাবিবুর রহমান, সৈয়দপাড়া গ্রামের ইজাজুল ইসলাম, আন্দোলন পোতা গ্রামের মহাসীন আলী, ও পুরন্দরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের নিকট রয়েছে। এটা দিয়ে কৃষক খুব সহজে অল্প সময়ে তার ধান, গম ও ভুট্টা কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করতে পারবে।


জানা যায়, এ মেশিন দিয়ে একসঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করা এক আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার উপজেলায় এই প্রথম। এ কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের বাজারমূল্য ৩২লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারিভাবে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বলা যায় প্রায় ৫০%ভূর্তুকি সুবিধা পাচ্ছেন । আর বাকি টাকা কৃষকদের নিজস্ব তহবিল থেকে দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে। 

এসম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, আমাদের সরকারকে ধন্যবাদ জানানো উচিৎ। কারণ সরকার দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করতে বিভিন্ন সময়ে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ডিজিটাল দেশে রূপান্তর করছেন। এছাড়াও কৃষি ক্ষেত্রে অনেক ভূর্তুকী দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে সহযোগিতা করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন। এ মেশিন ঘণ্টায় ১ একর জমির ধান কাটতে সক্ষম। এটি দিয়ে ধান ছাড়াও গম ও ভূট্টা কাটা, মাড়াই ও ছাটা সম্ভব।

ঝিকরগাছায় ৩দিনের কৃষক কৃষানী প্রশিক্ষণের পরিসমাপ্তি

ঝিকরগাছায় ৩দিনের কৃষক কৃষানী প্রশিক্ষণের পরিসমাপ্তি

আফজাল হোসেন চাঁদ :

কৃষিই সমৃদ্ধি এই স্লোগানকে সামনে রেখে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের আয়োজনে ২০২১-২২ অর্থবছরে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩০জন কৃষক কৃষানীর মধ্যে ৩দিনের প্রশিক্ষণের পরিসমাপ্তি হয়েছে।

প্রদর্শনীভুক্ত ফসলের আধুনিক প্রযুক্তি, বালাই দমন ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিষয়ের উপর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে ১২টার আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেনকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথিকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র এডিডি(পিপি) কৃষিবিদ সৌমিত্র সরকার,

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন, উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোঃ মফিজুর রহমান, সহকারী কৃষি অফিসার নয়নানন্দন পাল, মহাদেব কুমার দাশ প্রমুখ।


ঝিকরগাছায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

ঝিকরগাছায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

আফজাল হোসেন চাঁদ :

কৃষিই সমৃদ্ধি এই স্লোগানকে সামনে রেখে যশোরের ঝিকরগাছা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের বাস্তবায়নে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। 

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার সময় উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে ২০২১-২২ অর্থবছরের রবি/২০২১-২২ মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমূখী, চিনাবাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ, মুগ, মসুর ও খেসারি ফসল আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুল হক’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ আব্দুল্যাহ আল মামুন, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমামুল হাসান সবুজ, সিনিয়র সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আতাউর রহমান জসি, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইমরানুর রশীদ, যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, সদস্য এমআর মাসুদ, একরামূল হক খোকন, জুলফিকার আলী ভুট্টো, সাংবাদিক আফজাল হোসেন চাঁদ, মিঠুন সরকার, শাহ জামাল শিশির, উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোঃ মফিজুর রহমান, উপ সহকারী কৃষি অফিসার নয়নানন্দন পাল সহ অন্যান্য উপ সহকারী কৃষি অফিসারবৃন্দ ও উপজেলার বিভিন্নপ্রান্ত থেকে আগত কৃষক-কৃষাণীবৃন্দ।

ঝিকরগাছায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কমলা চাষ

ঝিকরগাছায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কমলা চাষ


আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ফুলের পর এবার কমলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাসাবাড়ি ও স্বল্প পরিসরে ছোট ছোট বাগানে আশানুরূপ কমলার ফলন আসায় কৃষকরাও খুশি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে উৎপাদিত কমলার স্বাদ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের দার্জিলিংয়ের কমলার মতো। বাজারে চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের চাষীরা এখন কমলার চাষ বাণিজ্যিক ভাবে শুরু করেছেন। এসব বাগানে উৎপাদিত কমলার আকার, রং ও স্বাদ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার কমলার মতো।

উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামের দেলোয়ার রহমানের ১বিঘা, পানিসারা ইউনিয়নে পানিসারা গ্রামের আজিজুর রহমান ১বিঘা, ঝিকরগাছা ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামে সাইফুল ইসলাম ২বিঘা, দোস্তপুর গ্রামের আঃ জলিল ১বিঘা এবং নাভারণ ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের শাহাজান আলীর ১বিঘা, আশরাফুল আলম চান্দুর ১বিঘা, বায়সা গ্রামের ছগির আহম্মেদের ১বিঘা, আমিনী গ্রামের শওকত আলীর ১বিঘা সহ ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কমলার বাগান করে লাভবান হয়েছেন। কৃষকদের বাগানে কমলার ফলন ভাল হওয়ায় এসব এলাকায় অনেকে কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

কমলার বাগান মালিক নাভারণ ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের শাহাজান আলীর বলেন, আমি আমার ১বিঘা জমিতে কমলার চাষ করেছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমরা কমলার বাগান করে লাভবান হয়েছি। বর্তমানে ফল বিক্রয় করতে শুরু করেছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে লোকজন কমলার বাগান দেখতে আসে এবং কমলা কিনে নিয়ে যায়।

ঝিকরগাছা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, ঝিকরগাছার মাটি খুবই উর্বর। যার কারণে এখনে ফুলের পাশাপাশি কমলা চাষ শুরু করে এখানকার চাষীরা অনেক লাভবান হবেন। বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে ১৪০-১৫০পিচ কমলার চারা রোপন করা যায়। কমলা চাষের উপর উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে এ প্রকল্প সাইট্রিস ডেভেল্পমেন্ট প্রজেক্ট বা লেবু জাতীয় ফসল উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে হাতে নেয়া হয়েছে। কমলা আমদানী হ্রাস,আবাদ বৃদ্ধি, পুষ্টি চাহিদা মেটানো ও কৃষকদের বাড়তি আয়ের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। বিগত বছরে আমাদের এই উপজেলা থেকে ১৪ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করা হয়। বর্তমানে ১৬ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করা হচ্ছে। এখন আমরা কমলা চাষ করে নিজ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিদ্রুত উপজেলার বাহিরে রপ্তানি শুরু করতে পারবো বলে আমি আশাবাদি।

ঝিকরগাছায় বিনামূল্যে মাসকলাই বীজ ও সার বিতরণ

ঝিকরগাছায় বিনামূল্যে মাসকলাই বীজ ও সার বিতরণ

 

আফজাল হোসেন চাঁদ :

কৃষিই সমৃদ্ধি এই স্লোগানকে সামনে রেখে, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের আয়োজনে ২০২১-২২ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে মাসকলাই উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ের ৬০জনের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণের লক্ষ্যে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস প্রশিক্ষণ কক্ষে বুধবার দুপুরেউপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুল হক'র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্ত রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুবনা তাক্ষী, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার বিএম কামরুজ্জামান, ঝিকরগাছা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন, উপ সহকারী কৃষি অফিসার নয়নানন্দন পাল, মহাদেব কুমার দাশ প্রমুখ।

ঝিকরগাছায় কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে কৃষক/কৃষাণী প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ

ঝিকরগাছায় কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে কৃষক/কৃষাণী প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ

 আফজাল হোসেন চাঁদ :

কৃষিই সমৃদ্ধি এই স্লোগানকে সামনে রেখে যশোরের ঝিকরগাছায় ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সম্ভাবনাময় ফসল কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ১ দিন ব্যাপী কৃষক/কৃষাণী প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদের ভিডিও কনফারেন্স রুমে উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের বাস্তবায়নে ১ দিন ব্যাপী কৃষক/কৃষাণী প্রশিক্ষণ এবং বিকালে উপজেলা কৃষি অফিস প্রশিক্ষণ কক্ষে উপকরণ বিতরণ করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ’র সভাপতিত্বে বিশষে অতিথি ছিলেন, হার্টিকালচার সেন্টার, খয়েরতলার উপপরিচালক হর্টিকালচার কৃষিবিদ বিভাষ চন্দ্র সাহা, উদ্ভিদ সংঙ্গনিরোধ কেন্দ্র, বেনাপোল’র উপপরিচালক, কৃষিবিদ সুব্রত কুমার চক্রবর্তী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ দীপঙ্কর দাশ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (এল.আর.) কাজু বাদাম বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ জাকিয়া সুলতানা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র এডিডি(পিপি) কৃষিবিদ সৌমিত্র সরকার, ঝিকরগাছা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন, উপ সহকারী কৃষি অফিসার নয়নানন্দন পাল, মহাদেব কুমার দাশ প্রমুখ।


 ঝিকরগাছায় কৃষকের সহায়তায় ট্রাক ও ট্রাকের চাবি বিতরণ

ঝিকরগাছায় কৃষকের সহায়তায় ট্রাক ও ট্রাকের চাবি বিতরণ

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুর কৃষকদের সহায়তায় কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বাজার জাত করণ কেন্দ্র (সিসিএমসি) এর পরিচালনায় (প্রডিউমার), ঝিকরগাছা আরগানাই যশোর বাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটি ( পিওএমএমসি) এবং কৃষি মন্ত্রনালয় ও অধি দপতর এমএটিটু হটেক্স ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়  ট্রাকসহ ট্রাকের চাবি বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হল রুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ-২ প্রকল্পের (এনএটিপি-২) আওতায়, এগ্রিকালচার ইনোভেশন ফান্ড (এআইএফ-৩) গ্রান্টের মাধ্যমে প্রকল্প থেকে ৫.৮০লক্ষ বাকি টাকা পিও, এমএমসি গ্রুপ দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রেজা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুবনা তাক্ষী, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার বিএম কামরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুল্যাহ আল মামুন, উপ সহকারী কৃষি অফিসার নয়নানন্দন পাল, মহাদেব কুমার দাশ প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, কৃষিই সমৃদ্ধি ও করোনা পরবর্তী কাল, কৃষিই ধরবে একমাত্র হাল স্লোগানকে সামনে রেখে চলতি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকলের পুষ্টি চাহিদা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমার কৃষি বিভাগ। যে ট্রাকটি দেওয়া হয়েছে সেটা ভালো ভাবে দেখভাল করে স্থানীয় বেশ কয়টি ইউনিয়নের কৃষকের সহযোগিতা করবে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।


 ঝিকরগাছায় বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের ২ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের ২ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের ২ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জাহিদুল আমিন।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ক্রমাগতই সরকার যে ভাবে আমাদের কৃষি বিভাগের উপর নজর দিয়েছে এতে করে আমরা আমাদের দেশের চাহিদা পূরণ করে আমরা বিদেশেও আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পাঠাতে পারবো। আজ ঝিকরগাছা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় উপজেলার মধ্যে থেকে ১৫টি পরিবারের স্বামী-স্ত্রী সহ সর্বমোট ৩০জনের মাঝে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ নিয়ে আপনারা যদি কাজে লাগন তাহলে আপনাদের সামলম্বি হবে বেশি দিন লাগবে না।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ দীপঙ্কর দাশ, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন।


 আধুনিক প্রযুক্তিতে পাট চাষে ৯০ দিনেই সফল তরুণ উদ্যোক্তা মিঠুন সরকার

আধুনিক প্রযুক্তিতে পাট চাষে ৯০ দিনেই সফল তরুণ উদ্যোক্তা মিঠুন সরকার

আফজাল হোসেন চাঁদ :

আধুনিক কৃষির ধারণা থেকে নিজের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে ভারতের বারি মহারাষ্ট্র-১ জাতের পাট চাষ করে মাত্র ৯০ দিনে সফল হয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা মিঠুন সরকার (২৩)। সে উপজেলার সন্তোষনগর গ্রামের মৃত দিলীপ সরকারের ছেলে। ৩০ জুন ২০২০ এ লিভার জনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেন। বাবার মৃত্যুতে তার উপর শোকের ছায়ালেগে থাকলেও মায়ের ভালোবাসার পরশে সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। তবুও তার পড়াশুনা থেমে যায়নি। বর্তমানে মিঠুন সরকার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যশোর আঞ্চলিক কেন্দ্রের ঝিনাইদহ এগ্রিকালচারাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে 'ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচারাল এডুকেশন" এ অধ্যায়নরত।

পড়াশুনার পাশাপাশি বাবার রেখে যাওয়া ৬৯ শতাংশ দু ফসলী জমিতে তিন ফসলীতে পরিণত করে ক্রমাগতই আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে এবং এলাকার মধ্যে একজন সফল উদ্যেক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সে লাইনিং পদ্ধতিতে পাটের বীজ বপন করে কাঙ্খিত ফলন ঠিক রেখে মাত্র ১২৫ দিনের পাট চাষকে ৯০ দিনে নিয়ে এসে এলাকার মানুষের মাঝে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। লাইনিং পদ্ধতিতে তার জমিতে পাট চাষ করে শ্রমিক, সেচ এবং সার কম লাগে ও বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় অন্যান্যদের চেয়ে বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় কমেছে শতকরা ৫০ শতাংশ। এছাড়াও উৎপাদন হয়েছে বিঘাপ্রতি প্রায় ১২মণ পাট।  

এ বিষয়ে তরুণ উদ্যোক্তা মিঠুন সরকার বলেন, ‘আধুনিক পাট চাষে সফলতার পিছনে নিজের মেধাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিসার ও গবেষণা কাজে সব সময় উৎসাহ এবং সার্বিক সহযোগিতা  দিয়ে এসেছে ঝিনাইদহ এগ্রিকালচারাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট’। 

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, আমাদের উপজেলার অর্ন্তগত মাগুরা ইউনিয়নের ক্ষুদে একজন উদ্যোক্তা হলো মিঠুন সরকার। সে এমাগতই চাষাবাদের মাধ্যমে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। একজন উদ্যোক্তার সফল হতে যে গুন দরকার হয় সেটা তার মধ্যে রয়েছে। আমি আশাকরি সে তার লক্ষ্য পূরণ করে একদিন উপজেলার মধ্যে সফল উদ্যোক্তা হবে। 

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যশোর আঞ্চলিক কেন্দ্রের ঝিনাইদহ এগ্রিকালচারাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের কো-অর্ডিনেটিং অফিসার এমএস শাহনাজ ফেরদৌস বলেন, ‘ আমরা প্রতিটা শিক্ষার্থীদের সমান গুরুত্বের সাথে বন্ধুত্ব সুলভ আচরণের মাধ্যমে পাঠদান করে থাকি। মিঠুন সরকার সবসময় আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে গবেষণার সার্বিক পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। তাঁর এ সাফল্যে আমরা গর্বিত।


ঝিকরগাছায় প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা ঋণ বিতরণের শুভ উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য

ঝিকরগাছায় প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা ঋণ বিতরণের শুভ উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য

 


আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যোক্তাদের মাঝে- বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ঝিকরগাছা উপজেলার ফুল চাষীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য।

তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ঝিকরগাছার পানিসারা ও গদখালী ইউনিয়নের ফুল চাষীদের দীর্ঘদিনের দাবী ফুল বাজারযাত করণে আরো উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণের সহায়তা গ্রহণ করবে সরকার। বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী খ্যাত এই গদখালীতে ফুলের চাষ যেন আরো ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় সেকারণে ফুল চাষী ও ব্যবসায়ীদের সর্বদা সহযোগিতা করতে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার বদ্ধ পরিকর। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের দিক তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে দেশের সকল ক্ষেত্রেই উন্নতির মাধ্যমে একটি উন্নয়নশীল দেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

এসেছে পল্লীর শুভ দিন বিআরডিবি দিচ্ছে এসএমই ঋণ, বিআরডিবি থেকে এসএমই ঋণ নিন, দেশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখুন এই স্লোগানকে সামনে রেখে পানিসারা-গদখালীর ফুল বিপণন কেন্দ্রে  বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তামিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার বিএম কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব:) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন, যুগ্ম পরিচালক (সম্প্রসারণ ও বিশেষ প্রকল্প) কৃষিবিদ মোঃ আবদুল কাদের, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম, মনিরামপুর সার্কেল আশিক সুজা মামুন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুল হক, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রেজা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুবনা তাক্ষী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা: কাজী নাজিব হাসান, উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ, নাভারণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী, নির্বাসখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, শিওরদাহ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই (নি:) মোঃ আব্দুল মালেক প্রমুখ।

 শেখ কামাল জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঝিকরগাছায় যুব উন্নয়নের চারা বিতরণ

শেখ কামাল জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঝিকরগাছায় যুব উন্নয়নের চারা বিতরণ

আফজাল হোসেন চাঁদ :

বাংলাদেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র জাতির পিতা’র জৈষ্ঠ্য পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসারের নিজ উদ্যোগে দুই শতাধিক প্রশিক্ষত যুব ও যুব মহিলা এবং যুব সংগঠনের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কার্যালয়ের সামনে গাছের চারা বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. তপন্বেশর রায়, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মোঃ আরব আলী, উপজেলা পরিষদের সিএ ইমদাদুল ইক ইমদাদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা ইমদাদ, হস্তশিল্প প্রশিক্ষক শাহানাজ পারভীন নিশু, শিক্ষক শান্তা ইসলাম, তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ ইকবাল হোসাইন প্রমুখ।


 ওপারে বসে আপনি খুশিই হয়েছেন; এ আমার বিশ্বাস...... হারুন অর রশিদ

ওপারে বসে আপনি খুশিই হয়েছেন; এ আমার বিশ্বাস...... হারুন অর রশিদ

ওপারে বসে আপনি খুশিই হয়েছেন; এ আমার বিশ্বাস......

                                                                          -হারুন অর রশিদ

প্রিয় অগ্রজ, জানি পরপারে ভালো আছেন। আজ আপনার হারুন, আপনার ভালোবাসায় গড়া বিশ্বস্ত ছোটভাই; যে কিনা আপনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত জীবনের প্রায় দুই যুগ আপনার সাথে থেকে বিশ্বস্ততার চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আপনার সবচেয়ে আস্থাভাজন, আপন ভাইয়ের চেয়ে অধিক ভাই হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলো আজ তার নিজস্ব স্বকীয় পরিচয়ে কে কতটা খুশি হয়েছে জানিনা তবে আপনি নিশ্চয়ই ওপারে বসে খুশি হয়েছেন, আমার নিজস্ব স্বকীয়তাকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ করছেন এ আমার বিশ্বাস।

ভাই, জানি আমার এ চিঠিটি পড়ার পর কেউ কেউ আমাকে অকৃতজ্ঞ-বিশ্বাসঘাতক, বিবেকহীন, স্বার্থপর ইত্যাদি উপাধি দিতে পারে। কিন্তু আমি জানি আপনি কতটা খুশি হয়েছেন। কেননা, আমাকে দেয়া আপনার তিনটি প্রতিশ্রুতির কোনটিই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে পূরণ করার সুযোগ দেননি। যখনই প্রতিশ্রুতি পূরণের সময় হাতের মুঠোয় এসেছে তখনই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে আপনাকে না ফেরার দেশে চলে যেতে হয়েছে। কে জানতো এমন ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যাবে গোটা জীবন। মৃত্যুর আগে আমার কথা ভেবে আমার অসুস্থ মায়ের কথা ভেবে আপনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন তা কেউ না জানলেও আমি জানি। আমি জানি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করতে পারলেও বিনিময়ে বুক ভরা ভালোবাসা আর দোয়া উজাড় করে দিয়েছেন আপনার হারুনের জন্য। এ আমার পরম প্রাপ্তি।
ভাই, কোন কিছু নিয়েই আমার কোন আক্ষেপ নেই। কারও প্রতি আমার কোন অভিযোগও নেই। নেই অনুযোগ। কেবল কষ্ট একটাই সারাজীবন আপনার হাত ধরে পথ চলার যে দৃঢ় আশাটা ছিলো সেটা হয়তো আমার ব্যর্থতার জন্যই পূরণ করতে পারলাম না। পারলে ক্ষমা করে দিবেন। অন্যথায় অভিশাপ দিবেন এতটুকু অনুযোগ করবো না কথা দিলাম। তবে এটুকু বুঝেছি যে সিদ্ধান্তটা নিতে অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছি। বিশ্বাসী হতে গিয়ে বিশ্বাসহীনতার তকমাও গায়ে লাগিয়েছি সুনিপুন ভাবে। ছোট বেলা থেকেই ভাগ্যের খেলায় বারবার পরাজিত আমি এবারও তাই পরাজয় মেনে নিলাম নির্দিধায়।
ভাই, পৃথিবীর কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক আপনি জানেন আর মহান সৃষ্টি কর্তা জানেন দৈনিক নওয়াপাড়ার সাথে আমার আত্মার রক্ত মিশে আছে। কোনদিন ওর ক্ষতি মেনে নিতে পারবো না। চেয়ারটিতে বসে কোনদিন এক মিনিটের জন্যও অবহেলা করিনি। নিজের অজান্তে যে ভুল গুলো হয়েছে তারজন্যও কোনদিন ক্ষমা চাইবো না। চেষ্টা করেছি নিজের ভান্ডারে যতটুকু আছে ততটুকু দেয়ার। তবে কতটুকু দিতে পেরেছি তা নিজেও জানি না। বিনিময়ে কতটুকু পেয়েছি তারও হিসেব কোনদিন করিনি। এ ব্যাপারে কোনদিন হিসেব করতেও চাই না। তবে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি পথচলার শুরুতে দেয়া কথা গুলো রাখার। যদি না রাখতে পারি সেটা আমার জ্ঞান ও পরিধীর বাইরে। তবুও ক্ষমা চাইবো না তার জন্য।
তবে মন থেকে শুধু এটুকু বলবো সকল ব্যার্থতা আমার। আর পেয়েছি অপরিসীম। ভালোবাসা, টিকে থাকার শক্তি-সাহস, ক্ষমতা, যোগ্যতা প্রমাণের উম্মুক্ত সুযোগ, বেঁচে থাকার রসদ, অর্থ স্নেহ-মমতা সব। সব পেয়েছি অঢেল। সে তুলনায় দেয়নি কিছুই। হয়তো দিতে পারিনি জ্ঞানের স্বল্পতা আর সংকীর্ণ পরিধীর কারনে। তবে ব্যথা একটাই বিশ্বাসী হতে পারিনি। পারিনি নিজের সত্ত্বার সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে। তবে চেষ্টা করেছি নিজের ছোট্ট মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করে। অপমানের গ্লানী সয়েছি।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে আপনি শেষবার বলেছিলেন “ ভাইডি পত্রিকার দিকে খেয়াল রেখো”। নিজের সামান্য আত্মমর্যাদা টুকু রক্ষা করতে আপনার শেষ কথা টুকু রাখতে না পারার যন্ত্রণা সারাজীবন বইবো তা জানি। তবুও আপনার হারুন, আপনার সন্তান তুল্য ছোট ভাই আজ নতুন উদ্যোমে যে স্বকীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে তার জন্য নিশ্চয়ই আপনি পরপারে বসে দোয়া করছেন। কারন আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের এ শিক্ষা আপনিই আমাকে দিয়েছেন।
অনেক কিছুই বলার ছিলো কিন্তু আর পারছি না। গলা ধরে আসছে। হাত কাঁপছে ভাই। কেবল দোয়া করবেন আমার জন্য আর যারা ভুলের মধ্যে আছে তাদের জন্য যেন মহান আল্লাহ তাদের হেদায়েত করেন ও রহমত বর্ষন করেন। আপনার পায়ের ধুলো আমার আগামী দিনগুলোর জন্য সম্বল হয়ে থাকবে। পরপারে ভালো থাকবেন, ভাই।
ইতি
আপনার সন্তানতুল্য ছোট ভাই
হারুন
 স্বপ্নের কৃষি পদক ছোঁয়ার দাঁড়প্রান্তে ঝিকরগাছার সফল নারী উদ্যোক্তা নাসরিন সুলতানা

স্বপ্নের কৃষি পদক ছোঁয়ার দাঁড়প্রান্তে ঝিকরগাছার সফল নারী উদ্যোক্তা নাসরিন সুলতানা

আফজাল হোসেন চাঁদ :

কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনে স্বপ্নের কৃষি পদক ছোঁয়ার দাঁড়প্রান্তে যশোরের ঝিকরগাছার সফল নারী উদ্যোক্তা নাসরিন সুলতানা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মেধাশক্তির মাধ্যমে ক্রমাগতই তিনি ভাগ্য বদলিয়েই চলেছে। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসাবে সফলতা পেতে বর্তমানে ঝিকরগাছা উপজেলায় নাসরিন সুলতানার নাম উজ্জ্বল করেছেন তার কর্মদক্ষতাকে মূল্যায়ন করে। নাসরিন সুলতানা যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে। তার মায়ের নাম শিউলী বেগম। দুই ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। নাসরিন সুলতানা উপজেলার দিগদানা খোশালনগর দাখিল মাদরাস্ াকারিগরি এবং কৃষি কলেজে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষা কার্যক্রমের উপর ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করার পাশাপাশি জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে ঝিকরগাছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সের (সম্মান) সমাপ্ত করেছেন। তিনি কেঁচো কম্পোস্ট (ভার্মি কম্পোস্ট) সার কারখানার মালিক। নাসরিন সুলতানা কেঁচো কম্পোস্টের (ভার্মি কম্পোস্ট) মাধ্যমে তৈরি করছেন জৈবসার। এই সারের চাহিদা ক্রমশই বাড়ছে। তবে বিনিয়োগ বাড়াতে না পাড়ায় উৎপাদন বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তার মতে, ৮-১০লক্ষ টাকার বিনিয়োগ করতে পারলে তিনি উৎপাদন বাড়াতে পারতেন আরো কয়েকগুণ। এতে এলাকার বাহিরের অন্যান্য কৃষকদেরও চাহিদা মতো ভার্মি কম্পোস্ট সারের জোগান দিতে পারতেন তিনি। জৈবসার ব্যবহারে জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ফসলের ফলনও বৃদ্ধি হয় অনেকগুণ। নাসরিন সুলতানার কারখানায় প্রতি নান্দায় (মাটিরপাত্র) প্রতি মাসে তৈরি হয় ৭৫০-৮০০কেজি জৈবসার। কারখানায় নান্দা রয়েছে ১৫০টি। সে এই জৈবসার   বিক্রয় করে নিজের লেখপড়ার খরচ যোগান দিয়ে ঝিকরগাছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স (সম্মান) শেষ করেছেন। পিতার সংসার থেকে নেওয়ার চেয়েও সংসারেও আর্থিক যোগান দেন তিনি। কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি ও বিক্রি করে অভাবী পিতামাতার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এসেছে। নাসরিন প্রমাণ করে দিয়েছেন মেয়েরা কখনো পিতামাতার সংসারের বোঝা নয়। তারাও তাদের নিজের ইচ্ছাশক্তি ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা। ঝিকরগাছার নাসরিন সুলতানা হতে পারে আমাদের যশোর জেলার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ! পাঁচবছর আগে ১০০ গ্রাম কেঁচো দিয়ে দু’টি নান্দায় দু’ঝুড়ি গোবর দিয়ে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির প্রাথমিক ধাপের যাত্রা শুরু করেছিল। প্রথমদিকে  সহপাঠী, প্রতিবেশীরা উপহাস করলেও এখন তারা রীতিমত উৎসাহের পাশাপাশি অনেকেই আবার নিজেই এই কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

নারী উদ্যোক্তা নাসরিন সুলতানা বলেন, ২০১৬ সালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বোধখানা ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেনের হাতে খড়ির মাধ্যমে আমি মাত্র একশত পঞ্চাশ টাকা দিয়ে ১০০ গ্রাম কেঁচো, দু’টি নান্দা (মাটিরপাত্র), দু’ঝুড়ি গোবরের মাধ্যমে জৈবসার তৈরি শুরু করি। প্রথম বছরে আমার যে সার তৈরি হয়েছিল সেটা আমার পিতার জমিতে ব্যবহার করেছিলেন। ১০০ গ্রাম কেঁচো থেকে বর্তমানে ১৫০টি নান্দায় কেঁেচা রয়েছে ৪৫-৫০কেজি। এক কেজি কেঁচোর দাম এখন ১৫০০/- টাকা। গত বছর কেঁচো কম্পোস্ট (ভার্মি কম্পোস্ট) সার তৈরির জন্য আমি একটি চালা (সেড) তৈরি করি। একটি চালা (সেড) এ ১৫০টি নান্দার জন্য চালা তৈরি, মাঁচা, বেড়া ও ছাউনী ঘেরা দিয়ে মোট খরচ হয় প্রায় ১৫-২০হাজার টাকা। আমাদের সংসারে পিতার ৮টি গরু আছে। ফলে আমার গোবর কিনতে হয় না। প্রতিটি নান্দায় ২০০ গ্রাম কেঁচো আর একঝুড়ি গোবর দিলে তা থেকে ২০-২৫ দিনের মাথায় ১৯৫-২০০কেজি জৈবসার তৈরী করা সম্ভব। এককেজি জৈব সার বিক্রয় হয় ১০-১৫টাকা। পাশাপাশি প্রতি নান্দা থেকে ৩মাস অন্তর ২-৩ কেজি কেঁচো বিক্রি করা যায়। আমাদের এলাকার চাষীরা তাদের ফসল, নিরাপদ (বিষমুক্ত) সবজী উৎপাদন করতে প্রায় ৬০-৭০ ভাগ জমিতে এখন কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছেন। এই সার সকল ফসলে ব্যবহার করা যায়। আমার এই কারখানা থেকে প্রতিমাসে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা আয় হয়। কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনে আমি আমার স্বপ্ন  কৃষি পদক পাওয়ার বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। আমি আমাদের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতি চিরোকৃতজ্ঞ। 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, নাসরিন সুলতানা আমাদের একজন সফল কৃষক। তাকে আমরা একটি প্রর্দশনী দিয়েছি। কেঁচো কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরি করে আমাদের পরিবেশবান্ধব ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেচলেছে। বর্তমান সময়ে রাসায়নিক সারে ক্ষতিকারক দিক থাকায় রাসায়নিক সারের বিপ্ররীতে নিরাপদ ফসল ও মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে এ সারের কদর ক্রমাগতই বেড়ে চলেছে। নাসরিন সুলতানা একজন নারী হয়ে যে কর্মদক্ষতা প্রকাশ করেছে সত্যিই এটা প্রশংসনীয়। সে আমার মাধ্যমে কৃষি পুরস্কারে পেতে আগ্রহী। আমার দপ্তরের মাধ্যমে তার সকল কর্মকান্ডের বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।


ঝিকরগাছার তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম মৃধার ৪০বিঘা জমির উপর মিশ্র খামার প্রকল্প

ঝিকরগাছার তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম মৃধার ৪০বিঘা জমির উপর মিশ্র খামার প্রকল্প

 

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় নিজের প্রচেষ্টায় মিশ্র খামার প্রকল্প ভিত্তিক বেসরকারি ভাবে গড়ে উঠেছে মেসার্স মৃধা মিশ্র খামার। নাভারণ ইউনিয়নের বায়সা গ্রামে ১৩.৫ একর (৪০বিঘা) জমির উপর তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম মৃধা এই প্রকল্প শুরু করেছেন। ‘মেসার্স মৃধা মিশ্র খামার’ এর ব্যানারে বহুমুখি উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তুলেছেন সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটি। এখানে দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের গাড়ল (ভেড়া), ৫বিঘা জমিতে ০৩টি পুকুরে মৎস্য চাষ, ১২বিঘা জমিতে উন্নত মানের বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষ, ৩ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ, ২ বিঘা জমিতে সীডলেস লেবু চাষ, ২ বিঘা জমিতে লিচু চাষ ও ১ বিঘা জমিতে কলা চাষ করে  একটি মিশ্র খামার গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম মৃধা জানিয়েছেন, আমি ও আমার সহধর্মিনী রোজী মৃধার সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি গড়ে উঠেছে। আমার এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। ইতোমধ্যে ৩৫/৪০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিনিয়ত আমার এই খামারের মাধ্যমে প্রায় ১০জন অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। বর্তমানে খামারে প্রায় ৬০টি উন্নত জাতের গাড়ল বা ভেড়া, মৎস্য ও ফলমূল উৎপাদনে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু করা হয়েছে ১৩.৫ একর (৪০বিঘা) জমির আয়তন জুড়ে। ৫বিঘা জলাভূমি বা পুকুরে জেল মাছ চাষের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে আমার এই প্রকল্পের আরো পরিধি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। মৃধা মিশ্র খামারের প্রকল্পের পরিচালক একজন শিক্ষিত, কর্মজীবী, উদ্যমী ও তরুণ উদ্যোক্তা। এই প্রকল্প ঘিরে নিজে স্বাবলম্বি হওয়ার পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন নতুন খামার গড়ে তোলার ব্যাপারে উৎসাহ যোগাতে কাজ করে যাবেন বলে তিনি তার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। দেশে কৃষি সম্ভাবনাময় হিসাবে গড়ে তুলতে সরকারকে প্রয়োজনে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও সম্ভাব্য আর্থিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করলে নতুন উদ্যোক্তারা চাকরীর নামক সোনার হরিণের পিছে না দৌড়িয়ে কৃষি কাজের উপর নির্ভশীল হতে পারবে বলে মনে করেন প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম মৃধা। বর্তমানে তার এই প্রকল্পের আওতায় গাড়ল ও সীডলেস লেবুর চারা সংগ্রহ করতে ০১৭২৭-২১৬৫৫২ যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ তপনেশ্বর রায় বলেন, মেসার্স মৃধা মিশ্র খামার প্রকল্পের পরিচালক আব্দুর রহিম মৃধা তিনি আমার সাথে মাঝে মধ্যে যোগাযোগ করেন। তাকে গাড়ল চাষের উপর কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তিনি যদি আমাকে জানান তাহলে আমি সেটার বিষয়ে দেখবো। তিনি গাড়লের কোন সমস্যা হলে আমাকে জানালে আমি যথাযথ পরামর্শ প্রদান করে থাকি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, কৃষি হবে দূর্বার ও কৃষিই সমদ্ধি এই স্লোগানকে সামনে রেখে করোনাকালীন সময়ে আমি ও আমার সহযোগী কর্মীরা কৃষি অধিদপ্তরের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছি।  আমি তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম মৃধার বিষয়ে শুনেছি। তার যদি কোন প্রকার সরকারি সহযোগিতার দরকার হয় তিনি আমার দপ্তরের যোগাযোগ করলে আমি তাকে চাষাবাদের জন্য সর্বাধিক সহযোগিতা করবো। তাকে আমি ১ বিঘার আমের প্রদর্শনি দিয়েছি। তার গাড়োল খামারে আমি গিয়েছি। তবে তার সাথে আমার দেখা হয়নি।