অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঝিকরগাছা হাসপাতালে ছুটির আবেদন নেই, কর্মস্থলেও দেখা নেই : রিয়াজুলের খেয়ালখুশিতে চলে ইসিজি কার্যক্রম

ঝিকরগাছা হাসপাতালে ছুটির আবেদন নেই, কর্মস্থলেও দেখা নেই : রিয়াজুলের খেয়ালখুশিতে চলে ইসিজি কার্যক্রম

ঝিকরগাছা হাসপাতালে ছুটির আবেদন নেই, কর্মস্থলেও দেখা নেই : রিয়াজুলের খেয়ালখুশিতে চলে ইসিজি কার্যক্রম

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যা স্থানীয়ভাবে ‘পদ্মপুকুর হাসপাতাল’ নামে পরিচিত, সেটি কেবল ঝিকরগাছা নয়, বরং পার্শ্ববর্তী মণিরামপুর ও শার্শা উপজেলার হাজারো মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। অতীতে এই হাসপাতালের সেবার মান ও সুনাম থাকলেও, বর্তমানে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চিকিৎসা না পেয়েই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীরা।

সম্প্রতি পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সরকারি ছুটির আগমুহূর্তে রবিবার (২৪ মে) দুপুর ১২টার সময় কার্ডিওগ্রাফার (ইসিজি টেকনিশিয়ান) রিয়াজুল ইসলামের বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি রোগীদের ভোগান্তিকে চরমে নিয়ে গেছে। হাসপাতালের রেকর্ডপত্র ঘেঁটে তার কোনো ছুটির দরখাস্ত পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টেকনিশিয়ান রিয়াজুল ইসলাম নিয়মিত কর্মস্থলে আসলেও নিজের রুমে থাকেন না। অফিস চলাকালীন সময়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না, যার ফলে সাধারণ রোগীদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে রোগীদের বাড়তি ভিড় থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে জরুরি এই সেবা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইসিজি করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। ভুক্তভোগী শাকিল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই হাসপাতালে এসেছিলাম ভরসা নিয়ে। কিন্তু ইসিজি করতে এসে দেখি টেকনিশিয়ান নেই। দায়িত্বরত অন্যদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, তার কোনো ছুটির আবেদন নেই। হাসপাতালে এসেও তাকে রুমে না পাওয়াটা যেন নিত্যদিনের ঘটনা।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দায়িত্বে থাকা প্রধান সহকারী (বড় বাবু) শওকত আকবরের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রথমে রিয়াজুল ইসলামের মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি নিজেই রিয়াজুলের নম্বরে কল করলেও রিয়াজুল ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে শওকত আকবর সংবাদকর্মীদের কাছে নম্বরটি প্রদান করেন এবং নিশ্চিত করেন যে, রিয়াজুলের কোনো ছুটির আবেদনের কপি তার নিকট নেই।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কার্ডিওগ্রাফার রিয়াজুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রশিদ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি অফিসে উপস্থিত না থাকার পাশাপাশি বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত। এছাড়া তার রুমে না থাকার অভিযোগটিও আমরা খতিয়ে দেখছি। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দেখভালের দায়িত্ব বড় বাবু শওকতের ওপর দেওয়া রয়েছে। তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সরকারি সেবা অব্যাহত রাখতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

হাসপাতালের এই অবক্ষয় রোধে এবং স্থানীয় তিন উপজেলার অসহায় রোগীদের কথা ভেবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


ঝিকরগাছায় জামায়াতের জরুরি বৈঠক: খুন ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ঝিকরগাছায় জামায়াতের জরুরি বৈঠক: খুন ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ঝিকরগাছায় জামায়াতের জরুরি বৈঠক

খুন ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

চাঁদনী বিডি ডেস্ক:

সারাদেশসহ স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতি, খুন, ছিনতাই ও মাদকের ভয়াবহ ছড়াছড়ির প্রতিবাদে এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক জরুরি কর্মপরিষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের নির্দেশনার আলোকে এই জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম। তিনি তার বক্তব্যে‌দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "সারাদেশে ধর্ষণ ও খুনের মতো জঘন্য অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে পৌরসভার কৃত্তিপুর গ্রামের আবু হুরাইরা মিমি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত নির্মম ও বেদনাদায়ক।" তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

একই সাথে, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঝিকরগাছা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় যেন সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।


উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারিদ্বয় শেখ আব্দুর রকিম ও অধ্যাপক মশিউর রহমান, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও অফিস সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, উপজেলা যুব বিভাগ সভাপতি আবিদু্র রহমান, উপজেলা পেশাজীবী সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি প্রভাষক আলমগীর কবির, হাফেজ মাওলানা রেজাউল ইসলাম, ওলামা বিভাগের সভাপতি মুফতি আবু জাফর, মাওলানা আনারুল ইসলাম প্রমুখ।

বৈঠক শেষে দেশের শান্তি, স্থীতিশীলতা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

 ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুরে আবু হুরাইয়া মিম (২৮) নামে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে তার বাড়ির পাশে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক সংলগ্ন একটি বাঁশবাগান থেকে রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত মিম কীর্তিপুর মোড় এলাকার মশিয়ার রহমান ওরফে মশির ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে মিম বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে মহাসড়কের পাশের একটি বাঁশবাগানে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে বন্ধুদের শত্রুতার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে নিহতের স্ত্রী নিলা খাতুন জানান, ঘটনার সময় তিনি একই গ্রামে বাবার বাড়িতে ছিলেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। রাতে মিমের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও মিম আর ফোন রিসিভ করেননি। নিলা খাতুনের দাবি, বন্ধুদের সাথেই মিমের শত্রুতা ছিল এবং তারাই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকতে পারে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, নিহতের মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর কোপের দাগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে অত্যন্ত বর্বরভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে রেখে গেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল) ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি এবং থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।


ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি

প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

আফজাল হোসেন চাঁদ :

ফুলের রাজ্য নামক যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ও পৌর সদর জুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির দৌরাত্ম্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকে ফসলি জমি, খাল-বিল ও বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এক হাজার থেকে এক হাজার পাঁচশত টাকা হারে ট্রাক, ট্রলি ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতেন। অবৈধ মাটি কাটার দায়ে জরিমানা এবং মেশিন জব্দের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে মাটি খেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ফসলি জমির উর্বর উপরের স্তরের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলা ও রাতের আধারে ট্রাক্টর ও ট্রলিযোগে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাটি ইটভাটা, রাস্তা-পুকুর ভরাট ও বিভিন্ন নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং খনে খনে হালকা বৃষ্টি হলে সড়কের উপর জমে থাকা মাটি পিছলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও মটরসাইকেল সহ বিভিন্ন প্রকার দূর্ঘটনার স্বিকার হতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, অবাধে মাটি কাটার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “আগে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল। এখন অভিযোগ দিয়েও অনেক সময় প্রতিকার পাওয়া যায় না। ফলে যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে তারা আরও উৎসাহ পাচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা দ্রুত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ফুলের রাজ্য নামক ঝিকরগাছা অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।


আলো ছড়ানো তিন মুখ, ধুমঘাটের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আলো ছড়ানো তিন মুখ, ধুমঘাটের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আলো ছড়ানো তিন মুখ, ধুমঘাটের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আফজাল হোসেন চাঁদ :
ব্যতিক্রমী আয়োজন, গুণীজনদের সম্মাননা এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার প্রত্যয়ে যশোরে অনুষ্ঠিত হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ধুমঘাট-এর ৩য় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য শুভ সূচনা শুরু হয়।
শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) প্রেসক্লাব যশোর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গুণীজন সম্মাননা ২০২৬ ও গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
‎“শূন্যর কবির পূর্ণ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাজসেবা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান কবীর, একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন এবং পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা খাতুন @ মেঘনা ইমদাদ ।
‎কম সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অনন্য ভূমিকার জন্য স্বপ্নলোকের পাঠশালা-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত মেঘনা খাতুন @ মেঘনা ইমদাদকে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়। একইসঙ্গে ‘আইডিয়া’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর হামিদুল ইসলাম এবং ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর মো. শাজাহান কবীরকেও সম্মানিত করা হয়।
‎অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় তুলে দেন ঝিনাইদহ সরকারি কে.সি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিএম রেজাউল করিম, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দৌলা এবং যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের লেখা ‘আগামীর সাংবাদিক : কিশোর বয়সেই হাতেখড়ি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে ধুমঘাটের তিন বছরের যাত্রা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র এবং ‘তারুণ্যের বাতিঘর’ শিরোনামে গুণীজনদের জীবন ও কর্মকাণ্ডভিত্তিক আরেকটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
‎দ্বিতীয় পর্বে গ্রন্থের ওপর আলোচনা করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. বিএম রেজাউল করিম, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন, দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মবিন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি ও দৈনিক যশোর এর সম্পাদক ও প্রকাশক জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান এবং গ্রন্থের লেখক মনিরুল ইসলাম।
‎অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শাহেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা পাবলিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাগদীরুল গনী নিবিড় ও দীপান্বিতা সিংহ রায়।
‎উল্লেখ্য গুণীজনদের সম্মাননা, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং তারুণ্যনির্ভর আয়োজনে সব মিলিয়ে ধুমঘাটের এ আয়োজন উপস্থিত অতিথিদের মাঝে ভিন্নমাত্রার আবেগ ও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে।