অপরাধ Home খুলনা ঝিকরগাছা যশোর শিক্ষা ও সংস্কৃতি সারাদেশ হোম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপরাধ Home খুলনা ঝিকরগাছা যশোর শিক্ষা ও সংস্কৃতি সারাদেশ হোম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংরক্ষিত নারী আসনে এমপির মনোনয়নে মনোনীত ঝিকরগাছার সাবিরা সুলতানা মুন্নী

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপির মনোনয়নে মনোনীত ঝিকরগাছার সাবিরা সুলতানা মুন্নী

 সংরক্ষিত নারী আসনে এমপির মনোনয়নে মনোনীত ঝিকরগাছার সাবিরা সুলতানা মুন্নী

আফজাল হোসেন চাঁদ :

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নী মনোনয়ন ঘোষণার পর যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসন জুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে দলীয়ভাবে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের নাম ঘোষণা করা হলে মুহূর্তেই এ খবর যশোর-২ সহ পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবিরা সুলতানা মুন্নী বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। তার স্বামী যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম ২০১১ সালে গুমের শিকার হন। এরপর ঝিকরগাছা বিএনপির রাজনীতিতে হাল ধরে তিনি দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল তাকে মূল্যায়ন করে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের মনোনয়ন দেয়। কিন্তু দলীয় কিছু কোন্দল ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের কাছে তিনি পরাজিত হন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে ৩৬জন প্রার্থীর তালিকায় সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণা করেন। খুলনা বিভাগের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে ২জন মনোনয়নে মনোনীত হয়েছে এবং তার মধ্যে তিনিও রয়েছেন। এর আগে ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জামায়াত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের কাছে পরাজিত হন। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, সামাজিক উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। দলের সংকটকালে রাজপথেও সোচ্চার ছিলেন। হামলা, মামলা, জেল জুলুম উপেক্ষা করে দলকে সংগঠিত করেছেন। দল তাকে আবারও মূল্যায়ন করে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নে মনোনীত করেছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ায় সাবিরা সুলতানা মুন্নী বলেন, আমি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়াও আমাদের দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।  কারণ দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে, এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি এলাকার মানুষ আমার সঙ্গে ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।


ঝিকরগাছায় এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৫৫ : কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়

ঝিকরগাছায় এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৫৫ : কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়

ঝিকরগাছায় এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৫৫ : কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৮টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ৫৫ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল এবং কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। উপজেলার মধ্যে এবার সর্বমোট শিক্ষার্থী ছিল ২ হাজার ৩৩৭ জন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় ঝিকরগাছা সরকারি এমএল মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৫৭৬ জন, উপস্থিত ৫৭৪ জন এবং অনুপস্থিত ২ জন। ভোকেশনালে মোট পরীক্ষার্থী ১২৩ জন, উপস্থিত ১২০ জন এবং অনুপস্থিত ৩ জন। এছাড়াও ঝিকরগাছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ২৯৪ জন, উপস্থিত ২৯০ জন এবং অনুপস্থিত ৪ জন। উপজেলায় হাইস্কুল (জেনারেল), মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল মিলিয়ে সর্বমোট শিক্ষার্থী ছিল ২ হাজার ৩৩৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৩৮ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ১৯৯ জন। তবে ২ হাজার ২৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং ৫৫ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। যার মধ্যে ছাত্র ১২ জন এবং ছাত্রী ৪৩ জন। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রশাসক ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম, যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি দলের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়ামত এলাহী এবং বিজনেস টিমের সদস্য এসএম রওনাকুল হক। ঝিকরগাছা সরকারি এমএল মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার অলিয়ার রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও হল সুপার এএফএম সাজ্জাদুল আলম, সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, আফরোজা খানম, রাজিয়া সুলতানা, সুমা কর্মকার, আমিরুল ইসলাম, স্বপন কুমার ঘোষ, উজ্জ্বল বিশ্বাস, দেবাশীষ বিশ্বাসসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অপর দিকে  ঝিকরগাছা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব আহাসান উদ্দিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও হল সুপার এএফএম সাজ্জাদুল আলম আরও অনেকে। 

পরীক্ষা সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রশাসক ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, “আমাদের সন্তানরা তাদের মেধার মাধ্যমে তাদের অর্জিত ফলাফল সংগ্রহ করবে। তাদের সমস্যা হবে এমন কাজ থেকে আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। পরীক্ষার বিষয়ে কোনো প্রকার অনিয়মের কথা আমার নিকট এলে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আপনারা সবাই দায়িত্বের সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।”

ঝিকরগাছা সরকারি এমএল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আজাদ বলেন, “পরীক্ষার পূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিকভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি কেন্দ্রেই পরিদর্শন করেছেন।” পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “প্রতিটি শিক্ষার্থীই আমার সন্তানের মতো। তারা সবাই ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হোক-আমি তাদের জন্য সর্বদা এই দোয়া করি।”


ঝিকরগাছায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক : ঋণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি

ঝিকরগাছায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক : ঋণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি

ঝিকরগাছায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক : ঋণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি 



আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (৪৬০৫) শাখায় ঋণ বিতরণকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে শার্শা উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক সালমা খাতুন এবং মাঠকর্মী তাপস পাল। তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত দরিদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বঞ্চিত করে আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঋণ বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যাংকের ঋণ তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। অথচ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন।

অভিযোগ উঠেছে, সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত করে ঋণের অর্থ চলে গেছে বিত্তবানদের হাতে। সালমা খাতুন ২২/১০/২০১৮ ইং তারিখে ঝিকরগাছা শাখায় যোগদান করেন এবং ২৭/১১/২০২২ ইং পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বকালীন সময়ে ১৯/০৬/২০২২ ইং তারিখে তার আত্মীয় নাসিমা বেগম (সদস্য নং ৪১২৩৩৫৩৭০৩০) এর নামে ১ লক্ষ টাকা এবং রাবেয়া বেগম (সদস্য নং ৪১২৩৩৫৩৭০১৫) এর নামে ১ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়।

এছাড়াও ০৪/০৮/২০২২ ইং তারিখে মোজাম্মেল বিশ্বাস (সদস্য নং ৪১২৩৩৫০৬১০১৭), জান্নাতুল নাহার মোহনা (সদস্য নং ৪১২৩৩৫০৬১০৩৬) এবং ছবিরন বেগম (সদস্য নং ৪১২৩৩৫০৬১০৫৯) এর নামে যথাক্রমে ১ লক্ষ, ১ লক্ষ এবং ৫০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। দুই দফায় মোট ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রাবেয়া বেগম ও তার মেয়ে ছবিরন বেগম অফিসে উপস্থিত না হয়েই তাদের নামে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অর্থ সালমা খাতুনের আত্মীয় মোজাম্মেল বিশ্বাসের কাছে গেছে। এছাড়াও জান্নাতুল নাহার মোহনা ২৬/০২/২০২৬ ইং তারিখে মাত্র ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। সংবাদকর্মীদের অনুসন্ধানের পর গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাবেয়া বেগম ও তার মেয়ে ছবিরন বেগমের ঋণ পরিশোধ করা হলেও বাকি তিনজনের ঋণ এখনো বকেয়া রয়েছে বলে অফিস সূত্রে জানা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাহকের অজান্তেই তাদের নামে ঋণ তোলা হয়েছে। তারা বলেন, “আমরা কোনো সংস্থা থেকে টাকা নিলে আমাদের জেল খাটতে হয়, কিন্তু এখানে আত্মীয়তার মাধ্যমে প্রায় চার বছর ধরে টাকা উত্তোলন করে তা হজম করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।” তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

রাবেয়া বেগম বলেন, “আমি কোনো লোন নেয়নি। কে কী করেছে আমি জানি না। আমি ওই অফিসেই কোনোদিন যাইনি।” তবে পরবর্তীতে তিনি বলেন, “আমাদের সাথে তাদের রাগারাগি ছিল, তাই এমন বলেছিলাম। এখন লোন শোধ করে দিয়েছি।”

মোজাম্মেল বিশ্বাস বলেন, “আমি লোন নিয়েছি। আমিই শোধ করবো। কে তথ্য দিয়েছে সেটা বলেন, আমি দেখছি।”

মাঠকর্মী তাপস পাল বলেন, “আমাদের সালমা ম্যাডাম ছিলেন। উনার আত্মীয় দোলাভাই আপন। বস যদি বলে, তাহলে তো দিতে হয়।” রাবেয়ার উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা অবশ্যই এসেছিল।”

সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সালমা খাতুন বলেন, “লোন দিয়েছি। লোন কি পরিশোধ হবে না? তারা অস্বীকার করছে না। অডিট টিম আছে, তারা ব্যবস্থা নেবে।” আত্মীয়তার বিষয়ে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তারা আমার আত্মীয়। তবে অফিসিয়ালি তারা সমিতির গ্রাহক। এক পরিবারে একাধিক ঋণ দেওয়ার কোনো বাধা তখন ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “রাবেয়া ও তার মেয়ের বিষয়টি পারিবারিক সমস্যা। তারা একসাথে থাকাকালীন ঋণ নিয়েছিল, পরে আলাদা হয়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখন আমার দোলাভাই বলছে, সে ঋণ পরিশোধ করবে।”

বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আগে নিয়ম ভিন্ন ছিল, পরে এক পরিবারে একজনের নীতিমালা এসেছে। এখন মূল বিষয় হলো খেলাপি ঋণ আদায়। ৫ জনের মধ্যে ২ জনের টাকা পরিশোধ হয়েছে, আর ৩ জনের টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে।”

জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিনিয়র অফিসার মো. জাকির হুসাইন বলেন, “বিষয়টি জানা আছে। তারা দ্রুত পরিশোধ করবে বলেছে। না করলে তাদের বাধ্য করা হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।


ঝিকরগাছায় কনন্টেন ক্রিয়েটর মিলন মেলা অনুষ্ঠিত -চাঁদনী বিডি

ঝিকরগাছায় কনন্টেন ক্রিয়েটর মিলন মেলা অনুষ্ঠিত -চাঁদনী বিডি

 ঝিকরগাছায় কনন্টেন ক্রিয়েটর মিলন মেলা অনুষ্ঠিত

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কনন্টেন ক্রিয়েটর মিলন মেলা-২০২৬। নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের পারস্পরিক পরিচিতি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৩টা থেকে পৌর সদরের কাটাখাল পৌর পার্কে এ মিলন মেলার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলার সাহিত্য অঙ্গনের পরিচিত মুখ, সাহিত্যিক শফিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আফজাল হোসেন চাঁদ।

ঝিকরগাছা কনন্টেন ক্রিয়েটর মিলন মেলার আয়োজক “বিখ্যাত মনীষীদের বাণী” ও “জহির কাঁচা বাজার”-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি এবং সঞ্চালনা করেন ওহিদুল ইসলাম এম বাপ্পী। মেলায় বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কনন্টেন ক্রিয়েটররা অংশগ্রহণ করেন।

উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন জুয়েল রানা, কাঙ্গাল টি স্টোর, রাকিব হোসেন (যশোর আমার প্রাণ), জীবন যুদ্ধের সৈনিক, আনিসুর রহমান, ইত্যাদি টিভি, স্বপ্ন দেখা মানা, ইসরাফিল খান, আলম হোসেন, নজরুল ইসলাম সরকার, শাহাদৎ হোসেন, এসকে উজ্জ্বল, বাবু, আল আমিন নিরব, বাবুল আক্তার, আইলাভ যশোর, জসিম ইসলাম, জনি, সেলিম হোসেন, ইব্রাহীম খলিল, রমজান আলী, জিএম আল আমিন, হাসান আলী, মাসুদ রানা, শামিম কবির রনী, ভালবাসার অনুপ্রেরণা, সায়েদ আলীসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সমাজের নানা দিক তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিবাচক পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে পারেন। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। মিলন মেলাটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।


ঝিকরগাছায় তেলের লাইনে অনিয়মে জিরো টলারেন্স : ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদ’র কড়া অভিযান

ঝিকরগাছায় তেলের লাইনে অনিয়মে জিরো টলারেন্স : ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদ’র কড়া অভিযান

ঝিকরগাছায় তেলের লাইনে অনিয়মে জিরো টলারেন্স :

ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদ’র কড়া অভিযান

আফজাল হোসেন চাঁদ :

তেলকে ঘিরে অযথা ভিড়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং আইন অমান্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন। নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের নেতৃত্বে ফিলিং স্টেশনে পরিচালিত অভিযানে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিকরগাছা পৌর সদরের হাজেরালী বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ জালাল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। অভিযান চলাকালে মোটরসাইকেল চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র, হেলমেট এবং জ্বালানি ট্যাংক কঠোরভাবে তল্লাশি করা হয়। এতে একাধিক চালককে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও পুনরায় তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি অনেকেই বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেট ছাড়াই চলাচল করছিলেন, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।

ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, “দেশে তেলের কোনো সংকট নেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “অপ্রয়োজনীয়ভাবে লাইনে দাঁড়ানো, একাধিকবার তেল নেওয়ার চেষ্টা, কিংবা নিয়ম ভঙ্গ এসবের বিরুদ্ধে এখন থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, “আজকে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপর কেউ একই ধরনের অনিয়মে জড়িত হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা, লাইসেন্স জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

উপজেলা প্রশাসন জানায়, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় তেল উত্তোলন ও বিতরণ কার্যক্রমে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো, মজুতদারি কিংবা বাজার অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানে ইতোমধ্যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে তেল নিয়ে জনমনে থাকা অস্থিরতা দ্রুত কেটে যাবে।