যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ফুলের পর এবার কমলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাসাবাড়ি ও স্বল্প পরিসরে ছোট ছোট বাগানে আশানুরূপ কমলার ফলন আসায় কৃষকরাও খুশি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে উৎপাদিত কমলার স্বাদ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের দার্জিলিংয়ের কমলার মতো। বাজারে চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের চাষীরা এখন কমলার চাষ বাণিজ্যিক ভাবে শুরু করেছেন। এসব বাগানে উৎপাদিত কমলার আকার, রং ও স্বাদ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার কমলার মতো।
উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামের দেলোয়ার রহমানের ১বিঘা, পানিসারা ইউনিয়নে পানিসারা গ্রামের আজিজুর রহমান ১বিঘা, ঝিকরগাছা ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামে সাইফুল ইসলাম ২বিঘা, দোস্তপুর গ্রামের আঃ জলিল ১বিঘা এবং নাভারণ ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের শাহাজান আলীর ১বিঘা, আশরাফুল আলম চান্দুর ১বিঘা, বায়সা গ্রামের ছগির আহম্মেদের ১বিঘা, আমিনী গ্রামের শওকত আলীর ১বিঘা সহ ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কমলার বাগান করে লাভবান হয়েছেন। কৃষকদের বাগানে কমলার ফলন ভাল হওয়ায় এসব এলাকায় অনেকে কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
কমলার বাগান মালিক নাভারণ ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের শাহাজান আলীর বলেন, আমি আমার ১বিঘা জমিতে কমলার চাষ করেছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমরা কমলার বাগান করে লাভবান হয়েছি। বর্তমানে ফল বিক্রয় করতে শুরু করেছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে লোকজন কমলার বাগান দেখতে আসে এবং কমলা কিনে নিয়ে যায়।
ঝিকরগাছা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, ঝিকরগাছার মাটি খুবই উর্বর। যার কারণে এখনে ফুলের পাশাপাশি কমলা চাষ শুরু করে এখানকার চাষীরা অনেক লাভবান হবেন। বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে ১৪০-১৫০পিচ কমলার চারা রোপন করা যায়। কমলা চাষের উপর উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে এ প্রকল্প সাইট্রিস ডেভেল্পমেন্ট প্রজেক্ট বা লেবু জাতীয় ফসল উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে হাতে নেয়া হয়েছে। কমলা আমদানী হ্রাস,আবাদ বৃদ্ধি, পুষ্টি চাহিদা মেটানো ও কৃষকদের বাড়তি আয়ের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। বিগত বছরে আমাদের এই উপজেলা থেকে ১৪ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করা হয়। বর্তমানে ১৬ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করা হচ্ছে। এখন আমরা কমলা চাষ করে নিজ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিদ্রুত উপজেলার বাহিরে রপ্তানি শুরু করতে পারবো বলে আমি আশাবাদি।
0 মন্তব্য(গুলি):