অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঝিকরগাছা হাসপাতালে ছুটির আবেদন নেই, কর্মস্থলেও দেখা নেই : রিয়াজুলের খেয়ালখুশিতে চলে ইসিজি কার্যক্রম

ঝিকরগাছা হাসপাতালে ছুটির আবেদন নেই, কর্মস্থলেও দেখা নেই : রিয়াজুলের খেয়ালখুশিতে চলে ইসিজি কার্যক্রম

ঝিকরগাছা হাসপাতালে ছুটির আবেদন নেই, কর্মস্থলেও দেখা নেই : রিয়াজুলের খেয়ালখুশিতে চলে ইসিজি কার্যক্রম

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যা স্থানীয়ভাবে ‘পদ্মপুকুর হাসপাতাল’ নামে পরিচিত, সেটি কেবল ঝিকরগাছা নয়, বরং পার্শ্ববর্তী মণিরামপুর ও শার্শা উপজেলার হাজারো মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। অতীতে এই হাসপাতালের সেবার মান ও সুনাম থাকলেও, বর্তমানে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চিকিৎসা না পেয়েই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীরা।

সম্প্রতি পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সরকারি ছুটির আগমুহূর্তে রবিবার (২৪ মে) দুপুর ১২টার সময় কার্ডিওগ্রাফার (ইসিজি টেকনিশিয়ান) রিয়াজুল ইসলামের বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি রোগীদের ভোগান্তিকে চরমে নিয়ে গেছে। হাসপাতালের রেকর্ডপত্র ঘেঁটে তার কোনো ছুটির দরখাস্ত পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টেকনিশিয়ান রিয়াজুল ইসলাম নিয়মিত কর্মস্থলে আসলেও নিজের রুমে থাকেন না। অফিস চলাকালীন সময়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না, যার ফলে সাধারণ রোগীদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে রোগীদের বাড়তি ভিড় থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে জরুরি এই সেবা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইসিজি করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। ভুক্তভোগী শাকিল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই হাসপাতালে এসেছিলাম ভরসা নিয়ে। কিন্তু ইসিজি করতে এসে দেখি টেকনিশিয়ান নেই। দায়িত্বরত অন্যদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, তার কোনো ছুটির আবেদন নেই। হাসপাতালে এসেও তাকে রুমে না পাওয়াটা যেন নিত্যদিনের ঘটনা।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দায়িত্বে থাকা প্রধান সহকারী (বড় বাবু) শওকত আকবরের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রথমে রিয়াজুল ইসলামের মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি নিজেই রিয়াজুলের নম্বরে কল করলেও রিয়াজুল ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে শওকত আকবর সংবাদকর্মীদের কাছে নম্বরটি প্রদান করেন এবং নিশ্চিত করেন যে, রিয়াজুলের কোনো ছুটির আবেদনের কপি তার নিকট নেই।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কার্ডিওগ্রাফার রিয়াজুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রশিদ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি অফিসে উপস্থিত না থাকার পাশাপাশি বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত। এছাড়া তার রুমে না থাকার অভিযোগটিও আমরা খতিয়ে দেখছি। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দেখভালের দায়িত্ব বড় বাবু শওকতের ওপর দেওয়া রয়েছে। তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সরকারি সেবা অব্যাহত রাখতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

হাসপাতালের এই অবক্ষয় রোধে এবং স্থানীয় তিন উপজেলার অসহায় রোগীদের কথা ভেবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


ঝিকরগাছায় জামায়াতের জরুরি বৈঠক: খুন ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ঝিকরগাছায় জামায়াতের জরুরি বৈঠক: খুন ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ঝিকরগাছায় জামায়াতের জরুরি বৈঠক

খুন ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

চাঁদনী বিডি ডেস্ক:

সারাদেশসহ স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতি, খুন, ছিনতাই ও মাদকের ভয়াবহ ছড়াছড়ির প্রতিবাদে এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক জরুরি কর্মপরিষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের নির্দেশনার আলোকে এই জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম। তিনি তার বক্তব্যে‌দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "সারাদেশে ধর্ষণ ও খুনের মতো জঘন্য অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে পৌরসভার কৃত্তিপুর গ্রামের আবু হুরাইরা মিমি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত নির্মম ও বেদনাদায়ক।" তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

একই সাথে, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঝিকরগাছা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় যেন সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।


উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারিদ্বয় শেখ আব্দুর রকিম ও অধ্যাপক মশিউর রহমান, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও অফিস সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, উপজেলা যুব বিভাগ সভাপতি আবিদু্র রহমান, উপজেলা পেশাজীবী সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি প্রভাষক আলমগীর কবির, হাফেজ মাওলানা রেজাউল ইসলাম, ওলামা বিভাগের সভাপতি মুফতি আবু জাফর, মাওলানা আনারুল ইসলাম প্রমুখ।

বৈঠক শেষে দেশের শান্তি, স্থীতিশীলতা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

 ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুরে আবু হুরাইয়া মিম (২৮) নামে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে তার বাড়ির পাশে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক সংলগ্ন একটি বাঁশবাগান থেকে রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত মিম কীর্তিপুর মোড় এলাকার মশিয়ার রহমান ওরফে মশির ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে মিম বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে মহাসড়কের পাশের একটি বাঁশবাগানে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে বন্ধুদের শত্রুতার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে নিহতের স্ত্রী নিলা খাতুন জানান, ঘটনার সময় তিনি একই গ্রামে বাবার বাড়িতে ছিলেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। রাতে মিমের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও মিম আর ফোন রিসিভ করেননি। নিলা খাতুনের দাবি, বন্ধুদের সাথেই মিমের শত্রুতা ছিল এবং তারাই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকতে পারে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, নিহতের মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর কোপের দাগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে অত্যন্ত বর্বরভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে রেখে গেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল) ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি এবং থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।


ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি

প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

আফজাল হোসেন চাঁদ :

ফুলের রাজ্য নামক যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ও পৌর সদর জুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির দৌরাত্ম্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকে ফসলি জমি, খাল-বিল ও বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এক হাজার থেকে এক হাজার পাঁচশত টাকা হারে ট্রাক, ট্রলি ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতেন। অবৈধ মাটি কাটার দায়ে জরিমানা এবং মেশিন জব্দের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে মাটি খেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ফসলি জমির উর্বর উপরের স্তরের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলা ও রাতের আধারে ট্রাক্টর ও ট্রলিযোগে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাটি ইটভাটা, রাস্তা-পুকুর ভরাট ও বিভিন্ন নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং খনে খনে হালকা বৃষ্টি হলে সড়কের উপর জমে থাকা মাটি পিছলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও মটরসাইকেল সহ বিভিন্ন প্রকার দূর্ঘটনার স্বিকার হতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, অবাধে মাটি কাটার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “আগে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল। এখন অভিযোগ দিয়েও অনেক সময় প্রতিকার পাওয়া যায় না। ফলে যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে তারা আরও উৎসাহ পাচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা দ্রুত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ফুলের রাজ্য নামক ঝিকরগাছা অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।


আলো ছড়ানো তিন মুখ, ধুমঘাটের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আলো ছড়ানো তিন মুখ, ধুমঘাটের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আলো ছড়ানো তিন মুখ, ধুমঘাটের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আফজাল হোসেন চাঁদ :
ব্যতিক্রমী আয়োজন, গুণীজনদের সম্মাননা এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার প্রত্যয়ে যশোরে অনুষ্ঠিত হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ধুমঘাট-এর ৩য় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য শুভ সূচনা শুরু হয়।
শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) প্রেসক্লাব যশোর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গুণীজন সম্মাননা ২০২৬ ও গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
‎“শূন্যর কবির পূর্ণ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাজসেবা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান কবীর, একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন এবং পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা খাতুন @ মেঘনা ইমদাদ ।
‎কম সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অনন্য ভূমিকার জন্য স্বপ্নলোকের পাঠশালা-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত মেঘনা খাতুন @ মেঘনা ইমদাদকে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়। একইসঙ্গে ‘আইডিয়া’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর হামিদুল ইসলাম এবং ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর মো. শাজাহান কবীরকেও সম্মানিত করা হয়।
‎অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় তুলে দেন ঝিনাইদহ সরকারি কে.সি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিএম রেজাউল করিম, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দৌলা এবং যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের লেখা ‘আগামীর সাংবাদিক : কিশোর বয়সেই হাতেখড়ি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে ধুমঘাটের তিন বছরের যাত্রা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র এবং ‘তারুণ্যের বাতিঘর’ শিরোনামে গুণীজনদের জীবন ও কর্মকাণ্ডভিত্তিক আরেকটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
‎দ্বিতীয় পর্বে গ্রন্থের ওপর আলোচনা করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. বিএম রেজাউল করিম, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন, দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মবিন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি ও দৈনিক যশোর এর সম্পাদক ও প্রকাশক জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান এবং গ্রন্থের লেখক মনিরুল ইসলাম।
‎অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শাহেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা পাবলিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাগদীরুল গনী নিবিড় ও দীপান্বিতা সিংহ রায়।
‎উল্লেখ্য গুণীজনদের সম্মাননা, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং তারুণ্যনির্ভর আয়োজনে সব মিলিয়ে ধুমঘাটের এ আয়োজন উপস্থিত অতিথিদের মাঝে ভিন্নমাত্রার আবেগ ও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে।

ঝিকরগাছায় অচেতন করে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

ঝিকরগাছায় অচেতন করে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

 ঝিকরগাছায় অচেতন করে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মিস্ত্রিপাড়ায় একই রাতে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্রের সদস্যরা এক পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। অপর একটি ফাঁকা বাড়িতেও চালানো হয়েছে চুরি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত গভীর রাতে কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা নারায়ন মন্ডলের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে চোরেরা বাড়ির পাশের গাছ বেয়ে ছাদে উঠে সিঁড়ি ঘরের টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের ওয়ারড্রবের তালা ভেঙ্গে নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও মালামাল নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী জানান, বিভিন্ন মানুষের পাওনা পরিশোধের জন্য তিনি বাবার বাড়ি থেকে ধার করে ওই টাকা এনেছিলেন। সকালে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখেন ঘরের সব জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি বলেন, “আমরা অনেক ঋণের মধ্যে আছি। মানুষের টাকা পরিশোধ করার জন্য বাবার বাড়ি থেকে ধার করে টাকা এনেছিলাম। সকালে এসে দেখি ওয়ারড্রবের তালা ভাঙ্গা, ঘরের সব কিছু এলোমেলো আর টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নেই।”

অপর দিকে একই রাতে পাশের বাড়ির বাসিন্দা মুরালি সেনের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। সকালে মুরালি সেন ও তার স্ত্রী মায়া সেনকে অচেতন অবস্থায় বাড়ির বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের ঘরের আসবাবপত্র ও আলমারি এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাড়ির পেছনের দরজাও খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, চোরেরা সিঁড়ি ঘর দিয়ে প্রবেশ করে চুরি শেষে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।

মুরালি সেনের পরিবার দাবি করেছে, তাদের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা, একটি সোনার চেইন এবং একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল চুরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর ধারণা, চোরচক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে খাবারের সঙ্গে বা অন্য কোনো কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। একই রাতে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্ জালাল আলম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার (১৫ মে) সকালে আমার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: প্রতিষ্ঠানসহ দু’জনকে জরিমানা

ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: প্রতিষ্ঠানসহ দু’জনকে জরিমানা

 ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: প্রতিষ্ঠানসহ দু’জনকে জরিমানা

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ দুই ব্যক্তিকে মোট ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিকরগাছা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধভাবে দোকান বসানোর দায়ে মনিরামপুর উপজেলার স্বরণপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে পান্নু (৩৭)-কে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া ওয়াপদা রোড সংলগ্ন নাসিমা কমপ্লেক্সে অবস্থিত এস.কে ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে ১ পিস মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত শ্যামল রায়ের ছেলে বিষ্ণু কুমার রায় (৩৪)-এর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সংস্থাপন শাখা, মিডিয়া সেল) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিশাল কুমার জাজোদিয়া।

তিনি জানান, জনস্বার্থ রক্ষা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও স্থানীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।


ঝিকরগাছায় স্কুলছাত্রীকে শ্লী*ল*তা*হা*নির চে*ষ্টা ও নানা অ*পক*র্মের অ*ভিযো*গ : গ্রন্থাগারিক সবুজের বহি*ষ্কা*র দাবি

ঝিকরগাছায় স্কুলছাত্রীকে শ্লী*ল*তা*হা*নির চে*ষ্টা ও নানা অ*পক*র্মের অ*ভিযো*গ : গ্রন্থাগারিক সবুজের বহি*ষ্কা*র দাবি

ঝিকরগাছায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও নানা অপকর্মের অভিযোগ : গ্রন্থাগারিক সবুজের বহিষ্কার দাবি

আফজাল হোসেন চাঁদ : 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার যদুনাথপুর-দেউলী-পাঁচপোতা-কোমরচাঁন্দা (জেডিপিকে) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক) মো. তসলিম আরিফ সবুজের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই শিক্ষক তার নিজ পরিবারের সম্পর্কে ভাতিজি এবং ওই বিদ্যালয়েরই ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। এই ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ওই শিক্ষকের চাকরিচ্যুতিসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তসলিম আরিফ সবুজ দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এর আগে তিনি ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ শার্শা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে ছিলেন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। ইতিপূর্বে তার এসব অপকর্মের বিষয়ে একাধিকবার সালিশ-দরবার হলেও তিনি নিজেকে সংশোধন করেননি। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর গত ২৩ এপ্রিল স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ। স্মারকলিপিতে এলাকাবাসীর পক্ষে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান, মো. আক্তারুজ্জামানসহ আরও অনেকে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. মাজেদা পারভীন স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ২৮ এপ্রিল পাঠানো হয়েছে। আবেদনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম রক্ষার্থে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. তসলিম আরিফ সবুজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদকর্মীর পরিচয় পেয়ে একাধিকবার ফোন কেটে দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, "সবুজ প্রতিনিয়ত সিম পরিবর্তন করে।"

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, "অভিযোগের কপি পেয়েছি। বিধি মোতাবেক তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

 

ঝিকরগাছায় তেলের লাইনে অনিয়মে জিরো টলারেন্স : ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদ’র কড়া অভিযান

ঝিকরগাছায় তেলের লাইনে অনিয়মে জিরো টলারেন্স : ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদ’র কড়া অভিযান

ঝিকরগাছায় তেলের লাইনে অনিয়মে জিরো টলারেন্স :

ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদ’র কড়া অভিযান

আফজাল হোসেন চাঁদ :

তেলকে ঘিরে অযথা ভিড়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং আইন অমান্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন। নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের নেতৃত্বে ফিলিং স্টেশনে পরিচালিত অভিযানে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিকরগাছা পৌর সদরের হাজেরালী বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ জালাল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। অভিযান চলাকালে মোটরসাইকেল চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র, হেলমেট এবং জ্বালানি ট্যাংক কঠোরভাবে তল্লাশি করা হয়। এতে একাধিক চালককে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও পুনরায় তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি অনেকেই বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেট ছাড়াই চলাচল করছিলেন, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।

ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, “দেশে তেলের কোনো সংকট নেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “অপ্রয়োজনীয়ভাবে লাইনে দাঁড়ানো, একাধিকবার তেল নেওয়ার চেষ্টা, কিংবা নিয়ম ভঙ্গ এসবের বিরুদ্ধে এখন থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, “আজকে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপর কেউ একই ধরনের অনিয়মে জড়িত হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা, লাইসেন্স জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

উপজেলা প্রশাসন জানায়, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় তেল উত্তোলন ও বিতরণ কার্যক্রমে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো, মজুতদারি কিংবা বাজার অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানে ইতোমধ্যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে তেল নিয়ে জনমনে থাকা অস্থিরতা দ্রুত কেটে যাবে।

বাঘারপাড়ায় ইউএনও ভুপালী সরকারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

বাঘারপাড়ায় ইউএনও ভুপালী সরকারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

বাঘারপাড়ায় ইউএনও ভুপালী সরকারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা 

চাঁদনী বিডি ডেস্ক :

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ভুপালী সরকার অসাধু উপায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একটি ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন তিনি।

রোববার (৫ এপ্রিল)  বিকেলে উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নে অবস্থিত মোবারক আলী ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালী সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ফিলিং স্টেশনটিতে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে ব্যারেলের মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমানের চেয়ে বেশি পরিমাণ পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করা হচ্ছিল, যা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

অভিযানে দোষ স্বীকার করায় ফিলিং স্টেশনের মালিককে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জ্বালানি খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

এদিকে, প্রশাসনের এমন তৎপরতায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। যাতে করে উক্ত বাঘারপাড়া উপজেলা এলাকায় কেউ আর প্রতারণার শিকার না হন।

ঝিকরগাছায় নিয়’ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে প্রাইভেটকারের ধা’ক্কা: চালক নি*হ’ত, স্ত্রী আহ*ত

ঝিকরগাছায় নিয়’ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে প্রাইভেটকারের ধা’ক্কা: চালক নি*হ’ত, স্ত্রী আহ*ত

 ঝিকরগাছায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে প্রাইভেটকারের ধাক্কা: চালক নিহত, স্ত্রী আহত

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকার সড়কের পাশের মেহগনি গাছে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চালক নিহত এবং গাড়িতে থাকা তার স্ত্রী আহত হয়েছেন। নিহত যুবকের পৌর সদরের কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত এমদাদুলের ছেলে ইফতেখার আহমেদ মিশাল (৩০)।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (০৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মিশাল তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৯-৯২২৯) ও তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি বেনেয়ালী জফরনগর গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে পৌর সদরের হাজিরালী মহিলা কলেজ মোড় সংলগ্ন এলাকায় বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছালে গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসময় সড়কের পাশে থাকা একটি মেহগনি গাছে সজোরে ধাক্কা লাগলে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় ও ঘটনাস্থলেই মিশাল প্রাণ হারান এবং গাড়িতে থাকা তার স্ত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঝিকরগাছা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে মিশালের মরদেহ উদ্ধার করে এবং তার স্ত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার সহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরবর্তীতে নাভারণ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মহাসিন হোসেন রাতেই ঘটনাস্থালে পৌছে নিহতের মরদেহ বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রেখে রবিবার (০৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।


যশোর পল্লী বিদ্যুতের ঝিকরগাছার জোনাল অফিসের ‘অসম প্রেম কাহিনীতে’ ধরা খাচ্ছে গ্রাহক!

যশোর পল্লী বিদ্যুতের ঝিকরগাছার জোনাল অফিসের ‘অসম প্রেম কাহিনীতে’ ধরা খাচ্ছে গ্রাহক!

যশোর পল্লী বিদ্যুতের ঝিকরগাছার জোনাল অফিসের ‘অসম প্রেম কাহিনীতে’ ধরা খাচ্ছে গ্রাহক!

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের মিটার রিডিংয়ে গড়মিলের অভিযোগ উঠেছে। যেটা থেকে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকের সাথে প্রেম তৈরী করে বিল নেওয়া পূর্বেই জটিলতা সৃষ্টি করেই ‘অসম প্রেম কাহিনীতে’ ধরা খাচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে মিটার না দেখেই অফিসে কিংবা বাড়িতে বসে বিদ্যুৎ বিল তৈরি করছেন মিটার রিডাররা। এতে কখনো প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে বেশি ইউনিট দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে, আবার কখনো কম ইউনিট লিখে পরে একসাথে যোগ করে স্লাব বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

তথ্য অনুসন্ধান জানা যায়, উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের সন্তোষনগর গ্রামের মৃত আ. সামদের দুই ছেলের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুৎ এর ২টা মিটার রয়েছে। রাহাজ্জান আলী (হিসাব নং ১০১০০২৫৫৭২২২৫) ২১ জানুয়ারী থেকে ২১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ১ মাসে তার মিটারে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলে হয়েছে ২৩৭৫৫-২৪০০০=২৪৫ইউনিট কিন্তু তার মিটারে রিডিং আছে ২৩৯০৩ ইউনিট।

তাহলে মিটার রিডার বিপ্লব ১৪ দিন পূর্বে লিখা বিলে এখনো পর্যন্ত ৯৭ইউনিট ও সাজ্জাদুল আলম (হিসাব নং ১০১০০২৫৫৭২২৪১) একই মাসে তারও মিটারে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলে হয়েছে ৩,৪৫০-৩৫৬০= ১১০ইউনিট কিন্তু তার মিটারে রিডিং আছে ৩৪৮৬.৬ ইউনিট।

তাহলে মিটার রিডার বিপ্লব ১৪ দিন পূর্বে লিখা বিলে এখনো পর্যন্ত ৭৩.৪ বেশি থাকে। যে এমন ভৌতিক বিল কি ভাবে লিখলো ? এটা নিয়ে জনমতে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

গ্রাহক সাজ্জাদুল আলম বলেন, “মিটার না দেখেই কিভাবে এই ইউনিট লেখা হলো? আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার কখনো কম ইউনিট লিখে পরে একবারে যোগ করে দেওয়া হয়। এতে করে ৭৫ ইউনিট পার হলে প্রতি স্লাবে প্রায় ২-৩ টাকা হারে বেশি দিতে হয়। আমরা এর প্রতিকার চাই।”

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন।

তবে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে মিটার রিডিংয়ের এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করুক এবং সঠিকভাবে মিটার দেখে বিল প্রস্তুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুক। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের তদন্ত শেষে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

অভিযুক্ত মিটার রিডার বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি মিটার ঘোলা থাকায় ঠিকমত দেখতে পারিনী আর একটাই ভূল বশত লেখা হয়েছে। পরর্বীতে আমি ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করবো। 

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. গোলাম কাদির বলেন, “বিষয়টি আমাদের আগে জানা ছিল না। আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে কোনো মিটার রিডার মিটার না দেখে রিডিং লিখেছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

ঝিকরগাছায় গভীর নলকূপে গোসলকে কেন্দ্র করে শিশুকে আহত : থানায় অভিযোগ

ঝিকরগাছায় গভীর নলকূপে গোসলকে কেন্দ্র করে শিশুকে আহত : থানায় অভিযোগ

ঝিকরগাছায় গভীর নলকূপে গোসলকে কেন্দ্র করে শিশুকে আহত : থানায় অভিযোগ

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামে গভীর নলকূপে গোসল করার সময় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কুন্দিপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে ও আহত শিশুর পিতা মো. মনিরুজ্জামান (৪৫) বাদী হয়ে একই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের ছেলে মো. জাফর (৪২) কে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের কুন্দিপুর মাঠে বিবাদীর একটি গভীর নলকূপ আছে। বাদির ছেলে মোঃ তাজ উদ্দিন (১০), বিবাদীর উক্ত গভীর নলকূপে গোসল করার জন্য গেলে বিবাদী বিভিন্ন সময় বাদির ছেলেকে বিভিন্ন গালিগালাজ সহ মারপিট করিয়া আসিতেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার (০৪ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিবাদী বাদির ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে। বাদির ছেলে বিবাদী কে গালিগালাজ করিতে নিষেধ করিলে বিবাদী বাদির ছেলের উপর ক্ষীপ্ত হয়ে বাদির ছেলেকে এলোপাতাড়ী চড়, ও বেত দিয়ে মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে। বাদির ছেলের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসিলে বিবাদী বাদির ছেলেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি সহ খুন জখমের হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরবর্তিতে বাদির ছেলে উক্ত ঘটনা বাদিকে জানাইলে বাদি বাদির ছেলেকে মটরসাইকেল যোগে দ্রুত চিকিৎসার জন্য শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিবাদী মো. জাফরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

থানার তদন্ত অফিসার মো. আবু সাঈদ জানান, এ ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সংবাদের জেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ায় ২ লাখ টাকা জরিমানা : ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ

সংবাদের জেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ায় ২ লাখ টাকা জরিমানা : ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ

 চাঁদনী বিডিতে প্রকাশিত সংবাদের জেরে বাঁকড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত

 মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ায় ২ লাখ টাকা জরিমানা : ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ

আফজাল হোসেন চাঁদ :

চাঁদনী বিডিতে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বাজারের পাঁচরাস্তার মোড়ে অবস্থিত ‘বাঁকড়া মেডিকেল সার্ভিসেস’-এ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ না করা পর্যন্ত ক্লিনিকটির সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দেবাংশু বিশ্বাস। অভিযানের শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুর রশিদ বলেন, “পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বাঁকড়া মেডিকেল সার্ভিসেসে সরেজমিন পরিদর্শন করি। পরিদর্শনকালে অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সংরক্ষণবিধি যথাযথভাবে মানা হয়নি। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা চাই বেসরকারি ক্লিনিকগুলো সরকারি নীতিমালা মেনে সেবা প্রদান করুক। রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।” 

পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওটির ভেতরে সংরক্ষিত একাধিক মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও দাপ্তরিক কাগজপত্রে অসংগতি এবং বিধিবহির্ভূত ব্যবস্থাপনার প্রমাণ পায়। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাগজপত্র সঠিকভাবে হালনাগাদ না করা পর্যন্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং এ মর্মে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দেবাংশু বিশ্বাস বলেন, “আজকের ভ্রাম্যমাণ আদালতে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্যসেবা একটি স্পর্শকাতর খাত—এখানে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ না করা পর্যন্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরো বলেন এই প্রতিষ্ঠানে যে রোগীর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে সেটা ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দ্বারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালত অথবা থানার সহযোগীতা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।  

অভিযানকালে বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত ক্যাম্পের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুতর অভিযোগ আমলে নিয়ে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


ঝিকরগাছায় ক্লিনিকে সিজারি*য়ানের পর প্রসূ*তির মৃ*ত্যু, তদ*ন্তের আ*শ্বাস স্বা*স্থ্য বিভাগের

ঝিকরগাছায় ক্লিনিকে সিজারি*য়ানের পর প্রসূ*তির মৃ*ত্যু, তদ*ন্তের আ*শ্বাস স্বা*স্থ্য বিভাগের

 ঝিকরগাছায় ক্লিনিকে সিজারিয়ানের পর প্রসূতির মৃত্যু, তদন্তের আশ্বাস স্বাস্থ্য বিভাগের

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বাজারের পাঁচরাস্তার মোড়ে ব্রিজ রোড সংলগ্ন বাঁকড়া মেডিকের সার্ভিসেসে সিজারিয়ান অপারেশনের পর সাবিকুন নাহার (৩১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নিহত সাবিকুন নাহার উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের মাঠশিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী এবং মাঠশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ছিলেন।

নিহতের স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাবি, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাঁকড়া মেডিকের সার্ভিসেসের চিকিৎসক ডা. পল্লবী সাহাকে দিয়ে তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ১৫ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন এবং নগদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাবিকুন নাহার নিজ বাড়ি থেকে হেঁটে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসেন। পরে ক্লিনিক থেকে ফোন করে জানানো হয়, ডাক্তার এসে গেছে রোগীকে দ্রুত নিয়ে আসতে হবে। পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিকে উপস্থিত হয়ে ক্লিনিক মালিককে না পেয়ে প্রসূতিকে ক্লিনিকে রেখে দেন। 

এ সময় তার স্বামী নিচে চায়ের দোকানে গেলে, স্বজনদের অভিযোগ, ওই ফাঁকে প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরে শিশুকে দেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ফোন করে ডেকে এনে নবজাতক তার কোলে দেওয়া হয় এবং জানানো হয় রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে, রক্ত প্রয়োজন।

তিনি জানান, এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরও স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনায় রেফার করা হয়। পরিবারের ধারণা, বাঁকড়া মেডিকের সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী, ক্লিনিকের ডেন্টিস্ট মোছা. নিলুফা ইয়াসমিন সিজারিয়ান অপারেশন করান এবং পরে দোষ এড়াতে রোগীকে খুলনায় পাঠানো হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাঁকড়া মেডিকের সার্ভিসেসের পূর্বের নাম ছিল ‘বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ‘ঝিকরগাছায় ক্লিনিকের মালিক ও দাদার ষড়যন্ত্রে প্রাণ হারালো প্রতিবন্ধী নবজাতক’ শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় অভিযোগ ছিল, রোগীর কাগজপত্র ছাড়াই দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে ডেলিভারির চেষ্টা করা হয় এবং সে সময় কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘বাঁকড়া মেডিকের সার্ভিসেস’ রাখা হয়।

নিহতের চাচী শাশুড়ি নাসরিন বেগম বলেন, “ওটিতে খুব নোংরা পরিবেশ ছিল, যেকোনো মানুষ আসা-যাওয়া করছিল। রোগীকে ওয়াশ করা হচ্ছিল এবং প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছিল। একজনকে ডাক্তার মনে করে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তিনি ডাক্তার নন। ডাক্তার কোথায় জানতে চাইলে বলেন, ডাক্তার চলে গেছেন। পরে বলেন রোগীর কিটিক্যাল অবস্থা, খুলনা মেডিকেলে নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, খুলনা মেডিকেলে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান রোগীর অবস্থা ভালো নয়, যেকোনো সময় মৃত্যু হতে পারে। পরিবারের দাবি, রোগীর জরায়ুসহ ‘ফুল’ কেটে ফেলা হয়েছে এবং প্রায় ১৯-২০ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে।

নিহতের ননদ ফারজানা আক্তার রিমি বলেন, “আমি গিয়ে দেখি ওখানে তারা পায়তারা করছে, রোগী কাঁপছিল। একজনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন তিনি ডাক্তার নন। ডাক্তার কোথায় জানতে চাইলে বলেন, ডাক্তার চলে গেছেন।”

আরেক ননদ শাহানারা বলেন, “ওখানে ডাক্তারও ছিল না, নার্সও ছিল না। নিজেদের গাফিলতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিচার চাই।”

এ বিষয়ে বাঁকড়া মেডিকের সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরুল ইসলাম বলেন, “আমি কিছু বলতে চাই না। ওই সময় অপারেশন করেছেন সার্জন ডা. মেহেদী হাসান, তার সঙ্গে কথা বলুন।”

সার্জন ডা. মেহেদী হাসান বলেন, “আমি অপারেশন করেছি। এ সময় অন্য ডাক্তাররাও ছিলেন, কিন্তু অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার ছিল না। অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার ছাড়া আমার অপারেশন করা ঠিক হয়নি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুর রশিদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। যেহেতু বিষয়টি জানানো হয়েছে, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


ঝিকরগাছায় নিজের বেলায় ধুমধাম : প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের ‘রাজকীয়’ বিদায় ঘিরে বিতর্ক

ঝিকরগাছায় নিজের বেলায় ধুমধাম : প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের ‘রাজকীয়’ বিদায় ঘিরে বিতর্ক

ঝিকরগাছায় নিজের বেলায় ধুমধাম : প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের ‘রাজকীয়’ বিদায় ঘিরে বিতর্ক
আফজাল হোসেন চাঁদ :
যশোরের ঝিকরগাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদের নিজের বেলায় ধুমধাম ভাবে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করে ঘরে ফিরবেন। কিন্তু তার বাড়ি ফেরার পূর্বেই অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম আতিয়ার রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। আবেদনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩১ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন। তাঁর বিদায় উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের তোড়জোড় চললেও এর আগে অবসর নেওয়া প্রবীণ শিক্ষকদের কোনো সম্মানজনক বিদায় দেওয়া হয়নি। এম আতিয়ার রহমান অভিযোগ করেন, তাঁদের অত্যন্ত অমর্যাদাকরভাবে বিদায় নিতে হয়েছে, যা শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানজনক। এই বৈষম্য দূর করতে রাজকীয় অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্কুলের সাধারণ ফান্ডে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। অথচ প্রধান শিক্ষকের বিদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ও খন্ডকালীন শিক্ষকদের মাথা প্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া স্কুলের ফান্ড থেকে প্রধান শিক্ষককে ৫ লক্ষ টাকা প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও তার বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫লক্ষ টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, এসএসসিদের ও হেড স্যারের বিদায় দেওয়া বিষয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু আমি পরে জানতে পেরে বন্ধ করে দিয়েছি। স্কুলের ছেলেপিলে তাদের মত করে বিদায় দেবে এখানে টাকা পয়সার কোন বিষয় নেই।
আর শিক্ষকরা কি করবে সেটা তাদের বিষয়। তারা যদি মনে করে আমি হেড স্যারকে ৫হাজার টাকা দিবো সেটা তাদের বিষয়। আমি এই বিষয়ে জানিনে কিছু।শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের কোন কমিটি নেই। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত টাকা তুলতে পারছি না। যার কারণে স্যারদের বেতন দিতে পারছি না। সামনে নতুন কমিটি হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই।
যেভাবে বিদায় দিবে সেই ভাবেই আমি বিদায় নিয়ে চলে আসবো। আমি সারাজীবন বহু ত্যাগ স্বীকার করেছি। আর অভিযোগ দিয়েছে দিক। ঐ অভিযোগ আমি শুনলাম। ও আমার নতুন বিষয় না। আর হচ্ছে তাদেরকে দাওয়াত দিছি। তারা আসেনি। তাছাড়া সবাইকে বিদায় দিয়েছি। কিন্তু হয়তো এতো জাকজমকপূর্ণ ভাবে দিতে পারিনি। তখন অবস্থা ভালো ছিলো না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুল কমিটির সভাপতি মোছা. রনী খাতুন জানান, তিনি লিখিত আবেদন পেয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধের সুযোগ কম। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান বন্ধে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ঝিকরগাছার প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবীতে ইউএনও’র নিকট আবেদন ও বিভিন্ন তথ্য উম্মেচন

ঝিকরগাছার প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবীতে ইউএনও’র নিকট আবেদন ও বিভিন্ন তথ্য উম্মেচন

ঝিকরগাছার প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবীতে ইউএনও’র নিকট আবেদন ও বিভিন্ন তথ্য উম্মেচন
আফজাল হোসেন চাঁদ :
যশোরের ঝিকরগাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের আলোচিত সেই প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদের বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবীতে রবিবার (২৫ জানুয়ারী) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর নিকট লিখিত আবেদন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম আতিয়ার রহমান। তিনি অভয়নগর থানার সমসপুর, পায়রা গ্রামের মুন্সী আব্দুর রহিমের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম আতিয়ার রহমান অত্যন্ত পরিতাপের সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে সদয় অবগতির জন্য আবেদনে দাবী জানিয়ে উল্লেখ করেছেন, ঝিকরগাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাচ্ছেন। তাঁর বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও আমার মতো আরও অনেক প্রবীণ সহকারী শিক্ষককে অত্যন্ত অমর্যাদাকর ভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।
যেটা শিক্ষক সমাজের জন্য আপমান জনক অধ্যায়। ইতিপূর্বে আমি (এম আতিয়ার রহমান), প্রবীণ শিক্ষক মশিয়ার রহমান, অমূল্য রতন বিশ্বাস, ইসরাফিল হোসেন এবং ফজলুর রহমানসহ অনেক শিক্ষক অবসরে গেলেও আমাদের জন্য কোনো সম্মানজনক আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়নি। অথচ প্রধান শিক্ষক নিজের জন্য রাজকীয় বিদায়ের তোড়জোড় করছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত মানহানিকর, দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। যার কারণে বৈষম্য দূর করতে প্রধান শিক্ষকের নিজের একক বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন বন্ধ ও একইসাথে সহকারী শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বিভিন্ন তথ্য উম্মেচন করে জানান, স্কুলের জেনারেল ফান্ডে গচ্ছিত রয়েছে প্রায় ১৫লক্ষ টাকা থাকার পরেও স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৫মাসের বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে। স্কুলে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনি পর্যন্ত প্রায় ১হাজার ৫শত শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৩শত টাকা এবং ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৪শত টকা হারে নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও স্কুলের এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৮হাজার ও খন্ডকালীন শিক্ষকদের মাথা প্রতি ৫হাজার টাকা বাধ্যতামুলক দিতে হচ্ছে। শিক্ষক ফোরামে প্রধান শিক্ষকের নির্ভযোগ্য শিক্ষকদের দ্বারা আলোচনার মাধ্যমে স্কুলের জেনারেল ফান্ডে গচ্ছিত টাকা থেকে প্রধান শিক্ষককে ৫লক্ষ টাকা দিতে হবে। যেটার বিষয়ে নিরিহ শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষকের ভয়ের মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। এছাড়াও তার বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫লক্ষ টাকা ধার্য্য করা হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বিদায় সংবধনার বিষয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসএসসিদের ও হেড স্যারের বিদায় দেওয়া বিষয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু আমি পরে জানতে পেরে বন্ধ করে দিয়েছি। স্কুলের ছেলেপিলে তাদের মত করে বিদায় দেবে এখানে টাকা পয়সার কোন বিষয় নেই। আর শিক্ষকরা কি করবে সেটা তাদের বিষয়। তারা যদি মনে করে আমি হেড স্যারকে ৫হাজার টাকা দিবো সেটা তাদের বিষয়। আমি এই বিষয়ে জানিনে কিছু।
শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের কোন কমিটি নেই। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত টাকা তুলতে পারছি না। যার কারণে স্যারদের বেতন দিতে পারছি না। সামনে নতুন কমিটি হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। যেভাবে বিদায় দিবে সেই ভাবেই আমি বিদায় নিয়ে চলে আসবো। আমি সারাজীবন বহু ত্যাগ স্বীকার করেছি। আর অভিযোগ দিয়েছে দিক। ঐ অভিযোগ আমি শুনলাম। ও আমার নতুন বিষয় না। আর হচ্ছে তাদেরকে দাওয়াত দিছি। তারা আসেনি। তাছাড়া সবাইকে বিদায় দিয়েছি। কিন্তু হয়তো এতো জাকজমকপূর্ণ ভাবে দিতে পারিনি। তখন অবস্থা ভালো ছিলো না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুলের সভাপতি মোছা. রনী খাতুন বলেন, আবেদন পেয়েছি। এটা তো বন্ধের আবেদন করা হয়েছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটা বন্ধ হবে না। পরিশেষে আপনি লিখতে পারেন উপজেলা প্রশাসনের নিকট আবেদন পৌছেছে কিন্তু আবেদনের বিষয়ে বন্ধের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। 
ঝিকরগাছায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাদক সহ দু’জন আটক : একজনের ভ্রাম্যমান আদালতে জেল ও জরিমানা

ঝিকরগাছায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাদক সহ দু’জন আটক : একজনের ভ্রাম্যমান আদালতে জেল ও জরিমানা

 ঝিকরগাছায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাদক সহ দু’জন আটক : একজনের ভ্রাম্যমান আদালতে জেল ও জরিমানা

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পৌর সদরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাদক সহ দু্ইজন আটক। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজনের ভ্রাম্যমান আদালতে জেল ও জরিমানা ও অপর জনকে নিয়মিত মামলা রুজি হয়েছে। আটককৃতরা হল- পৌর সদরের মোবারকপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আরমান (২৯) ও পুরন্দরপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব (১৮)।

সূত্রে জানা যায়, পৌর সদরের বাজারের আটাপট্টিতে বহুদিনের পুরাতন ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের আরমান স্টোর নামে মুদি ও শিশু খাদ্যের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। আরমান স্টোরের প্রোপাইটর শহিদুল ইসলাম দীঘদিন যাবৎ অসুস্থতার জন্য বর্তমানে তার ব্যবসা পরিচালনা করেন তারই বড় ছেলে আরমান। এমতাবস্থায় আরমান মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই ঘটনা থানা পুলিশের নিকট গেলে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল আলমের নির্দেশনায় থানার এসআই (নিঃ) আজিজুর রহমান আজিজ ও এসআই (নিঃ) মারুফ হোসেন সহ সঙ্গীয় ফোর্স বুধবার (২১ জানুয়ারী) দুপুর ২টার দিকে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় থানা পুলিশ আরমান স্টোরের গোডাউন থেকে ১০ (দশ) পিস ইয়াবা, ৫০০এমএল দেশি মদ ও গাজা সহ আরমান (২৯) ও রাকিব (১৮) কে আটক করেন।

পরবর্তীতে রাকিবের বয়স কম হওয়ায় তাকে ১১দিনের জেল ও ১০০ (একশত) টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. রনী খাতুন। এছাড়াও অপর আসামী আরমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়।  

থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল আলম জানান, আরমানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং রাকিবকে ইউএনও স্যারের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা ও সাজা দেওয়া হয়েছে।


 ঝিকরগাছায় সহকারী শিক্ষকদের বিদায় না দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজের বিদায় নিতে মরিয়া : ফেসবুকে তোলপাড় !

ঝিকরগাছায় সহকারী শিক্ষকদের বিদায় না দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজের বিদায় নিতে মরিয়া : ফেসবুকে তোলপাড় !

 ঝিকরগাছায় সহকারী শিক্ষকদের বিদায় না দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজের বিদায় নিতে মরিয়া : ফেসবুকে তোলপাড় !

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝিকরগাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বি.এম) হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের বিদায় না দিয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ নিজের বিদায় নিতে মরিয়া হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মনোকষ্ট নিয়ে সাবেক শিক্ষকদের পক্ষে লিখেছেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমান ও লাউজানী নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশরাফুল আলম। 

তথ্য সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩১ জানুয়ারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদের শেষ কর্মদিবস। উক্ত কর্মদিবসকে ঘিরে সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন মিটিং ও আলোচনা সভার আয়োজন করে এবং আগামীতে প্রধান শিক্ষকের বিদায় নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে।

তারই মধ্যে মঙ্গলবার (২০জানুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খুব মনোকষ্ট, দুঃখ, বেদনা নিয়ে সকল শিক্ষকদের পক্ষে অবসরপ্রপ্ত সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যবহৃত এম. আতিয়ার রহমান আইডিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিএম হাই স্কুলের সভাপতিকে অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, সবিনয়ের সহিত আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে আমি এম আতিয়ার রহমান, অবসরে যাওয়া সিনিয়র শিক্ষক।

ইতি পূর্বে বর্তমান হেড মাষ্টার আঃ সামাদ কোন শিক্ষকের বিদায় দেয় নাই। বিশেষ করে সিঃ শিক্ষক মশিয়ার রহমান মৃত, সিঃ শিঃ অমূল্য রতন মৃত, মাওলানা শিঃ ইসরফিল হোসেন মৃত, সিঃ শিঃ আতিয়ার রহমান, সিঃ শিক্ষক ফজলুর রহমান সহ অনেক শিক্ষক অবসরে চলে চলে গেছেন, কিন্তু কোন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান করা হয়নি। সবাইকে খুব মনোকষ্ট, দুঃখ, বেদনা নিয়ে চলে যেতে হয় বা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি হেড মাষ্টার আঃ সামাদ এর বিদায় অনুষ্ঠান ঘটা করে করা হচ্ছে, একে তো আমরা মনোকষ্টে আছি তারপর আরও মনোকষ্ট বেড়ে গেল।

অতএব জনাবের নিকট বিনীত অনুরোধ যে হেড মাষ্টারের বিদায়টা আমাদের মতো হোক এটাই আপনার নিকট কাম্য বা আপনার হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন তিনি। 

এছাড়াও প্রধান শিক্ষকে নিয়ে একই দিনে লাউজানী নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশরাফুল আলমের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ঝিকরগাছা বিএম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব আঃ সামাদের ৬০ টি বেঞ্চের খুয়া ও রশিদ না কেটে অর্থ আত্মসাৎ তদন্ত করেন পূর্বের এসি ল্যান্ড জনাব নাভিদ সরোয়ার। তদন্তের সময়  বাদী, সমাজ সেবা অফিসার জনাব মেজবাহ উদ্দিন ও ভূমি অফিসের মোঃমুকুল ভাই উপস্থিত ছিলেন।

তদন্তে প্রধান শিক্ষক নিজেই স্বীকার করলেন সরকার আমাকে করোনা কালীন সময়ে বেঞ্চ গুলো দিয়ে ছিলো। কিন্তু পরে কি হয়েছে আমি জানি না।কিন্তু তিনি অকপটে স্বীকারও করেছেন আমার বিদ্যালয়ের সভাপতি নিপুণ সাহেব নতুন করে ৬০ টি বেঞ্চ তৈরি করে দিয়েছেন। তবে আমার জানামতে তিনি আরেক অবৈধ টাকা অর্থাৎ লেকচার পাবলিশার্সদের দেয়া টাকা দিয়ে তড়িঘড়ি করে ৬০ টি বেঞ্চ তৈরি করেছেন। প্রশংসা পত্র ও অন্যান্য ছাড় পত্র প্রদান বাবদ টাকা নিয়ে রশিদ আগে কাটতাম না তবে ২০২৫ সাল থেকে কাটছি।

কিন্তু আমার অভিযোগ ছিলো বিগত ৫ বছরের রশিদ কেটে তার হিসাব সংরক্ষণ করেছেন কিনা। তিনি সেখানেও তদন্ত কারী কর্মকর্তাকে বলেছিলেন না। যাই হোক এবার আসি  তার নিজের ও অন্য শিক্ষকদের বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে। আঃ সামাদ সাহেবকে যিনি এ বিদ্যালয়ে আনার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন তিনি মরহুম জনাব মশিয়ার রহমান। তাকে কিভাবে বিদায় দিয়েছেন? তারপর শ্রী অমূল্য রতন বিশ্বাস (গোপাল স্যার)। তার দুটি ছেলে তখন পড়াশোনা করতো। যারা আজ একজন ইউএনও অন্য জন এসিল্যান্ড। চোখের পানি ফেলে খালি হাতে বিদায় নিয়েছেন।

আলি আহমদ স্যার, মোঃ ফজলুর রহমান, মোঃ আতিয়ার রহমান। এলকার অভিভাবক সহ সকলেই এসব বিষয়ে অবগত। কারো বেলায় অনুষ্ঠান করতে পারলেন না কিন্তু নিজের বেলায় ষোলো আনা। তিনি বিদায় অনুষ্ঠান করুক কিন্তু যে সকল শিক্ষক বৃন্দ এখনো জীবিত আছেন এবং যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদেরকে ওয়ারিশদের ডেকে সকলে মিলেমিশে করুন সেটাই মনে হয় বেশি সৌন্দর্য হবে। তিনি সকল ক্ষেত্রে নিজের জন্য ২০০% কিন্তু অন্যদের জন নাম মাত্র। যেমনঃ নিজের স্কুলের বেতন ৩০০০০/- ৩৫০০০/ টাকা অন্য শিক্ষকদের অনেক অনেক কম।

তিনি ম্যানিজিং কমিটিকে হাত করে সব করে নিতেন। এবার আসুন কোচিং বাণিজ্য। কোচিং এর টাকা অন্য শিক্ষক বৃন্দ পাবেন, তিনি ৬০-৭০ হাজার টাকা নেবার পর। অথচ তিনি একটা ক্লাসও করেননা। যাইহোক লিখলে আরো অনেক কিছু লেখা যাবে।আমরা যেমন ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বাংলাূদেশ। আসুন সকল ক্ষেত্রে স্বৈরাচারের পতন হোক, ইনসাফের বিজয় হোক।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, জানি আমরা সব জানি। ভিতবে অনেক কথা থাকে যে কথা গুলো সব বলা যায় না। সেদিন তাকে বিদায় দেবো বলে দাওয়াত দিলাম কিন্তু তিনি আসেনি। তখন স্কুলের অবস্থা একরমক ছিলো। স্কুলের অবস্থা কি সব সময় এক রকম থাকে। তখন আমার হাতে কোন পয়সা কড়ি ছিলো না। যা ছিলো তাই দিয়ে দিছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকতা করতে পারিনি। তারা কি স্কুলটাকে উন্নতি করে গেছে না ধংস করে গেছে ? তার পরেও আমি তাদেরকে সর্বচ্চো সম্মান দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুলের সভাপতি মোছা. রনী খাতুন বলেন, এভাবে আমি কোন আবেদন পাই নাই। আবেদন আসুক। আর কাকে বিদায় দিবে আর না দিবে সেটা তো স্কুল কর্তৃপক্ষের ম্যানেজিং কমিটি আছে ম্যানেজিং কমিটি দেখবে। এই বিষয়ে কথা বলার তো কিছু নাই। ফেসবুকে তাকে নিয়ে লেখা হচ্ছে এই সম্পর্কে তিনি বলেন, হতে পারে। যার যা ইচ্ছা সে সেটা লিখতে পারে। ফেসবুকের তো নিয়ন্ত্রণ নাই। 


ঝিকরগাছায় মহাসড়ক ও ফুটপাত প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল : নিরব ভূমিকায় প্রশাসন ও হাইওয়ে থানা

ঝিকরগাছায় মহাসড়ক ও ফুটপাত প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল : নিরব ভূমিকায় প্রশাসন ও হাইওয়ে থানা

ঝিকরগাছায় মহাসড়ক ও ফুটপাত প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল : নিরব ভূমিকায় প্রশাসন ও হাইওয়ে থানা
আফজাল হোসেন চাঁদ :
যশোরের ঝিকরগাছায় যানজটের পাশাপশি বাড়ছে দূঘটনায় প্রাণহানী, সব সোজা পথই চলে উল্টো, প্রশাসনের দেখানো মাত্র তদারকিতেও কমছে না দৌরাত্ম্য। প্রভাবশালীদের রামরাজত্বে দখল হতে চলেছে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ও পৌর সদরের ফুটপাত।
পৌর সদরের বাজার সংলগ্ন এই মহাসড়কের ওপর ও সড়কের দু'পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ কিছু স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রায় দুই শতাধিক দোকানপাট ও পাহাড় সমান উঁচু মালামাল নিয়ে দুর্দান্ত গতিতে সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অবৈধ গাড়ি বা থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা, ইজি-বাইক, নসিমন-করিমন)। রাস্তায় চলার কোনো অনুমতির নেই। তবুও যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে প্রশিক্ষণবিহীন চালকদের অসাবধানতায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
অভিভাবক হারিয়ে পথে বসছে একেকটি পরিবার। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটির ফুটপাত দখলে রয়েছে প্রভাবশালীদের হাতে। এ বিষয়ে আইনগত ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও নিরব ভূমিকায় স্থানীয় পৌর প্রশাসন ও নাভারণ হাইওয়ে থানা পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে একাধিকবার পত্রিকাতে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর লোক দেখানো এক-দুইদিন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে পৌর সদরের এই বাজারের কথা কর্তৃপক্ষের মনে থাকে না।
কিন্তু স্থায়ী ভাবে উচ্ছেদ না করায় কোন লাভ হচ্ছে না। তবে নাভারণ হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ করার কথা বলা হলেও পরিশেষে সেটা সফল করা হয়নি। ক্রমাগতই সাধারণ মানুষের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে থানা পুলিশের প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হতে দেখা যাচ্ছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা, ইজি-বাইক, নসিমন-করিমন) চলাচল নিষিদ্ধ করে সরকার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৫ সালের আগস্টে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই প্রজ্ঞাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, কারণ ধীরগতির এই যানগুলো দ্রুতগামী যানবাহনের সঙ্গে মিশে গিয়ে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
যদিও আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখা গেছে, তবুও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর আছে এবং আইন অনুযায়ী এই যানবাহনগুলো জাতীয় মহাসড়কে চলাচলের অনুমতিপ্রাপ্ত নয়। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ও মহাসড়ককে নিরাপদ রাখতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। কিন্তু আইন প্রয়োগে শিথিলতা ও দুর্নীতির কারণে এই নিষিদ্ধ যানগুলো এখনো মহাসড়কে অবাধে চলছে।
২০১৫ সালের আগস্টে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার, অটোরিকশা ও অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন ও আইন হওয়ার পর ২০১৪ ও ২০১৭ সালে মহামান্য হাইকোর্টও মহাসড়কে এই যানগুলোর চলাচল বন্ধে নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মাঝে মাঝে ব্যবস্থা নিলেও, দুর্নীতি ও আইন প্রয়োগে গাফিলতির কারণে এদের অবাধ চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঝিকরগাছা পৌর সদরের কৃর্তিপুর থেকে শুরু করে হাজেরালী বালিখোলা পর্যন্ত যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে উপর ওয়ান্ডিং ওয়ার্কশপ, গাড়ী ধৌত করার স্থান, ফার্ণিচারের মালামাল, স’মিলের বড় বড় কাঠ, ঢেউ টিনের দোকানের টিন, হোটেল-রেস্তরা-ফাস্ট ফুড, বিভিন্ন ফলের স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান, চা-পানের দোকান, জুতা-কাপড়ের দোকান সহ প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনা করেছে।
এছাড়াও আরও বড় সমস্যা হল যশোর-বেনাপোলের ভাড়া চালিত বাস মহাসড়কের মাঝে রেখে যানজট সৃষ্টি ও মহাসড়কের উপর অবৈধ যানবহন বা থ্রি-হুইলার সংক্রান্ত গাড়ির স্ট্যান্ড। আর দু'পাশে দোকানপাট ও থ্রি-হুইলার সংক্রান্ত গাড়ির স্ট্যান্ড থেকে দৈনিক ও মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে সংশ্লিষ্টরা অবৈধভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। ব্যস্থতম এই সড়কে ক্রেতা-বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে ক্রয়-বিক্রি করছে বিভিন্ন পণ্য। গাড়ী আসলে অনেক সময় অসাবধনতাবসত বা তাড়াহুড়ো করে কেউ কেউ সরতেও পারেন না। যার ফলে ঘটছে অসংখ্য দুর্ঘটনা। এত বিপদজনক হওয়া সত্যেও এসব দোকানের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে প্রশাসনের স্থায়ী নজরদারির অভাব রয়েছে।
নাভারণ হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মহাসিন হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত থ্রি-হুইলারের উপর অভিযান করি এবং আইনগত ব্যবস্থা নি। আর মহাসড়কের পাশে পৌরসভার মধ্যে হলে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাশন বা পৌর প্রশাসন এটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। আমাদের যখন ডাকে তখন আমরা সহযোগিতা করি ও সাথে থাকি। মাসিক মাসোয়ারার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ের কোন ভিত্তি নাই। 
সহকারী কমিশনার (ভূমি), এক্সক্লুসিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌরসভার প্রশাসক দেবাংশু বিশ্বাস বলেন, আমি নুতন এসেছি, বিষয়টি আমি দেখবো।