আফজাল হোসেন চাঁদ :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৪নং গদখালী ইউনিয়নের বোধখানা গ্রামে অবস্থিত বোধখানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গত ৩০ জুলাই রাতে বেশ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে ও ৩১ জুলাই সকালে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত ‘ঝিকরগাছার বোধখানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে সভাপতি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পরে ক্রমাগতই মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে থলের বিড়াল বের হতে শুরু করেছে।
বোধখানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মনিরামপুর থানার কুমরখালী গ্রামের মৃত জনাব আলীর ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান তার প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান সাইফ এর স্বাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ঝিকরগাছা শাখা থেকে ০০২১৭০৭৫ হিসাব নং থেকে ৪ লক্ষ টাকা লোন গ্রহণ করেছে। বিষয়টি গত ২৪ জুলাই সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান সাইফ জানতে পেরে বিবাদী সুপারের নিকট এটা জানতে চাইলে, তিনি (সুপার মোঃ মিজানুর রহমান) কোন সৎউত্তর না দিয়ে পরবর্তিতে তার লোকজন দিয়ে বাদি (সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান সাইফ) কে হুমকি ধামকি প্রদান করেন। উল্লেখিত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এই সুপার বিগত ১০ বছর ধরে মাদ্রাসার প্রায় ০২ বিঘা জমির লিচ দিয়ে রেখেছে। কিন্তু সেই লিচের সমুদয় টাকার কোন হিসাব প্রতিষ্ঠানের নথি ভুক্ত না করে নিজ পকেটে রেখেছে।
এছাড়াও বিগত ২০১৮ মাদ্রাসার দপ্তরী মোফাজ্জেল হোসেন মনি অসুস্থ্য হয়ে মারা যাওয়ার ফলে দপ্তরী পদ শুন্য থাকায় সম্প্রতি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শুন্য স্থান পূরণ করার জন্য অনেক তড়িঘড়ি করে তাদের সুবিধা মত কর্যক্রম পরিচালনা করে দপ্তরী নিয়োগের বিষয়ে এলাকার মধ্যে প্রচার শুরু করে। চাকরী নামক সোনার হরিণ পাওয়ার আশা সকলেরই তো থাকে এবং দপ্তরীর চাকুরী করার আগ্রহ্য প্রকাশ করে উক্ত পদের জন্য ০৭ জন প্রার্থী তাদের বায়োডাটা জমা প্রদান করেন মাদ্রাসা সুপারের নিকট। অবশেষে নিয়োগের বিষয়ে এলাকার মানুষের নিকট হইতে নানা গুনজনের সৃষ্টি হয়। নানা গুনজনের মধ্যদিয়ে ২০১৮ সালের ৬ মে ঝিকরগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার সরকারী পরিচালক (প্রশাসক) শাহিনুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম জিল্লুর রহমান, তখনকার মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইমদাদুল হক, সুপার মাওলনা মিজানুর রহমান সকল সদস্য এবং নিয়োগ প্রত্যাশি প্রার্থীদের উপস্থিতে শিক্ষা অফিসের ২য় তলায় ৩০ মিনিট সময়ের লিখিত পরিক্ষার আয়োজন করা হয়। লিখিত পরিক্ষার পরে খাতা দেখে আবারও প্রার্থীদের ভাইভা পরিক্ষা নেওয়া হয়। এলাকার মধ্যে মাদ্রাসাতে চাকুরী করার জন্য আনান্দের সাথে পরিক্ষা দিলো প্রার্থীরা কিন্তু ৭জন প্রার্থীর মধ্যে কেউ কি দপ্তরীর কাজ করার যোগ্য ছিলো না? এই প্রশ্ন জাগে এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিলো ৮ম শ্রেণী পাস কিন্তু প্রার্থীদের শিক্ষাগত ছিলো এসএসসি পাশ। প্রার্থীর বয়সসীমা ছিলো সর্বোচ্চ ৩০ বছর কিন্তু এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন জাগে ক্যানো যাচাই বাচাই কমিটির সদস্যরা ০৫/০৫/১৯৭৯ সালের জন্ম গ্রহণ অনুযায়ী ৩৯ বছর বয়সের প্রার্থী আব্দুল আলিম নামের এক প্রার্থী কি করে বাছাকৃত কমিটিতে থেকে নিয়োগ পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন? তাহলে কি এই নিয়োগ নিয়ে অধিক অর্থের লেনদেনের খবর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার সরকারী পরিচালক (প্রশাসক) শাহিনুর রহমান জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ভাবে তিনি মাদ্রাসার দপ্তরি নিয়োগটি বাতিল করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিমত প্রকাশ হলে সংবাদ মধ্যমে সুপারের অনৈতিক কর্মকান্ডের উপর সংবাদ প্রকাশিত হয়। যার বুনিয়াদে তখন মাদ্রাসার সুপারের নেওয়া অর্থ ফেরৎ দিতে হয় এবং দপ্তরী নিয়োগটি বাতিল হয়।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান সাইফ বলেন, আপনারা খোঁজখবর নিয়ে দেখেন তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের কোন অন্ত নেই।
বোধখানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম জিল্লুর রশিদ জানান, মাদ্রাসার সভাপতি আমার কাছে সুপারের সাময়িক বরখাস্তের একটি অনুলিপি দিয়েছে। কিন্তু আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি।

0 মন্তব্য(গুলি):