ঝিকরগাছার প্রতারক কথিত ডাঃ বিল্লালের কুকীর্তি ঢাকতে বিভিন্ন কৌশল

SHARE

আফজাল হোসন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করা প্রতারক কথিত ডাঃ বিল্লালের কুকীর্তি ঢাকতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছেন। সে পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের মৃত মোরশেদ আলীর ২য় স্ত্রীর বড় ছেলে। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা কথিত ডাঃ বিল্লাল হোসেনের কুকীর্তি সকলের সামনে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার পর, সে নিজেকে বাঁচাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।

সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রতারক কথিত ডাঃ বিল্লাল নির্জলা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে বলে সে দাবি করেছে তার নিজের তৈরী করা কথিত মুক্তিযোদ্ধা পিতা মশিয়র রহমান। তিনি বাংলাদেশের বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা রকেট জলিলের সাথে ১৯৭১ সালে ভারতের উড়িষ্যায় ট্রেনিং নিয়ে দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছে বলে তিনি দাবী করছেন।

কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো ১৯৭১ সালে ভারতের উড়িষ্যায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবির ছিলো না। এ তথ্য নিশ্চিত করে বীর বিক্রম খ্যাত মুক্তিযোদ্ধা রকেট জলিলের ভাইপো ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বলেন, আমার চাচা রকেট জলিলের সাথে আমি নিজে থেকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছি। কুলিয়া গ্রামের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেনি। মোরশেদ নামের কেউ আমাদের সহযোদ্ধা ছিলোনা। বরং কুলিয়া গ্রামে ১৫ জন রাজাকার ছিলো। আমরা লোকমুখে শুনেছি তার মধ্যে একজন মোরশেদের ভাই। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করা বিল্লাল মিথ্যা বলছে। সে কখনও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না। 

প্রতারক কথিত ডাঃ বিল্লাল তার সংবাদ সম্মেলনে আরেকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করেছে। তিনি হলেন ঝিকরগাছা পৌরসভার মোবারকপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইদ্রিস আলী জানান, উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আমি উপস্থিত ছিলাম না। বিল্লালের পিতা মোরশেদকে আমি চিনি না। সে মুক্তিযুদ্ধ করেছে কি না সেটাও আমার জানা নেই। কুলিয়ায় গ্রামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা আছে বলে আমার মনে হয় না।

এদিকে ঝিকরগাছা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আর একজন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বলেন ঝিকরগাছায় মশিয়র রহমান নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই। মশিয়রের ভাতা মোরশেদের পরিবার আত্মসাৎ করছে। বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আাসায় জন্য তিনি এই প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবী করা বিল্লাল হোসেনের নামে ধারাবাহিক ভাবে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদানকারী সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতারক কথিত ডাঃ বিল্লালকে তলব করে তার পক্ষে প্রমাণাদী উপস্থাপন করতে বললেও সে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এজন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে এ যাবৎকাল গ্রহন করা সন্মানীর টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য মৌখিক ভাবে জানিয়ে দিয়েছে। 

এদিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতারক কথিত ডাঃ বিল্লালের পিতা মোরশেদ আলী কে মশিয়র রহমান বানিয়ে জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করার খবর প্রকাশের পর উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পিপুল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে উক্ত জন্ম নিবন্ধন বাতিল করার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। 

অন্যদিকে বিল্লালের বিভিন্ন প্রতারনার বিচার চেয়ে যশোর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ে সাংবাকর্মী আশরাফুজ্জামান বাবু কর্তৃক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপ পরিচালক মোঃ আল আমিন।


SHARE

0 মন্তব্য(গুলি):