আফজাল হোসেন চাঁদ :ফুল চাষি নজরুল ইসলাম খোকন ও আলমগীর হোসেন বলেন, প্রায় চার বিঘা জমিতে জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধা ফুল রয়েছে। বসন্ত বরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ফুল সরবরাহ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ফুলের ভরা মৌসুমে আমাদের নাওয়া খাওয়া থাকে না। তবে তুলনামূলক ফুলের চাহিদা ও দাম এখন একটু কম। ১ বিঘা গোলাপ ও ২ বিঘা গ্লাডিওলাস ফুলের আবাদ করে বর্তমানে গোলাপ ৩টাকা ও গ্লাডিওলাস ২-৪ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পহেলা বৈশাখের আগে ফুলের দাম বাড়বে বলে মনে হয় না। তারা আরো বলেন, এক বিঘা গোলাপ রোপনে প্রায় ১লক্ষ টাকা খরচ হয়। ৪ হাজার চারার দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আর রোপনসহ অন্যান্য খরচ আরও ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যার খরচ রয়েছে বাড়তি। একবার রোপনে ৬-৭ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায়।
স্থানীয় পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলেন, সামনে ভ্যালেনটাইনে ডে’তে ফুল বিক্রি বেশি হবে। বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধ ফুলের চাহিদা বেশি। কৃষকরাও দাম ভালো পাবে। প্রতি বছর যশোরে ফুলের আবাদ বাড়ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা বলে আমরা আশাবাদি।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার এ অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কৃষক দুই হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ পরিচালনা করে। এবারের বসন্ত বরণ, ভ্যালেনটাইন ডে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গদখালী এলাকার কৃষকরা ৭০-৮০ কোটি টাকার ফুল সরবরাহ করবে বলে আমি আশাবাদি। তিনি আরো বলেন, ফুলচাষীরা ভালো ফুল উৎপাদন করে গ্রাহকের নিকট বিক্রি করতে পারবে এবং আশা করছি কৃষকরা তাদের ফুলের অনেক ভালো মূল্য পাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা.) সাধন কুমার বিশ্বাস বলেন, এই অঞ্চলের ফুল চাষীদের জন্য সরকার ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে ফুলচাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুল চাষিদের ব্যাংক ঋণ সহজ করতে ও ফুল সহজে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি। গদখালির ফুল চাষিরা মহাব্যস্ত সময় পার করেছন। ক্ষেত থেকে সময়মত পর্যাপ্ত ফুল পেতে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। এবারের মৌসুমে এ তিন দিবসে ৭০-৮০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এ এলাকার ফুলচাষিরা দিন-রাত ফুল বাগানের পরিচর্যা করে চলেছে। গদখালির চাষিরা বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ফুল বাজারে সরবরাহ করবে। ফুলের রাজ্য গদখালি পানিাসার ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ জুড়ে শুধু ফুল আর ফুল। সেখানে বিভিন্ন ধরণের জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, হলুদ গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা ফুল হাতছানি দিয়ে ডাকছে মায়া ভরা প্রকৃতিকে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেতেই চাষিরা গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে দেখা গেছে। এখানে চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসকে ঘিরে তাদের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়ে যায়। আমরা সব সময় বসে বসে সময় পার করি কিন্তু বছরের প্রথমে তিন-চারটি উৎসবকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়। কিন্তু চাষিরা তাদের ফুল চাষের পাশাপাশি জমিতে সবজি ও পেয়াজ চাষ শুরু করতে দেখা গেছে। ফুল সারা বছরের জমিতে থাকলেও ফুলের পাশাপাশা একই জমিতে অন্যান্য আবাদ যেমন বিভিন্ন প্রকার ঋতু উপযোগী সবজি ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাজারে পেয়াজের দাম উর্দ্ধমূখি হওয়ায় চাষিদেরকে পেয়াজ চাষে দিকে ঝুঁকতে দেখা গেছে। ফুল চাষে এক তরফা আয় হয় বলে তারা (চাষিরা) সবজি চাষের দিকে লক্ষ্য নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছে। একনে কৃষকদের একটি বিশেষ উপকার লক্ষ্য করা গেছে, ফুলের জন্য চাষিরা যে সার বা কৃটনাশক ব্যবহার করেছে সেটা দিয়েই তার পাশাপাশি সবজি চাষও হয়ে যাচ্ছে। এখানে চাষিদের আর বাড়তি খরচ লাগছে না।
0 মন্তব্য(গুলি):