"জলাঞ্জলি"
মোঃ নজরুল ইসলাম
মা গো,
তোমাকে আর বলতে হবে না,
রাত দুপুর হয়েছে এবার ঘুমা
আমিও আর বলব না
পড়া শেষ হয় নি মা!
তোমাকে আর বলব না,
মা
ডেকে দিও ফযরের আজান হলে,
আমি ঘুমিয়ে গেলে
বলব না হাত খরচা নেই
গরিবের ছেলেকে পাড়াতে নেই
বাবাকে আর জন দিতে হবে না
আমার জন্য "মা"
ওরা তোমার ছেলেকে
চির ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে।
তখন কত বার ডেকেছি তোমাকে
কিন্তু আমার আর্তনাদ কে শুনেছে?
হ্যাঁ আমি ঘুমিয়ে গেছি মা
আর কখনই জাগবো না
স্বপ্ন আর দেখব না
ক্যাম্পাচের প্রাচীর ভেদ করে
দেশের জন্য আঙুল তুলব না
দেয় দিক ওরা দেশটা বিক্রি করে
এ যে ওদের বাপ দাদার সম্পত্তি
আমি আগে বুঝতে পারিনি
পারলে ছড়াতাম না বিভ্রান্তী
হতে হতো না ওদের তোমার ছেলের খুনী
মাগো মা
ক্ষমা করে দিও এই অপদস্তকে
যে তোমাকে হাসাতে পারে না
কেন স্বপ্ন দেখতে নিয়ে তাকে ?
সে তো ভাবে নি
তোমাদের কথা
নিজ প্রাণের মায়াও করেনি
ছিল নাকি স্বাধীন চেতা
মা
কেমন আছে তারিফ আমেনা?
ওদের কে পড়াতে যেও না
কোল খালি করো না
দরকার নেই হবার
ডাক্তার ইন্জিনিয়ার
অবশেষে আমার মত
ফিরতে হবে বাড়ি
দেহটা করে ক্ষত-বিক্ষত
বস্তা পাটি জড়ি
তার থেকে
আমেনা কে বিয়ে দিও
নামাজী ছেলে দেখে
তারিফ কে বাবার সাথে পাঠিও
জন দিতে
মানা করো ওদের
স্বপ্ন দেখতে
আমি বড় অভিশপ্ত কাছে বোনের
আমাকে প্রায় বলতো
ও না কী
গাঁয়ের লোকের মুখে শুনতো
কবি ডাক্তার ইন্জিনিয়ারের বোন ও
গর্বে কেঁদে ফেলতো
তেমনি স্বপ্ন দেখতাম আমিও
কিন্তু কে জানিত?
অসময়ে ঝরে যাবো
পারিনি কিনতে
ওর বিয়ের বেনারশী টা
পারিনি খুঁজতে
ওর মনের মতন ছেলে টা
একটা ঘড়ি চেয়েছিল
ছোট ভাই আমার
যদিও কিনতে কষ্ট হলো
রেখেছি টেবিলের উপর
পরিক্ষা দিতে যাবে
পরে বলে
সময় দেখে লিখতে হবে
গোল্ডেন পেতে হলে
পারলাম না দিতে
ওর হাতে পরিয়ে
ওকে বলে দিও নিয়ে যেতে
সব কিছু গুঁছিয়ে
"মা"
কেমন আছে নীলাম্বরী?
ওর একটা গল্প শোন না
কাল রুমে এসেছিল আমারি
দেখে পড়ছি
আল- কুরআন
গরমে ঘামছি
নষ্ট বলে ফ্যান
দিচ্ছিল বাতাস
হাত পাখা নিয়ে
ফেলেছিল দীর্ঘনিঃশ্বাস
শুনছিল মনোযোগ দিয়ে
হঠাৎ আমার চাওয়াতে
চলে গেলো
ফোন দিল রাতে
দেখা করতে বলে
পরের দিন বিকালে
দিল বর্ণনা
জানিতে চাহিলে
আমার জায়নামাজ খানা
পাঞ্জাবী পাইজামা
জুতা টুপি
ওর পছন্দ হয় নি
সব নাকি
পুরানো ছেঁড়া
আবার ময়লা মাটি
দিল দাঁত ঝাড়া
ওর ডাক্তারির প্রথম বেতনে
পছন্দের নীল রঙের
ওসব নাকি এনেছে কিনে
দিবে চেয়ে আছে সুযোগের
মা
ওখুব সাঁজতে পছন্দ করতো
হাতে মেহেদী দিয়ে রাঙাতো
সাঁজুগুজু ছবি পাঠাতো
যদিও থাকতো কর্মব্যস্ত
আমাদের বিয়েতে
ওর মন চেয়েছিল
অনেক অনেক সাঁজতে
যা আমাকে বলেছিল
ওর এক মাত্র ননদের
বিয়ে দেবে ও
পাত্র হবে ওর মনের
সাঁজবে সেদিন ও
আমেনা কে সাঁজাবে
ওর নিজ হাতে
বরের গাড়িতে উঠাবে
কেঁদে দিবে বিদায় জানাতে
হাসি তামাসা
করবে নুনদার সাথে
মুড়ি বাতসা
খাবে গল্পে মেতে।
তারিফ ওর
একমাত্র দেবর
যাকে রাখবে চোখের শাষনে
আদর করবে সময়ে
থেকে মায়ের আশনে
ভাসিবে সুখের সমারোহে
একটা লাল টুকটুকে
বউ এনে দিবে
ছোটন বলে ডেকে
পরাণ জুঁড়াবে সবে
এমন কত শত।
স্বপ্ন বুনতো আমাতে
সবই আজ ক্ষত
আমাকে হারাতে
মা গো
ওকে ফেলে দিও না
ও কে বার বার বলতাম
আমাকে এত ভালোবেসো না
কত ভাবে বোঝাতাম
এত সুখ সয় না
সবার কপালে
এত স্বপ্ন দেখ না
যদি যায় বিফলে
তুমি সইতে পারবে না
না পেলে আমাকে
ও কিছুই শুনতো না
শুধু ভালোবাসতো আমাকে
এর বাহিরে কিছুই চাইতো না
ও খুব ভালো মেয়ে
ওর স্বপ্নও পূরণ হলো না
আজ পাগল হয়ে গেছে
আমায় হারিয়ে
ওকে আগলিয়ে রেখো মা
ওই তোমাদের সান্তনা।।

0 মন্তব্য(গুলি):