আফজাল হোসেন চাঁদ, প্রকাশক ও সম্পাদক, চাঁদনী বিডি. কম ডেস্ক : যশোরের ঝিকরগাছায় ২২৭৭ মিটরের বারবাকপুর টু শিমুলিয়া সড়ক নির্মাণে বোধখানা গ্রামে ফসলী জমি নষ্ট হওয়ার বিষয় বলতে গিয়ে আহত হয়েছে একজন। আহত সাইফুর রহমান সাইফ (৩৬) বোধখানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ও বোধখানা মাঝেরপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে। ঘটনার বিষয়ে তিনি নিজেই বাদি হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা থানাধীন বোধখানা মেইন রাস্তায় বাওড়কান্দা নামক স্থানে ঠিকাদার কর্তৃক মাটি কাটার মেশিন দ্বারা এলাকার গরীব কৃষকদের ফসলী জমিতে অনুমান ৬ ফুট গভির করিয়া কাটি কাটিয়া ফসল নষ্ট করিতেছে বিধায় কৃষকদের অনুরোধে সাইফুর রহমান সাইফ গত ১ ফেব্রুয়ারী সকাল বেলা উক্ত স্থানে যাইয়া ফসল নষ্ট না করিয়া মাটি কাটার জন্য ঠিকাদারকে পরামর্শ প্রদান করে।
এমতাবস্থায় বেলা ১১ ঘটিকার সময় বোধখানা গ্রমের মৃত ছবেদ আলীর ছেলে খায়ের মেম্বর (৬৫), খায়ের মেম্বারের ছেলে মিলন (৪৫), মৃত এজাহার আলীর ছেলে মোখলেছুর রহমান মেম্বর (৫৫), সরোয়ার হোসেনের ছেলে অনিক (২৭), আহাদ আলীর ছেলে তুহিন (৩২), মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে শামীম (২৭) ও আবু বক্করের ছেলে মামুন (২৭) তাকে (সাইফুর রহমান সাইফ) ঘটনাস্থলে এসে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হাতে ছুরি, চাকু, হকস্টিক, গাছিদা ও লাঠিসোটা নিয়া বেআইনী জনতাবদ্ধে আকস্মিক ভাবে উক্ত স্থানে আসিয়া খায়ের মেম্বরের হুকুমে অন্যান্য আসামী তাকে এলোপাথাড়ী মারপিট করে। মিলনের হাতে থাকা চাকু দিয়া তাকে (সাইফুর রহমান সাইফ) হত্যার উদ্দেশ্যে তার পেটে আঘাত করিতে গেলে সে ডান হাত দ্বারা ঠেকাইলে আঘাতটি তার বাম হাতের কবজিতে লাগিলে রক্তাক্ত জখম হয়।
একই উদ্দেশ্যে অনিকের হাতে থাকা গাছিদা দিয়ে তার মাথায় কোপ মারিতে গেলে সে বাম হাত দ্বারা ঠেকালে আঘাতটি তার বাম চোখে লাগিয়া রক্তাক্ত জখম হয়। তখন সে মাটিতে পড়িয়া গেলে সকল আসামীরা তাকে বেধড়ক মারপিট করিয়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নীলা ফোলা জখম করে। বাদির পরিহিত প্যান্টের ডান পকেটে থাকা স্যামসাং মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় তুহিন এবং প্যান্টের বাম পকেটে থাকা গরু বিক্রয়ের টাকা জোর পূর্বক কাড়িয়া নেয় শামীম। এসময় স্থানীয় স্বাক্ষীরা আগিয়ে আসলে আসামীরা তাকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়া চলিয়া যায়।
ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার মোবাশেরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
ইঞ্জিনিয়ার আরিফের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি বলেন তাদের মধ্যে ইন্টারনাল ক্লু আছে। রাস্তা মাস্তা এটা শুধু উদাহরণ। তোদের দু’জনের মধ্যেই সমস্যা।
উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার আমিরুল ইসলাম জানান, ১ ফেব্রুয়ারী দুপুর ১টা ৪০মিনিটের সময় সাইফুর রহমান সাইফ আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসে। সে সময় তার বাম চোখে রক্তাক্ত জখম ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক জানান, রাস্তার বিষয় নিয়ে গোলেযোগ সৃষ্টি হয়। যার কারণে থানাতে একটি লিখেত অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের উপর তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য(গুলি):