আপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
 ঝিকরগাছায় ইউপি সদস্যের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ইউএনও’র নিকট অভিযোগ

ঝিকরগাছায় ইউপি সদস্যের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ইউএনও’র নিকট অভিযোগ

 ঝিকরগাছায় ইউপি সদস্যের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ইউএনও’র নিকট অভিযোগ 

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় ইউপি সদস্যের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ইউএনও’র নিকট মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ শহিদুল ইসলাম পল্লব (৪০) নামের এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য। অভিযোগকারী শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামের মোঃ সোহরাব হোসেনের ছেলে। উক্ত অভিযোগে বিবাদী করেছেন একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে শিমুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাহাবুর রহমান মেম্বার (৪০) সহ আরও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০জনের নাম উল্লেখ করেছেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদির গ্রামের বাড়ি উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের জে.এল. ১৭ নং উত্তর রাজাপুর মৌজায় এস.এ. দাগ ১০১৭, আর.এস. দাগ ১৫৭৯ দাগের ৭.৮০একর জমি রায়-ডিক্রী প্রাপ্ত। উক্ত জমির বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত থেকে আমাদের রায়-ডিক্রী প্রাপ্ত হয়। এছাড়াও বিজ্ঞ আদালতের কমিশনের মাধ্যমে লাল ফ্লাগ উত্তোলন করে দখল প্রদান করে। যাহা অভিযোগকারীরা নেটপাটা দিয়ে ভোগদখলে নিয়ে রাখে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে উক্ত জমির উপর মামলার বিবাদী পক্ষদ্বয়ের উপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।

এমতাবস্থায় শিমুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাহাবুর রহমান সহ আরও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০জন আমাদের জমির উপর এসে শহিদুল ইসলাম পল্লবের পিতাকে মারধর করে ও বাড়িঘর ভাংচুর সহ জমির নেটপাটা ও বিজ্ঞ আদালতের টানানো লাল ফ্লাগ তুলে পুড়িয়ে ফেলেও খ্যান্ত হয়নি। তার জমিতে থাকা প্রায় ২০লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট ও বিভিন্ন গাছ কর্তন করে তাদের পরিবারকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে। 

গত ০৫ সেপ্টেম্বর অনুঃ বেলা ১১টার সময় শিমুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাহাবুর রহমান সহ আরও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০জন তাদের জমির উপর এসে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি ধামকি প্রদান করেছেন। এই বিষয়ে সঠিক ভাবে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন শহিদুল ইসলাম পল্লব।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাহাবুর রহমান মেম্বারের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনটি রিসিভ করেনি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ভুপালী সরকার বলেন, আজ একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির উপর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য, অভিযোগটি থানাতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আলোর নিচে অন্ধকার : ঝিকরগাছার টিইও’র ঘড়ির নয়টার কাটা কয়টায় যায় !

আলোর নিচে অন্ধকার : ঝিকরগাছার টিইও’র ঘড়ির নয়টার কাটা কয়টায় যায় !

আলোর নিচে অন্ধকার : ঝিকরগাছার টিইও’র ঘড়ির নয়টার কাটা কয়টায় যায় !

আফজাল হোসেন চাঁদ :

নিয়মনীতির বালাই নাই, এটা যেন আলোর নিচে অন্ধকার। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিইও) এর ঘড়ির কাটা কয়টায় যায় এটা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঁকি দিতে দেখা গেছে সচেতন মহলের মাঝে। স্থানীয় সংবাদর্মীদের নিকট অভিযোগ আসে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিইও) সেহেলী ফেরদৌস সময় মতো অফিসে আসে না ও দুপুর দুটার পর তিনি তার অফিসের দরজা বন্ধ করে শুয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই তথ্য অনুসন্ধ্যানে দেখা যায়, সরকার ঘোষিত অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের সময় উপজেলা পরিষদের ৩য় তলায় অবস্থিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিইও) সেহেলী ফেরদৌসকে। এছাড়াও উক্ত সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন, সহকারী শিক্ষা অফিসার রেহেনা বানু, আসাদুল ইসলাম, সঞ্জয় ঘোষাল, মুমতাহীনা বিলকিস, হিসাব সহকারী বিএম আজাদ হোসেন। তাদের অনুপস্থিত থাকতে দেখে সহকারী শিক্ষা অফিসার নাজমুল হাসান সংবাদকর্মীর নিকট বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এখনো অফিসে আসেননি। সহকারী শিক্ষা অফিসার আসাদুল ইসলাম সম্ভাবত ট্রেনিংয়ে আছেন। পরবর্তীতে সকাল ১০টার সময় অফিসে উপস্থিত হন সহকারী শিক্ষা অফিসার রেহেনা বানু। তার অফিসে দেরীতে আসার কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমি অসুস্থ ছিলাম তাই আসতে দেরী হয়েছে।  

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিইও) সেহেলী ফেরদৌস বলেন, আমি উপজেলার মধ্যে মিটিংয়ে ছিলাম। আপনি অফিসে গিয়ে আমাকে ফোন দিবেন না। তবে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির খবর তার নিকট তাৎক্ষনিক অফিস থেকে ফোন গেলেও তিনি সংবাদর্মীর উপস্থিত থাকা অবস্থায় তিনি আসেননি। তার অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসারদের ঠিকমত অফিসে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার অফিসে উপস্থিত হওয়ার দিক থেকে প্রথম রেহেনা বানু। তিনি অসুস্থ থাকায় আসতে একটু দেরী হয়েছে। আর আমাদের অফিসের বাজেটের শেষ দিন হওয়ায় সহকারী আজাদকে বাড়ী থেকে বাজেটের কাজ গুছিয়ে আসতে বলা হয়েছে। আসাদুল ইসলাম ট্রেনিংয়ে আছে। সঞ্জয় ঘোষাল যশোর থেকে আসে। আমাদের যশোরের অফিসিয়াল কাজগুলো  সেরে আসতে বলা হয়েছে। মুমতাহীনা বিলকিসের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি তার পাশে থাকা ব্যক্তিদের নিকট থেকে শুনে বলেন সে সম্ভবত স্কুলের মিটিংয়ে ছিলো।

 যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার বিষয় আমি যেহেতু শুনলাম। এখন কি কারণে তার অনুপস্থিত সেটার বিষয়ে তাদেরকে কারণ দর্শানো হবে।

 

ঝিকরগাছার পল্লীতে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে থানায় অভিযোগ

ঝিকরগাছার পল্লীতে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে থানায় অভিযোগ

ঝিকরগাছার পল্লীতে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে থানায় অভিযোগ

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছার পল্লীতে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শরীফপুর গ্রামের মৃত রবিউল ইসলামের ছেলে সাইদুর ইসলাম (৫৬)। তার উল্লেখিত অভিযোগে বিবাদী করেছেন জামাই কৃষ্ণনগর সরদার পাড়া গ্রামের আজম সরদারের ছেলে জুয়েল রানা @ ডলার (৩২) ও বেয়াই আজম সরদার (৫৫)। 

থানার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ডলারের সাথে ১১ বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বাদীর মেয়ে নুসরাত জাহান @ শাবনাজ (২৮) এর সহিত বিবাহ হয়। বর্তমানে তাদের আট বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর হইতে বিভিন্ন সময় বাদীর বাড়ি থেকে নগদ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের সাংসারিক প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসতে বলে। বাদীর মেয়ে আনতে রাজি না হলে বিবাদীগণ বাদীর মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখায়।

এমতাবস্থায় ১নং বিবাদের শহীদ গত ১৬ এপ্রিল সকাল অনুমান ১০ টার সময় বাদীর মেয়ের পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এই কথা কাটাকাটির এক পর্যাযে বিবাদীগণ বাদীর মেয়েকে মারপিট করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছে বলে অভিযোগের উল্লেখ করেছেন। এরপর দুপুর অনুমান ১টার দিকে বাদীর মোবাইলে ফোন করে বাদীর মেয়েকে বিবাদীগণ তাদের বাড়িতে পাচ্ছে না বলে জানালে বাদী এবং বাদীর স্ত্রী বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে বাদীর নাতনি সহ আশেপাশের লোকজনের কাছে মেয়ের কথা জানতে চাইলে তারা বলেন যে বিবাদীগণ বাদীর মেয়েকে মারপিট করে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।

বাদী এই কথা শুনে ১ নং বিবাদ এর কাছে উক্ত বিষয়ে কারণ জানতে চাইলে বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সব মারপিট করার হুমকি প্রদান করে বিবাদেরদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এমনকি বিবাদীগণ বাদীকে এবং বাদীর স্ত্রীকে মারপিট করার হুমকি প্রদান করে বলে যে উক্ত বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে পরিনাম খুব খারাপ হবে ও তাদের মেয়ের জীবনে বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করবে বলে হুমকি দিয়েছে। বাদীর মেয়ে বাদীর নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকাসহ সাংসারিক জিনিসপত্র অনুমান ৫ লক্ষ টাকার এনে দেয় বলে অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জুয়েল রানা @ ডলার বলেন, আমিই ডলার। আমাদের সম্পর্কের মাধ্যমে বিবাহ হয়। আমি কখনো ওকে মারিনী এবং কখনো ওকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা পয়সা আনতে বলিনি। আমিও একটি জিডি করেছি।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমার নিকট সাইদুর ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি অভিযোগ  করেছেন। একই ঘটনায় তার জামাই জুয়েল রানা @ ডলার তার স্ত্রী হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়রী করেছেন। উভয়ের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বোঝা যাবে তাদের মধ্যে মুল রহস্য কি?


















 ঝিকরগাছায় ৭টি তরতাজা গাঁজার গাছসহ ব্যবসায়ী মজনু আটক

ঝিকরগাছায় ৭টি তরতাজা গাঁজার গাছসহ ব্যবসায়ী মজনু আটক

 ঝিকরগাছায় ৭টি তরতাজা গাঁজার গাছসহ ব্যবসায়ী মজনু আটক 

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা থানা পুলিশের অভিযানে ৭টি তরতাজা গাঁজার গাছ সহ গাজা সেবনকারী ও ব্যবসায়ী মো. মজনু (৪০) কে আটক করা হয়েছে। আটককৃত আসামী উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের বল্লা গ্রামের মৃত সোবহানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আসামীকে মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

থানায় মামলা সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা থানা প্রশাসনের অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন ভুঁইয়ার মাদকদ্রব্যের উপর জিরো টরারেন্স ঘোষনার উপর জোর দিয়ে তারই নিদের্শনায় থানার অন্তগত শিওরদাহ পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই (নি.) দেবব্রত ঘোষ সোমবার (০১ এপ্রিল) রাত ৮টা ১৫মিনিটের সময় গোপন সংবাদের উপর ভিত্তি করে রাত ৯টা ২০মিনিটের সময় বল্লা বেলেরমাঠ এলাকায় ভোগদখলীয় পেঁপে ক্ষেতের পশ্চিম পার্শ্বে গাঁজা গাছা পরিচর্যাকালীন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে ভিন্ন সাইজের ৭টি তরতাজা গাঁজার গাছ সহ গাজা সেবনকারী ও ব্যবসায়ী মো. মজনু (৪০) কে আটক করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ০৩, তারিখ-০১/০৪/২০২৪ইং। 

এসময় শিওরদাহ পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই (নিঃ) দেবব্রত ঘোষের সাথে উপস্থিত ছিলেন, এএসআই (নি.) সোহেল রানা, কনস্টেবল গোবিন্দ ঘোষ, হানিফ আহমেদ, জাকির হোসেন।

থানা অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন ভুঁইয়া বলেন, আসামী অবৈধ মাদকদ্রব্যের গাঁজা গাছ চাষের মাধ্যমে অপরাধ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ২০১৮সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬(১) টেবিলের ১৮(ক) ধারা মোতাবেক মামলা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) তাকে বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঝিকরগাছার শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তথ্য দিতে অস্বিকার : প্রধান শিক্ষকের খুটির জোর কোথায় !

ঝিকরগাছার শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তথ্য দিতে অস্বিকার : প্রধান শিক্ষকের খুটির জোর কোথায় !

ঝিকরগাছার শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তথ্য দিতে অস্বিকার : প্রধান শিক্ষকের খুটির জোর কোথায় !

আফজাল হোসেন চাঁদ : 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা। উক্ত নির্বাচনে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক ১১ মার্চ, উমাশিঅ/ঝিকর/২০২৪/৬৭ নং স্মারকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণির সদস্য নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সকল সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে।

তবে ২০ মার্চ সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পূর্বের প্রতিবেদন ঘষামাজা করে প্রধান শিক্ষক কার্তিক কুমারকে তার দপ্তরে ডেকে নিয়ে পূর্বে তারিখ বা বেক ডেট অনুযায়ী আবারও প্রতিবেদন দিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নড়েচড়ে বসে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালিয়েছেন। আবার এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্তিক কুমারের বক্তব্যে পাওয়া যায়, নগদ ৪১হাজার টাকা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা টাকা গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে ৪১হাজার টাকার উপরে খরচ হয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক সম্পূর্ণ খরচের হিসাবের মাস্টার রুল দেখতে চাওয়া হলে প্রধান শিক্ষক স্থানীয় সংবাদকর্মীদেরকে তথ্য দিতে অস্বিকার করেন।

নির্বাচনে ১০জনের নিকট হতে মাথা প্রতি নমিনেশন বিক্রয় করা ১হাজার টাকার বিনিময়ে। তাহলে বিদ্যালয় থেকে নির্বাচন কেন্দ্রিক ৪১হাজার টাকার উপরে খরচ করা হল সেটার তথ্য প্রধান শিক্ষক যে সংবাদকর্মীদের তথ্য দিতে অস্বিকার করছে এই প্রধান শিক্ষকের খুঁটির জোর কোথায় ! তিনি বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকারপরও ছুটির লিখিত আবেদন ব্যতীত সভাপতির সাথে আতাত করে অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।

প্রধান শিক্ষক কার্তিক কুমার বলেন, যারা ম্যানেজিং কমিটিতে আছে তাদের নিকট তথ্য আছে। আপনাদের কে আর কোন তথ্য দেওয়া হবে না। তথ্য পেতে হলে কমিটির লোকদের সাথে যোগাযোগ করেন।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি মো. আঃ ছাত্তার বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক সকল খরচ করেছেন প্রধান শিক্ষক। আমি কোন টাকা খরচ করেনি। প্রধান শিক্ষক সংবাদকর্মীদের তথ্য দিতে চাচ্ছে না এই সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি যেহেতু সব খরচ করেছেন। তাহলে তিনি কি জন্য আপনাদেরকে তথ্য দেবে না। তার তো আপনাদের সকল তথ্য দেওয়া উচিৎ।


ঝিকরগাছায় রমজান মাসেও থেমে নেই দুর্বৃত্তেদের কর্মকান্ড : রাতের আধারে একাধিকস্থানে বিষ প্রয়োগ

ঝিকরগাছায় রমজান মাসেও থেমে নেই দুর্বৃত্তেদের কর্মকান্ড : রাতের আধারে একাধিকস্থানে বিষ প্রয়োগ

 ঝিকরগাছায় রমজান মাসেও থেমে নেই দুর্বৃত্তেদের কর্মকান্ড : রাতের আধারে একাধিকস্থানে বিষ প্রয়োগ

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৪নং গদখালী ইউনিয়নের ০২নং ওয়ার্ডের বোধখানা গ্রামে রমজান মাসেও থেমে নেই দুর্বৃত্তেদের অনৈতিক কর্মকান্ড। রাতের আধারে কয়েকটি পরিবারকে সর্বশান্ত করতে এলাকার মধ্যে একাধিক স্থানে বিষ প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। এটা নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করতে দেখা গেছে। 

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শুক্রবার রাত হতে শনিবার ভোর বেলার মধ্যে অঙ্গাতনামা দুষ্কৃতকারীরা রাতের আধারে বোধখানা গ্রামের বোধখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে, খালেক মোল্লার ছেলে মিজানুর রহমান (৩৮) এর বাড়ির টিউবওয়েলে, আবদার হোসেনের ছেলে ইমামুল হোসেন (৫০) এর চায়ের দোকানে চায়ের কেটলিতে, আঃ মালেকের ছেলে মনির হোসেন (৪০) এর হোটেলের পানির ড্রামে, গোলাম মোস্তফার ছেলে আরিফুলে ইসলাম (৩৫) এর মুদি দোকানের সামনে টিউবওয়েলে বিষ মিশিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়রা বুঝতে পেরে তাৎক্ষনিক গ্রাামের লোকজন মসজিদের মাইকে প্রচার করায় কেউকে আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায় নাই।

বোধখানা গ্রামের কৃর্তি সন্তান সাইফুর রহমান সাইফ বলেন, আমার গ্রামের মধ্যে রাতের আধারে অঙ্গাতনামা দুষ্কৃতকারীরা যে কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। আমি আশাকরি এই ঘটনার বিষয়ে আমাদের প্রশাসন তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর উপ সহকারী প্রকৌশলী অন্তরা সরকার মিতু বলেন, আমার কি করার আছে বলুন। যাদের টিউবওয়েলে এমন হয়েছে তারা গিয়ে থানায় জিডি করলে ভালো হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘটনার বিষয়টি এড়িয়ে যান।  

থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ইব্রাহীম আলী জানান, নেককার জনক ঘটনার বিষয় আমরা জানতে পেরে তাৎক্ষনিক আমাদের অফিসারকে পাঠোনো হয়েছিলো। আমাদের পক্ষ হতে উদ্ধতন কর্মকর্তাদের অভিহত করে অঙ্গাতনামা দুষ্কৃতকারীদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

 নাভারণ হাইওয়ে পুলিশের ৩দিনের আলটিমেটাম ৩৭ দিনেও শেষ হয়নি!

নাভারণ হাইওয়ে পুলিশের ৩দিনের আলটিমেটাম ৩৭ দিনেও শেষ হয়নি!

 নাভারণ হাইওয়ে পুলিশের ৩দিনের আলটিমেটাম ৩৭ দিনেও শেষ হয়নি!

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার অন্তগত ৭নং নাভারণ ইউনিয়নের নাভারণ হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া ৩দিনের আলটিমেটাম ৩৭ দিনেও শেষ হয়নি! সম্প্রতি ১০ ফেব্রুয়ারী দুপুরে নাভারণ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এসআই সিদ্ধার্থ সাহা ঝিকরগাছা বাজারের উপর দিয়ে বহমান যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দু’পাশে অবৈধ্য ভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তাদের কবল থেকে দখল মুক্ত করতে ও মহাসড়কে অবৈধ্য যানবহন চলাচল বন্ধের উপর মাইকিং ও নিজে উপস্থিত হয়ে ৩দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় অদ্যবধি ৩৭দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আলটিমেটামের বাস্তবায়নের কার্মকান্ডে দেখা পাচ্ছে না এলাকার সচেতন মহল।

নাভারণ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এসআই সিদ্ধার্থ সাহা বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে অনেক গরীব-খেটে খাওয়া মানুষ পেটের দায়ে জীবন-জিবিকা পরিচালনা করে  কাচামাল, ফল সহ অন্যান্য জিনিষপত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে। যার জন্য আমাদের পক্ষ হতে তাদেরকে সর্তক করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু নিয়মতানটিক জটিলার কারণে এখন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশাকরি ঈদের পরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ঝিকরগাছায় বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে ছুটির আবেদন ব্যতীত প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত

ঝিকরগাছায় বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে ছুটির আবেদন ব্যতীত প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত

 ঝিকরগাছায় বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে ছুটির আবেদন ব্যতীত প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত

আফজাল হোসেন চাঁদ :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকারপরও ছুটির লিখিত আবেদন ব্যতীত অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের সভাপতির সাথে আতাত করে তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার ৮নং নির্বাসখোলা ইউনিয়নের অন্তগত শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের তালিকায় আপডেট না থাকলেও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলামের বরাতে জানা যায়, সাবেক প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ২০১৩ সালে যোগদান করে ২০২০সালে অবসরে যান। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আঃ মমিন। এরপর শার্শা উপজেলার উলশী  মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালের ০১ অক্টোবর হতে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান শিক্ষক কার্তিক কুমার। তার মাতা ০১ মার্চ পরলোকগমন করেছেন। রবিবার (১৭ মার্চ) তার মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান থাকার দোহায় দিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। যদি তার মায়ের শেষকৃত্য হয়ে থাকে তাহলে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারবে না মর্মে সভাপতির নিকট লিখিত আবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি একজন বিচক্ষুণ প্রধান শিক্ষক হয়ে ছুটির আবেদন না দিয়ে কি ভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের আয়োজনের দিন ছুটি পালন করছে এটা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তিব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।  

প্রধান শিক্ষক কার্তিক কুমারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আজ আমার মায়ের শেষকৃত্য। যার জন্য আমি ছুটিতে আছি। ছুটির জন্য কোন আবেদন দিয়েছেন কিনা এই সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি সভাপতিকে জানিয়েছি। কিন্তু সত্যি কথা কলতে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আঃ ছাত্তার বলেন, গতকাল আমার কাছে ফোন করে মৌখিক ভাবে বলে ছিলো। আমার কাছে ছুটির জন্য কোন আবেদন দেয়নি। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়াও সরকারি বা জাতীয় প্রোগ্রামে সাধারণত কোন ছুটি হয় না। তারপরও তিনি যেহেতু অনুপস্থিত ছিলেন, সেহেতু আমি তার সাথে কথা বলে দেখি।


ঝিকরগাছার পল্লীতে ইজিবাইকের ধাক্কায় ০৩বছরের শিশু নিহত

ঝিকরগাছার পল্লীতে ইজিবাইকের ধাক্কায় ০৩বছরের শিশু নিহত

ঝিকরগাছার পল্লীতে ইজিবাইকের ধাক্কায় ০৩বছরের শিশু নিহত

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে ইজিবাইকের ধাক্কায় ০৩বছরের শিশু মাহিম হোসেন নিহত হয়েছে। সে মালেশিয়া প্রবাসী আল আমিন হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে মাহিম রাস্তায় খেলা করছিল। এসময় চাঁপাতলা গ্রামের রবিউল হোসেনের ছেলে বিপুল হোসেন (৩০) এর দ্রুতগতির ইজিবাইকটি তাকে চাপা দেয়। যার কারণে মাহিমের বুকে ও মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হলে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

যশোর সদর হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা রেফার্ড করেন। পরে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে সে মারা যান (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইল্লাহি রাজিউন)। এঘটনায় শিশুটির পরিবার সহ এলাকাবাসীর মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, ঘটনার বিষয়ে আমি শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত আমার নিকট কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ঝিকরগাছায় পৃথক স্থানে দুই মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রেফতারী পরোয়ানাসহ আটক ১৫

ঝিকরগাছায় পৃথক স্থানে দুই মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রেফতারী পরোয়ানাসহ আটক ১৫

 ঝিকরগাছায় পৃথক স্থানে দুই মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রেফতারী পরোয়ানাসহ আটক ১৫

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পৃথক স্থান থেকে ২৫০গ্রাম গাঁজার দুইজন মাদক ব্যবসায়ী ও  গ্রেফতারী পরোয়ানাসহ ১৫ জনকে আটক হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ভূঁইয়ার নির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে ১২টার পর সোমবারের প্রথম প্রহরে আটক করে বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালত প্রেরণ করা হয়েছে। ২৫০গ্রাম গাঁজায় আটককৃতরা হল, গঙ্গানন্দপুর গ্রামের মৃত ইলাহী বিশ্বাসের ছেলে শওকত আলী(৬০) ও বল্লা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে নূর বক্স(৫৬) কে আটক করেছেন। এছাড়াও গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলে আটককৃতরা হল, বারবাকপুর গ্রামের মৃত কাশেম শেখের ছেলে মোঃ মোহব্বত শেখ, লক্ষীপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের জসিম উদ্দীনের স্ত্রী আকলিমা বেগম, মোঃ ইফাজ উদ্দিনের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন, বামন আলী গ্রামের আওয়ালের স্ত্রী মোছাঃ ইরানী খাতুন, শেখ মফিজুর রহমানের স্ত্রী রিনা, চান্দা গ্রামের মশিয়ার রহমান বিশ্বাসের স্ত্রী মোসাঃ রাশিদা বেগম, মৃত ওয়াজেদ বিশ্বাসের ছেলে মশিয়ার রহমান বিশ্বাস, আজমপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে জুয়েল রানা, শ্রীরামকাটি গ্রামের মৃত ঈমান আলী মিস্ত্রির ছেলে রনজু মিয়া, নাভারন কলোনী গ্রামের মোঃ সবুর গাজীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম @ সাশা, আটুলিয়া গ্রামের আঃ জলিলের ছেলে আজিজুর রহমান @ রাব্বী, কালিয়ানী গ্রামের সুলতানের ছেলে আমির হোসেন, রাজাপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে আরিফুর রহমান বাপ্পি।

থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, ২৫০গ্রাম গাঁজা সহ পৃথক স্থান থেকে ২জন ও গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলে ১৩জন সর্বমোট ১৫জন আসামীকে আটক করে আসামীদেরকে প্রয়োজনীয় পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।   


ঝিকরগাছায় বন্ধুর বউয়ের সাথে পরকীয়ার জেরে বন্ধু নিহত -চাঁদনী বিডি ডটকম

ঝিকরগাছায় বন্ধুর বউয়ের সাথে পরকীয়ার জেরে বন্ধু নিহত -চাঁদনী বিডি ডটকম

 ঝিকরগাছায় বন্ধুর বউয়ের সাথে পরকীয়ার জেরে বন্ধু নিহত

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা পৌর সদরে কাটাখাল আফিল রোডের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে কেসমত ওরফে ক্যাসেট (২৫) বন্ধুর বউয়ের সাথে পরকীয়ার জের ধরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে ছুরিকাঘাতে তৌফিক আহমেদ (২৩) নামের এক বন্ধু নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত বন্ধু হল কৃষ্ণনগর সম্মিলনী মহিলা কলেজ পাড়া এলাকার কাঠমিস্ত্রি শাহাদত মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় থানার বিষয়ে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মূল ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, তৌফিক ও ক্যাসেট দুজনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। তারা দুজনেই মাদক দ্রব্য সেবন করত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্যাসেট তার স্ত্রী রিয়া ও তৌফিককে একসাথে তাদের রান্না ঘরে কথা বলতে দেখে ফেলে। এনিয়ে তাদের দু’বন্ধুর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে তৌফিক বাড়িতে চলে যায়। শনিবার সকালে তৌফিক অফিল ফার্মে কাজ করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে অফিল রোড় ধরে যাওয়ার সময় ক্যাসেট তাকে ডেকে রাস্তা থেকে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর দু’বন্ধুর মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ক্যাসেট ধারালো ছুরিদ্বারা তৌফিকের পেটে আঘাত করে। এ থেকে তৌফিকের পেটে থেকে নাড়ি বাহিরে বের হয়ে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তৌফিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার অবস্থা অবনতি হওয়ায় কারণে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার করেন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পরকীয়ার জের ধরে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশাকরি তদন্তের উপর মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। বর্তমানে এঘটনায় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আমরা আসমীকে আটকের চেষ্টায় আছি।  

 বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালনা : ঝিকরগাছায় চলছে অনিয়মের প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালনা : ঝিকরগাছায় চলছে অনিয়মের প্রতিষ্ঠান

 বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালনা

ঝিকরগাছায় ক্ষমতার জোর দেখিয়ে নিয়ম না মেনেই চলছে অনিয়মের প্রতিষ্ঠান

আফজাল হোসেন চাঁদ :

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে আইনকে কাগজ-কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে স্থানীয় ক্ষমতার জোর দেখিয়ে চলছে একই স্থানে রাস্তার দু'পাশে এজেন্ট ব্যাংকিং নামক সেবা কার্যক্রম। ব্যাংকিং নীতিমালা জেনে, শুনে ও বুঝে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নে বেনেয়ালী ফতেপুর বাজারের গদখালী ইউনিয়ন পরিষদের পাশের মেসার্স মনির ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর মনির উদ্দিন। সে ফতেপুর গ্রামের মহব্বত আলীর ছেলে।

তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, মেসার্স মনির ট্রেডার্স এর প্রোপাইটর মনির উদ্দিন প্রথমে ২০১৯সালে ফতেপুর বাজারের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট নিয়ে তার কার্যক্রম শুরু করেন। ক্রমাগতই তিনি তার ব্যবসায় টাকা খাটালেই টাকাই টাকা লাভ। আর আই লাভ কে আরও লাভে পরিনীত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে আইনকে কাগজ-কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে স্থানীয় ক্ষমতার জোর দেখিয়ে একই এলাকার একই স্থানের রাস্তার অপর পাশে ২০২৩সালের শুরুতেই অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড গদখালী বাজার শাখার ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগসাজসে আরও একটি নতুন এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা নেন তিনি। সেটার নাম হল অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের অগ্রণী দুয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নীতিমালা ২০১৭ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং অপারেশনের জন্য বিচক্ষণ নির্দেশিকায় উল্লেখ্য কলাম- ১০. একটি এজেন্ট হওয়ার যোগ্যতা, ১৪. একজন এজেন্টের অনুমতিযোগ্য কার্যক্রম, ১৫. নিষিদ্ধ কার্যকলাপ, ১৬. চুক্তির জন্য বাধ্যতামূলক বিধান ও ১৮. মূল ভূমিকা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে পর্যালোচনা করে বোঝা যায় একজন ব্যক্তি একের অধিক ব্যাংক থেকে এজেন্ট নিয়ে ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের চূড়ান্ত দায়িত্ব ব্যাংকের। ব্যাংকগুলি আইনানুগ ব্যক্তি এবং তার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিনিধিত্ব করবে না যে এটি আইনবাদী ব্যক্তি বা তার কর্মকর্তাদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছে। এজেন্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ এবং এজেন্টের কার্যকলাপ বা কার্যাবলীর সক্রিয় তদারকি প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলি দায়ী থাকবে।

তাহলে ২০১৯সালে ফতেপুর বাজারের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং নামক একটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও কি ভাবে ২০২৩সালের শুরুতেই অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড গদখালী বাজার শাখার ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান অগ্রণী দুয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর একটি প্রতিষ্ঠান দিলেন! এটা নিয়ে এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বৃদ্ধমান। এলাকার মধ্যে প্রভাবশালী হওয়ায় কারণে মনির উদ্দিন দেদারসে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড গদখালী বাজার শাখার ম্যানেজারকে ম্যানেজ করে নিয়ে তার কার্যক্রম পরিচালনা করাচ্ছেন টেলার জাফরনগর গ্রামের আসলাম, আর অপরদিকে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করাচ্ছেন টেলার হিসেবে নিজ স্ত্রী রেহেনা খাতুনকে দিয়ে। তবে রেহেনা খাতুন উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের রঘুনাথনগরের বাবরআলী সরদার বিশেষ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। তাহলে মনির উদ্দিন স্ত্রী কখন সহকারী প্রধান শিক্ষক বা কখন ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের টেলার হিসেবে হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এই নিয়ে সচেতন মহলের মনে প্রশ্ন বিদ্ধমান!

মেসার্স মনির ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর মনির উদ্দিন বলেন, আমার এজেন্ট ব্যাংকিং দুইটা আছে। ব্যাংকের কোন নির্দেশনা আছে কি একজন ব্যক্তি দুইটা এজেন্ট ব্যাংকিং নিতে পারবে কি না এই সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, হ্যাঁ আছে। স্যারদের সাথে আলাপ পরামর্শ করে আসছি। একটা আমার বউয়ের নামে দিয়ে দিবো। আমি আগে একটা ছাড়তে চাই ছিলাম কিন্তু এখন আমি ছাড়বো না।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড গদখালী বাজার শাখার ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার কাছে একটা লিখিত দেছে যে সে ওইটা ছেড়ে দিয়ে আমারটা নিবে। তবে পূর্বেরটা ছেড়ে দেওয়ার ছাড়পত্র জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি সেটা এখনো দেননি। মনির উদ্দিন তার নিকটতম কোন আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম ট্রান্সফার করতে পারবে কিনা এটার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা আমি বলতে পারবো না।


ঝিকরগাছায় মা ও ছেলের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

ঝিকরগাছায় মা ও ছেলের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ



আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের মা ও ছেলের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মা হলেন মৃত মোরশেদ আলীর স্ত্রী আমেনা খাতুন ও ছেলে বিল্লাল হোসেন। এই কর্মকান্ড পরিচালনা করে বিল্লাল হোসেন নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে আমেনা খাতুনের ব্যাংক একাউন্টের নমিনি হয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের মৃত মোরশেদ আলীর পিতার নাম তারা চাঁদ মন্ডল। আর এই তারা চাঁদ মন্ডলকে পুজি করে নিয়ে আমেনা বেগম তার জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি কার্ড) স্বামীর নাম জালিয়াতির মাধ্যমে মোরশেদ মুছে ফেলে সেখানে মৃত মশিয়ার রহমান সংযুক্ত করে মশিয়র রহমান নামের একজন মৃত মুক্তিযোদ্ধা যার ভারতীয় তালিকায় নং ৪৭৭৫৩, বেসামরিক গেজেট নং ১৬৪৫ ওয়ারেশ সেজে ব্যাংক থেকে প্রতিমাসে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বরাদ্দ সরকারি ভাতা উত্তোলন করছেন এবং সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। এছাড়া আমেনা বেগমের বড় ছেলে বিল্লাল হোসেনও নিজের আইডি কার্ডে জালিয়াতির মাধ্যমে পিতার নাম মোরশেদ মুছে দিয়ে মৃত মশিয়ার রহমান বানিয়ে নিয়ে ঐ একাউন্টের নমিনি হয়েছেন। আমেনা বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র নং ১৯৬২৪১১২৩৭১৮৬৮৭০২ তে সার্চ করে দেখা যায় সরকারি তথ্য ভান্ডারে স্বামীর নাম উল্লেখ রয়েছে মোরশেদ আলী। অথচ তিনি ব্যাংকে একাউন্ট করার সময় যে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়েছেন তাতে তার স্বামীর নামে উল্লেখ রয়েছে মৃত মশিয়ার রহমান। অনুরূপ ভাবে বিল্লাল হেসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র নং ১৯৮২৪১১২৩৭১৯২০৮৬৩ এ সার্চ করে দেখা যায় সরকারি তথ্য ভান্ডারে তার পিতার নাম আছে মোরশেদ আলী। কিন্তু তার মায়ের একাউন্ট করার সময় নমিনি করতে যে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিয়েছেন তাতে তার পিতার নাম মৃত মশিয়ার রহমান। মা ও ছেলে মিলে এই জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক, ঝিকরগাছা শাখা থেকে ২৩৮০২৩০০৩২৪১ নং একাউন্ট থেকে ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা উত্তোলণ করে সরকারি ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 

এ বিষয়ে জানতে আমেনা বেগমের গ্রামের বাড়ি কুলিয়া গেলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামীর নাম মশিয়ার আর লোকে ডাকতো মোরশেদ বলে। মশিয়ার নামে কোনো ডকুমেন্টস তিনি দেখাতে পারেননি। এসময় তিনি আরও বললেন, এ বিষয়ে সব আমার ছেলে বিল্লাল জানে।

বিল্লাল হোসেন সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এটার বিষয়ে আপনার শোনার দরকার নেই বলে ফোন কেটে দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুল হক বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর ব্যাংক থেকে তাদের টাকা উত্তোলন বন্ধ করে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। সেখানে তারা এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারায় একাউন্টের লেনদেন বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় আছে।


ঝিকরগাছায় ক্লিনিকের মালিক ও দাদার ষড়যন্ত্রে প্রাণ হারালো প্রতিবন্ধী নবজাতক

ঝিকরগাছায় ক্লিনিকের মালিক ও দাদার ষড়যন্ত্রে প্রাণ হারালো প্রতিবন্ধী নবজাতক

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় ক্লিনিকের মালিক ও দাদার ষড়যন্ত্রে প্রাণ হারালো প্রতিবন্ধী নবজাতক। এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামক এক প্রতিষ্ঠানে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের বাঁকড়া মঠপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে ইমন হোসেন (২৩) এর সাথে বাঁকড়া গুন্ধরমোড় গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে মেয়ে সুমি খাতুন (২০) প্রায় ২বছর পূর্বে প্রেমোজ সম্পর্ক করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পিতা মাতার অমতে বিবাহ করায় অদ্যবধি সুমির পরিবার মেনে নেয়নি। সংসার জীবনে স্রষ্টার রহমতে সুমির গর্ভে একটি সন্তান আসে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সুমির শ্বশুর বাড়ির লোকজন খুশি হয়ে তাকে প্রথমে গত ১০ জুন ঝিকরগাছা পৌর সদরের পারবাজার সংলগ্ন পাঁচপুকুরের সামনে পূর্বাশা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকে পেগনেসির জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর জন্য নিয়ে আসে। ক্লিনিকের ডাঃ ইসমত আরা মৌসুমী পরিক্ষা করে রির্পোট দেন সুমির পেটে দু’টা বাচ্চা আছে। শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম মনে মনে চিন্তা করে আমার বৌমা (সুমি) এর বয়স অল্প কি করে তার দু’টা বাচ্চা হতে পারে। যার জন্য পরবর্তীতে ৫ জুলাই সুমিকে শার্শা উপজেলার বাঁগআচড়া বাজারের জোহরা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গিয়ে চেকআপ করালে সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন রোগীর পেটের বাচ্চার অবস্থা ভালো না। আপনারা রোগীকে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে আমাকে রিপোর্ট গুলো একটু দেখাবেন। যথারীতি ৭জুলাই যশোর কুইন্স হাসপাতাল (প্রাঃ) লিঃ এ নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে প্রমাণ হয় সুমির গর্ভে প্রতিবন্ধী নবজাতক রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম মনে মনে জ্বলতে থাকে আর প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। যেমন পরিকল্পনা তেমন কাজ ১১ আগস্ট (শুক্রবার) দুপুরের দিকে সুমিকে একতা মেডিকেল সার্ভিসে নিয়ে আসা হয়। তখন সুমির গর্ভে থাকা বাচ্চার হার্ডবিট চলছিল বলে একতা মেডিকেল সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানান। তখন সুমিকে একতা মেডিকেল সার্ভিস কর্তৃপক্ষ তাকে ৫৭মিনিটের জন্য অক্সিজেন দেওয়ার পর সুমির শ্বশুর বা প্রাণ হারানো প্রতিবন্ধী নবজাতকের দাদা সিরাজুল ইসলাম ক্লিনিকের ছয়শত টাকার পরিবর্তে চারশত টাকা বিল পরিশোধ করে রোগীকে বিকালের দিকে বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে আসে এবং রোগীর কাগজপত্র বিহীন তাকে ভর্তি করে দ্রুত রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান এবং বাচ্চা ডেলিভারী করানোর চেষ্টা করেন। রাত অনুমান ১১টার দিকে ক্লিনিকের মালিকের স্ত্রী ও ক্লিনিকের ডেন্টিস মোছাঃ নিলুফা ইয়াসমিন কর্তৃক নলমাল ভাবে একটি প্রতিবন্ধী নবজাতকে ভূমিষ্ঠ করানো হয়। তবে সেই সময় ক্লিনিকে কোনো ডাক্তারের উপস্থিতি ছিলো না বলে জানা যায়। তবে ঘটনার দিন সুমির বাপের বাড়ির পরিবারের পক্ষ হতে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যশোরে নিতে যাওয়া হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীকে ছাড়পত্র দেননি। তারা বলেন, নলমাল অথবা সিজার করতে হলে আমাদের এখানে ব্যবস্থা আছে আমরাই করবো। ক্লিনিকের মালিকের স্ত্রী ও ক্লিনিকের ডেন্টিস মোছাঃ নিলুফা ইয়াসমিন তিনি গাইনী ডাক্তার বা অভিজ্ঞতা সর্ম্পূণ নার্স কি না এই বিষয়ে ক্লিনিকে জানতে চাওয়া হলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন আমার স্ত্রীর সার্টিফিকেট রয়েছে। তবে সার্টিফিকেটের ছবি তুলে যাচাই-বাছায়ের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের নিকট পাঠালে তিনি বলেন, এই কোর্স সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই, সুতরাং সার্টিফিকেট সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে পারছিনা তবে সিভিল সার্জন অফিসে যোগাযোগ করলে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

সুমির স্বামী বা প্রাণ হারানো প্রতিবন্ধী নবজাতকের পিতা  ইমন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিভিস করেনি। পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে রাখেন। 

সুমির শ্বশুর বা প্রাণ হারানো প্রতিবন্ধী নবজাতকের দাদা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি চেষ্টা করেছি না বাঁচলে আমরা কি করবো! 

পূর্বাশা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে জানা যায়, তাদের ডাক্তার মেশিনের মাধ্যমে চেকআপ করে সুমির গর্ভে দু’টা বাচ্চা পেয়েছে। তবে এখন কি ভাবে একটা বচ্চা হল সেটা তারা বলতে পারবে না !

একতা মেডিকেল সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইবাদুল ইসলাম বলেন, আমার ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় বাচ্চার হার্ডবিট ভালো ছিলো। তবে পরে তার শ্বশুড় আমার এখান থেকে বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে গেছে।

বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী, সুমিকে নরমাল ভাবে ডেলিভারী করিয়েছে। বাচ্চা প্রতিবন্ধী ও মরা হয়েছে। ডেলিভারী করার পর আমাদের কলারোয়া উপজেলা হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ডাঃ তরিকুল ইসলাম এসে উপস্থিত হন। তখন ডাক্তারকে আপ্যায়ন করে বিদায় দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ রশিদুল আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি ভালো ভাবে অবগত নয়। আমার নিকট কেউ অভিযোগ করেনি। আমার নিকট অভিযোগ আসলে আমি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

ঝিকরগাছায় প্রাচীন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

ঝিকরগাছায় প্রাচীন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের অর্ন্তগত বামনআলী চাঁপাতলা গ্রামের হাজার-হাজার মানুষের চলাচলের পথ ও এলাকার সাধারণ মানুষের বাচ্চাদের খেলার স্থান বন্ধ করে বামনআলী চাঁপাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রাচীর নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকাল ১০টার সময় বামনআলী চাঁপাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের সামনের রাস্তায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, গ্রামবাসীর পক্ষে আশিক মাহমুদ, রিপন খা, মাষ্টার সোহেল, মশিয়ার রহমান, আলম, শাহাজান আলী, তৈয়ব আলী, বড় বাবু, ইমন, মিরাজ, জেকে, শাকিব, সুমন, অপু, উসমান, সজল, আঃ রহিম, করিম, আবু সাঈদ, তন্ময়, আকাশ, তামিম, সাইফুল, মিঠু, হৃদয়, রিয়াজ, শামিম, ফয়েজ, রেজা, তানভীর, রাব্বি, জয় শতশত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

ঝিকরগাছায় যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী নির্যাতন : স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

ঝিকরগাছায় যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী নির্যাতন : স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

আফজাল হোসন চাঁদ :

যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন স্ত্রীর পিত্রালয়ে এসে নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। সে ৫নং পানিসারা ইউনিয়নের বেজিয়াতলা গ্রামের মশিয়ার রহমানের মেয়ে শারমিন আক্তার (২৪)। অভিযোগে বিবাদীরা হলেন, মনিরামপুর থানার মুড়াগাছা গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে শাহিন আলম(৩১), মৃত জুড়ন দফাদারের ছেলে দ্বীন মোহাম্মদ(৬০), দ্বীন মোহাম্মদের স্ত্রী শাফিয়া খাতুন(৫৫), আলাল হোসেনের স্ত্রী হাসিনা খাতুন (৩৫), রফিকুল ইসলাম নুনুর স্ত্রী রেক্সনা বেগম (৪০)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিবাদী শাহীন আলমের সাথে বিগত ২৪/০৭/২০১৬ইং তারিখে ৩লক্ষ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে বাদী শারমিন আক্তারের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ১নং বিবাদীর ঔরষে বাদীর গর্ভে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বাদীর পিতা তার মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ১ভরি ওজনের স্বর্ণের চেন, চারানা ওজনের আংটি, ১লক্ষ টাকার সাংসারিক আসবাবপত্র দেয়। পরবর্তীতে ১নং বিবাদী বিদেশ যাওয়ার কথা বলে ৩লক্ষ ২০হাজার গ্রহণ করে। ছেলে হওয়ার পর ২ও৫নং বিবাদীর প্রত্যক্ষ প্রচারণায় ১নং বিবাদী বাদীর নিকট ৫লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবি করে বাদীকে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। বাদী যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ১৮/০৬/২০২১ইং তারিখ সকাল ৯টার সময় বাদীকে মারধর করে শিশু সন্তানসহ একবস্ত্রে তাড়িয়ে দেয়। বাদী নিরুপায় হয়ে তার পিতার বাড়িতে এসে পিতাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। বাদীর পিতা উক্ত বিষয়ে আপোষ মিমাংসার জন্য বিবাদীদের সাথে যোগাযোগ করলে গত ১৭/০৮/২০২১ইং তারিখ ৪টায় সকল বিবাদীরা বাদীর পিত্রালয়ে আলোচনায় বসে। আলোচনায় একপর্যায়ে বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে ৫লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে অনড় থাকে। স্থানীয় লোকজন যৌতুকের দাবি পরিত্যাগ করে শিশু সন্তানসহ বাদীকে নিয়ে সংসার করার অনুরোধ করলে বিবাদীরা অনুরোধ উপেক্ষা করে বলে যৌতুকের টাকা না দিলে বাদীকে তালাক দিয়ে অধিক যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিবাহ করবে বলে হুমকি দেয় ২ ও ৫নং বিবাদীর প্রত্যক্ষ প্রচরণায় ১নং বিবাদী বাদীকে কিল, ঘুষি মেরে সকল বিবাদীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে বাদী নিরুপায় হয়ে ঝিকরগাছা থানাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের একপর্যায়ে থানা পুলিশ ঘটনাটি মিমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিবাদীরা এটা মেনে নিতে নারাজ হওয়া অভিযোগের উপর ভিত্তি করে অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১ (গ)/ ৩০ ধারায় মামলা রুজু করেন। মামলা নং ১১, তারিখ ১৪/০৯/২০২১ইং।

ঘটনার বিষয়ে ১নং বিবাদী শাহিন আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ০১৭৫৯-৯৯০০৭০ নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। তখন ১নং বিবাদীর পিতা ও মাতা (২ ও ৩ বিবাদী) সাথে যোগাযোগ করে ঘটনা ও যৌতুকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা সর্ম্পূণ বিষয় অস্বিকার করেন।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমার নিকট একটি অভিযোগ হয়। অভিযোগের উপর তদন্ত পূর্বক ঘটনাটির মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিবাদী পক্ষ মানতে রাজী না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ১নং আসমী পালাতক ও ৪জন আসামী বর্তমানে বিজ্ঞ আদালত হতে জামিনে আছে। ১নং আসমীকে আটকের চেষ্টা চলছে। আশাকরি দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ঝিকরগাছার পল্লীতে জমি ক্রয় করে বিপাকে অসহায় পরিবার : আদালতে নিষেধাজ্ঞার মামলা

ঝিকরগাছার পল্লীতে জমি ক্রয় করে বিপাকে অসহায় পরিবার : আদালতে নিষেধাজ্ঞার মামলা

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছার পল্লীতে জমি ক্রয় করে বিপাকে অসহায় পরিবার। এলাকার মধ্যে কোন ভাবে মিমাংশা করতে না পেরে অবশেষে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারার নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করেছেন উপজেলার ১নং গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের আটুলিয়া গ্রামের জামাত আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম। মামলার বিবাদী করা হয়েছে একই গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে মতিয়ার রহমান ও আতিয়ার রহমান।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা থানার ৪নং আটলিয়া মৌজায় ১২৫৪ নং আরএস খং, ৫১৬৬ নং আরএস দাগে ৮৭শতক জমির মধ্যে উত্তর পূর্ব কোনের ৪শতক জমি বাদে বক্রী ৮৩ শতক জমির বিষয়ে বাদী শরিফুল ইসলাম বিগত ২৯/০৬/২০০৫ ইং তারিখে আরএস রেকর্ডীয় প্রজা হাজেরা বেগমের নিকট থেকে আরএস রেকর্ডমূলে সম্পাদিত ও রেজিস্ট্রিকৃত ৫০০২নং কবলা দলিলমূলে  ক্রয় করে।  খরিদাসূত্রে স্বত্ত্ববান ও দখিলকার হয়ে জমিতে মেহগনি, বাঁশঝাড়, সজনে গাছের বৃক্ষাদি রোপনে উপস্বত্ত্বাদি গ্রহণে, চাষাবাদে ফসলাদি উৎপাদন গ্রহনে সরকার সেরেস্তায় খাজনাদায়ে দাখিলাপ্রাপ্তে স্বত্ত্বদখলে থাকাকালে ২০ সেপ্টেম্বর সকাল অনুমান ১০টার সময় বাদীর নালিশী জমিতে দূর্দান্ত বিবাদীপক্ষ কতিপয় সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে নালিশী জমিস্থ বৃক্ষাদি কেটে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাদিপক্ষ স্বাক্ষীগণ সহ স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিগণের সহযোগিতায় বিবাদীপক্ষের উক্তরুপ বেআইনী কার্য্য করা হতে বিরত রাখেন।

তবে বিবাদীপক্ষ চলে যাবার কালে বাদীপক্ষকে শাসাইয়া বলেন, তাহারা অচিরেই অধিক সংখ্যক সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে নালিশের জমিতে এসে বৃক্ষাদি কেটে ফেলবে এবং উক্ত জমিতে গৃহাদি নির্মাণ করিবে। এমতাবস্থায় বাদীপক্ষ স্বপরিবারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাদী কোন কুলকিনারা না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারা অনুযায়ী প্রসেডিং ড্র করতঃ নিষেধাজ্ঞার আদেশ চান। বিজ্ঞ আদালতে পি-৯৪৫/২১ নং মামলায় বাদীর নালিশ আমলে নিয়ে উক্ত জমিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১৭৪৫ নং স্মারকে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ দেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিজ্ঞ আদালত থেকে একটি নিষেধাজ্ঞার মামলার বিষয়ে আমার নিকট একটি আদেশ এসেছে। অবিলম্বে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। বর্তমানে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


অশালীন কুরুচিপূর্ণ ভাষায় নাটক নির্মাতা এই হ্যালোর কবির বিন সামাদ’র বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

অশালীন কুরুচিপূর্ণ ভাষায় নাটক নির্মাতা এই হ্যালোর কবির বিন সামাদ’র বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

 
আফজাল হোসেন চাঁদ :

অশালীন কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তব্য দিয়ে নাটক তৈরি করায় ঠিকানা টিভির পরিচালক যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার একাধিক গুণে পরিচিত, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বক্তা, শিল্পী, অভিনেতা ও এই হ্যালোর কবির বিন সামাদ’র বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন যশোরের জর্জ কোর্টের আইনজীবী আমিনুর রহমান হিরু। কবির বিন সামাদ যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের নবগ্রামের মৃত আঃ সামাদ মাস্টার’র ছেলে।

সম্প্রতি গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে মাষ্টার মশাইয়ের ভোঁ দৌড় শিরোনামে একটি নাটক তৈরি করে ঠিকানা টিভি ডটকম নামের একটি অনলাইন পেজে। ছাত্র ও কৃষকদের নিয়ে অবমাননাকর ভিডিওতে আপত্তিকর কিছু বাক্য ব্যবহার করা হয়। যেখানে ছাত্র ও কৃষক সমাজকে মানহানি ও চরম অবমাননা করেছে বলে দাবি করেছেন ঝিকরগাছা দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও অরাজনৈতিক সংগঠন সেবা এর সভাপতি মাস্টার আশরাফুজ্জামান বাবু। তিনি ছাত্রদের অত্যান্ত অশালীন ভাষায় সম্বোধন করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। সেই জন্য তিনি কবির বিন সামাদ কে সাবধান করার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর বুধবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন যশোরের জর্জ কোর্টের আইনজীবী আমিনুর রহমান হিরুর মাধ্যমে। তিনি (যশোরের জর্জ কোর্টের আইনজীবী আমিনুর রহমান হিরু) লিগ্যাল নোটিশে ‘মাস্টার মশাইয়ের ভো-দৌড়’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে আপত্তিকর কিছু বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেটা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যার জন্য তাকে (কবির বিন সামাদ) লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে এবং পরবর্তীতে এমন ভিডিও প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় তাহার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন এ আইনজীবী।

ঘটনার বিষয়ে কবির বিন সামাদ বলেন, আমাদের কনসেপ্টে আমরা আঞ্চলিক ভাষা আমরা ব্যবহার করি। আমাদের ভিডিওতে ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে বর্তমান সময়ে মানুষের কাছে দৃষ্টিকটুর বলা যায়। তবে আমরা যখন এটা করেছিলাম সেই সময় আমাদের এমনটা মনে হয়নি। যখন তারা আমাদের বলল তখন আমরা বুঝলাম যে আমাদের শব্দ চয়ন ভূল হয়েছে। এখন তো মানুষ দিনদিন আপডেট হচ্ছে। এখন বুঝতে পেরেছি সমস্যা হয়েছে। বর্তমানে সমস্যাকৃত ভিডিওটি তুলে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের মানহানী করে তো আমরা কিছু করবো এটা তো হতে পারে না। আমরা আগামী দিনগুলোতে সর্তক থাকবো। আমরা সাধারণত ভাবতাম আমাদের ভিডিও হাঁসি, ঠাট্টা ও তামশার মধ্যে সিমাবদ্ধ। আমরা আগামী সময়ে কেউ ব্যথা পায় এমন ভিডিও তৈরী থেকে বিরত থাকবো। আজকের পরবর্তী সময়ের পরে আমি আর এমন শব্দ ব্যবহার কোন ভিডিও তৈরী করবো না।  


 ঝিকরগাছায় সাপের কামড়ে ৩ সন্তানের জননীর মৃত্যু

ঝিকরগাছায় সাপের কামড়ে ৩ সন্তানের জননীর মৃত্যু

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে হীরা খাতুন(৩০) নামে ৩ সন্তানের জননী এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের আশিংড়ি গ্রামের শিমুল হোসেন(৪০) এর স্ত্রী। বুধবার (১৫ ই সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজন ও গ্রামবাসী মিলে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সাপে কাটার পর তাকে যদি উপজেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিতো তাহলে হয়তো সে ভালো হয়ে যেতো বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবী করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাশিদুল আলম বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে এন্টিভেনাম ইনজেকশন সরবরাহ থাকলেও রোগীর পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আশার পূর্বে গ্রাম্য চিকিৎসা দেয়। রোগী যখন অর্ধমৃত ঠিক সেই সময় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তার শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ করার মতো অবস্থায় ছিলো না। যার জন্য তাকে যশোরে রেফার করা হয়।


 ঝিকরগাছার কপোতাক্ষ ব্রিজে ক্রমাগতই চলছে তদন্ত : আশার আলো দেখতে পাবে কি যশোরবাসী !

ঝিকরগাছার কপোতাক্ষ ব্রিজে ক্রমাগতই চলছে তদন্ত : আশার আলো দেখতে পাবে কি যশোরবাসী !

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর অপরিকল্পিত ভাবে নির্মিত নদ মারা ব্রিজের বিষয়ে স্থানীয় জনতার দাবীতে ক্রমাগতই চলছে তদন্ত। আর এই তদন্তে আশার আলো দেখতে পাবে কি যশোরবাসী এটা নিয়ে জনমতে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন উকি দিতে দেখা যাচ্ছে। গত ০৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (বাংলাদেশ) সওজ ও সড়ক বিভাগ যশোরের আয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এপরই সোমবার ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় আবারও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ৫ সদস্যের একটি টিম সরজমিনে তদন্ত করেও প্রকৃতপক্ষে ব্রিজ তৈরিতে তাদের অনুমতি ও ব্রিজের শ্রেণি বিন্যাসে সঠিক নিয়ম কানুন মানা হয়নি এবং ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর গেজেটের তৃতীয় শ্রেণির সেতু নির্মানে ১৬ ফুট নিচু হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএ'র তদন্ত টিম সরেজমিনে তদন্তপূর্বক স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিকট এটা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ৫ সদস্যের টিমের আহবায়ক ছিলেন, খুলনা দক্ষিণ ব-দ্বীপ শাখা, বাঅনৌপক এর যুগ্ম পরিচালক (নৌ-সওপ) মোঃ আশরাফ হোসেন, সদস্য খুলনা নদী বন্দর বাঅনৌপক উপ পরিচালক (বওপ) দিপক কুমার ঘোষ, খুলনা প্রকৌশলী বিভাগ খুলনা ডিভিশন বাঅনৌপক এর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মোঃ রবিউল ইসলাম, সদস্য সচিব ঢাকার নৌ-সওপ বিভাগ বাঅনৌপক এর উপ পরিচালাক (সদর দপ্তর, চ.দা) শাহ আলম, সদস্য ঢাকার হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ বাঅনৌপক এর উপ সহকারী পরিচালক (জরিপ) তপন সিকদার। এসময় তাদেও সাথে ছিলেন, ঝিকরগাছা ব্রিজ বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা আমানুল কাদির টুল্লু, আহবায়ক মাস্টার আশরাফুজ জামান বাবু, সদস্য- তফিকুল ইসলাম স্বপন, আতাউর রহমান জসি, নুরুল্লাহ খান রুমি, তরিকুল ইসলাম, আফজাল হোসেন চাঁদ, উজ্জল হোসেন, সুমন, আবু বক্কার, নরায়ণ চন্দ্র সহ আরো অনেকে।