যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৮নং নির্বাসখোলা ইউনিয়নের নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয় পর্ষদের সভাপতি ও ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর মাসুদুর রহমান বাবলু ও নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই শিরোনামে সংবাদ সংগ্রহে সংবাদকর্মী হেনস্তা করেছেন তারা। নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলামের থলে থেকে বেরিয়ে এলো কালো বিড়াল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলাম বিএড স্কেল ধরানোর সময় নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি শওকত আলী চেয়ারম্যানের সময়ের বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের সই নকল করে বিএড স্কেল ধারণ করেন। এটা বিষয়ে জানার পর তৎকালীন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন যে আমার সই জাল করেছে ওকে (আনারুল ইসলাম) বিদ্যালয় থেকে বের করে দাও মোস্তফা কামাল। সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলাম তখন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের হাতে পায়ে ধরে সেটা সুরাহা করেন। এরপর টাইম স্কেলের কথা বেসরকারি বিধিতে রয়েছে বিএড স্কেল এর ৮ বছর পর টাইম স্কেল ধরাতে হয়। কিন্তু এখানেও সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলাম দুর্নীতি রয়েছে। তিনি ৪ বছর ৭ মাস পর প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল মারা যাওয়ার পর মোঃ আনারুল ইসলাম তখন ভারপ্রাপ্ত হন। এই সুযোগে সে টাইম স্কেল ধরে পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে দরখস্ত করেন। দরখস্তের বুনিয়াদে পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২৫/০৮/২০১২ইং তারিখে ২১/১২ নং মিটিংয়ে ৩৫/১২নং স্মারকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান। ২৬/০৮/২০১২ তারিখে সভাপতি বরাবর যোগদানপত্র দিয়ে পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
তবে একটি পূর্ণাঙ্গ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে দরখস্তের আবেদন করতে কমপক্ষে ১২ বছরের অভিজ্ঞতার দরকার হয়।। তখন তিনি (মোঃ আনারুল ইসলাম) সেখানেও দুর্নীতি করে নবারণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলাম ও একইসাথে এমপিওভুক্ত হন। কিন্তু সেই ২০০৪ সালের এমপিওভুক্ত কাগজপত্রে তিনি ২০০৪ সালের বিপ্ররীতে ২০০০ সাল করে ১২ বছরের অভিজ্ঞতার দেখান এবং নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি মাসুদুর রহমান বাবলুকে দিয়ে অভিজ্ঞতার সনদ, নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পদত্যাগপত্র ও ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে দরখস্ত জমা দেন এবং ৩০/০৮/২০১২ইং তারিখে সেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। অতঃপর পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পর্ষদ সেটা বুঝতে পারে যে তিনি (আনারুল ইসলাম) জাল কাগজপত্র দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছে। তৎক্ষনিক তাকে (আনারুল ইসলাম) উত্তম-মধ্যম দিয়ে পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করেন। তারপর আবারও তিনি (আনারুল ইসলাম) নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যোগদেন। আর এখন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন গত ১১ ফেব্রুয়ারী বদলী সূত্রে তিনি মাগুরা ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া হাই স্কুলে চলে যান। বর্তমানে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বিদ্যালয় পর্ষদের সভাপতি মাসুদুর রহমান বাবলু ২লক্ষ টাকা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু স্থানীয়রা তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দেখতে নারাজ।যার জন্য যশোর-২ আসনের জাতীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছুটা স্বিকার করলেও তিনি পূর্ব থেকে পেতে রাখা ফাঁদে সংবাদকর্মীদেরকে ফেলে তার সহযোগী সহকারি শিক্ষক আব্দুর রহমান ও কামাল হোসেনকে দিয়ে সংবাদকর্মীদের হেনস্তা করেন।
ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয় পর্ষদের সভাপতি মাসুদুর রহমান বাবলু মেম্বরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলতে রাজী হননি। বরং সংবাদকর্মীদের তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম জিল্লুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনাদের অভিযোগের বিষয় আমি সবে মাত্র জানলাম। কিন্তু উক্ত বিষয়ের উপর আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। আমার কাছে অভিযোগ আসলে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিব।


0 মন্তব্য(গুলি):