ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

 ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা : বাঁশবাগান থেকে লাশ উদ্ধার

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুরে আবু হুরাইয়া মিম (২৮) নামে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে তার বাড়ির পাশে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক সংলগ্ন একটি বাঁশবাগান থেকে রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত মিম কীর্তিপুর মোড় এলাকার মশিয়ার রহমান ওরফে মশির ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে মিম বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে মহাসড়কের পাশের একটি বাঁশবাগানে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে বন্ধুদের শত্রুতার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে নিহতের স্ত্রী নিলা খাতুন জানান, ঘটনার সময় তিনি একই গ্রামে বাবার বাড়িতে ছিলেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। রাতে মিমের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও মিম আর ফোন রিসিভ করেননি। নিলা খাতুনের দাবি, বন্ধুদের সাথেই মিমের শত্রুতা ছিল এবং তারাই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকতে পারে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, নিহতের মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর কোপের দাগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে অত্যন্ত বর্বরভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে রেখে গেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল) ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি এবং থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।


ঝিকরগাছায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত 

আফজাল হোসেন চাঁদ :

যশোরের ঝিকরগাছায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায়ে প্রকল্পের কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১১টার সময় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ।

এসময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “গ্রাম আদালত হচ্ছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারপ্রাপ্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। সমাজে বৈষম্য ও বিরোধের হার কমাতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সকলকে আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমানভাবে ন্যায়বিচার পেতে পারেন। ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার এ্যাড. মহিতোষ কুমার রায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরবৃন্দ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান। 

 

চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল : পেশাদারিত্বের সংকট, সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের নতুন প্রত্যয়  -আফজাল হোসেন চাঁদ

চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল : পেশাদারিত্বের সংকট, সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের নতুন প্রত্যয় -আফজাল হোসেন চাঁদ

 উপ-সম্পাদকীয়

চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল : পেশাদারিত্বের সংকট, সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের নতুন প্রত্যয়

                                                                                                    -আফজাল হোসেন চাঁদ

“চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” মূলত পেশাজীবীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতাকে সামনে আনার একটি ধারণা বা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর মূল ভাবনা হলো- বর্তমান যুগে শুধু ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা নয়, বরং বাস্তব দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সামর্থ্যই একজন প্রকৃত পেশাজীবীর পরিচয়।

এ ধরনের আয়োজন বা ধারণা তরুণদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা প্রমাণ এবং নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা তৈরিতে উৎসাহ দেয়। একই সঙ্গে এটি পেশাগত জীবনে প্রতিযোগিতা ও দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে। আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তি ও পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার যে প্রয়োজন, “চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” সেই বার্তাই বহন করতে দেখা যায়। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় মানুষ যত উন্নত হয়েছে, ততই বেড়েছে পেশা ও দায়িত্বের পরিধি। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন, প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্র এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির যুগে “পেশাদারিত্ব” এখন শুধু একটি গুণ নয়; এটি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো- আমাদের সমাজে পেশাদারিত্বের অভাব আজ বহু সংকটের জন্ম দিচ্ছে। দায়িত্বহীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং নৈতিক অবক্ষয় সমাজের নানা স্তরে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় “চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” একটি সময়োপযোগী আহ্বান- যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নতুনভাবে ভাবতে হবে পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা নিয়ে।

বর্তমান বিশ্বে যে দেশগুলো উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে, তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি শুধু অর্থনীতি নয়; বরং দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল পেশাজীবী শ্রেণি। জাপান, জার্মানি, সিঙ্গাপুর কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে কর্মসংস্কৃতি ও পেশাদারিত্ব জাতীয় উন্নয়নের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত। সেখানে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীও নিজের কাজকে সম্মানের সঙ্গে করেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে নিজেকে নিবেদিত রাখেন, একজন চিকিৎসক মানবসেবাকে পেশার ঊর্ধ্বে স্থান দেন।

অথচ আমাদের সমাজে এখনো অনেক ক্ষেত্রে পেশাকে সেবা নয়, বরং ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। পেশাদারিত্ব বলতে শুধু নির্দিষ্ট পোশাক, অফিস বা পদমর্যাদাকে বোঝায় না। এটি মূলত দায়িত্ববোধ, সততা, দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, মানবিকতা এবং জবাবদিহিতার সমন্বিত রূপ। একজন প্রকৃত পেশাজীবী কখনো কাজকে অবহেলা করেন না।

তিনি জানেন, তার একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা অসতর্কতা সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। একজন প্রকৌশলীর সামান্য অবহেলায় একটি ভবন ধসে পড়তে পারে, একজন চিকিৎসকের ভুলে একটি জীবন ঝরে যেতে পারে, একজন সাংবাদিকের অসত্য সংবাদ সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, একজন শিক্ষকের অনীহা একটি প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় পেশাদারিত্বের সংকট সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, চিকিৎসা খাতে রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পান না, প্রশাসনে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়, আবার গণমাধ্যমেও অনেক সময় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিবর্তে প্রভাব ও স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং সামাজিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ দ্রুত সফল হতে চায়।

তারা রাতারাতি পরিচিতি, অর্থ ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সফলতার পেছনে যে দীর্ঘ পরিশ্রম, ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং আত্মত্যাগ প্রয়োজন, তা অনেকেই উপলব্ধি করতে চায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাহ্যিক চাকচিক্য তরুণদের একাংশকে বিভ্রান্ত করছে। অনেকেই মনে করেন, ভাইরাল হওয়াই সাফল্য। অথচ প্রকৃত সফলতা হলো নিজের কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে শুধু ডিগ্রি নয়; বরং দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি জ্ঞান এবং নৈতিক নেতৃত্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে অনেক প্রচলিত পেশা পরিবর্তিত হয়ে যাবে। ফলে টিকে থাকতে হলে কর্মীদের আরও বেশি পেশাদার ও দক্ষ হতে হবে। বাংলাদেশেও এখন তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, শিল্প ও উদ্যোক্তা খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও দক্ষ পেশাজীবীর অভাব এখনো বড় সমস্যা। পেশাদারিত্বের অভাব শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না; এটি জাতীয় উন্নয়নের পথও বাধাগ্রস্ত করে।

একটি দেশে যদি প্রশাসনে দুর্নীতি বাড়ে, শিক্ষা ব্যবস্থায় মানহীনতা থাকে, স্বাস্থ্যসেবায় অব্যবস্থা দেখা দেয় এবং বিচার ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা কমে যায়- তবে সেই দেশের উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। উন্নয়নের বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই জাতি উন্নত হয় না; উন্নত হয় তখনই, যখন মানুষ তার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করে।

আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো “যোগ্যতার চেয়ে সম্পর্কের মূল্য বেশি পাওয়া”। অনেক সময় দক্ষ ও মেধাবী মানুষ পিছিয়ে পড়েন, আর অযোগ্য ব্যক্তিরা প্রভাব ও সুপারিশের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে যান। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং প্রকৃত মেধাবীরা হতাশ হয়ে পড়েন। এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে জাতি কখনোই প্রকৃত অর্থে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে না। পেশাদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র- তিনটিরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

পরিবার থেকে শিশুদের সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ শেখাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা নয়; বরং নৈতিকতা, দক্ষতা ও বাস্তবমুখী জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে সাংবাদিকতা পেশায় পেশাদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণমাধ্যম সমাজের আয়না।

একজন সাংবাদিক যদি সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকেন, তবে সমাজে সচেতনতা বাড়ে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়। কিন্তু যখন সংবাদ ব্যক্তিস্বার্থ, গুজব বা রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সাংবাদিকদেরও তথ্য যাচাই, নৈতিকতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একইভাবে চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা- সবার মধ্যেই পেশাগত মূল্যবোধ জাগ্রত হওয়া জরুরি। কারণ একটি সমাজ তখনই সুন্দর হয়, যখন প্রত্যেকে নিজের কাজকে দায়িত্ব ও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।

“চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” মূলত আত্মশুদ্ধির ডাক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়- আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কতটা সৎ ও দায়িত্বশীল ? আমরা কি শুধু ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করছি, নাকি সমাজ ও দেশের উন্নয়নের কথাও ভাবছি ? একজন প্রকৃত পেশাজীবী কখনো শর্টকাটে বিশ্বাস করেন না; তিনি কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

আজ প্রয়োজন এমন এক নতুন প্রজন্ম, যারা শুধু চাকরি খুঁজবে না; বরং নিজেদের দক্ষতা, সততা ও উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে। তরুণদের বুঝতে হবে সাময়িক জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্মান অনেক বেশি মূল্যবান। আর সেই সম্মান অর্জিত হয় কাজের গুণমান, চরিত্র এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সমাজের স্থিতিশীলতা এবং মানুষের আস্থা- সবকিছুর মূলেই রয়েছে পেশাদারিত্ব।

তাই আমাদের প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে পরিবর্তনের অঙ্গীকার করতে হবে। শিক্ষককে হতে হবে আদর্শের প্রতীক, চিকিৎসককে মানবতার, সাংবাদিককে সত্যের, প্রশাসককে ন্যায়বিচারের এবং তরুণদের হতে হবে সততা ও দক্ষতার উদাহরণ। কারণ একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার সম্পদে নয়, বরং তার পেশাজীবীদের সততা, দক্ষতা ও মানবিকতায়। আর সেই চেতনার পুনর্জাগরণই হতে পারে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

“চ্যালেঞ্জ দ্যা প্রোফেশনাল” আমাদের শেখায় যে প্রকৃত পেশাদারিত্ব কেবল দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইনসাফ, সততা ও নৈতিকতার মধ্য দিয়েই একজন মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয়। যেখানে যোগ্যতার চেয়ে স্বজনপ্রীতি বা অন্যায় প্রাধান্য পায়, সেখানে মেধা বিকশিত হতে পারে না। তাই প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায়ভিত্তিক মূল্যায়ন ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। ইনসাফভিত্তিক সমাজই পারে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক পেশাজীবী তৈরি করতে, যা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।                                                                                                          লেখক- সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।


ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

ঝিকরগাছায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জমি থেকে হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি

প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না !

আফজাল হোসেন চাঁদ :

ফুলের রাজ্য নামক যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ও পৌর সদর জুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির দৌরাত্ম্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকে ফসলি জমি, খাল-বিল ও বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এক হাজার থেকে এক হাজার পাঁচশত টাকা হারে ট্রাক, ট্রলি ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতেন। অবৈধ মাটি কাটার দায়ে জরিমানা এবং মেশিন জব্দের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে মাটি খেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ফসলি জমির উর্বর উপরের স্তরের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলা ও রাতের আধারে ট্রাক্টর ও ট্রলিযোগে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাটি ইটভাটা, রাস্তা-পুকুর ভরাট ও বিভিন্ন নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং খনে খনে হালকা বৃষ্টি হলে সড়কের উপর জমে থাকা মাটি পিছলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও মটরসাইকেল সহ বিভিন্ন প্রকার দূর্ঘটনার স্বিকার হতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, অবাধে মাটি কাটার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “আগে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল। এখন অভিযোগ দিয়েও অনেক সময় প্রতিকার পাওয়া যায় না। ফলে যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে তারা আরও উৎসাহ পাচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা দ্রুত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ফুলের রাজ্য নামক ঝিকরগাছা অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।