গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাবুই-চঁড়ুই পাখির বাসা ও তাল গাছ বিলুপ্ত প্রায়

SHARE
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাবুই-চঁড়ুই পাখির বাসা ও তাল গাছ বিলুপ্ত প্রায়
আফজাল হোসেন চাঁদ : 

বাবুই-চঁড়ুই ও তাল গাছকে নিয়ে অসাধারণ একটি কবিতা লিখেছেন কবি রজনীকান্ত সেন। বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চঁড়ুই, কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহা সুখে অট্টলিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে......। তাইতো কবি তার কবির ভাষায় চড়ুই আর বাবুইকে নিয়ে অসাধারণ কবিতা লিখে গেছেন। ছোট্ট পাখি বাবুই ও চঁড়ুই। বহু যুগ ধরে শহরে বা গ্রামে মাঠে প্রান্তরে তাল গাছ দেখলেই চোখে পড়তো বাবুই-চঁড়ুই পাখির সুন্দর দৃষ্টিনন্দন এক শৈল্পিক কারুকাজ সজ্জিত বাসা। তাল গাছের পাতায় পাতায় হেলে দুলে দৃষ্টি আকর্ষন করছে শত শত বাসা।
পাতা থেকে কিছুটা নিচে ঝুলে এসেই তৈরী হয় বাবুই পাখির নিপুন হাতে গড়া স্বর্ণকমল বিশিষ্ট বাসা। বাবুই নামটি যেমন সুন্দর তেমনি সুন্দর তার শরীরের গঠন এবং সুন্দর তার নির্মান শৈল্পিক কারুকাজ। তাল গাছ এখন আর সেদিনের মতো নেই। চিরচেনা এই ঐতিহ্যবাহী তাল গাছ বিলুপ্তের পথে আর সাথে সাথেই হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা এবং পুরাতন চিলেকোঠায় চড়ুর পাখির বাসা। দেখতে মন্দ না হলেও একটু অলস, আরাম প্রিয় ও পরভোগী পাখি চড়ুই। এদের বসবাস পরের বসতবাড়িতে। শুধু বাবুই-চড়ুই পাখিই নয় কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর নাম না জানা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মিষ্টি মধুর কলকাকলি আর প্রকৃতির মনোরম দৃর্শ্যপট।
যুগে যুগে কবি সাহিত্যিকরা প্রকৃতির নানান রূপ নিয়ে লিখেছেন কতনা গল্প-কবিতা। আজ ফেলে আসা দিন গুলির সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মিলের গরমিল হয়েছে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আজ এই দৃষ্টি নন্দন মনোরম দৃর্শ্যগুলি কল্পনার মতো লাগে। পৃথিবীর বুকে প্রকৃতির এক অপরূপ সুন্দর মনোরম দৃষ্টিনন্দন বাবুই  ও চড়ুই পাখির বাসা। এমন দৃর্শ্য প্রকৃতির বুক থেকে হারিয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের প্রয়োজন তাল গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। হাজার হাজার বনাঞ্চল হাজার হাজার রকম গাছ থাকলেও বাবুই পাখির বাসস্থান ও জন্ম বৃদ্ধির জন্য তাল গাছই প্রথম পছন্দ। কিন্তু এখন প্রশ্ন থেকে যায় বাবুই পাখি কেন তাল গাছে বাসা বাঁধে?
প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বাবুই পাখির গুনের শেষ না থাকলেও রয়েছে প্রচন্ড রকমের ভয়। বিভিন্ন জন্তু, পোঁকামাকড়, শাপ, বিচ্ছুর হাত থেকে নিজের জীবনকে বাঁচতে তারা তাল গাছের পাতায় কাটাকেই ঢাল হিসাবে বেছে নেয়। পাতার আগার দিকের শেষ অংশে ঝুলে শুন্যের উপরে তৈরি করে মনোরম বাসা যেটা বাতাসে দুলতে থাকে। প্রচন্ড ঝড়-বাতাসে তাল গাছের বড় বড় পাতা গুলো বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। তাছাড়া প্রকৃতিতে মনোরম দৃর্শ্যটি কেবল তাল গাছেই শোভা পায়। এমনি ভাবে গভির বুদ্ধিমত্তায় গড়ে উঠে বাবুই পাখির বাসা। সে কারনেই প্রকৃতিতে বাবুই-চঁড়ুইয়ের বাসা ও তাল গাছ আমাদের খুবই প্রয়োজন।

SHARE

0 মন্তব্য(গুলি):