ঝিকরগাছার নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই

SHARE
আফজাল হোসেন চাঁদ, প্রকাশক ও সম্পাদক, চাঁদনী বিডি. কম ডেস্ক :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার অন্তগত ৮নং নির্বাসখোলা ইউনিয়নের নোয়ালী গ্রামে ১৯৯৫ সালে স্থাপিত হয় নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয় পর্ষদের সভাপতি ও ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর মাসুদুর রহমান @ বাবলু। সে নোয়ালী গ্রামের মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। এলাকার মধ্যে এমন কোন অপকর্ম নেই যে তার ইন্দনে সেটা হয়নি এমন নজির খুবই কম পাওয়া যাবে। ইতিপূর্বে ২০১৬ সালে নন্দেডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নওশের আলীর ছেলে ইউনুস আলী’র সঙ্গে ৯নং ওয়ার্ডের নোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা আহম্মদ আলীর ১৪ বছরের নাবালক মেয়ের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা দেন মোহরের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা হয়। বিবাহের পরে স্বামী ইউনুস আলী ও নাবালক স্ত্রী’র সহিত সম্পর্কে মিল হলেও ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা তাদের মধ্যে নিত্যদিনই গোলযোগ সৃষ্টি করে এবং অবশেষে দু’পক্ষকে মিমাংসার আওতায় এনে কাবিন ও খোরপোষ বাবদ অসহায় গরীব ছেলে পক্ষকে ভিটে বাড়ির জমি বিক্রয় করিয়ে ৪৬ হাজার টাকা নিয়ে মিমাংসা করা হয়। ছেলে পক্ষ উল্লেখিত সমুদয় টাকা পরিশোধ করেন এবং উভায় পক্ষের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। যে টাকার একমাত্র উত্তরাধিকারী ১৪ বছরের নাবালক স্ত্রী। কিন্তু ১৪ বছরের নাবালক স্ত্রী ৪৬ হাজার টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা হাতে পায় এবং অবশিষ্ট ২৬ হাজার টাকা বিচার মিমাংসার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বর মাসুদুর রহমান বাবলু ও তার সঙ্গীরা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। এই ঘটনার বিষয়ে তখন স্থানীয় পত্রিকাতে ‘ঝিকরগাছায় অসহায় পরিবাবের বিচারের মূল্য ২৬ হাজার টাকা ও ফলোআপ: ঝিকরগাছা নির্বাসখোলা ইউনিয়ন পরিষদ অসহায় পরিবাবের ২৬ হাজার টাকা গেল কোথায় ?’ শিরোরামে ২০১৭ সালে জানুয়ারী মাসে পরপর দু’দিন বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হলেও তখন তিনি ক্ষমতা দেখিয়ে রেহায় পেয়েছেন। নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১২ বছর যাবৎ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু তার দ্বারা বিদ্যালয়ের কোন প্রকার উন্নয়নের আলোর মুখ দেখতে পারিনি। ক্রমাগতই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত হওয়ার চেয়ে অবনতির এবং বিদ্যালয়ের কোন প্রকার সাইনবোর্ডও দেখতে পাওয়া যায় না বলে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ অন্ত নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিরা জানান, বিদ্যালয় পর্ষদের সভাপতি মাসুদুর রহমান @ বাবলু। ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর, বিএনপির সাবেক ক্যাডার ও বর্তমান আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় এলাকায় ব্যাপক দূর্নীতিবাজ। তিনি বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নবারুণ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রায় এক যুগ সভাপতি হয়ে তার সময়ে প্রধান শিক্ষক এসএম সেলিম রেজা ও মোঃ জাকির হোসেন, সহকারী শিক্ষক প্রকাশ সরকার (শরীরচর্চা) ও হায়দার আলী (কম্পিউটার), সহকারী গ্রন্থাগার মোছাঃ মুসলিমা খাতুন, নৈশপ্রহরী মোঃ আব্দুস সালামকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কথা বলে ব্যাপক অর্থ বার্ণিজ্য এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কথা বলে ২০টি গাছ বিক্রয় করে হজম করে ফেলেছে। কিন্তু তিনি বিদ্যালয়ের এমন উন্নয়ন করছেন যে সাইনবোর্ডও কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। এছাড়াও এলাকায় অনেক অনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রণের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতান। এতেও তিনি ক্ষান্ত হননি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন গত ১১ ফেব্রুয়ারী বদলী সূত্রে তিনি মাগুরা ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া হাই স্কুলে চলে যান। বর্তমানে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বিদ্যালয় পর্ষদের সভাপতি মাসুদুর রহমান @ বাবলু ২লক্ষ টাকা নিচ্ছে বলে শোনা গেছে। 
ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয় পর্ষদের সভাপতি মাসুদুর রহমান @ বাবলু মেম্বরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলতে রাজী হননি। বরং সংবাদকর্মীদের তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। (চলবে)

SHARE

0 মন্তব্য(গুলি):