বিজ্ঞ আদালত অবমাননার অভিযোগ : তার লাগাম টেনে ধরার যেন কেউ নাই!

SHARE

 ঝিকরগাছায় বেপরোয়া শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজান আলী

বিজ্ঞ আদালত অবমাননার অভিযোগ : তার লাগাম টেনে ধরার যেন কেউ নাই!

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৩নং শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজান আলী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার কর্মকান্ডের লাগাম টেনে ধরার কেউ কি নাই এটা নিয়ে জনমতে প্রশ্ন বিদ্ধমান হতে দেখা গেছে। তিনি ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অতঃপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উল্লেখিত সম্পত্তির সরকারি স্বার্থ রক্ষা ও উদ্ধারে বিজ্ঞ আদালতে আপিল মামলা দায়ের করা হয়েছে যা বিচারাধীন।” তারপর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর থেকে সংগ্রহকৃত তথ্য দেখা যায়, একই সংবাদ সম্মেলনের কপিতে শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজান আলী উল্লেখ করছেন, প্রেসক্লাবে সংবাদকর্মীদের নিকট দেওয়া তথ্য পরিবর্তন করে লিখেছেন “তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর মাধ্যমে জানতে পারি সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি সরকারি স্বার্থ রক্ষা ও উদ্ধারে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান।” তাহলে পূর্বের সংবাদ সম্মেলনটা মিথ্যা ও বানোয়াট ছিলো কি না এটা নিয়ে প্রশ্ন উদিয়মান হতে দেখা গেছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের প্রকাশিত সংবাদকে নিজেই মিথ্যা প্রমাণিত করতে গোপনে সংশোধন করেছেন। তবে তার বক্তব্যে বলা ভাষ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নির্দেশে! এখানে কি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে আসলে নির্দেশ দিয়েছেন? উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রশাসক ভুপালী সরকার জানিয়েছেন, এ বক্তব্য ভিত্তিহীন ও ভুল ব্যাখ্যা। পরবর্তীতে তথ্য অধিকার আইনে চাওয়া আবেদনের জবাবে ইউএনও স্পষ্ট করেন, তার কোনো নির্দেশ ছিল না, বরং আদালতে চলমান মামলার তথ্য জানানো হয়েছিল মাত্র।

আদালতের রায় ডিক্রি ও নিষেধাজ্ঞাকে অবমাননা করে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার-

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তর রাজাপুর গ্রামের একটি জমিতে সোহরাব হোসেন গং এর পক্ষে বিজ্ঞ আদালতের রায়, ডিক্রী ও মামলার বিবাদীদের (সরকার পক্ষের) বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজান আলী ৩য় পক্ষ হয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে বিজ্ঞ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উদ্দেশ্যেমুলক ভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালত অবমাননা বা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উদ্দেশ্যেমুলক ভাবে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে নাটকীয় সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন মহলের নেতৃবৃন্দদের অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। যে জমি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সেই জমিতে বিজ্ঞ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় বিজ্ঞ আদালতকে সম্মান করা উচিৎ। কিন্তু শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহাজান আলী ও তার বাহিনীর সাথে উক্ত জমির বিষয়ে কোন প্রকার সম্পৃৃক্ততা নেই। জমির বিষয় নিয়ে বিজ্ঞ আদালতের সম্পৃৃক্ততা রয়েছে বাদি সোহরাব হোসেন গং ও মামলার বিবাদী হিসেবে সরকার পক্ষ। তবে শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহাজান আলী এলাকায় নিজদের স্বার্থ হাসিলে দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে বিজ্ঞ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উদ্দেশ্যেমুলক ভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালত অবমাননা করে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে নাটকীয় সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি বিহীন প্রশাসনের নির্দেশ শব্দ ব্যবহার করে উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) ও সংবাদকর্মীদের সাধারণ মানুষের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

সত্য উদঘটনে বাঁধা দিতে ক্ষমতা প্রয়োগ-

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজান আলী ও তার বাহিনীর প্রধান, সাবেক ছাত্রদলের সেক্রেটারী পরিচয়ধারী, মোকামতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আনিসুর রহমান মিলন এলাকার সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তাদের বিতর্ক মূলক কর্মকান্ড নিয়ে জনমতে ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছেন। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলে তারই ধারাবাহিকতায় সত্য প্রকাশে বাধা ও সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য- 

শিমুলিয়া ইউনিয়নের ১৭নং উত্তর রাজাপুর গ্রামের সোহারব হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম পল্লব বলেন, যশোরের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ (১ম) আদালতে রায় ডিক্রির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মিস ৯৩/২১ তাং ১৯/০৭/২০২১ইং তারিখে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় ডিক্রী রদ রহিত চেয়ে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত ২৩/২/২০২৩ইং তারিখে সোহরাব গং এর রায় ডিগ্রী বহাল রেখে সরকার পক্ষের মামলাটি দোতরফা সূত্রে নিষ্পত্তি করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে উক্ত জমিতে সোহরাব গং ৬৫/২১ নং মামলায় সং এর বিপক্ষে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। এটা বর্তমানে রায় ডিক্রি ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে যেটা করা হচ্ছে সেটা বিজ্ঞ আদালত অবমাননা সামিল। উক্ত বিষয়ে আমি   জেলা-উপজেলা প্রশাসক ও জেলা-উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের নিকট সহযোগিতা কামানা করছি।

বিএনপির নেতাদের বক্তব্য- 

সাবেক ছাত্রদলের সেক্রেটারী পরিচয়ধারী, মোকামতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আনিসুর রহমান মিলন বলেন, শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজান আলীর সাথে আর কোন সময় যেন কথা বলতে না শুনি। কথা বললে কিন্তু সমস্যা আছে!

উপজেলার ৩নং শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহাজান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন বিএনপি ও থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দ পাশে ছিলো। আমি শুধু পাঠক। আমি শুধু পড়ে শুনাইছি। ওখানে উপস্থিত জনগন সই করেছেন। ইউএনও স্যারের কাছে সংবাদ সম্মেলনের কপি ঘুরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ও তোমার শুনতে হবে না। উক্ত ঘটনার বিষয়ে পল্লবদের বিজ্ঞ আদালতের রায় ডিক্রী আছে কি না এটার বিষয়ে তিনি বলেন, ১৪৪ধারা বহাল আছে। তারা এক তরফা রায় করে নিয়ে এসেছে। এবার দোতরফা রায়ের শুনানী পর খারিজ হবে।

উপজেলার বিএনপির সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নী বলেন, এটাতে যেহেতু পক্ষ বিপক্ষ আছে। যারা দখল করে আছে তারা কিন্তু কোর্টে মামলা নিয়ে লড়ছে। সেহেতু আমরা মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষা করবো। তারপরে যদি আবার কোন ব্যত্যয় ঘটে আমরা সেটাও দেখবো। এছাড়াও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এমন কোন কাজ করা যাবে না। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা যদি কোন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে আপনারা সঠিক তথ্য হাতে নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

প্রশাসনের বক্তব্য-

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রশাসক ভুপালী সরকার বলেন, ইউনিয়ন থেকে সভাপতি (শাহাজান আলী) ও সেক্রেটারি (আশরাফুজ্জামান আশা) দুজনসহ অনেককেই আমার কাছে বাওড়ের বিষয়ে ইউনিয়নের ওই বাওড়সহ আরো দুইটি জায়গার বিষয়ে জানতে চাইলে আমি জানাই সংশ্লিষ্ট বাওড়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান। এর বাইরে আমার বক্তব্য নাই। পরে একটি আবেদন ও তার সাথে সংবাদ সম্মেলনের কপি জমা দিতে আসলে বলা হয় এটা যে যেখানে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান, নির্দেশে কি মামলা চলমান হয়, এই শব্দটা কেন আর মামলা তো চলমান তাহলে নির্দেশে মামলা দায়ের কথা কেন! তখন তারা সংশোধিত কপি জমা দিয়ে যায়? তবে তারা কেন লিখেছিল সেটা তারা ভালো বলতে পারবে,আমাকে জানানো হয়েছিল টাইপ মিস্টেক। আসলে আমাদের সকলের উচিৎ বিজ্ঞ আদালতে চলমান মামলায় আদালতের বিচারকার্যে আস্থা রাখা, একই সাথে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা।

সচেতন মহলের দাবী- 

এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ চেয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে আদালত অবমাননা, মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসনের নাম ভাঙানো এবং গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি স্বরূপ। তাদের এ বিষয়সহ এলাকায় বিভিন্ন অহেতুক কিছু কর্মকান্ড নিয়ে নানা গুনঞ্জন পাওয়া যাচ্ছে দলীয় ভাবে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।


SHARE

0 মন্তব্য(গুলি):