ফুলের রাজধানীতে গত বছরের তুলনায় এবার ভালবাসার দামটা একটু বেশি !
আফজাল হোসেন চাঁদ :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বিভিন্ন প্রকার ফুল উৎপাদন করে অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি তৈরী করায় এই এলাকাকে ফুলের রাজধানী বা ফুলের রাজ্য হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে তুলনামূলক শীতের প্রকোপ ও ঘন কুয়াশা কমার করণে কিছুটা শৈত্যপ্রবাহ কমেছে। যে কারণে উপজেলার গদখালী, পানিসারা, নাভারণ ও নির্বাসখোলা ইউনিয়নে ফুল বাগান দেখতে দর্শনার্থীদের আনা গোনা অন্যবারের চেয়ে বেশি হয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মধ্যে মনে হচ্ছে উৎসবের আমেজ বয়ে যাচ্ছে।
তবে এবারের ফুলের রাজধানী বা ফুলের রাজ্যতে গত বছরের তুলনায় এবার ভালবাসার দামটা একটু বেশি বলে মনে করছেন এলাকার বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা। গত বছর এই দিবসকে কেন্দ্র করে গোলপ ফুলের পাইকারী বাজার ১৮-২০টাকা হলেও এবার সেই গোলপের দাম একটু বেশি হয়ে ২৫-৩০টাকা হারে বিক্রয় হচ্ছে। সম্প্রতি ০৮ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়ে গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ফুলের ব্যাপারীরা উল্লেখিত দরে ফুল ক্রয়ের পর ফুল সংগ্রহ করে রেখেছে। যেটা বিক্রয় হবে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষ্যে।
এছাড়াও একই দিনে ভালবাসা দিবসের পাশাপাশি পহেলা ফাল্গুন বসন্তবরণ ও সনাতন ধর্মাবলীদের সরস্বতি পূজার তো একটা ব্যবসায়ী চাপ থাকতে দেখা গেছে। এক সাথে তিনটি উৎসব এছাড়াও সামনে আসছে ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে উদযাপন করা হয় বিশ্বব্যাপী। এই দিনে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা-ভাইবোন, প্রিয় বন্ধুরা মিলিত হয় ভালবাসার বন্ধনে। আগে ভ্যালেন্টাইন্স ডে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র বা পাশ্চাত্য সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আনন্দ উন্মাদনার সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এই দিনটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই দিনে ফুলের রাজধানীর সকল এলাকা থেকে শুরু করে পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র গুলোতেও থাকবে উপচে পড়া ভিড়। সবাই এই দিনটিকে নিজের মতো করে সবার সাথে মিলেমিশে পালন করতে চেষ্টা করবে।
ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে ব্যবহৃত হয় দৃষ্টিনন্দিত বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। উপজেলার গদখালী, পানিসারা ও হাড়িয়া অঞ্চলে ক্ষেতের ফুলগাছ পরিচর্যায় মহাব্যস্ত সময় পার করে ফুল বাজারে প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে গোলাপ, গ্লাডিউলাস ২৫-৩০ টাকা, রজনীগন্ধা, জারবেরা ২০-২৫ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ৮-১০ টাকা, গাঁদা ফুলের প্রতি হাজার ৫০০-৬০০টাকা এবং ফুল বাঁধাইয়ের জন্য কামিনীর পাতা ও জিপসির আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০টাকা হারে পাইকারী বাজারে বিক্রয় হলেও আজ সেটা খুচরা বাজারের ২-৩ গুন দামে বিক্রয় হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহল।
ফুল মার্কেটের ফুল ব্যবসায়ী আজাদ হোসেন বলেন, আমাদের এই এলাকায় ভালবাসার কোন কোমতি নেই। গত বারে ভালবাসা বিনিময়ের প্রতিক হিসেবে ফুলের দামটা কম থাকলেও তুলনামূলক ভাবে সেটা অনেক বেশি হয়েছে।
যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপনন সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, সারা বছর ফুল বিক্রি হলেও মূলত বিশ্ব ভালবাসা দিবস, বসন্ত বরণ আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে বেচাকেনা বেশি হয়। এ মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে ফুলের উৎপাদন কম হয়েছে। তবে আসন্ন তিন দিবসকে ঘিরে অন্তত শত কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আশা করা হলেও ভারত থেকে গোলাপ ফুলের বিপরীতে অন্য আর একটি ফুল আমদানী করা হওয়ার করণে এলাকার চাষীরা কিছুটা ক্ষতিগ্রহস্ত হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল বলেন, সবাইকে ভালবাসা দিবস, বসন্তবরণ ও সরস্বতি পূজা উপলক্ষ্যে ফুলের রাজধানী বা ফুলের রাজ্যের তরতাজা ফুলের শুভেচ্ছা রইল। আপনাদের এই এলাকাকে দেশবাসীর কাছে পরিচিতি করানোর জন্য আমার যেটা করার দায়িত্ব আমি সেটা করবো।

0 মন্তব্য(গুলি):