ঝিকরগাছার সালেহা ক্লিনিকের মালিক, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক শরিফুল এবার ধরা খেল সিভিল সার্জেনের নিকট

SHARE

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছার সেই আলোচিত সালেহা ক্লিনিকের মালিক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাষ্টের মানবাধিকার কর্মী ও এশিয়ান টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম শরিফ এবার ধরা খেল সিভিল সার্জেন্টের নিকট। সিভিল সার্জেন শার্শা উপজেলা থেকে অফিসিয়াল কাজ শেষ করে মঙ্গলবার বিকালে ঝিকরগাছা সালেহা ক্লিনিকের প্রবেশ করেন। ঠিক সেই মুহুত্বে সালেহা ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেসমিন নাহার পাতা ও সালেহা ক্লিনিকের মালিক শরিফুল ইসলামকে এ্যানেসথেসিয়া ছাড়া সিজার অপারেশন করতে দেখে। তাৎক্ষনিক ইউএনও, টিএসও ও থানা পুলিশকে অবগত করে, ক্লিনিকটি বন্ধের জন্য ইউএনও, টিএসওকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। 

সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা পৌরসভার অর্ন্তগত ওয়াপদাহ রোডে প্রায় ৬ বছর পূর্বে  প্রতিষ্ঠিত হয় সালেহা ক্লিনিক। যার মালিক ছিলেন উপজেলার ৬নং ঝিকরগাছা ইউনিয়নের বেড়েলা গ্রামের আমজাদ হোসেন এর ছেলে শরিফ উদ্দীন। আর শরিফ উদ্দীন সালেহা ক্লিনিকের মালিক হয়ে এখন হয়েছে শরিফুল ইসলাম শরিফ। তার বিষয়ে তথ্য খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। এই ক্লিনিকে কোন প্রকার ডিপ্লোমা ধারী নার্স নাই। ক্লিনিকের মালিক কথিত ডাক্তার শরিফুল ইসলামের কারণে সম্প্রতি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে বৈশাখী আক্তার বিথী (২৬) নামের আর একটি প্রাণ। তিনি ৬নং ঝিকরগাছা ইউনিয়নের আনসার ও ভিডিপির দলনেত্রী, উপজেলার মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪) জেলার ৬ নং ওয়ার্ডের শিক্ষিকা ও উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী এবং পায়রাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। সালেহা ক্লিনিকের মালিক শরিফুল ইসলাম ডাক্তার না হয়েও বিথির শরীরে পেইন উঠানোর জন্য একাধিক ইনজেকশন দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর কিছুক্ষণ পর বিথি অচেতন হয়ে পড়ে। এসময় ওই ক্লিনিকে থাকা অদক্ষ সেবিকা ও ক্লিনিকের মালিক জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারী করায়। বিথি একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেয়। এরপর অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে গৃহবধু বৈশাখী আক্তার বিথির মৃত্যু হয়। 

শরিফুল ইসলাম শরিফের প্রতিষ্ঠান সালেহা ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সরকারী চোরাই ঔষধ বিক্রয়ের জন্য ৭ বছর পূর্বে ওয়াপদাহ রোডে ক্লিনিক থাকা অবস্থায় ২ বার তার ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। যার পরিপেক্ষিতে রাজনৈতিক চাপের উপর ভিত্তি করে সে তার সালেহা ক্লিনিকটি স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে পৌরসভার অর্ন্তগত মোবারকপুর নিমতলাস্থ মনোয়ারা কমপ্লেক্সের ২য় তলায় স্থানান্তর করে। বর্তমানে সে ওখানে ব্যাপক হারে অনিয়ম ও দূর্নীতি শুরু করেছে। তার অপকর্মের মধ্যে রয়েছে সে কখনও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হয়ে ডাক্তারের প্যাড ব্যবহার করে রোগী দেখেন, সরকারী চোরাই ঔষধ বিক্রয় করেন, ক্লিনিকের ফ্রিজে রক্ত রাখেন এবং সেই রক্তের সাথে রান্না করা খাবারও রাখেন। ওয়াপদাহ রোডে ক্লিনিক থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের নার্সের সাথে বিয়ের কথা বলে প্রেমজ সর্ম্পক গড়ে তোলে এবং সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সর্ম্পক বিচ্ছেদ করে বলে এলাকায় ব্যাপক জনির পাওয়া যায়। গোপন সংবাদের উপর ভিত্তি করে বিগত ২১/০৯/২০১৬ইং তারিখে সালেহা ক্লিনিকের মালিক শরিফুলের ক্লিনিকে সরকারি ঔষধ রাখার জন্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আঃ জলিল প্রায় ১ লক্ষ টাকা মূল্যের সরকারি ঔষধ জব্দ করেন এবং মেডিকেল প্রাকটিশনার এন্ড বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরী অধ্যাদেশ-১৯৮২ আইনে নগদ ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা করেন আথবা অনাদায়ে ছয় মাসের জেল দেওয়া হয়। কিন্তু সে নগদ টাকা জরিমানা দিয়ে রেহায় পান এবং সেই সময় তার বিরুদ্ধে সরকারী ঔষুধ রাখার দায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সার্টিফিকেট সহকারী (মোবাইল কোর্টের বেঞ্চ সহকারী) মঈন উদ্দীন বাদি হয়ে ৪১৩ ও ৪১১ পিসি ধারায় ঝিকরগাছা থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং ২০। তারিখ ২১/০৯/২০১৬ইং। গত ০৭/১২/২০১৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা আক্তার, হাফিজুল হক ও সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মীর আবু মাউদ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে সালেহা ক্লিনিক মালিক শরিফুল ইসলাম ব্যবস্থাপত্রে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করায়, বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় ও ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনায় ৫০হাজার টাকা জরিমানা করেন। সেই সময় ক্লিনিকে অপারেশন রোগী থাকায়, সিলগালা করা না হলেও এই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু আজ অবধি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়নি। এই হল ক্লিনিকের মালিক শরিফুল ইসলামের চরিত্র। তার জন্য সমগ্র ডাক্তার জাতিই হচ্ছে কলঙ্কিত। সমগ্র ডাক্তার জাতিই কলঙ্কিত হলে তাতে তার কি ? তিনি তো বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাষ্টের উচ্চপদাস্থ কর্মকর্তা ও এশিয়ান টিভি চ্যানেলের ঝিকরগাছা প্রতিনিধি। জনতার প্রশ্ন একটাই! যে ব্যক্তি নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারখানা খুলে বসেছে সে বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাষ্টের সদস্য ও টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক হয় কি করে ? সে একের পর এক অনৈতিক কার্যকালাপে লিপ্ত থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মানহানী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সব মিলিয়ে সে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে একের পর এক অন্যায় করে যাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমানে আমরা যখন উপজেলার সকল রোগীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধ বিতরণ করছি। সেখানে রোগীরা কি করে প্রাইভেট ক্লিনিকে যায় আমি এটাই ভেবে পাইনা। সালেহা ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেসমিন নাহার পাতা ও সালেহা ক্লিনিকের মালিক শরিফুল ইসলামকে থানার হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এখন দেখি আমাদের সিভিল সার্জন স্যার কি ব্যবস্থা নিবেন সেটার অপেক্ষায় আছি।

থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুর রাজ্জাক জানান, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও হাসপাতালের সিএসও স্যার সালেহা ক্লিনিকের মালিক শরিফুলকে ভ্রাম্যমান আদালতে আটক করে আমাদের নিকট পাঠিয়েছেন। তাবে তার বিরুদ্ধে কি হবে আমরা এখনো বলতে পারছিনা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার পদক্ষেপ নিলেই বিষয়টি বলতে পারবো। বর্তমানে শরিফুল আমাদের স্থানীয় হাজতে রয়েছে এবং সালেহা ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেসমিন নাহর পাতাকে ডিউটি অফিসারের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান বলেন, এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিষয়। এটার বিষয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে ব্যবস্থা নিবে সেটাই হবে।

সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহিন বলেন, সালেহা ক্লিনিকে আমি এ্যানেসথেসিয়া ছাড়া সিজার অপারেশনের করানোর অপরাধে সালেহা ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেসমিন নাহার পাতা ও সালেহা ক্লিনিকের মালিক শরিফুল ইসলামকে দেখতে পেয়ে তাৎক্ষনিক ইউএনও, টিএসও ও থানা পুলিশকে অবগত করে তাদের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এখন ইউএনও, টিএসওকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছি। এবং প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। এছাড়াও ক্লিনিকের অবস্থানরত চার জন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে।


SHARE

0 মন্তব্য(গুলি):